Dreamy Media BD

পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় স্থান

পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় স্থান

পৃথিবীর মধ্যে বৃহত্তর যতগুলো রাষ্ট্র আছে তার মধ্যে ভারত মহাদেশের নাম জ্বলজ্বল করছে ইতিহাসের পাতায়। বৃহত্তর ভারত যতগুলো রাজ্যের সমন্বয়ে গঠিত তার মধ্যে অনেকগুলো রাজ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে সেরা। আর এই সেরা স্থানগুলো দেখার লোভ কার না থাকে? আপনি যদি ভ্রমণ পিপাসু হয়ে থাকেন ভ্রমণ করা যদি আপনার শখ এবং নেশা হয়ে থাকে তাহলে আজকে আপনার জন্যই রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে কিছু কথা।

বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতের একটি রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ। যেটি পূর্ব ভারতের বঙ্গোপসাগরের ঠিক উত্তর দিকে এর অবস্থান। পশ্চিমবঙ্গ অনেকগুলো দর্শনীয় স্থানের সমন্বয়ে গঠিত একটি অতুলনীয় রাজ্য। হিমালয়ের মত পার্বত্য অঞ্চল, সুন্দরবনের অংশবিশেষ, রাঢ় অঞ্চল সমূহ, এবং বৃহতর রাজধানী কলকাতা, যা পৃথিবী বিখ্যাত একটি জায়গার নাম যেটা এই পশ্চিমবঙ্গেই অবস্থিত।

অবসর সময় কিংবা ঘুরতে যাওয়ার জন্য আমরা সবসময় কতই না দূর দূরান্তে যাওয়ার কথা চিন্তা করি কিন্তু কাছেই যে এত সুন্দর ভ্রমণ স্পট আছে তা হয়তো আমাদের ধারণাতেই নেই। তাই হয়তো কবি ভ্রমণ পিপাসুদের কথা চিন্তা করে কবিতায় লিখেছিলেন,”বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরি দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু, দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু।

 আমাদের চোখের সামনে হাতের নাগালে এত সুন্দর ভ্রমন স্পট রেখে আমরা কেনই বা দূর দূরান্তে যাওয়ার কথা চিন্তা করব তাই একবার হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণে এসে আপনি আপনার ভ্রমণ সময়টাকে উপভোগ করবেন এবং একটুও নিরাশ হয়ে ফিরবেন না এইটুকু কথা দিতে পারি।আপনার সুবিধার্থে পশ্চিমবঙ্গের দর্শনীয় সেরা স্থানগুলোর বর্ণনা নিয়ে আজকে আমাদের এই আয়োজন। যেখানে থাকবে দর্শনীয় স্থানগুলোর বর্ণনা এবং সম্পূর্ণ গাইডলাইন।

১.কলকাতা

কলকাতা

বৃহত্তর ভারত উপমহাদেশের পশ্চিমবঙ্গের নাম শোনেননি এমন কেউ আছে বলে আমার জানা নেই। এটা সেই কলকাতা বয়জেষ্ঠদের স্মৃতি কথায় ইতিহাসের পাতায় পাতায় কত শুনেছি কত পড়েছি কলকাতার রূপকথা। কলকাতা এখনও বুকে ধরে আছে অতীতে ঘটে যাওয়া হরেক রকম ঐতিহাসিক ঘটনা। ৩০০ বছর পুরনো এই শহরটি আধুনিক শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সভ্যতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে ভারতবর্ষে। 

কলকাতায় প্রশস্থ রাস্তা গুলো যেন ইতিহাসের স্মরণি। প্রায় প্রতি বাকে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস গড়ার কোনো না কোনো কারিগর। এছাড়া কলকাতার রসগোল্লা আহ! আপনি খেলে জীবনে তার স্বাদ ভুলতে পারবেন না। কলকাতায় রয়েছে মুক্ত মালার মত অনেক দর্শনীয় স্থান। চলুন আজ কুড়িয়ে নেই কিছু মুক্ত মানিক।

বিড়লা টেম্পেল: একদিকে অন্তর্গত সৌন্দর্য অন্যদিকে আরাধনার প্রতিক দুইয়ে মিলে দারুন রাজকীয় জুটি বিড়লা টেম্পেল। বিড়লা টেম্পেলের বহিরাগত এবং অন্তর্গত সৌন্দর্য দেখলে মুগ্ধ হবেন আপনিও। এটি কলকাতায় বালিগঞ্জে বিড়লা পরিবারের গড়া দেবালয় ভারতের সবচেয়ে সুন্দর মন্দির গুলোর মধ্যে একটি। এটি প্রায় ৪৪ কাঠা জমির উপর নির্মিত। এই টেম্পলটি কিছুটা ভুবনেশ্বর লক্ষ্মীনারায়ণ টেম্পল এর ন্যায়। এই মন্দিরে ঠাঁই পেয়েছে প্রধান আরাধ্য দেবতা লক্ষ্মী নারায়ন। 

রাধা মাধব, রাধা কৃষ্ণ, বাঁ দিকের শিখড়ে প্রদর্শন করছে দেবী দুর্গার শক্তিরূপ এবং ডানদিকে ধ্যান মগ্ন মহাদেব। হিন্দু ধর্মালম্বীরা এই টেম্পল বা মন্দিরে এসে আরাধনায় মগ্ন হয়ে থাকেন। দুধ মতো সাদা শ্বেত পাথর দ্বারা তৈরি মন্দিরটি বুকে ধরে নিয়ে আছে শ্বেত পাথরের খোদাই কাজ, গীতার বাণী, ভাষ্কর্য আর রাজস্থানের স্থাপত্য শৈলীর দারুন নিদর্শন। দূর দুরান্ত থেকে হাজারো পর্যটক আসে মন্দিরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে‌। মন্দিরে সন্ধ্যায় আরতি করা হয় তখন মন্দিরের সৌন্দর্য দুই গুণ বেড়ে যায়। 

মন্দিরের বাইরে যতটা সুন্দর ভিতরে তার ১০০ গুণ অধিক সুন্দর। আপনি যদি মন্দিরে আসতে চান তাহলে খুব ভোরে অথবা সন্ধ্যায় আসবেন তাহলে আরও বেশি সৌন্দর্যতা ধরা দেবে আপনার চোখে।

লোকেশন: কলকাতার বালিগঞ্জে সৌন্দর্য মন্ডিত মনোরম পরিবেশে বিড়লা টেম্পেল অবস্থিত। কলকাতা শহর থেকে বালিগঞ্জের দূরত্ব ৬.৩ কিলোমিটার।

আলিপুর চিড়িয়াখানা: স্কুল ছুটি দিলেই বাচ্চাদের বায়না চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়ার। বড়রাও বাচ্চাদের চিড়িয়াখানায় ঘুরতে নিয়ে যেতে মজা পায়। তবে কোন চিড়িয়াখানায় যাবে সেটা নিয়ে ভাবনার শেষ থাকে না। আজ বলবো এমন এক চিড়িয়াখানার কথা যেখানে বাচ্চাদের সাথে বড়রাও মজা লুটে নেবে। আলিপুর চিড়িয়াখানা নানা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সোভার মাধ্যমে আপনার মন জয় করে নেবে। চিড়িয়াখানার পাশাপাশি এটি একটি পিকনিক স্পট। শীতকালে চিড়িয়াখানায় পা রাখার জায়গা থাকে না দূর থেকে মানুষ আসে এই চিড়িয়াখানায় পিকনিকের উদ্দেশ্যে। 

গেট থেকে প্রথমে হাঁটলেই দেখা মিলবে ভারতের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। সরীসৃপ ভবনে পাবেন নানা প্রকার সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী। কত জাতের সাপ যে সেখানে আছে! কাঁচের ভেতর থাকলেও আপনার মনের মাঝে একটা ভয়ংকর শিহরণ সৃষ্টি করবে এইসব। এছাড়াও কচ্ছপ, ক্যাঙ্গারু, ভাল্লুক, জেব্রা, শিম্পাঞ্জি ইত্যাদি ছাড়াও অনেক প্রকার পশু পাখি সেখানে বিদ্যমান। সব থেকে ভালো লাগে যে জিনিসটা সেটা হলো প্রত্যেকটি পশু পাখির জন্য অনেক বড় এরিয়া নিয়ে বাসস্থান গড়ে দেওয়া আছে। যার ফলে তারা খেলাধুলা এবং স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারে। 

যে কারনে সবারই পছন্দের চিড়িয়াখানা এটা। আপনি যদি ভারতের মাটিতে সুন্দরবন অথবা আফ্রিকার অ্যামাজন জঙ্গলের ফিল পেতে চান তাহলে চলে যেতে পারবেন আলিপুর চিড়িয়াখানায়। ছুটির দিনগুলোতে বাচ্চাদের আনন্দিত করতে কিংবা বন্ধুদের সাথে বনভোজনে যেতে পারেন আলিপুর চিড়িয়াখানায়। 

চিড়িয়াখানা প্রবেশ মূল্য বড়দের ৫০ টাকা এবং পাঁচ বছরের নিচে বাচ্চাদের ২০ টাকা। 

লোকেশন: কলকাতার আলিপুরে অবস্থিত আলিপুর চিড়িয়াখানা। কলকাতা শহর থেকে আলিপুর চিড়িয়াখানা দুরত্ব ৮.৩ কিলোমিটার।

নেহেরু চিলড্রেন জাদুঘর: বাচ্চাদের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো পুতুল। ছেলেবেলায় পুতুল খেলেনি এমন কেউ আছে কিনা সন্দেহ। ছোট বেলার স্মৃতি কত মধুর তাই না? ছোট বেলার বউ পুতুল কতই না খেলেছি! তখনকার সময় ফোন না থাকলেও জীবন টা ভারী সুন্দর ছিল। এখন তো বাচ্চারা ফোন পেয়ে পুতুল খেলা ভুলতেই বসেছে। তাই তো নেহেরু চিলড্রেন জাদুঘরে রয়েছে হরেক রকম পুতুলের সমাহার। জানলে অবাক হবেন প্রায় ৮৮ টা দেশের পুতুল আপনি এইখানে পাবেন। 

আরো অবাক হবেন যখন দেখবেন যেই দেশের পুতুল সেই দেশেরই পোশাক পরানো। নেহেরু জাদুঘরের নিচের তলা পুরোটাই পুতুল আর পুতুল। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে পুতুলের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম বাচ্চাদের খেলনা গাড়ি। তৃতীয় তলায় রয়েছে মহাভারতের কাহিনী যা খুব ভালো করে বিভিন্ন ভাবে বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও একটি ঘর আছে যেখানে গণেশের মূর্তিতে পরিপূর্ণ করা আছে। গণেশের বিভিন্ন ভঙ্গিমায় মূর্তিগুলো দেখতে বেশ চমৎকার। এখানে শেখানো হয় গান, নাচ, আঁকা ও আবৃত্তি।

চাইলে আপনারাও শিখে আসতে পারেন। রামায়ণের কাহিনী ও সেখানে আছে। এগুলো আসলে বাচ্চাদের ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের জন্য বানানো হয়েছে। বাচ্চারা এখানে আসলে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারে এবং তাদের ছোট্ট মনে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আলাদা একটা টান অনুভব করে। আপনার ও উচিত আপনার বাসার বাচ্চাটাকে নেহেরু জাদুঘরে ঘুরেয়ি নিয়ে যাওয়া।ভাবতে গেলে আসলেই অবাক লাগে প্রভুর তৈরী মানুষের কি অসম্ভব ক্ষমতা নেহেরু জাদুঘর নির্মাণ করা কারিগরা দিনের পর দিন কত মানুষকে মঞ্চমুগ্ধ করে তুলেছে।

সত্যি নেহেরু জাদুঘর নির্মাণ করা কারিগরদের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানানো উচিত বার বার। আপনি যদি কলকাতায় আসেন কিংবা এর আশেপাশেই থাকেন তাহলে চলে যেতে পারেন নেহেরু চিলড্রেন জাদুঘরে।

লোকেশন: কলকাতা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে নেহেরু চিলড্রেন জাদুঘর অবস্থিত।

ইকো পার্ক: কলকাতার বুকে এক অভিনব স্বাদের ভান্ডার। সাজানো গোছানো ও অনেক বড় বিস্তৃতি নিয়ে পার্কটি গঠিত হওয়ায় এটি ভারতের এক অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এখানে এত কিছু আছে যে আপনি পুরোটা শেষ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। পার্কটিতে মোট চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। এক নম্বর গেট থেকে প্রবেশ করলে প্রথমেই দেখতে পারবেন রবি অরন্য। রবি অরন্যর বুক চিরে চলে গেছে একটি পায়ের হাটা রাস্তা সেই রাস্তা ধরে গেলেই পাবেন উন্মুক্ত জলাশয়।

সেখান থেকে ঠান্ডা বাতাস আর প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে করতে আপনার মনের মত কিছুক্ষণ কাটিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে। তার ঠিক পাশেই রয়েছে শান্তশিষ্ট জাপানিজ ফরেস্ট। জাপানিজ ফরেস্ট রয়েছে বিশাল এক বৌদ্ধ মন্দির। সেখানে প্রবেশ করতে গেলে আপনাকে ১০ টাকা খরচ করে যেতে হবে। জাপানিজ ফরেস্টে রয়েছে একটি ছোট্ট জলাশয় তার ওপর একটি সাঁকো। রয়েছে বিশাল বড় এক বৌদ্ধ মূর্তি। এছাড়াও রয়েছে জাপানি রেস্টুরেন্ট। সেখান থেকে আপনি জাপানি আইটেম টেস্ট করতে পারেন। 

একটু এগুলোই দেখতে পাবেন আইফেল টাওয়ার। না না এটা সত্যিকারের আইফেল টাওয়ার না। সত্যিকারের আইফেল টাওয়ার না হলেও এটাকে হুবহু আইফেল টাওয়ারের রূপেই নির্মাণ করা হয়েছে। আপনি চাইলে লিফটের মাধ্যমে আইফেল টাওয়ারের চূড়ায় উঠতে পারবেন এবং পুরো ইকোপার্কের এক নজরে দেখতে পারবেন। পুরো ইকোপার্কি ঘুরতে ঘুরতে পা ব্যথা হয়ে যাওয়ার কোন ভয় নেই পার্কের ভিতর রয়েছে গাড়ির ব্যবস্থা আপনি চাইলে গাড়িতে করে এক চক্কর পুরো চিড়িয়াখানা টা ঘুরতে পারে। 

দুই নাম্বার গেট থেকে প্রবেশ করলে উন্মুক্ত জলাশয় মাঝে বোটিং করার সুব্যবস্থা রয়েছে। ১০০ টাকা টিকিট মূল্যের বিনিময়ে আপনিও বোটিং করতে পারেন। এ বিশাল বড় জলাশয়ের মাঝখানে আছে একটি ইকো আইল্যান্ড ও ইকো কটেজ। আপনি চাইলে ইকো কটেজে রাত্রি যাপন করতে পারবেন সেক্ষেত্রে আগে থেকেই অনলাইন বুকিং করতে হবে আপনাকে। জলাশয়ের ঠিক সামনের দিকেই রয়েছে আর্টিস্ট কটেজ যেটি কিনা কুড়েঘরের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশে রয়েছে একটি বাগান চাইলে সেখানে বসেও কিছুক্ষণ একান্তে সময় কাটাতে পারেন।

আপনি ডুয়ো সাইকেলে করেও পার্কটিতে ঘুরতে পারেন তবে এক্ষেত্রে প্রতি তিরিশ মিনিটে দেড়শ টাকা করে আপনাকে দিতে হবে। মনটাকে আরো রাঙিয়ে তুলতে যেতে পারেন রোজ গার্ডেনে। যত রঙের গোলাপ আছে তার সবই প্রায় পাবেন রোজ গার্ডেনে। এর পাশে রয়েছে টেরাকোটা মন্দির। বাংলার পোড়ামাটির ফলকচিত্র দেখতে পারবেন সেখান থেকে। এখানে লাইট এন্ড সাউন্ড শো এর ব্যবস্থা আছে। প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলায় জলের ফোয়ারার সাথে তাল মিলিয়ে লাইট অ্যান্ড শো এর অনুষ্ঠান পরিচালনা হয়।

তিন নম্বর গেটের কাছে আছে মিস্ট গার্ডেন। সেখানে জলীয় ধোঁয়াশার মাধ্যমে ঠান্ডা পরিবেশ সৃষ্টি করা আছে। সেখান থেকে হাঁটার সময় আপনার অন্যরকম একটি অনুভূতি অনুভব হবে। সেখান থেকে কিছুক্ষণ হাঁটলেই সামনে পড়বে রেইন ফরেস্ট। সেখানে অসংখ্য গাছের সমারোহ আপনি দেখতে পাবেন। আরো আছে মাক্স গার্ডেন। সেখানে বিভিন্ন রকম মাক্স দিয়ে পুরো গার্ডেনটি সাজানো আছে। এর পাশেই রয়েছে ঘুম স্টেশন। সেখানে একটি মডেল টয়ট্রেন ও রয়েছে। ইকো পার্কের টয় ট্রেনটি ঘুম স্টেশনের থেকেই ছাড়ে এবং সেখানে এসেই থামে বলে এই স্টেশনটিকে জীবন্ত বললেই চলে।

আরো রয়েছে কৃত্রিম ভাবে সৃষ্টি গ্রাম বাংলার রূপ। পুরো একটি আদর্শ গ্রামের রূপ তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। তিন নাম্বার গেটের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হল বাটারফ্লাই গার্ডেন। যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির এবং বিভিন্ন রঙের প্রজাপতি সংরক্ষণ করে রাখা আছে। এছাড়া ফুড কোর্ট, আড্ডা জোন, বিশ্ব বাংলা, হাটশিল্পী, কুটিরবিশ্বের সাতটি আশ্চর্য, আরবান মিউজিয়াম বা সংগ্রাহ, গ্রাফিতি দেয়াল,‌ লেক ফ্রন্ট প্রমনেড সহ আরো অনেক কিছু আছে। পৃথিবীর সব নামকরা স্থাপত্য যেনো সব এখানে এসে ভিড় করেছে। কলকাতায় গেলে মিস করবেন না ইকোপার্ক ভ্রমন। 

লোকেশন: ইকো পার্ক কলকাতা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল:

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

সুমধুর স্মৃতি সুখের উল্লাসে মেতে ইতিবাচক অবদান রেখেছে সর্বত্রে। সাহিত্যে, শিল্পে, সংস্কৃতিতে কিংবা সমাজ চেতনায় বলুন না কেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অবদান সব কিছুতেই। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নাম শোনেনি এমন কেউ আছে বলে মনে হয় না। ১৯০১ সালে রানী ভিক্টোরিয়া ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলে তার সৃতি হিসাবে এই ভবণ টি নির্মাণ করা হয়। ভিক্টোরিয়া হল পশ্চিম বঙ্গ কলকাতার রানী ভিক্টোরিয়ার একটি সৃতিসৌধ। চমৎকার নির্মাণ শৈলী ও বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি বলে এটি আপনার ভালো লাগার অন্যতম কারণ হবে।

সবুজ নিসর্গের মাঝে শুভ্রময় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ভিক্টোরিয়া হল কলকাতার একটি আইকনিক স্থপনা তাই কলকাতা গেলে এটি ঘুরে আসবে না এমন কেনো মানুষ পাওয়া দুষ্কর। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর উত্তর এবং দক্ষিণের দুই দিকে রয়েছে দুইটি মেইন দ্বার বা গেট এবং দুই দিকে আছে টিকিট কাউন্টার আপনি চাইলে টিকিট কেটে এই  সুন্দর ভিক্টোরিয়া মেমোরি এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। উত্তর দিকে গেট হল প্রধান সিংহ দ্বার যার সামনে আছে মার্বেল পাথরের এর দুইটি সাদা সিংহ মূর্তি। গেট থেকে ভিতরে ঢুকেই দেখে মেলে নুড়ি বিছানো সুন্দর রাস্তা। 

মাঝখানে রংবেরঙের ফুল ফুটে থাকা সুন্দর একটি বাগান যার দুই সাইড দিয়ে এই নুড়ি পাথর বিছানো রাস্তা। এই রাস্তাকে অনেকেই কুইনস ওয়ে ও বলে চেনে। এই রাস্তার মাঝে সিংহাসনে বসে থাকা রানী ভিক্টোরিয়ার মূর্তি দেখতে পাওয়া যাই। রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর পর ১৯০৬ সালে তার সৃতি হিসাবে এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নির্মাণ করা হয়। চোখ জুড়ানো নির্মাণ শৈলীর আর ব্রিটিশ জামানার ইতিহাস দুইয়ে মিলে এই ভবন কলকাতা অন্যতম আকর্ষণ। দক্ষিণ এর গেট এর সামনে আছে দুইটি কামান এবং রাস্তায় মাঝে রাজা এডওয়ার্ড সপ্তম এর ঘোড়ায় চড়া মুর্তি।

এই স্থাপত্যের সৌন্দর্যের কাছে অন্য স্থাপত্যের সৌন্দর্য কিছুই না। এই সৌধ এর মাথায় আছে কালো একটি পরী মূর্তি যা বাতাস এর সাথে দিক পরিবর্তন করে। এছাড়াও আরো আছে অদ্ভুত মার্বেল এর কারুকার্য মুর্তি। পরিবার এর সাথে কাটানোর জন্য এই ভিক্টোরিয়া এবং এর সংলগ্ন জায়গা হল আর্দশ স্থান। এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর মাঝে আছে মিউজিয়াম যা অন্যতম আর্কষনীয় স্থান হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই মিউজিয়াম এর ভিত্তরে আছে রানী ভিক্টোরিয়ার সহ তখন কার প্রবাবশালী ব্যক্তিদের মুর্তি এবং রানী ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন ব্যবহার এর বিভিন্ন জিনিস পত্র।

এই সেন্টার হলের মাঝে আছে রানী ভিক্টোরিয়ার শ্বেত পাথরের অসাধারণ একটি মুর্তি। মূর্তির সৌন্দর্য দেখলে মনে হয় রানী ভিক্টোরিয়ার জীবন্ত দাড়িয়ে আছে। মূর্তিটিকে দেখতে এতটাই সুন্দর যে মুহূর্তেই বোকা বানিয়ে দিতে পারে এই মূর্তিটি। আপনি বিশ্বাসই করতে পারবেন না এটি একটি মূর্তি। কলকাতায় যেয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে না গেলে আপনার কষ্টটাই মাটি হয়ে যাবে। 

তাই আর দেরি না করেই বেরিয়ে পড়ুন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর উদ্দেশ্যে আর অবশ্যই এই স্থানে ঘুরতে যাবেন সহপরিবার মিলে আশা করি আপনাদের আনন্দ দেবে। সত্যি এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল একটি আশ্চর্যজনক একটি সৌধ।

লোকেশন: কলকাতা শহর থেকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এর দূরত্ব ৫.২ কিলোমিটার।

সায়েন্স সিটি :

 

সায়েন্স সিটি

সায়েন্স সিটি হল ভারত এর বৃহতম বিজ্ঞান কেন্দ্র এটি। বিজ্ঞান এর প্রতি আপনার যদি বিশেষ আকর্ষণ থাকে তা হলে অবশ্যই এই স্থানে আপনি যেয়ে ঘুরে আসবেন। এবং যদি বাচ্চাদের নিয়ে আসেন তা হলে তাদের জন্য একটি শিক্ষা সফর হতে পারে এই ভ্রমণ। তাই আপনারা এই স্থানে পরিবারের সবাই মিলে আসবেন এখান বিভিন্ন রকম নতুন নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন। সায়েন্স সিটিতে একেক জায়গার জন্য একেক রকম টিকিটের ব্যবস্থা করা আছে।

যদি আপনি মাথা পিচু ৩০০ টাকা করে একটি টিকিট ক্রয় করেন তা হলে আপনি সব স্থানে যেতে পারবেন। 

সুন্দর বাগান দিয়ে ঘেরা এই সাইন্স সিটির চারপাশ যা আপনাকে মুহূর্তের মধ্যেই মুগ্ধ করবে। খেলার ছলে আছে ফিজিক্স এর নানা রকম সূত্র। যারা বিজ্ঞান নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে পছন্দ করেন কিংবা বিজ্ঞান বিষয় পড়াশোনা করে তাদের জন্য একদম আর্দশ জায়গায় এটা। কতকিছু আছে এইখানে তা আপনি না দেখালে বুঝতে পারবেন না। মানুষ এর মেমোরি কি ভাবে কাজ করে তার স্মৃতি মডেল একটি যন্তের মাধ্যমে সুন্দর করে বোঝানো আছে। 

প্রাচীন কালে ভারতীয় বিজ্ঞানিরা কি ভাবে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করছে তার বিভিন্ন প্রদর্শনী আছে এই সায়েন্স সিটির ভিতরে। সায়েন্স সিটি ল্যাব এর ভিত্তরে আছে স্পেপ থিয়েটার এখানে টিভি স্কিনি দেখা যাই পৃথিবীর বায়ুমন্ডল ও নাসা থেকে তোলা বিভিন্ন গ্রহ এর আশ্চর্য ছবি। মার্স, ইউরেনাস, সূর্য, চন্দ্র কেউ বাদ নাই আপনি না দেখলে বড় মিস করবেন। তাই আশা করি আপনি দেখবেন। এটার উপরে আছে একটা ঘর যেটা কাচের তৈরি রিফ্লেকশন এর মজার সব এক্সপেরিয়েন্স। এটা দর্শকরা খুব উপভোগ করে। এখানে আরো আছে কাচের একটি ঘর যেখানে আকা বাকা রাস্তা এটিতেও অনেক মজা নেই সবাই দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার।

তবে আপনি অবশ্যই সাবধানে হাটবেন এই আঁকাবাঁকা পথ। যদি কখন এখানে আসেন আপনাকে নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতা দেবে এই সায়েন্স সিটি। বিজ্ঞানের দুনিয়ায় হারাতে বন্ধু কিংবা আত্মীয় কিংবা বাসায় থাকা ছোট্ট সোনামণিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন সায়েন্স সিটি দেখার উদ্দেশ্যে।

লোকেশন: কলকাতা শহর থেকে সায়েন্স সিটির দূরত্ব ৭.৩ কিলোমিটার।

হাওড়া ব্রিজ/ রবিন্দ্র সেতু:

হাওড়া ব্রিজ/ রবিন্দ্র সেতু:

কলকাতা ঘুরতে যাবেন আর এই ব্রিজ দেখবেন না তা হতে পারে না। ১৯৪৫ সালে এই ব্রিজটি চালু করা হয়। ১৯৬৫ সালে ১৪ জুন সেতুটির নাম পরিবর্তন করে হাওড়া ব্রিজ থেকে রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নামে রবিন্দ্র সেতু রাখা হয়। 

হাওড়া ব্রিজ পশ্চিমবঙ্গ হুগলি নদীর উপর অবস্থিত। বড় খিলনা যুক্ত একটি ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি ১৯৪৩ সালে অনুমোদিত হয়। ভারতের সব বিখ্যাত সেতুর মধ্য হাওড়া ব্রিজ অন্যতম। দেখে অবাক হবেন কোনো রকম নাট ছাড়া ৮২ মিটার উচ্চতা এবং ৭০৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি দৈনিক কম করে ১ লাখ পঞ্চাশ যানবাহন ও ৪০ লাখ মানুষ এর ওজন বহন করে ঠায়  দাড়িয়ে আছে। 

হাওড়া ব্রিজ একটি ৮ লেন বিশিষ্ট সেতু। দিনের থেকে রাতের দৃশ্য দেখে আপনি বিমহিত হয়ে যাবেন। নানান আলোর ঝলকানি দেখে এবং নদীর ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করতে আপনার একবার হলেও হাওড়া ব্রিজে যাওয়া দরকার। আপনি অবশ্যই ভারতের কলকাতায় এলে হাওড়া ব্রিজ পরিদর্শনে যাবেন।

লোকেশন: কলকাতা শহর থেকে ৩.১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 

ইন্ডিয়া মিউজিয়াম:

ইন্ডিয়া মিউজিয়াম

এই জাদুঘর ব্রিটিশরা তৈরি করে ছিল। আপনি জানলে অবাক হবেন ভারতের সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম জাদুঘর এটি। বিভিন্ন প্রাণীর অবশেষ মুদ্রা অস্ত্র আরো অনেক কিছু পাবেন এখানে। যদি মিশরীয় মমি আপনাকে উত্তেজিত করে তোলে তবে আপনি এই মিউজিয়ামে দারুন এক উত্তেজনার সম্মুখীন হবেন। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ হলো একটা মমি। না না কৃত্রিম নয় আসল একটা মমি। যা ভারতে আর কোথাও আপনি দ্বিতীয়টি দেখতে পাবেন না।

মিউজিয়ামে প্রবেশের জন্য সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৫.৩০ পর্যন্ত টিকিট কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করা হয়। মিউজিয়াম খোলা থাকে সকাল ১০ টা হতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত তবে সোমবার বন্ধ থাকে এটি। এখানে ভারত বর্ষ সহ ভারত এর বাইরে অনেক মূর্তি এখানে রাখা আছে যার কারুকাজ শিল্প এতোটাই অসাধারণ যা আপনাকে মুগ্ধ করবে সর্বক্ষণ। এখানে গান্ধা গ্যালারি  নামে একটা জায়গায় আছে যেখানে আছে বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন মূর্তি। এর ভেতর বিভিন্ন রকম এর বিভিন্ন পাথরের বৌদ্ধমূর্তি সহ বিভিন্ন মূর্তি এখানে সযত্নে সংরক্ষিত করে রাখা আছে।

গান্ধা গ্যালারি পার করে চলে আসবেন আরকিউ গ্যালারিতে সেখানে আপনাকে স্বাগতম করবে তিনটি। এই গ্যালিরিতে সারা ভারত বর্ষ জুড়ে সংরক্ষণ করা বিভিন্ন মূর্তি আছে। নানান প্রাচীন নিদর্শন এখানে বিদ্যমান। এখানে ৮০০ বছর পুরনো পাল যুগের দুর্গা মূর্তি ও আছে। কালো রং এর পাথর গুলি এত সুন্দর কারুকাজ করা সত্যি বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই গুলো পাথর কেটে তৈরি করা। এখানে আরো আছে কয়েন্স সেকশন যেখানে আছে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজার বিভিন্ন সভ্যতার ব্যবহার করা কয়েন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

২০০০ বছর আগে ব্যবহার করা কয়েন, গ্রীকদের  ব্যবহার করা কয়েন, দিল্লি সুলতানদের ব্যবহার করা কয়েন, মোঘলদের ব্যবহার করা কয়েন, ব্রিটিশদের ব্যাবহার করা কয়েন এছাড়া আরো বিভিন্ন রকম কয়েন দেখতে পাবেন এখানে। এছাড়াও এই  মিউজিয়ামে আছে হিউম্যান এবুলেশন গ্যালারি এখানে ছবি মডেল লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানব সভ্যতার বিবর্তন কি ভাবে আর্লি ম্যান থেকে আধুনিক মানুষ হয়েছে। বিবর্তন এর সাথে সাথে মানুষ এর মাথার খুলি চেহারা যেমন চেঞ্জ হয়েছে তেমনি চেঞ্জ হয়েছে মানুষ এর হাটার ধরণ।

এছাড়াও এক তলা শেষ গ্যালারি হল রক এন্ড মিনারস গ্যালারি যেখানে আছে ভারতবর্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় থেকে পাওয়া পাথর এবং মিনারেস এই গ্যালিরি শুধু মাত্র ঐতিহাসিক দিক থেকে নই প্রকৃতিক বিজ্ঞান এর সংরক্ষণ এর জায়গা এখানে অনেক রকম মিনারেস এর স্যাম্পল রয়েছে। এছাড়া ও বিভিন্ন জায়গার বালিও এখানে সংরক্ষণ করা আছে। এক তলা সিড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে প্রথমেই চোখে পড়বে বর্ধমান এর রাজার গিফট করা কুইন ভিক্টোরিয়ার একটি সুন্দর মার্বেল এর পাথর মুর্তি।

দোতলার বারান্দা থেকে মিউজিয়াম ও মিউজিয়াম এর বাগান দেখা যাই যা দেখতে খুবই সুন্দর। চোখে দেখা এক অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এইবার চলে আসুন প্রানবিদ্রা গ্যালিরিতে। এই গ্যালারিতে আনন্দ পাবে না এমন লোক পাওয়া মুশকিল। শুধু বাচ্চারাই নয় যেখানে ছোট বড় সবাই খুশি হবে এই গ্যালারিতে। এখানে যে সব জন্তু বা প্রাণী গুলো দেখতে পারবেন সে গুলো আসলে মরে যাওয়ার পর এই জন্তু গুলো কে স্টাফ করে রাখা হয়েছে। 

সব থেকে সুন্দর এখানে কংকাল এর কালেকশন বিশাল আকার হাতি, তিমি মাছ সহ অন্যান্য জন্তুদের বিভিন্ন কংকাল এখানে কাচের ঘরের ভিতরে সংরক্ষণ করা রয়েছে। ভারতবর্ষ সহ ভারতবর্ষের বাইরে যে প্রাণী গুলো পাওয়া যাই সেই সব প্রানী দেখতে পাওয়া যাই ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে। অনেক রকম প্রানীদের বডি স্টাফ করে রাখা হয়েছে এখানে। 

হিউম্যান এবুলেশন এর ভেতর এক মাত্র এ যুগেও সংরক্ষণ করা আছে ডাইনোসর এর কংকাল, জিরাফ এর কংকাল, তিমি মাছের কংকাল এবং এখানে মেনস ওয়েল এবং ব্লু ওয়েল এর কংকাল সংরক্ষণ করা রয়েছে। কংকাল দেখলে বোঝা যাই এই গুলো কত বড় প্রানী। এইবার দেখতে চলে আসেন পোকা মাকড় এর গ্যালিরিতে যেখানে মডেল এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় পোকা মাকড় এর ছবি।

 জঙ্গল এর জায়গার পোকার এবং জলজ এর পোকামাকড় গুলো সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে তেমনি সমুদ্রের নিচে যে পোকা মাকড় গুলো পাওয়া যাই সে গুলো দেখতে সম্পুর্ন রূপে আলাদা। এখানে বাচ্চাদের না নিয়ে যাওয়ায় ভালো কারন এগুলো দেখে ভয় পেতে পারে। এখানে একটি গাছ আছে যাকে ট্রি অফ লাইট বলা হয়। এটা যেখানে সংরক্ষণ করা রয়েছে সেখানে বিভিন্ন রকম জায়গার পোকামাকড় এর বডি রিজার্ভ করা হয়েছে। 

এইবার দেখতে চলে আসুন চারুকলা সেকশনে যেখানে দেখতে পাবেন বিভিন্ন রাজার রাজ্যের ব্যবহৃত ডেকারেটর জিনিস পত্র। এক সময় রাজাদের ঘরে যে সব জিনিস পত্র ব্যবহার করা হতো সেই জিনিস গুলো এখানে সংরক্ষণ করা আছে। এখানে দেখলে বুজতে পারবেন এক সময় ভারত এর রাজা বাদশারা কত টা সৌখিন ছিল এবং কত সুন্দর করে তাদের রাজপ্রাসাদ সাজাতেন। 

আশা করি আপনাদের এই মিউজিয়াম ঘুরে দেখতে ভালো লাগবে। একেক রকম গ্যালারিতে একেক রকম মজাদার অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবেন আপনি। 

লোকেশন: কলকাতা শহর থেকে ৩.৫ কিলোমিটার দূরে ইন্ডিয়া মিউজিয়াম অবস্থিত।

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
বাংলাদেশ থেকে কলকাতার দূরত্ব ২৯২ কিলোমিটার।মহানগর ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে ৯থেকে ১৩ ঘন্টা সময় লাগে।

যদি বাসে যেতে চান তাহলে ঢাকা থেকে শ্যামলী বিআরটিসি, স্ক্যানিয়া, সোহাগ, দেশ ট্রাভেলস, গ্রিনল্যান্ড, সৌহার্দ্য এবং রয়েল কোচ বাসে করে যাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে সোহাগ, গ্রীনলাইন আর শ্যামলীর সার্ভিস ভালো।

এসবগুলো বাসের মধ্যে শ্যামলী এন 

আর বাস সরাসরি ঢাকা থেকে কলকাতা যায়। অন্যান্য বাস গুলো বেনাপোল থেকে নেমে বর্ডারের ওপারে গিয়ে আবার ইন্ডিয়ার বাসে উঠতে হয়।

পেট্রোপোল থেকে কলকাতা যেতে মাত্র ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

বাসের ভাড়া ঢাকা থেকে কলকাতা ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা আর এসি বাসের ভাড়া ১৫০০ থেকে ১৯০০ টাকা।

ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনও ঢাকা থেকে কলকাতা যাতায়াত করে। শুক্র, শনি, রবি ও বুধবার এই ট্রেন ৮:১৫ মিনিটে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দর্শনা বর্ডার দিয়ে গেদে হয়ে কলকাতা চিত পুর স্টেশনে এই ট্রেন থামে। ট্রাভেল ট্যাক্সসহ এসি সিটের ভাড়া ৩৪০০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া জনপ্রতি ২৫০০ টাকা করে। 

আর ঢাকা থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনে কলকাতায় যাওয়া যায়। ট্রেনে করে বেনাপোল নেমে ওপারে গিয়ে আবার গাড়ীতে উঠতে হয়।

এছাড়া খুলনা থেকে বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা- যশোর- ঝিকরগাছা- বেনাপোল- পেট্রোপোল- বনগাঁও- দমদম- কলকাতা। এই রুটে ট্রেন চলে। বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা থেকে দুপুর ১:৩০ এ রওনা দিয়ে কলকাতা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে পৌঁছে যায়।

এছাড়াও যদি খুব সহজে এবং আরামে যেতে চান তাহলে বিমানে করেও যেতে পারেন ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে অহরহ কলকাতার উদ্দেশ্যে প্লেন ওঠা নামা করে। টিকিট মূল্য বিমান সংস্থার ওপরে নির্ভর করে ৪৫০০ টাকা থেকে ৬৬০০ টাকা পর্যন্ত।

 

২.শান্তিনিকেতন

শান্তিনিকেতন

শান্তিনিকেতন নাম শুনেই কেমন মনের মধ্যে শান্তি শান্তি লাগে। শান্তি মানে যেখানে গেলে আপনার মন সমস্ত দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি সমস্ত আক্ষেপ, হতাশা থেকে নির্মল একটা প্রশস্তিতে মন ভরিয়ে দেওয়া বোঝায় আর নিকেতন মানে হচ্ছে ঘর বা আবাসস্থল। তার মানে বুঝতেই পারছেন শান্তিনিকেতন মানে হচ্ছে শান্তি দেওয়ার মত একটি পরিবেশ।

সত্যিই ধরেছেন শান্তিনিকেতনে আছে নির্মল নিরিবিলি পরিবেশ, শান্ত সৃষ্ট প্রকৃতি। ছবির মত সুন্দর করে সাজানো পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরে অবস্থিত শান্তিনিকেতন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে পরিচিত শান্তিনিকেতনের নাম কেবা জানেনা। শান্তিনিকেতকে বাঙালিরা জানে মূলত একটি আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে বীরভূমের রায়পুরের জমিদার ভুবন মোহন সিং এর কাছ থেকে বার্ষিক ৫ টাকার বিনিময়ে দুটি ছাতিম গাছ এবং ২০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজারা নিয়েছিলেন একটি অতিথি নিবাস গড়ে তোলার জন্য, যেটার নাম দিয়েছিলেন শান্তি নিকেতন। আস্তে আস্তে পুরো এলাকার নাম হয়ে যায় শান্তিনিকেতন। বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতন সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত একটি নাম। লাল মাটির এই শহরের শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সকলের কাছে খুবই জনপ্রিয়। 

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর বীরভূম শহরের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে নির্জনে বসে ঈশ্বরের ধ্যান ও ধর্মালোচনার জন্য একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০১ সালে এই শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে ১৯১৮ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হয় যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বয়ং আমাদের কবিগুরু। পরবর্তীতে আশ্চর্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কবিগুরুর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব এতটাই উল্লেখযোগ্য শুধুমাত্র কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের অবদান রয়েছে এর প্রতিটি কণায় কণায়।তিনি দীর্ঘকাল এখানে বসবাস করে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন কত শত গল্প কবিতা, গান, সাহিত্য আরো কত কি। তার সাথে গড়ে তুলেছেন বিশ্বভারতী যা সাজিয়েছেন দারুন অতুলনীয় চিত্র, ভাস্কর্য ও দেয়াল চিত্রের মেলায়।

 গীতাঞ্জলি মিউজিয়াম:- অপূর্ব সুন্দর করে সাজানো বোলপুর রেল স্টেশনের উল্টো পাশে রয়েছে গীতাঞ্জলি মিউজিয়াম যেখানে দেখতে পাওয়া যাবে রবীন্দ্রনাথের সারা জীবনের সবকিছুকে বিশদভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তার সাথে পাবেন বোলপুর শান্তিনিকেতনের ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ যাত্রা ট্রেনটি এবং আরো অসংখ্য নথিপত্র এখানে পাওয়া যাবে। মিউজিয়ামটি  ভালো ভাবে দেখতে দেড় ঘন্টার মত সময় আপনার লেগে যাবে।

প্রকৃতিভবন:- এখানের এন্টি ফি জন প্রতি ৩০ টাকা করে আর ফটোগ্রাফির জন্য

সুব্রত বসু মহাশয় দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে সারাবিশ্ব থেকে সবকিছু সংগ্রহ করেছিলেন।তিনি প্রকৃতি থেকে অসাধারণ সব কালেকশন করে প্রকৃতিভবন সাজিয়েছেন। প্রকৃতি থেকে যেটা যেভাবে পেয়েছেন তুলে এনেছেন এবং সবকিছুর নামও দিয়েছেন। অনেক সময় নিয়ে চিন্তা করে খুঁজে বের করতে হয় এখানের সব ভাস্কর্যগুলোর নিজের নিজের নাম।

আমার কুটির:- শান্তিনিকেতনের আমার কুটির তৈরি করেছিলেন আমাদের কবিগুরু। এলাকার দরিদ্র মানুষের তৈরিকৃত হস্তশিল্প এবং অসাধারণ সব কালেকশন দিয়ে একটা বিপনী বিতান। শান্তিনিকেতন।হাতের তৈরি হস্তশিল্প কার না ভালো লাগে? এখানে এলে আপনি এমন কোনো জিনিস নেই যে এখানে নেই। যারা ঘর সাজাতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এখানে রয়েছে দূর্দান্ত সব হস্তশিল্প কালেকশন যা দেখে আপনার মাথা ঘুরে যাবে কেনার জন্য।এখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ এর ব্যবহারয্য গাড়ি সংরক্ষিতভাবে রাখা রয়েছে।

সৃজনীশিল্প গ্রাম:- এখানের এন্টি ফি জন প্রতি ২০ টাকা করে। সকাল ৯:৩০ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে ঢোকার আগেই কানে ভেসে আসবে বাউল গান। বাঙালির রক্তের সাথে মিশে আছে যে বাউল গান যা শুনলে অন্য রকম ভালো লাগা সৃষ্টি হয় মনের মাঝে। আশেপাশে শুনতে পাবেন মাদলের শব্দ যার তালে তালে তাল মেলাচ্ছে আদিবাসী নারীরা আপনি তাদের সাথে তাল মিলিয়ে মাদল নৃত্য পরিবেশন করতে পারেন।

সুড়ুলের সরকার রাজবাড়ী:- প্রশিদ্ধ ব্যবসায়ী শ্রী নিবাস সরকার ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে এই রাজবাড়ী নির্মাণ করেছিলেন। এখানে আড়াইশো বছরের পুরোনো দূর্গা পূজা উদযাপন হয়ে আসছে সেই শ্রী নিবাস সরকার মহাশয়ের আমল থেকে। জমিদার বাড়িতে টেরা কোটার কয়েকটা মন্দির রয়েছে যা দেখতে অসম্ভব সুন্দর।

কঙ্কালীতলা:- দেবী সতীর কোমরের অংশ এখানে পড়ে ছিল বলে এই জায়গায় নাম কঙ্কালিতলা। দেবী সতীর কোমরের অংশ এখানের কুন্ডের জলে ডুবিয়ে রাখা হয় অমাবস্যার দিন তুলে পূজো করেন অনেক অনেক পূর্ণার্থীরা। পুজো শেষে আবার কুন্ডের জলে নিমজ্জিত করা হয়। যদি সাইডসীনের উদ্দেশ্যে বের হন এখানে সকাল সকাল এলে সনাতন ধর্মাবলিরা পুজো দিতে পারবেন তাড়াতাড়ি নয়তো সবসময় এখানে ভীড় লেগেই থাকে।

মন্দিরের ভেতরে সম্পূর্ণ পাকা করে রাখা, অসম্ভব সুন্দর পরিবেশ। মন্দিরের ঠিক পেছনে কোপাই নদী। যে কোপাই নদীকে নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ কবিতা লিখেছিলেন “আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে”।এই নদীর উৎপত্তি হয়েছে বক্রেশ্বর নদী থেকে অনেকেই এটাকে শাল নদী নামেও ডাকে। এই নদীর উৎপত্তির পর এটা বীরভূমের অনেক এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গেছে।এই নদীর বাঁধ কিছুটা মেয়েদের গলার হাসুলী হারের মতো দেখতে তাই এটাকে হাসুলী বাঁধ বলা হয়।

বিখ্যাত লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এই নদীর উপর নির্ভর করে উপন্যাস লিখেছেন, “হাসুলী বাকের উপকথা”। ১৯৬২ সালে বিখ্যাত পরিচালক তপন সিংহ এই উপন্যাসের ভিত্তিতে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছিলেন।

মন্দিরের পাশেই শীতকালে খেজুরের রসের খাঁটি গুড় পাওয়া যায় প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। জায়গায় বসেই কেউ কেউ গুড় বানাচ্ছে ইচ্ছে হলে গরম গুড় খেতে পারেন, চারিদিকে খেজুরের গুড়ের মৌ মৌ ঘ্রাণে বাতাস এবং আপনাকে পাগল করে দেবে। ইচ্ছে হলে খাঁটি খেজুরের টাটকা রসও খেতে পারেন ১৫ টাকা গ্লাস মূল্যে মনকে চাঙ্গা করতে।

বল্লভ পুর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য:- এখানের বড়দের জন্য এন্টি ফি ৫০ টাকা এবং ছোট ও স্টুডেন্টদের জন্য ৫ টাকা মূল্যে টিকিট কাটতে হবে সকাল ৯ টা থেকে ৩:৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে। ১৯৭৭ সালে এটা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।এখানে অনেক অনেক হরিণ দেখতে পাবেন,আছে এ্যাকুরিয়ামে অনেক প্রজাতির মাছ, অনেক পাখির অভয়ারণ্য, কিছু ভাস্কর্য এবং একটি ওয়াচ টাওয়ার। 

বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস:- ১৯৯৮ সালে ইকোনোমিক সাইন্সে নোবেল বিজয়ী ও ভারতরত্ন অমরত্ব সেনের বাড়ী রয়েছে এই এই বিশ্বভারতীতে। পাশেই আছে সঙ্গীত ভবন,কলা ভবন, নাট্যঘর,কলেজ ক্যাম্সাস। আছে রাম কিঙ্ককর বেজের তৈরি ভাস্কর্য। রবীন্দ্র ভবনের মিউজিয়াম উত্তরায়ণের মিউজিয়াম জনসাধারণের জন্য খোলা আছে এন্টি ফি ৭০ টাকা আর স্টুডেন্টদের জন্য ১০ টাকা করে।আর বিদেশী পর্যটকদের জন্য ৩০০ টাকা। 

রবীন্দ্র ভবনে আছে রবীন্দ্রনাথের সারা জীবনের কার্যকলাপ, পরিবার, বিভিন্ন উপহার, তার ব্যবহার্য অনেক জিনিস, পদ্মা, নৌকার মডেল তার নোবেল এর ছবি পোশাক শেষ যাত্রায় রেলের কোচের ছবি,আরো কত যে স্মৃতি বিজড়িত রবীন্দ্রভবনে অপেক্ষা করছে। ১৮৭৩ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথম শান্তিনিকেতন আসেন। ১৮৮৮ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এই পুরো সম্পত্তিটা  ব্রহ্মবিদ্যালয় নির্মাণে উৎসর্গ করেন। 

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচার্য আশ্রম শুরু করেন।১৯২৫ সালে যেটা পাঠ্যভবন নামে পরিচিত লাভ করে।১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন এবং ১৯২১ তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু করেন। যেটা ইনস্টিটিউট অফ দ্যা সেন্টাল ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড ন্যাশনাল ইম্পর্টেন্সের স্বীকৃতি লাভ করেন ২৯৫১ সালে। ইউনিভার্সিটির আশে পাশে রবীন্দ্রনাথের পাঁচটা বাড়ি আছে যেখানে তিনি বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাড়ীতে থাকতেন বাড়ীগুলো হলো যথাক্রমে শ্যামলী, উদীচী, উদয়ন, কোণার ও পুনশ্চ। মিউজিয়ামের জন্য যে বাড়িটি ওটার নাম বিচিত্রা। 

রবীন্দ্র ভবনের উল্টো দিকে রয়েছে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সামনে রয়েছে ছাতিমতলা  যেখানে বসে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ধ্যান করতেন। এর পাশে রয়েছে শান্তিনিকেতন বাড়ি আর তার উল্টোদিকে পুরনো মেলার মাঠ। রয়েছে অতিথি নিবাস যেটা ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নির্মাণ করেছিলেন অতিথিদের জন্য। কালের পরিক্রমায়

 সেটা পুরো এলাকা টার নাম হয়ে যায় শান্তিনিকেতন। 

শান্তিনিকেতনের মধ্যে রয়েছে উপাসনা গৃহ যেটা নির্মাণ করেছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাদ আর মেঝে সম্পূর্ণ কাঁচ দিয়ে তখনকার আমলে এটা ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি গৃহ। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর লন্ডনের দি ক্রিস্টাল প্যালেসের অনুকরণে এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন যেটির লম্বা ৬০ ফুট এবং চওড়া ৩০ ফুট। উপাসনা গৃহের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সেই আমাদের বিখ্যাত ছোটকালের কবিতার সেই তালগাছটি যে তালগাছটি দেখে আমাদের কবিগুরু লিখেছিলেন “তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে” কবিতাটি।

পাশেই রয়েছে বড় একটা বট গাছ যেটা যুগ যুগ ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। আছে তিনপাহাড় যেখানে একটি পুকুর খনন করার জন্য মাটি তিন ধাপে রাখা হয়েছিল।আরো আছে আনন্দ পাঠশালা যেখানে মাননীয় ইন্দিরা গান্ধী ১৯৩৪সাল ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত এখানেই পড়াশোনা করতেন।

শালবনী:- এখানে অনেক শাল গাছের বন দেখতে পাওয়া যায় যেখানে অনেক সিনেমা এবং সিরিয়ালের শুটিং করা হয়েছিল।

পলাশবনী গ্রাম:- শালবনি থেকে কিছুদূর হেটে মাটির রাস্তা ধরে ভেতরে হেটে গেলেই দেখতে পাওয়া যায় পলাশবনী গ্রাম, যেখানে প্রত্যেকটি বাড়ি প্রচুর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে এবং চিত্রকর্মের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।

সোনাঝুড়ির হাট:- শান্তিনিকেতনের মধ্যে যেগুলো ভ্রমণ স্পট আছে তার মধ্যে সোনাঝুরি হাটের কথা সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য যেখানে না এলে শান্তিনিকেতনে বেড়ানোর মজাটাই পাওয়া হবে না। হাটে নেই এমন কোনো জিনিস নেই আপনি এলে কোনোটা রেখে কোনটা নেবেন তাই নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাবেন সব জিনিস এত সুন্দর আর কম দামে পাওয়া যায়। তাই আর দেরি করছেন কেনো ভারতে পশ্চিমবঙ্গে বেড়াতে এলে শান্তিনিকেতনে বেড়াতে অবশ্যই ভুল করবেন না।

উদযাপিত শান্তিনিকেতনে পালিত বসন্ত উৎসব ও পৌষ মেলা এবং রবীন্দ্রজয়ন্তী খুব ঘটা করে উদযাপিত হয়। এছাড়াও রাখি বন্ধন, নববর্ষ খুব উৎসবের সাথে পালন করা হয়।

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
হাওড়া স্টেশন থেকে শান্তিনিকেতনের দূরত্ব ১৪৫ কিলোমিটার।

আবার শিয়ালদহ স্টেশন থেকেও ট্রেনে উঠতে পারেন।

হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে করে শান্তিনিকেতন যাওয়া যায়।

ট্রেনের টিকিট পাবেন তিন ধরনের একটা জেনারেল আনরিজার্ভ ভাড়া ৮০ টাকা। আর একটা সেকেন্ড সিটিং ভাড়া ৯০ টাকা আর একটা এসি চেয়ার কার ভাড়া ৩১৫ টাকা।

বোলপুর ট্রেন স্টেশনে নেমে শান্তিনিকেতন যেতে টোটো ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে।

 

২.হুগলি

হুগলি

ভারতে পশ্চিম বঙ্গের মধ্যে হুগলি জেলার নাম সকলেরই জানা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দর্শনে গেলে হুগলি জেলার নাম আপনার ভ্রমণ তালিকাতে থাকবে না তা কি হয়? পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় একটি শহর। দিনে দিনে গড়ে ওঠা চারিদিকে শিল্প বৈচিত্রের মধ্যে হুগলি অন্যতম। আসুন জেনে নেয়া যাক হুব জেলার আকর্ষণীয় দর্শনীয় কিছু স্থানের বর্ণনা।

ব্যান্ডেল চার্চ: হুগলি জেলার ব্যান্ডেল চার্চ অনেক পুরনো মনোরম এবং সুন্দর।এটা একটি চার্জ যা দেখতে সত্যি অনেক সুন্দর। যেটা দেখলে আপনার মনটাতে সত্যি অন্য অনুভূতির সৃষ্টি করবে। হাওড়া ব্যান্ডেলগামী ট্রেনে উঠে ব্যান্ডেল স্টেশনে নেমে অটো/ টোটো তে উঠে ১০ বা ১৫ মিনিটের মধ্যেই ব্যান্ডেল চার্জে পৌঁছে যেতে পারবেন। সারা বছরই এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে তবে শীতকালে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় উপড়ে পড়ে। এই খ্রিস্টান গির্জাটি প্রাচীন বাংলার আদি ঐতিহ্য।

ইমামবাড়া:- এই স্থাপত্যটি হুগলির একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। ব্যান্ডেল চার্চ থেকে বেরিয়ে অটো বা টোটোতে মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা ইমামবাড়া। হুগলির গঙ্গা নদীর তীরে ইমামবাড়া অবস্থিত। এখানে একটি সূর্য ঘড়ি বা দ্বিগ্বেন ঘড়ি আছে যা ভারতের আর কোথাও নেই। ব্যান্ডেল চার্জ থেকে ইমামবাড়ার দূরত্ব খুব বেশি দূর নয় তাই ব্যান্ডেল চার্জে ঘুরতে এলে অবশ্যই ইমামবাড়া বেড়াতে আসতে ভুলবেন না।

সবুজ দ্বীপ:- হুগলির একটি অন্যতম ভবন কেন্দ্রিক স্থান সবুজ দ্বীপ। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই দ্বিপটি প্রচুর আকর্ষণীয় একটি পর্যটন স্থান সকল দর্শনার্থীদের কাছে। হাওড়া স্টেশন এর বালিহল্ট থেকে হাওড়া-কাটোয়া গামী লোকাল ট্রেনে চেপে খুব সহজে যেতে পারেন সোমরাবাজার স্টেশন । বালিহল্ট থেকে সোমরাবাজার স্টেশন পর্যন্ত টিকিট মূল্য ১৫ টাকা করে প্রতিজন। সোমরাবাজার স্টেশন নেমে সেখান থেকে অটো বা টোটোতে করে বা পায়ে হেঁটে খুব সহজেই যেতে পারেন সবুজ দ্বীপ ঘাটে। ঘাট থেকে নওগাঁ করে পৌঁছে যাবেন সবুজ দ্বীপে।

হংসেশ্বরী মন্দির:- হুগলি জেলার মধ্যে যে কয়টা নামকরা মন্দির আছে তার মধ্যে হংসেশ্বরী মন্দির উল্লেখযোগ্য একটি মন্দির। এটি বাঁশবেড়িয়াতে অবস্থিত। ব্যান্ডেল চার্চ থেকে হংসেশ্বরী মন্দির ঘুরতে আসা খুব একটা কঠিন কিছু নয় ব্যান্ডেল চার্জ থেকে অটো বা টোটোতে করে খুব সহজেই এই মন্দিরে বেড়াতে আসা যায়।

জয়রামবাটি এবং কামারপুকুর:- হুগলি জেলার মধ্যে জয়রামবাটী ও কামারপুকুর একটি পবিত্র স্থানের নাম জয়রামবাটিতে সারদা মা এবং কামারপুকুরে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মস্থান। হাওড়ার তারকেশ্বর শাখায় তারেকেশ্বর স্টেশনে নেমে এখান থেকে বাসে করে যাওয়া যায়।

গড় মান্দারান:- কামারপুকুর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে এই গড় মান্দারাণ স্থানটি অবস্থিত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশ নন্দিনী উপন্যাসের পটভূমি এই গড় মান্দারানকে ঘিরে। এখানে গড়ে উঠেছে গড় মান্দারান পিকনিক স্পট।

অমলিন্দনাথ ঠাকুরের বাগান বাড়ি:- হাওড়া মেইল লাইনে যে কোনো ট্রেনে করে কোননগর স্টেশনে নেমে যে কোন অটো বা টোটোতে এই অমলিন্দনাথ ঠাকুরের বাগানবাড়ি আসা যাবে মাত্র ৫/৭ মিনিটে।

ডাচ সিমেট্রি:-এটা একটা ক্রিস্টান কবরস্থান এটা হুগলির চুঁচুড়া শহরে অবস্থিত। ব্যান্ডেল চার্জ থেকে এটা দূরত্ব খুব একটা বেশি নয় তাই ব্যান্ডেল চার্জ বেড়াতে এলে ইমামবাড়ার সাথে সাথে এই ডাচ সিমেট্রিতেও বেড়াতে আসতে পারেন।

ব্রহ্মদত্ত ধাম:- বিখ্যাত ব্রহ্মদত্ত ধাম এই মন্দিরটি বনমালী পুরে অবস্থিত। হাওড়া-বর্ধমান শাখায় ট্রেনে চেপে বারইপাড়া স্টেশনে নেমে অটো বা টোটোতে  করে অনায়াসে এই ব্রহ্মদত্ত ধাম ঘুরে যেতে পারেন

 লাহেড়িবাবার আশ্রম:- লাহিড়ী বাবার আশ্রমটি ব্যান্ডেল রাজহাটে অবস্থিত। ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে খুব সহজেই এ আশ্রমে আসা যায় আশ্রমটি খুবই সুন্দর আপনার মনকে ভরিয়ে দেবে আশা রাখি। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২:৩০ এবং দুপুর ৩:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আশ্রমটি খোলা থাকে। আশ্রমে ঢুকতে কোন এন্ট্রি ফি লাগে না।

শরৎচন্দ্রের বাড়ি:- কথাসাহিতিক ও উপন্যাসিক শরৎচন্দ্রের জন্মস্থান বা বাড়ি হুগলির দেবানন্দপুরে। শরৎচন্দ্রের বাড়িটাকে বর্তমানে পাঠাকার হিসেবে ব্যবহার করা হয় যেটির নাম শরৎ স্মৃতি পাঠাগার এবং সেখানে আছে একটি জাদুঘর যেখানে শরৎচন্দ্রের ব্যবহৃত অনেক জিনিস সংরক্ষিত আছে। ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে শরৎচন্দ্রের বাড়ির দূরত্ব মাত্র ২ কিলোমিটার সেহেতু ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে অটো বাটোতে খুব সহজেই বাড়ি পৌছে যেতে পারবেন।

তারকেশ্বর মন্দির:- বাঙালিরা জানেনা এমন কেউ আছে বলে আমার জানা নেই হুগলি জেলার বিখ্যাত মন্দির তারেকেশ্বর মন্দিরের কথা সকলেই জানে। সব সময় এখানকার পূণ্যার্থীরা জয়বাবা ভোলানাথ ধ্বনিতে মুখরিত করে রাখে মন্দির প্রাঙ্গণ।

বারী মসজিদ ও পাণ্ডুয়ার মিনার:- হুগলি জেলার অন্তর্গত পান্ডুয়া একটি বিখ্যাত জনপদ ও বাণিজ্য কেন্দ্র এখানেই রয়েছে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের পুরনো বাড়ি মসজিদ ও পান্ডুয়ার মিনার।

কালি বাবুর বাড়ি:- অতীতের কারুকাজ খচিত নিদর্শন দেখতে যদি চান হুগলির কালি বাবুর বাড়ি দেখে আসতে পারেন। এখানে দেখা মিলবে অতীতের অনেক সংগ্রহ নিদর্শন ও চিত্রকর্ম।

নন্দদুলাল টেম্পেল:- হুগলি জেলার আরেকটি বিখ্যাত মন্দিরের নাম নন্দ দুলাল টেম্পেল। 

ক্লক টাওয়ার:- ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে হুগলি জেলার বুকে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ক্লক টাওয়ার। যা একটা অপূর্ব সুন্দর শিল্প সৌন্দর্যের অংশ।

রাধাবল্লব টেম্পল অফ বল্লভপুর:-হুগলি জেলার মধ্য আরো আরেকটি বিখ্যাত মন্দিরের নাম রাধাবল্লব টেম্পল অফ বল্লভপুর।

শ্রীরামকৃষ্ণ হাউজ কামারপুকুর:- শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জন্মস্থান রাধা পুকুর। এই হুগলি জেলায় এলে অবশ্যই রামকৃষ্ণ পরমহংসের জন্মস্থানটা দেখে যেতে ভুল করবেন না। জায়গাটি অনেক সুন্দর দেখতে।

শিরাম কলেজ:- ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর আজও দাঁড়িয়ে আছে শিরাম কলেজ। হুগলিতে গেলে অবশ্যই শিরাম কলেজ দর্শন করে আসবে।

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
কলকাতা থেকে হুগলির দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার।কলকাতা থেকে যেকোনো বাসে চেপে হুগলি যেতে পারেন।

কিংবা অটো বা টোটোতে করেও যেতে পারেন।

 

সুন্দরবন

সুন্দরবন

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী একটি প্রশস্ত বনভূমি হলো সুন্দরবন। যা বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অন্যতম। সমুদ্রের নোনা পরিবেশে সবচেয়ে বড়  ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অখণ্ড বনভূমি। এটি প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা বিস্ময়াবলীর অন্যতম। ১০০০ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে এই সুন্দরবনের আয়তন যার কিছুটা বাংলাদেশের রয়েছে বাকিটা পশ্চিমবঙ্গে।

১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ভূষিত হয়। সুন্দরবনের সবচেয়ে আকর্ষণ হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার, আরো আছে নানা ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপ সহ অসংখ্য প্রজাতি পশু পাখির অভয়ারণ্য। প্রতিবছর হাজার হাজার লোক এই সুন্দরবন দর্শনে আসেন। এখানে দর্শনের স্থানগুলোর মধ্যে আছে গোসামা পাখিরালায়, সজনে খালি, সুজন্য খালি, পঞ্চমুখালী,  দোবাকি,কলসদ্বীপ।

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
কলকাতা থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব ১০৯ কিলোমিটার।কলকাতা থেকে সুন্দরবন যাওয়ার ভালো উপায় লোকাল ট্রেন।

৭:১৪ মিনিটে শিয়ালদহ সাউথ সেকশন থেকে নামখানা যাওয়ার লোকাল আছে। সেখান থেকে অটোতে অথবা বাসে করে সুন্দরবন যেতে হবে।

 

মুর্শিদাবাদ

মুর্শিদাবাদ

এই মুর্শিদাবাদ এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল যেটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মুর্শিদকুলি খাঁ। বাংলার রাজধানী হিসেবে ১৭১৭ সালে এটা পরিচিতি লাভ করে। এটি পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থান। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও  সাংস্কৃতিকতার জন্য মুর্শিদাবাদ দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান।

হাজারদুয়ারী রাজপ্রাসাদ:- মুর্শিদাবাদের সবথেকে উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে হাজারদুয়ারি রাজপ্রাসাদ সকলের প্রথমেই নজর কাড়ে। নদীর তীরে ৪১ একর জায়গার উপরে তৈরি এই হাজারদুয়ারি রাজপ্রাসাদ।সত্যি এটার নামের যথার্থতাই আছে এই প্রাসাদে এক হাজারটা দরজা। এই দরজা গুলোর মধ্যে ৯০০ টা আসল এবং ১০০ টা নকল দরজা। আক্রমণকারীকে গোলকধাঁধায় ফেলানোর জন্যই হয়তো এ ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। 

হাজারদুয়ারি রাজপ্রাসাদ গ্রীক সভ্যতার স্থাপত্য এবং অত্যন্ত নিপুন হাতে তৈরি কারুকাজ করা এ হাজার দুয়ারী প্রাসাদ মুর্শিদাবাদের দর্শনার্থীদের প্রচন্ড আকর্ষণ করে। ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় মিউজিয়াম আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এই প্রাসাদের মধ্যেই আছে। এই মিউজিয়ামের ২০ গ্যালারি বিদ্যমান।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার তরবারি থেকে শুরু করে এখানে ৪৭৪২ টি দুষ্প্রাপ্য স্থাপত্য শিল্প বস্তু রয়েছে, রয়েছে শ্বেত পাথরের মূর্তি প্রচুর তৈলচিত্র, ধাতুর তৈরি মূল্যবান দ্রব্য ও মূর্তি,  রাজ পরিবারের সদস্যদের আসবাবপত্র ও তাদের ব্যবহার্য  জিনিসপত্র, ব্রিটিশ শাসকদের ব্যবহার্য জিনিস ও তাদের সৌখিন  দ্রব্যাদি এখানে রাখা আছে।

 মিউজিয়ামের অনেক কিছুই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে আছে। হয়তো আপনি আদি যুগের যেতে পারবেন না কিন্তু এগুলো দেখলে আপনার সেই প্রাচীন যুগের অনুভূতি মনকে নাড়া দেবেই। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হাজারদুয়ারি রাজপ্রাসাদ খোলা থাকে এন্ট্রি ফি পাঁচ টাকা স্বদেশীয়দের জন্য এবং দর্শনার্থীদের জন্য ২০০ টাকা। হাজারদুয়ারি প্রাসাদ টি ভালোভাবে দেখতে কমপক্ষে আপনাকে ৪ ঘন্টা সময় লাগবে।

নিজামত ইমামবারা:-পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত ভারতের সবচেয়ে বড় ইমামবারা হলো নিজামত ইমামবারা। ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে হাজারদুয়ারি রাজপ্রাসাদের উত্তরপ্রান্তে এর অবস্থান। নবাব সিরাজউদ্দৌলার আমলে তৈরিকৃত নিজামত ইমামবাড়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর নবাব নজিম মনসুর আলী খান ফিরাদুন জাহ্ এই নেজামত ইমামবারা নতুন করে তৈরি করেন। 

তখনকার আমলে এই ইমামবারাটি তৈরি করতে ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। ১১ মাস ধরে তৈরিকৃত এই ইমামবাড়াটির ৬৮০ ফিট বিস্তৃত। ইমামবারাটি দুই তলা বিশিষ্ট, শ্বেত পাথরে মোড়া বিশাল আকৃতির থাম দেখতে অভাবনীয় সুন্দর। ইমামবারাটি মুলত তিন ভাগে বিভক্ত মধ্যভাগে মদিনা মসজিদ ও মেম্বার দালান। পূর্বভাগে নহবর খানা অবস্থিত এবং পশ্চিমভাগে উপর নিচ দুই তলা নিয়েই মসজিদ এবং প্রার্থনা ঘরের জন্য ব্যবহার করা হয়।

কাঠগোলা বাগান:- মুর্শিদাবাদের নাম করা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জগৎ শেঠের বাগানবাড়ি এটা। মুর্শিদাবাদ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এটির অবস্থান। জগত শেঠের বাগানবাড়িতে একই সাথে চলতো তার কাঠের ব্যবসা এজন্য এটাকে কাঠগোলা বাগান নামেও ডাকা হয়। তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন বলে উনার কাছে সব সময় অভিজাত শ্রেণীর লোকেদের এবং বিদেশিদের আনাগোনা থাকতো। তার এই বাগান বাড়িটা বিশাল এক প্রাসাদের অনুকরণে তৈরি করা।

 বাগানবাড়িতে এমন কিছু বিস্ময়কর নিদর্শন আছে যা সচরাচর দেখা যায় না, দর্শনার্থীদের অভিভূত করতে বাধ্য।

প্রাসাদের সামনে অনেক সুন্দর সাজানো বাগান, বিশাল পুকুর,আদিনাথকে উৎসর্গ করা একটি মন্দির, মাইকেল হেনজেলোর একটি মূর্তি, এছাড়াও সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো জগত সেটের বাড়ি থেকে বাগানবাড়ি পর্যন্ত বিশাল একটা সুরঙ্গ করা আছে। যা এখন ভাগীরথী নদীর পানিতে ডুবে আছে ব্যবহারের একেবারে অনুপযুক্ত।

খোশবাগ:- হাজারদুয়ারি প্রাসাদের নিকটেই ভাগীরথী নদীর নৌকায় চড়ে আপনি খোশবাগ যেতে পারেন খোশবাগে আলীবর্দী খান,নবাব সিরাজউদ্দৌলা, সিরাজ পত্নি লুৎফুন্নেসা এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিবার পরিজনের কবর রয়েছে এখানে।

মতিঝিল:- নবাব সিরাজউদ্দৌলার খালা ঘষেটি বেগমের স্বামী নওয়াজেশ মুহাম্মাদ মতিঝিল এই সুন্দর ঘোড়া আকৃতির হ্রদটি খনন করেছিলেন। মতিঝিল মূলত ছিল একটি প্রাসাদ এবং ঘোড়া আকৃতির হ্রদটির মিলিত সৌন্দর্য। প্রাসাদটি বিনষ্ট হয়ে গেলেও এই ঘোড়া আকৃতির হ্রদটির এখনো নষ্ট হয়ে যায়নি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণে এলে এই মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে যেতে ভুল করবেন না আশা করি।

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের দূরত্ব ২২৮ কিলোমিটার।কলকাতা ট্রেন স্টেশন থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেসে চেপে মাত্র ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে মুর্শিদাবাদ পৌঁছে যেতে পারবেন।

সবশেষে 

পৃথিবী যেন একটি বই যারা ভ্রমন করেন না তাদের কাছে ওই বইয়ের একটি পৃষ্ঠাই শুধু পড়া হয়। বেড়ানোর কথা উঠলেই কারো কারো সাধ জাগে পুরো বইটাই পড়ার। ছুটির দিনগুলোতে কিংবা বছরের কোনো ছুটি মেললেই মন চায় ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি অজানা কোনো দর্শনীয় স্থানের উদ্দেশ্যে। কারণ কথাতেই আছে বাঙালির পায়ের নিচে সর্ষে। তাই এদিক সেদিক মন ছুটিয়ে না বেড়িয়ে চলে আসুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবং উপভোগ করুন আপনার মনের মতন সব ভ্রমণ স্পট গুলি যা সবসময় আপনার কাম্য ছিল। ধন্যবাদ।

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents