‘বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ রচনা ২০ টি পয়েন্ট সহকারে

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ সারাবছর নানা রকম প্রাকিতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বাংলাদেশে বন্যা, ক্ষরা, ঘূর্ণিঝড় সারাবছর লেগেই থাকে এবং বিশ্বের অন্যতম ভুমিকম্প প্রবন এলাকা। প্রিয় শিক্ষার্থীরা আজকে আমারা “বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগ রচনাটি ২০ টি গুরুপ্তপূর্ণ পয়েন্ট সহকারে দেওয়া হলো। 

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ 

ভূমিকা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো এক ধরনের  দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়, যা স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতির নিয়মে ঘটে থাকে এবং তার পিছনে মানুষের সরাসরি কোনো ভূমিকা থাকে না। ভৌগোলিক গতভাবে  বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় অবস্থিত। যার কারনে সারা বছর  বাংলাদেশে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই দেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী। প্রতি বছর এবং বলা চলে সারা বছর এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। যেমন- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, ভূমিধস, ভূমিকম্প ইত্যাদি। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাকে বলে

প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো এমন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যাতে মানুষের জীবনহানি, আঘাত বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রভাব, সম্পত্তির ক্ষতি, জীবিকা ও পরিষেবার ক্ষতি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাঘাত, বা পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভূমিকম্প, ভূমিধস, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বন্যা, হারিকেন, টর্নেডো, তুষার ঝড়, সুনামি, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল এবং মহামারীর মতো বিভিন্ন ঘটনা হল প্রাকৃতিক বিপদ বা দুর্যোগ যার কারনে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয় এবং কোটি কোটি টাকার আবাসস্থল ও সম্পত্তি ধ্বংস করে। 

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অনেক কারণ রয়েছে।  তার মধ্যে কিছু কারণ হলো: 

ভূতাত্ত্বিক অবস্থান: বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা।আমাদের দেশ  হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ার কারনে  এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।

আবহাওয়ার অবস্থা: বাংলাদেশ একটি উষ্ণ এবং আর্দ্র দেশ। যার কারনে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং দাবানলের মতো আবহাওয়ার চরম অবস্থার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন: জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে  বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানলের মতো দুর্যোগের তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব বাড়ছে।

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। প্রতি বছর বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ অবদান রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে,

বন উজাড়: বন হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বন বৃষ্টিপাত কমাতে, মাটির ক্ষয় রোধ করতে এবং বাতাসের গতি কমাতে সাহায্য করে। বন উজাড়ের ফলে এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বন্যা, ভূমিধস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

নদীর তীর ভরাট: নদীর তীর ভরাট করার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। মানুষ প্রতিনিয়ত নদী ভরাট করছে যার জন্য বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে এবং নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষের জীবনের ঝুঁকি আরো বাড়ছে। 

অপরিকল্পিত নগরায়ন: অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ভয়াবহতা

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা অত্যন্ত ব্যাপক। প্রতি বছর, প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার মানুষ মারা যায় এবং বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পৃথিবীতে যত দূর্যোগপূর্ন দেশ রয়েছে তারমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায় তার রূপ ভয়ংকর। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে বন্য,  খর,  জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, টর্নেডো এবং নদীভাঙ্গন ইত্যাদি। 

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও খরায়। একটি গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে মোট ১০০ বছরে অন্তত ৫৮ টি বড় বড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, ৫০ বছর হয়েছে ৫৩ টি বন্যা যার মধ্যে ছয়টি মহাপ্লাবন, ১৩৫ বছর সংঘটিত হয়েছে প্রায় ২৯ টির বেশি বড় বড় ভূমিকম্প। বাংলাদেশের ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ছোট বড় সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোড ১৬৭ টি এবং এর মধ্যে ১৫ টি অত্যন্ত ভয়াবহ। 

ছোট বড় সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মিলে প্রানহানিক সংখ্যা প্রায় ছয় থেকে আট লক্ষ এবং ৩০  হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিগত দশক গুলোর  মধ্যে ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৪, ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮ এবং ১৯৯৬ সালের বন্যা ছিল অনেক  ভয়াবহ। একইভাবে বিগত বছর গুলোর  মধ্যে ১৯৮২, ১৯৮৯ এবং ১৯৯৪ সালের খরায় দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

কালবৈশাখী

কালবৈশাখী ঝড় হলো একটি প্রবল বায়ুপ্রবাহ যা বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-মে) সাধারণত দেখা যায়। এটি উত্তর-পশ্চিম থেকে প্রবাহিত হয় বলে ইংরেজিতে একে নরওয়েস্টার বলা হয়। কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ ঝড়ের সাথে বৃষ্টি, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

 

কালবৈশাখী ঝড় বিভিন্ন  কারনে হয়ে থাকে। যেমন: কালবৈশাখী ঝড়ের মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতা। বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালে, ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এই উচ্চ তাপমাত্রার ফলে ভূপৃষ্ঠের বাতাস গরম হয়ে ওঠে এবং উপরে উঠে যায়। এই গরম বাতাসের জায়গায় শীতল বাতাস প্রবেশ করে। এই শীতল বাতাস উপরে উঠে গরম হয়ে ওঠে এবং আবার উপরে উঠে যায়। এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে এবং বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এই অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়। কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ ঝড়ের কারণে ঘরবাড়ি, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি, টেলিফোন লাইন ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়,ফসল নষ্ট হয় পারে,মানুষ আহত বা মারা যেতে পারে।

টর্নেডো

বাংলাদেশে টর্নেডো ঝড় তেমন দেখা যায়না।  তবে, ইতিহাসে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য টর্নেডো ঝড়ের ঘটনা ঘটেছে এবং মাঝে মাঝেই বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে। ১৯৮৮ সালের ২৭ মে, একটি মাঝারি আকারের টর্নেডো ঝড় বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় আঘাত হানে। এই ঝড়ের ফলে শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়। এরপরে ১৯৯৬ এবং ২০২০ সালে বাংলাদেশে টর্নেডো ঝড় দেখা দিয়েছিল। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে বাড়ি ঘর লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে টর্নেডো। 

 

গ্রীষ্মকালে যখন  ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এই উচ্চ তাপমাত্রার ফলে ভূপৃষ্ঠের বাতাস গরম হয়ে ওঠে এবং উপরে উঠে যায়। এই গরম বাতাসের জায়গায় শীতল বাতাস প্রবেশ করে। এই শীতল বাতাস উপরে উঠে গরম হয়ে ওঠে এবং আবার উপরে উঠে যায়। এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে এবং বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এই অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে টর্নেডো ঝড়ের সৃষ্টি হয়। 

লবণাক্ততা

লবণাক্ততার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদের মধ্যে কৃষক, জেলে, শ্রমিক এবং অন্যান্য পেশাজীবীরা রয়েছে। লবণাক্ততার কারণে এসব মানুষের জীবিকা নির্বাহ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। 

লবণাক্ততা মাটির উর্বরতা হ্রাস করে। ফলে ফসল ফলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে কৃষকদের জীবিকা নির্বাহে ব্যাঘাত ঘটে। বাংলাদেশে লবনাক্ততা সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারনে লবণাক্ত পানি পান করে  মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।  এতে করে ডায়রিয়া, কলেরা, কিডনি রোগ বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও লবণাক্ততা ফসলের ফলন কমিয়ে দেয়। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে লবনাক্ততা সমস্যা অনেক বেশি দেখা দেয়। যার কারনে নদী এবং সমূদ্রের আশেপাশের জমি গুলোরে ফসল চাষ করা যায়না। 

শিলাবৃষ্টি 

বাংলাদেশে প্রতি বছর শিলাবৃষ্টির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শিলাবৃষ্টি হলো এক ধরনের বজ্রঝড় যা বৃষ্টিপাত হিসাবে বরফ তৈরি করে। শিলাবৃষ্টির মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীলতা। বজ্রঝড়ের সময়, বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে ঠান্ডা বাতাস এবং উষ্ণ বাতাস মিশ্রিত হয়। এই মিশ্রণের ফলে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। এই অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলে শিলাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে শিলাবৃষ্টি সাধারণত বৈশাখ এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে হয়। বাংলাদেশে শিলাবৃষ্টির প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায় উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এবং লালমনিরহাট জেলায়। এছাড়াও, রাজশাহী, বগুড়া, গাইবান্ধা এবং সিরাজগঞ্জ জেলায়ও শিলাবৃষ্টির ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশে প্রতি বছর শিলাবৃষ্টি দেখা যায়৷ যার ফলে জমির ফষল নষ্ট হয় এবং গাছপালা ভেঙ্গে যায়। 

অতিবৃষ্টি

বাংলাদেশ একটি উপকূলীয় দেশ। এই কারণে, এ দেশটি মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রভাবিত হয়। মৌসুমী বায়ু হলো একটি উষ্ণ এবং আর্দ্র বাতাস যা ভারত মহাসাগর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল হয়। এই সময় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। এই বৃষ্টিকেই অতিবৃষ্টি বলা হয়। বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত হয়। এই সময় মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। অতিবৃষ্টির কারনে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তাঘাট সব নষ্ট হয়ে যায়। অতিবৃষ্টির কারনে সৃষ্ট বন্যায় মানুষের ঘর বাড়ি, ফসল, গরু ছাগল সব কিছু ভেসে যায়। প্রতি বছর বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল গুলো অতিবৃষ্টির কারনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

বন্যা

বন্যা হলো এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাতে নদী, খাল, বা অন্য কোনো জলাশয়ের পানি বেড়ে স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে প্লাবিত হয়। বন্যা ফসল, সম্পত্তি এবং জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। বন্যার প্রধান কারণ হলো অতিবৃষ্টি। অতিবৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়। এছাড়াও, নদীর তলদেশের মাটি ক্ষয় হলেও বন্যা হতে পারে। এই ক্ষয়ের ফলে নদীর ধারণ ক্ষমতা কমে যায় এবং অতিরিক্ত পানি প্লাবিত হয়।  বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর বন্যা হয়েছিল ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৮, ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮ ১৯৯৮, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে। বর্তমানে বন্যাকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হিসেবে দায়ী করা হয়েছে। বন্যা বিপুল ক্ষতি সাধন করে  মানুষের। বন্যার কারনে মানুষের ফসলি জমি ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারেনা। যার কারনে দেশে খাবার সংকট পরে। বন্যার কারনে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ বেড়ে যায়। মানুষ গরু ছাগল সব কিছু বন্যার পানিতে ভেসে যায়। 

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস 

বাংলাদেশ একটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রবণ দেশ। বাংলাদেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস হয়। সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় হল একটি নিম্নচাপ কেন্দ্রের চারপাশে ঘূর্ণায়মান প্রচণ্ড বাতাসের একটি শক্তিশালী ঝড়। এই ঝড়গুলি সাধারণত ক্রান্তীয় অঞ্চলে সৃষ্টি হয়, যেখানে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে। সাইক্লোন এর ঘূর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে হয়। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৯ কিলোমিটারের বেশি হলে তাকে ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র বা চোখে যখন বাতাসের চাপ খুব কম থাকে তখন  কেন্দ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠে। একেই জলোচ্ছ্বাস বলে। সাধারনত যখন  দ্বীপাঞ্চল বা উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায় তখন ওই  সময় ঝড়ের ঢেউ ও জোয়ার এসে প্লাবন ঘটায়। তারপর ঝড়ের চক্ষু যদি সে স্থান দিয়ে অতিক্রম করে তখন  ঝড়ের ঢেউ, ঝড়ের জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস এই তিনটি একত্রিত হতে  ঐ স্থানের বিরাট অংশ ডুবে যায়। অনেকের ধারনা অমাবস্যা বা পূর্ণিমার ভরা কটালের সময় যদি জলোচ্ছ্বাস হয়, তবে তার ফল বেশি ভয়ংকর হয়।

খড়া

খড়া হলো এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাতে কোন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হয়। খরার ফলে জলসম্পদের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, যা ফসল, সম্পত্তি এবং জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। খড়া বিভিন্ন কারনে হয়ে থাকে। বাংলাদেশ একটি খড়াপ্রবণ দেশ। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকাগুলো অনেক বেশি খড়াপ্রবণ। খড়া সাধারণত বর্ষা মৌসুমের আগে দেখা দেয়৷ খড়ার কারনে ফসলি জমি গুলোতে কোনো পানি থাকেনা৷ যার ফলে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারেনা। মাঠ ঘাট ফেটে চৌচিড় হয়ে যায় খড়ার কারনে। খড়া থেকে বাচার জন্য কৃষকেরা সেচের মাধ্যমে ফসলে পানি দেয়। 

নদী ভাঙ্গন

নদীভাঙ্গন হলো এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাতে নদীর পাড় ভেঙে নদীর পানি নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। নদীভাঙ্গনের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয় এবং ফসল, সম্পত্তি এবং জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীভাঙ্গনের প্রধান কারণ হলো নদীর তীরবর্তী এলাকার মাটির ক্ষয়।  বাংলাদেশ একটি নদীভাঙ্গনপ্রবণ দেশ। বাংলাদেশে প্রতি বছর নদীভাঙ্গন হয়। নদীভাঙ্গনের কারনে প্রতিবছর বাংলাদেশের নদী এলাকার হাজার হাজার মানুষের ঘর বাড়ি নদীর গর্ভে চলে যায়। ফসলি জমি নদীতে চলে যায়। বাংলাদেশে নদীভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। যেমন: 

  • নদীর তীরবর্তী এলাকায় গাছপালা রোপণ করা।
  • নদীর তীর কে শক্তিশালী করার জন্য বাঁধ, বেড়িবাঁধ ইত্যাদি নির্মাণ করা।
  • নদীর গতিবিধি পরিবর্তন রোধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া।
  • জনসাধারণকে নদী ভাঙ্গন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

ভূমিধ্বস ও ভূমিক্ষয়

ভূমিধ্বস হলো এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাতে পাহাড়-পর্বতের গা থেকে মাটির ঢালু অংশ ভেঙে নিচে নেমে আসে। ভূমিধ্বসের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিধ্বসের প্রধান কারণ হলো মাটির অস্থিতিশীলতা। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে মাটি নরম হয়ে যায় এবং ভূমিধ্বসের ঝুঁকি বাড়ে। ভূমিকম্পের ফলে মাটির গঠন পরিবর্তিত হয় এবং ভূমিধ্বসের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়াও গাছপালা কেটে ফেলা, ভূমিতে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা ইত্যাদি মানবসৃষ্ট কারণেও ভূমিধ্বস হতে পারে।

 

ভূমিক্ষয় হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে মাটির উপরের অংশ ধীরে ধীরে অপসারিত হয়। ভূমিক্ষয়ের ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় এবং ফসলের ক্ষতি হয়। ভূমিক্ষয়ের প্রধান কারণ হলো মাটির উপরের অংশে গাছপালা না থাকা। গাছপালা মাটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। গাছপালা না থাকলে মাটি সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। 

ভূমিকম্প

ভূমিকম্প হলো এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাতে ভূ-পৃষ্ঠে কম্পন হয়। এই কম্পনটি পৃথিবীর ভূত্বকের নিচে থাকা টেকটনিক প্লেটগুলো নড়াচড়ার কারণে হয়। বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্প প্রবণ দেশ। কারণ, বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং মিয়ানমার টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই প্লেটগুলোর নড়াচড়ার ফলে বাংলাদেশে মাঝেমাঝেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয় করা হয় রিখটার স্কেলে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ০ থেকে ৯ পর্যন্ত হয়। ০ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় না। ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সবচেয়ে ভয়াবহ। বাংলাদেশে সাধারণত ৪ থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। তবে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

আর্সেনিক

বাংলাদেশে আর্সেনিক সমস্যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের হিসাবে, বাংলাদেশের ৪৭টি জেলার ২৩৩টি উপজেলার ২,০০০ ইউনিয়নের ৩১,৪৯৭টি গ্রাম আর্সেনিক দূষণের শিকার। এসব এলাকায় ৫% নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়। বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণের কারণ হলো ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি। আর্সেনিক একটি বিষাক্ত উপাদান। এটি মানবদেহে বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে: ত্বকের রোগ, যেমন ত্বকের কালো দাগ, ফোসকা, ঘা ইত্যাদি। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আর্সেনিক বেশি। এসব এলাকায় মাটিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি বেশি। ভূগর্ভস্থ পানি মাটিতে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে এই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি বেড়ে যায়।

বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রবন এলাকা

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকা। এই এলাকায় প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় প্রবন এলাকাগুলো হলো:

ক. চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী

খ. বরিশাল বিভাগ: বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, ভোলা। এই এলাকাগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জলোচ্ছ্বাস, ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। এই দুর্যোগের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। 

বাংলাদেশ সরকার ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থাপনা: আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ও সতর্কতা জারি করে।
  • ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ: ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।
  • ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন: ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে ক্ষয় ক্ষতি

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

মানুষের প্রাণহানি: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। যেমন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জলোচ্ছ্বাসে মানুষ ভেসে যায় ভূমিকম্পের কারণে ভবন ধসে পড়ে মানুষ মারা যায়, বন্যায় মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়।

সম্পত্তির ক্ষতি: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সম্পত্তির ক্ষতি হতে পারে। যেমন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ভূমিকম্পের কারণে ভবন ধসে পড়ে সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশের ক্ষতি: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। যেমন, বন্যায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে, ভূমিকম্পের কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস পেতে পারে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বায়ু দূষিত হতে পারে।

সামাজিক ক্ষতি: প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সামাজিক ক্ষতি হতে পারে। যেমন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, ভূমিকম্পের কারণে বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, বন্যায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

দূর্যোগ মোকেবেলায় করনীয়

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এজন্য সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা দরকার। এজন্য আবহাওয়া সংস্থার কার্যক্রমকে আরও উন্নত করা এবং জনগণকে দ্রুত সতর্ক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ ও ব্যবস্থাপনা করা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। যেমন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কার করা ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও সতর্কতা নির্দেশনা অনুসরণ করা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস ও সতর্কতা নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। যেমন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, বন্যা হলে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া ইত্যাদি।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা: দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করা জরুরি। যেমন, খাদ্য, ওষুধ, জল, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি সরবরাহ করা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিকার

দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। যেমন, বনায়ন বৃদ্ধি করা, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলা ইত্যাদি।

ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থাপনা জোরদার করলে অনেকাংশেই ক্ষয় ক্ষতির পরিমান কমানো সম্ভব। তাই ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে  এবং আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। 

বন্যা প্রতিরোধ করার জন্য নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। নদীর আশেপাশের তীরে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।  

ভূমিকম্প প্রতিরোধ করার জন্য ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে  এবং ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে৷ 

অগ্ন্যুৎপাত প্রতিরোধ করার জন্য  অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় জনসাধারণের কর্তব্য:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য সাধারন মানুষকে  পূর্বাভাস ও সতর্কতা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে৷ যেমন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে, বন্যা হলে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হবে  ইত্যাদি।

যাদের সামর্থ্য আছে তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করতে পারে।  গরীব, অসহায় ও বয়স্কদের মাঝে খাদ্য, ওষুধ, জল, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব হ্রাস করার জন্য সবাই মিলে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে৷ যেমন সবাইকে  বনায়ন বৃদ্ধি করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলা ইত্যাদি কাজে উৎসাহ প্রদান করতে হবে৷ 

 পরিবেশের সুরক্ষায় ভূমিকা পালন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই  বেশি বেশি গাছ লাগানো, জলাধার সংরক্ষণ করা, পানির অপচয় রোধ করা ইত্যাদি ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

সবাই মিলে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হবে।  সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে  সাধারণ মানুষ নিজেদের এবং অন্যের জীবন রক্ষা করতে পারে। তাই নিজে,  পরিবারের সদস্যদের এবং প্রতিবেশীদের প্রশিক্ষন গ্রহন করতে সাহায্য করতে হবে৷ 

উপসংহার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের সমস্যা গুলোর মধ্যে  অন্যতম প্রধান সমস্যা। বিভিন্ন  কারণে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে বাংলাদেশ অগ্রগতির ধারা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য  প্রতি বছরই এ দেশের জনগণের জান-মাল, সহায়-সম্পত্তি, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপুল ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কখনো বন্ধ  সম্ভব নয়। তবুও পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশের সরকার এবং সাধারন মানুষ যদি পরিকল্পিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করি তাহলে এর  দ্বারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

Scroll to Top