Dreamy Media BD

এইডস এর লক্ষণ ও প্রতিকার

এইডস এর লক্ষণ

বর্তমানে সবারই এইডস রোগটি নিয়ে কমবেশি ধারণা রয়েছে এবং সকলেই জানেন এটি একটি মরণব্যাধি রোগ। HIV (human Immunodeficiency virus) এর সংক্রমণেই মানুষ AIDS(Acquired Immunodeficiency Syndrome) নামক রোগে আক্রান্ত হয়। এটি এমন একটি ভয়ানক রোগ যা ধীরে ধীরে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। ফলে অন্য যেকোনো রোগ সহজেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। এবং এর ফলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণের সাথে সাথেই এইডস রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। এটি ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং উপসর্গ গুলো দেখা দিতে থাকে। শরীরের অন্যান্য প্রতিরক্ষা ক্ষমতাগুলো দুর্বল হতে থাকে যার ফলে যক্ষা টিউমার ইত্যাদির মত রোগ হয়ে থাকে। এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। চলুন এইডস রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিই:

এইচআইভি এর ইতিহাস 

সর্বপ্রথম পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার প্রাই্মেটদের মধ্যে এইচআইভি দ্বারা সংক্রমিত রোগ দেখা যায়। শুধুমাত্র এইচআইভি ভাইরাস নয় বিভিন্ন ভাইরাস বিভিন্ন সময়ে আমাদের মানবজাতিকে আক্রমণ করেছে। ১৯২০ সালের কঙ্গুর কিংশাসা এ এইচআইভি ভাইরাস মহামারী রূপ নিয়েছিল। এইচআইভি ভাইরাস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে, এইচআইভি -১,এইচআইভি -২। সাধারণত এইচআইভি-২ এর তুলনায় এইচআইভি -১ অনেক বেশি ভয়ংকর যা খুব সহজে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে।

সারা বিশ্বের ছরিয়ে পড়া এইচআইভি-১ এর সাথে শিম্পাঞ্জির একটি প্রজাতির মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই প্রজাতির শিম্পাঞ্জি গুলো সাধারণত আফ্রিকার দেশগুলোতে বেশি বসবাস করে। ঠিক একই রকম ভাইরাস বানরের একটি প্রজাতির মধ্যেও পাওয়া গেছে। এই প্রজাতির বানরগুলো সাধারণত আইবেরিকোষ্টের পশ্চিমে , সেনেগাল, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, ও গিনি বিসাউ এ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন –আখরোট যেভাবে আপনার শরীর ও ত্বককে সুস্থ রাখবে!

বাংলাদেশে এইডসের অবস্থা

বর্তমানে আমাদের দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের বড় একটি সংখ্যা হচ্ছে যৌনকর্মী এবং তাদের পরিবার। সাধারণত চার ধরনের জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই রোগের আক্রান্তর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সর্বপ্রথম আমাদের দেশে ১৯৮৯ সালে এইডস রোগে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকেই প্রতি বছর ঘরে ১০,২০,৫০,১০০,২০০ জন করে নতুন রোগী সনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে এইচআইভি রোগের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪০০০ এরও বেশি এর মধ্যে ৮০৩৩ জন চিকিৎসার আওতায় এসেছে। এরমধ্যে রোহিঙ্গা আছে ১২৪ জন। শুধুমাত্র গত বছরই আমাদের দেশে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হল ৬৫৮ জন আর এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা হচ্ছে ১৪১ জন। আমাদের দেশে এই পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৩৮২ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে।

২০২০ সালে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল 658 জন। এরমধ্যে ৭৬ শতাংশ পুরুষ 21 শতাংশ নারী ও তিন শতাংশ ছিল তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের রোগীরাই ছিল সবচাইতে বেশি। ঢাকা বিভাগে ছিল ২১৮ জন, চট্টগ্রামে 127 জন, খুলনায় ৬৪ জন, সিলেটে ৪৫ জন, রাজশাহীতে ২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে 15 জন , আর রংপুর বিভাগে ছিল ১৫ জন।

 এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বয়স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এদের মধ্যে ১২.২৪ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। ৭৪.২০ শতাংশর বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ৮.৮৫ শতাংশ 19 থেকে 24 বছরের মধ্যে। ২.০৭ শতাংশ 10 থেকে 18 বছরের মধ্যে। ০.৭৫ শতাংশ ছয় থেকে নয় বছরের মধ্যে, ১.৮৮ শতাংশের বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।

আমাদের দেশে এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে বিবাহিত সব থেকে বেশি। রোগে আক্রান্ত ৭০.০৬ শতাংশ রোগী হলো বিবাহিত। আর ২৩.১৬ শতাংশ রোগী হল অবিবাহিত।

এইচআইভি আক্রান্তের প্রাথমিক লক্ষণ:

এই ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত ৬ সপ্তাহ পরে কিছু অনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় যেমন, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, জ্বর ইত্যাদ। কিন্তু এসব লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর কোন রকম চিকিৎসা ছাড়া আবার সেরে যায় যে কারণে রোগী এই ভাইরাস সম্পর্কে কোন ধরনের পূর্বাভাস পায় না। এই রোগটা কোন ধরনের লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই মানুষের দেহে ৫ থেকে ১০ বছর অবস্থান করতে পারে। চলুন জেনে নেই এইডস রোগের লক্ষণ গুলো,

১) শরীর ওজন দ্রুত হ্রাস পাবে।

২) দুই মাসের অধিক পাতলা পায়খানা থাকবে।

৩) ঘন ঘন জ্বর হবে।

৪) রাতে শরীরের অতিরিক্ত ঘাম হবে।

৫) শুকনা কাশি হবে।

এইডস রোগের নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই। এইডস রোগী যদি অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে সে রোগের লক্ষণ দেখা যাবে। কারো মধ্যে যদি উপরের সবগুলো লক্ষণও দেখা যায় তাহলে বলা যাবে না তার এইডস হয়েছে। তবে যদি এই লক্ষণগুলো ঘন ঘন প্রকাশ পায় তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

এইডস

যে সকল কারণে এইডস হয়ে থাকে

বর্তমানে আমরা সকলেই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। তাই আমরা সকলেই চেষ্টা করি বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকার। এর একটি ভাল দিক হচ্ছে আপনার যদি যেকোনো রোগের লক্ষণ আগে থেকে জানা থাকে তবে আপনি খুব দ্রুতই সেই রোগ সনাক্ত করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। এখন আপনাদের কি জানাবো এইডস রোগ কি কারনে হয়ে থাকে-

১) যৌন সম্পর্কের কারণে:

এটা এইচআইভি ভাইরাস ছড়ানোর সবচাইতে সহজ সাধারণ মাধ্যম। যদি এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমিত কোন ব্যক্তির সাথে অন্য কোন সুস্থ ব্যক্তি অরক্ষিত যৌন মিলনে লিপ্ত হয় তবে সেই ব্যক্তিও এইচআইভি  ভাইরাস এ সংক্রমিত হবে। এটা সবচাইতে বেশি ছড়ায় পায়ু সেক্সের সময়। এইচআইভি সংক্রমণ মূলত শারীরিক তরল গুলোর মাধ্যমে হয়ে থাকে। পানি, খাবার, বাতাস বা স্পর্শের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় না। এটা কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। এইচআইভি সাধারণত মানব দেহের নির্দিষ্ট কিছু তরলের মাধ্যমে ছড়ায় যেমন, বীর্য ,রক্ত ,বুকের দুধ। নিচে কিছু উপায় দেওয়া হলো যেভাবে এইচআইভি ছড়াতে পারে :

২) এইডস এ আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুই, ইনজেকশন ইত্যাদি পুনরায় ব্যবহার করলে:

এই পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক লোক নিজের অজান্তে এইচআইভি তে আক্রান্ত হয়। এটা মূলত দূষিত রক্তের সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন মাদক গ্রহণের সময় সিরিজ ভাগাভাগি করা, ব্যবহৃত সিরিজ ব্যবহার করলে, একই সিরিজ অনেক জন ব্যবহার করলে। বিশেষ করে কম উন্নত গরিব দেশগুলোতে এর সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

৩) এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে:

গর্ভবতী মা যদি এইচআইভি তো আক্রান্ত থাকে সন্তান প্রসবের পর যখন মা শিশুকে তার বুকের দুধ পান করায় তখন শিশুর মধ্যে এইচআইভি প্রবেশ করে ।

৪) আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে কনডম ছাড়া মিলন করলে:

আপনার স্বামী যদি এইডস এ আক্রান্ত হয়ে থাকে এবং আপনি যদি তার এই রোগ সম্পর্কে জেনে না থাকেন তবে কনডম ছাড়া সরাসরি মিলনের মাধ্যমে আপনার শরীরেও এইচআইভি ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। তাই শারীরিক মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এতে করে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে কোন প্রকার ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে না।

যৌন রোগ এবং এইচআইভির সম্পর্ক

যৌন রোগ এইচআইভির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। একটি সুস্থ মানুষের চেয়ে যৌন রোগে আক্রান্ত একটি মানুষের এইচআইভি হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সাধারণ অর্থে এসটিডি ও এসটিআই রোগ গুলো অনিরাপদ যৌন মিলনের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে থাকে। আবার এমন অনেক যৌন রোগ আছে যা যৌন মিলন ছাড়াই অন্য উপায়ে সংক্রমিত হয়। এক্ষেত্রে যৌনাঙ্গের আশেপাশে অতিরিক্ত চুলকানি হলে, প্রসাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হলে, যৌনাঙ্গ থেকে পুজ পড়লে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এইডস যেভাবে ছড়ায় না

নির্দিষ্ট কোন উপায় ছাড়া এইচআইভি রোগ ছড়ায় না। এটা অন্য কোন রোগের মত ছোঁয়াচে বা বাতাসের সাথে ছড়ায় না। চলুন দেখে নেই এইচআইভি কোন কোন উপায়ে ছড়ায় না:

১) পানি খাবার বাতাস এবং স্পর্শের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায় না।

২) আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খাবার ভাগাভাগি করে খেলে এইচআইভি ছড়ায় না।

৩) আক্রান্ত রোগীর সেবা করলেই এইচআইভি ছড়ায় না।

৪) আক্রান্ত ব্যক্তি খোলা স্থানে হাচি বা কাশি দিতে পারবে এতে কোন সমস্যা নেই।

৫) আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে বিছানায় ঘুমালে বা কাপড় পরিধান করলে কিছুই হবে না।

৬) একই জায়গায় গোসল করলো কিছু হবে না।

৭) মশা কিংবা অন্য কোন পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়ায় না।

এইডস রোগ ছোঁয়াচে নয়

এইচআইভি ভাইরাস সাধারণত শরীরের  তরলের মধ্যে থাকে। কিন্তু স্নেহ পদার্থের আবরণ থাকার ফলে এইচআইভি ভাইরাস অত্যন্ত ভঙ্গুর হয় শরীরের বাইরে এই ভাইরাস বেশিক্ষণ বাঁচতে পারে না। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে সরাসরি রক্ত বা যৌন নিঃসরণ কোন স্বাভাবিক মানুষের শরীরে প্রবেশ না করলে এইচআইভি সংক্রমণের কোন সম্ভাবনা নেই। এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে চলাচল করলে বা একসাথে ঘুমালে বা তার কাপড়-চোপড় পরলে কোন সমস্যা নেই এর মাধ্যমে ছড়ায় না। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে কোন মশা কামড় দিলে সেই মশা যদি আবার কোন স্বাভাবিক মানুষের গায়ে কামড় দেয় তাও কোন সমস্যা নেই। এইচআইভি কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়।

এইডস রোগীর পরিচর্যা

এইডস একটি মরণব্যাধি রোগ। এ রোগ অন্য কোন ব্যক্তির শরীরে খুব সহজেই সংক্রমিত হয় না। তাই আমাদের উচিত এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজে হেয় চোখে না দেখে এসব রোগীদের সঠিক পরিচর্যা করা। যেমন,

১) আক্রান্ত ব্যক্তি তার কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে না সে সকল ধরনের কাজকর্মই করতে পারবে। তাই তাকে বেশি বেশি কাজকর্ম করার উৎসাহ দিতে হবে।

২) আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করতে হবে। তার সাথে আন্তরিক আচরণ করতে হবে।

৩) তাদেরকে সবসময় মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে। সব সময় হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করতে হবে।

৪) তাদের প্রতি বেশি যত্নবান হতে হবে।

৫) এইচআইভি তে আক্রান্ত ব্যক্তি কে তার কর্মক্ষেত্র থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

৬) প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসার ব্যবস্থা ‌ নিতে হবে।

এইডস রোগের চিকিৎসা

আসলে এইডস রোগের কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু অনিবার্য। তবে কিছু কিছু ঔষধ আবিষ্কার হয়েছে যা ARV(Anti Retroviral Drug) নামে পরিচিত। এই ওষুধগুলো রোগীকে সাময়িকভাবে ভালো থাকতে সাহায্য করে।

এইডস রোগের ঔষধ সাধারণত দুই গ্রুপে পাওয়া যায়। প্রথম গ্রুপের ঔষধের নাম হচ্ছে, Nucleoside Reverse Transcriptase inhibitors এই ওষুধটি এইচআইভি সংক্রমণকে কিছুটা বিলম্বিত করে। আর দ্বিতীয় গুরুপের ঔষধের নাম হচ্ছে,protease inhibitors এই ওষুধ ভাইরাস replication এ বাধা দেয়। এই দুই গ্রুপের যেকোনো এক গ্রুপের ওষুধ এককভাবে তেমন ভালো কাজ করে না তাই ডাক্তাররা দুই গ্রুপের সমন্বিত ঔষধ দেয়। যদিও এটি এইডস কে সম্পূর্ণরূপে উপশম করে না তবুও রোগীকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারে। তবে এই রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল।

এইডস প্রতিরোধের উপায়

১৯৮৮ সালে এইচআইভি ভাইরাস প্রথম  সনাক্ত হওয়ার পরে থেকে এইডস এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক গন সচেতনা তৈরীর লক্ষ্যে বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়। এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বের প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং 35 মিলিয়ন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এইচআইভি ভাইরাস থেকে মুক্তির প্রথম ও প্রধান উপায় হল ধর্মীয় উপায়ে দাম্পত্য জীবন যাপন করা। সমকামিতা পরিহার করা অনিরাপদ যৌন মিলন না করা। চলুন দেখে নেই প্রতিরোধ উপায় গুলো,

১) মাদক ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ না করা: ইনজেকশনের মাধ্যমে যারা মাদক গ্রহণ করেন এমন মানুষের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি থাকে। মাদক গ্রহণের সময় একই ইনজেকশন একাধিক লোক ব্যবহার করে এর মধ্যে যদি কারো শরীরে এইচআইভি ভাইরাস থাকে তাহলে সেই ইনজেকশনের মাধ্যমে অন্য মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। এই জন্য এই উপায়ে মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।

২) নিরাপদ যৌন মিলন: এইচআইভি ভাইরাস ছড়ানোর সবচাইতে সহজ মাধ্যম হচ্ছে যৌন মিলন। এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য নিরাপদ যৌন মিলনের বিকল্প নেই। এ থেকে বাঁচার সবচাইতে ভালো উপায় হচ্ছে অপরিচিত কেউ কারো সাথে যৌন মিলন না করা। যৌন মিলনের সময় অবশ্যই সব সময় কনডম ব্যবহার করা। একাধিক মানুষের সাথে যৌন মিলন করলে এইচআইভি ভাইরাস এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি থাকে‌। তাই একাধিক যৌন মিলন থেকে দূরে থাকতে হবে। আর যাদের এই অভ্যাস আছে যারা যৌনকর্মীর কাজ করেন তাদের অবশ্যই যৌন মিলনে কনডম ব্যবহার করতে হবে। কনডম ছাড়া যৌন মিলন করা যাবে না। কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করা যায়।

৩) রক্ত ভালোভাবে পরীক্ষা করে গ্রহণ করা: অপরিচিত রক্ত বা যে কোন লোকের রক্ত শরীরে প্রবেশ না করানো। একান্তই যদি কোন ব্যক্তির প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই রক্ত ভালোভাবে পরীক্ষা করে পরে নিতে হবে। এই  ভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির শরীরের রক্ত যদি সুস্থ কোন ব্যক্তির শরীর প্রবেশ করানো হয় তাহলে সেই ব্যক্তি এইচআইভিতে  আক্রান্ত হবে। রক্ত নেয়ার সময় সব সময় সচেতন থাকতে হবে।

৪) আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে না: এইচআইভি তে আক্রান্ত মায়ের গর্ভে সন্তান হওয়ার পর যদি সন্তানকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো হয় তাহলে সেই সন্তানও এইচআইভিতে আক্রান্ত হবে। তাই এইচআইভি তে আক্রান্ত যদি কোন গর্ভবতী থাকে তাহলে সন্তান জন্মের পর ওই সন্তানকে ওই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে না।

এইচআইভি ভাইরাস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা

আমাদের দেশে এইচআইভি ভাইরাস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এই ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভুল এর কোন যৌক্তিক কারণ নেই। চলুন জেনে নিই এগুলো সম্পর্কে:

১) আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করা যাবে না: আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বের যেই ধারণাটি সবচাইতে বেশি সেটি হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করা যাবে না। কিন্তু আমাদের এটা জানতে হবে এইডস কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। নির্দিষ্ট কিছু কারণ ছাড়া কোনভাবেই এ রোগ অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করবে না। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ঘোরাঘুরি করলে, একই পাত্রে খাবার খেলে ,জড়িয়ে ধরলে, চুমু খেলে ,আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কোন জিনিস ব্যবহার করলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির খাওয়া পানি খেলে, আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই টয়লেট ব্যবহার করলে এইচআইভি হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তাই এই ভুল ধারণাটি বাদ দেওয়া উচিত।

২) মশার মাধ্যমেই এইচআইভি ভাইরাস ছড়ায়: একটি মশা একবার একাধিক মানুষকে কামড় দিতেই পারে। একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে এইচআইভি আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে যদি মশাই কামড় দেয় উক্ত মশা যদি আবার কোন সুস্থ মানুষকে কামড় দেয় তাহলে সেই মানুষটি এইচআইভিতে আক্রান্ত হবে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মশার শরীরে এইচআইভি ভাইরাস কখনো বেঁচে থাকতে পারবে না ।আর মশা একটি মানুষের শরীর থেকে রক্ত খাওয়ার পর অন্য একটি মানুষের শরীরে যেয়ে ইনজেকশন এর মত ঢোকায় না। তাই এটা সম্পূর্ণ রূপে প্রমাণিত যে মশার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে না।

৪) কনডমের ব্যবহারে ঝুঁকি নেই: আপনি যৌন মিলনের সময় কনডম ব্যবহার করলে যে এইচআইভিতে আক্রান্ত হবেন না এমন ধারণাটি ভুল। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলনের সময় যদি আপনার কনডমটি ফেটে যায় তাহলে বড় একটি বিপদ হতে পারে। তাই বর্তমানে এই ভাইরাস রোধে প্রতারণায় কনডম ব্যবহারের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না। এর চাইতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার ব্যাপারে উৎসাহ করা হচ্ছে। এ রোগে আক্রান্ত প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে একজন রোগী জানে না যে সেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সারা বিশ্বে এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় এক কোটির মত আর তারা নিজের অজান্তে অন্য মানুষকে এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত করে ফেলতেছে।

৫) কোন লক্ষণ না থাকলে এইডস হয়নি: আপনার শরীরে কোন ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না এর মানে আপনি এইচআইভি তে আক্রান্ত নয় এটি একটি ভুল ধারণা। প্রায় ১০ বছরের মত এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কোন ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এইচআইভি ২ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি এই ভাইরাস নিয়ে ১০ থেকে ১৫ বছর বেঁচে থাকতে পারেন।

আর যদি কোন ব্যক্তি শরীরে এইচআইভি ১ প্রবেশ করে তাহলে কয়েক সপ্তার মধ্যেই সাধারণ লক্ষণগুলো প্রকাশ পেয়ে যাবে। যেমন শরীরের ব্যথা, মাথা ব্যথা ,গলা ব্যথা, হালকা জ্বর ইত্যাদ। আর আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পর অন্য সব লক্ষণ দেখা দিবে। আর এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়।

আক্রান্ত ব্যক্তির অল্প বয়সে মারা যায়: অনেকেই মনে করেন এই হিসেবে বাইরে আসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অতি দ্রুত মারা যায়। কিন্তু এটি ভুল ধারণা এভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বছরের পর বছর বেঁচে থাকতে পারে। আর বর্তমানে এই রোগের কিছু চিকিৎসক বের হয়েছে যার মাধ্যমে এই রোগকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।

সবশেষে, এইচআইভির লক্ষণ গুলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া  উচিত। এই রোগীদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত। নিয়মিত পরীক্ষা নিরীক্ষা করা উচিত এবং ওষুধ খাওয়া উচিত। বর্তমানে যদি ভালোভাবে চিকিৎসা করা হয় তাহলে এইডস রোগীর মৃত্যু কিছুটা বিলম্বিত করতে পারে।

 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents