Dreamy Media BD

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার : দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার

প্রিয় পাঠকগণ আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব নওগাঁ জেলার সেই বিখ্যাত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সম্পর্কে। চলুন জেনে নিই কি ছিল এই বিখ্যাত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এর পেছনের ইতিহাস? কারা আবিষ্কার করেছিল এই বিখ্যাত মহাবিহার। এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ভেতরে বাইরে ও আশেপাশে কি কি নিদর্শন রয়েছে? আপনার যদি সকল তথ্য জানার গভীর আগ্রহ থাকে তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকবেন। আশা করি সুন্দর একটি মনের মতন ধারনা লাভ করতে পারবেন। চলুন তাহলে আমরা সেই মূল আলোচনা শুরু করি ।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

সুপ্রিয় পাঠক গণ প্রথমে আমি আপনাদেরকে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেবো। আপনারা হয়তো কেউ জানেন আবার অনেকেই জানেন না পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বলা হয়। এই সোমপুর মহাবিহার হচ্ছে বর্তমান অবস্থায় ধ্বংসপ্রায় একটি বৌদ্ধ বিহার। ইতিহাস থেকে জানা গেছে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা এই বিহার তৈরি করেছিলেন অষ্টম শতকের শেষের দিকে মতান্তরে নবম শতকের শুরুর দিকে। এই বিশাল স্থাপনাটি আবিষ্কার করেছিলেন স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালের দিকে। ইউনেস্কোর মতে এই স্থাপনাটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। অনেকেই পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারকে আয়তনের দিক দিয়ে ভারতের নালন্দা মহাবিহার এর সাথে তুলনা করেন। এই বৌদ্ধ বিহার টি ছিল প্রায় ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত শিক্ষাদান কেন্দ্র হিসেবে। শুধু এই উপমহাদেশেরই নয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানকৃত বৌদ্ধরা ধর্ম জ্ঞান অর্জনের জন্য এই মহাবিহারে আসতেন। ইতিহাস তথ্য থেকে জানা যায় অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ছিলেন খ্রিস্টীয় দশম শতকে এই বিহারের আচার্য।

আরো পড়ুন – মহাস্থানগড়ের ইতিহাস ও দর্শনীয় স্থান

সোমপুর মহাবিহারের অবস্থান ও আয়তন

পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর যা বর্তমানে মহাস্থান নামে পরিচিত। এবং অপর একটি শহর কোটিবর্ষ যা বর্তমানে বানগড় নামে পরিচিত এই দুই শহরের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত হচ্ছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। ধ্বংসপ্রায় এই বৌদ্ধ বিহার টি রাজশাহী বিভাগের বৃহত্তম নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর নামক গ্রামে অবস্থিত। আবার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এর দূরত্ব পশ্চিম দিকে ৫ কিলোমিটার মাত্র। এই জামালগঞ্জ রেলস্টেশন অবস্থিত জয়পুরহাট জেলায়।

এই মহাবিহারের ভৌগোলিক অবস্থান হচ্ছে ৮৮ ডিগ্রি ৫০ ইঞ্চি পূর্ব থেকে ৮৯° ১০ ইঞ্চি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ১৫ ইঞ্চি উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত। পাহাড়পুর গ্রামের মধ্যে ০.১০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে এই মহাবিহার টি অবস্থিত। এই স্থাপনাটির অবস্থানকৃত জায়গাটি দেখতে চতুর্ভুজ আকৃতির। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত একটি নিদর্শন। প্লাস্টোসিনকালের বরেন্দ্র নামক অনুচ্চ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এই মাটিতে লৌহজাত পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে যার কারনে এই মাটি লালচে বর্ণের। বর্তমানে এই লালচে মাটির অধিকাংশই স্থানে পোলের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে ৩০.৩০ মিটার উঁচুতে পাহাড়ের মত দেখতে এই স্থাপনাটি টিকে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন এটিকে রাজা গোপালের নামে গোপাল চিটার পাহাড় নামে আখ্যায়িত করত সেই থেকেই এই বিহারের নাম হয়েছে পাহারপুর। আসলে এই বিহারের আসল নাম হচ্ছে সোমপুর।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার

সোমপুর মহাবিহার আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট

ইংরেজদের ভারতীয় উপমহাদেশে আগমনের পর তারা সকল স্থানে জরিপ কাজ চালাতে থাকে। বোকানন হ্যামিলটন পূর্ব ভারতীয় অংশে জরিপ কাজ পরিচালনা করার দায়িত্ব পান। ধারণা করা হয় বোকানন হ্যামিলটন ১৮০৭ থেকে ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোন এক সময়ে পাহাড়পুর অঞ্চলটি পরিদর্শন করেছিলেন। বোকানন হ্যামিলটনের এই পরিদর্শনকেই পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের প্রথম প্রত্য-তাত্ত্বিক পরিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই প্রত্য-তাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শনে আসেন ওয়েস্ট মেকট। এই ইংরেজরা তাদের দেশে ফিরে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা সংবলিত বিবরণ পত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন।

এরপর পরপরই স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই ঐতিহাসিক প্রত্য-তাত্ত্বিক স্থানটি পরিদর্শন করেছিলেন। পরিদর্শন করার পর স্যার আলেকজান্ডার এই জায়গাটির ব্যাপকভাবে খনন করার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু এই খনন কাজের জন্য জমির মালিক বলিহারের তদানীন্তন জমিদার এর আপত্তি ছিল। তিনি খনন কাজে বাধা প্রদান করেন। তাই তিনি বিহার এলাকার কিছু অংশ এবং পুরাকৃতির কেন্দ্রীয় ঢিবির শীর্ষভাগের সামান্য কিছু অংশে খনন কাজ চালার পর অব্যাহতি দেন। এই খনন কার্য চলা অবস্থায় কেন্দ্রীয় ঢিবির অংশে চারপাশে উদগৃত অংশবিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইমারত আবিষ্কৃত হয়। এই ইমারতটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২২ ফুট। অবশেষে ১৯০৪ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক আইনের আওতায় ১৯১৯ সালে এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ইতিহাস ও পটভূমি

চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সপ্তম শতাব্দীতে পুন্ড্রবর্ধনে এসেছিলেন। কিন্তু হিউয়েন সাং-এর বিস্তারিত বিবরণ থেকে সোমপুর বিহার ও মন্দিরের কোন উল্লেখ পাওয়া যায়নি। গোপালের পর তার পুত্র ধর্ম পাল এই রাজ্যের রাজত্ব শুরু করেন। ধর্মপাল বাংলা বিহারকে ছাড়িয়ে পাকিস্তানের উত্তর থেকে শুরু করে পশ্চিম সীমান্তের গান্ধার পর্যন্ত বিস্তার করেন। সম্রাট ধর্মপালকে তার প্রজারা অনেক নিষ্ঠবান বৌদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্রাট ধর্ম পাল বিক্রমশিলা ও সোমপুর মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এই তথ্যের আবার মতান্তর রয়েছে। অন্যমতে সুবিখ্যাত তিব্বতের ইতিহাস গ্রন্থ  “পাগ সাম জোন ঝাং” এর লেখক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন ধর্মপালের পুত্র দেবপাল সোমপুরে বিচালাকৃতির এই বিহার ও সুউচ্চ মন্দির নির্মাণ করেন।ধর্মপালের পুত্র দেবপাল এর রাজত্বকাল ছিল ৮১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। বিভিন্ন লিপি থেকে জানা যায় সোমপুর বিহারের ভিক্ষুরা বুদ্ধগয়া,নালন্দা বিভিন্ন ভারতীয় প্রভৃতি তীর্থ স্থানে অর্থ ধন রত্ন দান করতেন। এটি দশম ও একাদশ শতাব্দীকে সমৃদ্ধশালী অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে। এছাড়াও নবম শতাব্দী পর্যন্ত পাল বংশের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সোমপুর মহাবিহার ছাড়াও এতপুর, গোটপুর, উষ্মপুর ও জগদ্দল বিহারের উল্লেখ পাওয়া গেছে। নবম শতাব্দীর শেষের দিকে গুর্জোর রাজ প্রথম ভোজ ও মহেন্দ্র পাল,পাল পাল সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য ক্ষতিসাধন করেন। পাল বংশের আরেক রাজা ৯৯৫ থেকে ১০৪৩ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তিনি গুরজোড় রাজা ও মহেন্দ্র পাল এর হাত থেকে সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেছিলেন এবং সোমপুর বিহার মেরামত করেন। কিন্তু মহিপাল ও তার পুত্র নাই পালের মৃত্যুর পর আবার পাল বংশের পতন হতে শুরু করে।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্য ভারতের ছেদিরাজ কর্ণ, চোলরাজ রাজেন্দ্র ও দিব্য নামের এক দেশীয় প্রবর্তক সামন্ত নরপতি পরপর কয়েকবার বরেন্দ্রভূমি অঞ্চলে আক্রমণ করে। নালন্দায় অবস্থিত পাহাড়পুর মন্দির ও বিহারের ধ্বংসের উল্লেখ সম্ভবত এর সময়ের আক্রমণের। পরবর্তীতে আবার পাল বংশের রাজা রামপাল হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করেন্রর। ১২শ শতাব্দীতে দক্ষিণাত্যের কর্নাট থেকে সেন রাজারা এই বাংলা দখল করে নেন। সেই রাজাদের আমলে এই সোমপুর রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারায়। এই সময়ের মধ্যে শেষবারের মতো সোমপুর এর পতন শুরু হয়। এখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী ১৩ শতাব্দীর শুরুর দিকে বাংলা আক্রমণ করে এবং উত্তরবঙ্গের বৃহৎ অংশ দখল করে নিন। ইতিহাসবিদদের ধারণা থেকে জানা যায় এই মুসলমান শাসকদের মূর্তি বিরোধী মনোভাবের কারণেই বৌদ্ধদের এই বিহার ও মন্দির সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রত্যতাত্ত্বিক এর খনন কাজ

বিহারের খনন কাজ: 

পাহাড়পুরের প্রত্যতাত্ত্বিক খননকৃত কার্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমতঃ ব্রিটিশ যুগের অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্বকালীন সময়ে এবং দ্বিতীয়তঃ আশির দশকের দিকে অর্থাৎ স্বাধীনতা উত্তর কালে। স্যার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে এই উদ্যোগটি প্রথম নিয়েছিলেন। কিন্তু একসময় বলিহারের জমিদারের বিরোধিতার কারণে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ঢিবির শীর্ষ ভাগ খনন করার পর বাধ্য হয়ে তাকে থেমে যেতে হয়। এই খনন কার্য থেকে ক্ষরণের চারপাশে উদগত অংশ যুক্ত প্রায় ৭ মিটার উঁচু একটা কক্ষ আবিষ্কার হয়। এর দীর্ঘদিন পরে ১৯২৩ সালে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভরেন্দ্র গবেষণা পরিষদ ও ভারতীয় প্রত্যতাত্ত্বিক বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টার ফলে এবং দীঘাপতির জমিদার পরিবারের সদস্য শরৎকুমার রায়ের অর্থ সাহায্যের ফলে পুনরায় খনন কাজ শুরু করা হয়। ওই একই বছরে ঐতিহাসিক ডিয়ার ভান্ডার করের নেতৃত্বে প্রত্যস্থলটির দক্ষিণ-পশ্চিম অংশজুড়ে খনন পরিচালিত হলে উত্তর দক্ষিণে বিন্যাস্ত এক সারি কক্ষ এবং একটি চত্বরের কিছু অংশবিশেষ পাওয়া যায়। ১৫২৫ থেকে ২৬ সালে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় খনন করে আবিষ্কার করেন কেন্দ্রীয় ঢিবির উত্তরে প্রধান সিড়ি। পোড়ামাটির ফলক চিত্র সভিত দেয়াল ও প্রদক্ষিণ পথসহ উত্তর দিকের মন্ডপ বা হলঘরটি। এই আবিষ্কারের ফলে প্রথমবারের মতো সোমপুর বিহার এর ভূমি পরিকল্পনা ও দেয়াল চিত্রন সম্বন্ধে বিভিন্ন ধারণা পাওয়া যায়।

১৯৩০ সাল থেকে ১৯৩২ সালে বিহারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ সংলগ্ন চত্বর খনন করেন জি সি চন্দ্র। এই খননের ফলে বিহার ও মন্দিরের অবশিষ্ট অংশ এবং সত্যপীরের ভিটায় একগুচ্ছ স্তুপ সহ একটা তারা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রফিক মুঘল পূর্ব বাহুর কয়েকটি কক্ষে গভীর খনন কার্য পরিচালনা করেন। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সাল থেকে ৮৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রত্যতত্ত্ব বিভাগ নতুন তথ্যের অনুসন্ধানে এবং ইতোপূর্বে দীক্ষিতের আবিষ্কৃত কক্ষ সমূহের প্রাপ্ত নিদর্শন বলি সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা লাভ করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের খনন কাজ শুরু করেন। ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত থেকে পুনরায় খনন কাজ পরিচালিত হয় বিহার অঙ্গন থেকে অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল ও পূর্ববর্তী খননের স্তুপ কৃত মাটি সরিয়ে ফেলা এবং সুশৃংখলভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেন বিহারের বিদ্যমান জলাবদ্ধতা দূর হয় এবং লবণাক্ততা হ্রাস হয়ে যায়।

সোমপুর বিহারের স্থাপত্য ও নিদর্শন সমূহ

পাহাড়পুরের এই বৌদ্ধবিহারের ভূমি পরিকল্পনা হচ্ছে চতুর্ভূজ আকৃতির। বিহারের দৈর্ঘ্য প্রস্থ প্রায় কাছাকাছি পূর্ব-পশ্চিম বাহুদ্বয় ২৭৪.১৫ মিটার এবং দক্ষিণ ও উত্তর বাহুদ্বয় ২৭৩.৭ মিটার। বৌদ্ধ বিহারটির চতুর্দিকে বেশ চওড়া করে সীমানা দেওয়াল ঘেরা ছিল। সীমানা দেওয়াল বরাবর ভিতরের দিকে সারিবদ্ধ ভাবে ছোট ছোট ঘর ছিল। এই সারিবদ্ধ ঘর গুলো উত্তর দিকের বাহুর দিকে ছিল ৪৫টি এবং বাকি তিন দিকের বাহু বরাবর ছিল .৪৪টি করে। এই ঘর গুলোর মধ্যে তিনটির মেঝে আবিষ্কার করা হয়েছিল। মেঝেগুলো খুব চমৎকারভাবে ইটের উপর পুরু সুরকি দিয়ে অত্যন্ত মজবুতভাবে তৈরি করা হয়েছে। সর্বশেষ যুগে ৯২ টি ঘরের মেঝের উপর বিভিন্ন আকারের ছোট বড় বেদি নির্মাণ করা হয়। এটা থেকে ধারণা করা হয় যে প্রথম যুগে সবগুলো ঘরই ভিক্ষুদের আবাস ঘর হিসেবে ব্যবহার হলেও পরবর্তী সময়ে কিছু ঘর প্রার্থনার ঘর হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছিল।

প্রতিটি ঘরেই ঢোকার জন্য রয়েছে দরজা। এই দরজা গুলো ভেতরের দিকে প্রশস্ত হলেও বাইরের দিকে আস্তে আস্তে শুরু হয়ে গেছে। এই ঘর গুলোর মধ্যে কিছু কিছু ঘরে কুলুঙ্গি পাওয়া গেছে। লুঙ্গি সংবলিত এই ঘরগুলোতে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারযোগ্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পাওয়া গেছে। ঘরগুলোর ক্ষেত্রফল হচ্ছে ১৭.৫ মিটার যার প্রস্থ হচ্ছে ৪.১১ মিটার এবং দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৪.২৬ মিটার করে। ঘরের দেওয়াল গুলো বেশ চওড়া, ঘরের সীমানার দেওয়াল গুলো ৪.৮০ মিটার এবং সামনের দেয়াল গুলো ২.৪৪মিটার করে চওড়া। প্রতিটা ঘরের সামনে ২.৫ মিটার প্রশস্তবিশিষ্ট টানা লম্বা একটি বারান্দা আছে। ভেতরের দিকের খোলা উন্মুক্ত চত্বরের সাথে প্রতিটি বাহু সিঁড়ি দ্বারা যুক্ত।

বিহারের প্রধান পদ্ধতি রয়েছে উত্তর বাহুর মাঝ বরাবর। এই ফটোকের বাইরের ও ভেতরের দিকে একটি করে স্তম্ভ সংবলিত হলঘর এবং পাশে ছোট ছোট কুঠুরি ঘর রয়েছে। এই কুঠুরি ঘরগুলো রাজারা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করত। প্রধান ফটক এবং বিহারের উত্তর-পূর্বক কোনার মাঝ বরাবর অবস্থানে আরো একটা ছোট প্রবেশপথ ছিল। এই প্রবেশ পথ থেকে ভেতরের উন্মুক্ত চত্বরে প্রবেশ করার জন্য যে সিরি ব্যবহার করা হতো তা আজও বিদ্যামান রয়েছে। উত্তর দক্ষিণ ও পশ্চিমের বাহুগুলোতেও একইরূপে সিড়ির ব্যবস্থা ছিল। এই সিঁড়িগুলোর মধ্যে শুধু পশ্চিম দিকের বাহুর সিঁড়ির কিছু চিহ্ন বর্তমানে দেখতে পাওয়া যায়। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত উত্তর বাহুর প্রবেশের পথের সামনের দিকে একটি পুকুর ছিল। এই পুকুরটি খনন করা হয়েছিল ১৯৮৪-৮৫ সালে যে খনন কার্য চলে সে কার্যের মাধ্যমে এবং এই পুকুর খননের মাধ্যমে উত্তর দিকের সিড়িটি ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীকালে কোন এক সময় পুকুরটি ভরাট করে দেওয়া হয়েছিল।

সোমপুর মহাবিহার

কেন্দ্রীয় মন্দিরের খনন কাজ :

বিহারের অন্তর্বর্তী স্থানের মধ্যে উন্মুক্ত চত্বরের মধ্যখানে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। বর্তমানে এটি ২১ মিটার উঁচু হলেও ধারণা করা হয়, মূল মন্দিরটি কমপক্ষে ৩০ মিটার উঁচু ছিল। এই বৌদ্ধ মন্দিরটির ভুমি পরিকল্পনা ছিল ক্রুশ আকৃতির। মন্দিরটির তিনটি ক্রমহ্রাশমান ধাপে ঊর্ধ্বগামী অবস্থায় উপরের দিকে উঠে গেছে। এই প্রতিটি ক্রুশ বাহুগুলোর দৈর্ঘ্য ১০৮.৩ মিটার ও প্রস্থ ৯৫.৪৫ মিটার করে। ক্রুশের মধ্যবর্তী স্থানে আরো বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত দেয়াল কোনাকুনিভাবে যুক্ত। মূল পরিকল্পনাটির কেন্দ্র ভাগে দরজা জানালাহীন একটি শূন্যগর্ভ চারকোনা আকৃতির প্রকোষ্ঠ রয়েছে। এই প্রকোষ্ঠ টি বিস্ততৃত মন্দিরের তলদেশ থেকে চুড়া পর্যন্ত। মূলত এই শূন্যগর্ভ প্রকোষ্ঠটিকে কেন্দ্র করে সু বিশাল মন্দিরের কাঠামো নির্মিত হয়েছে। আবার এই কক্ষের চারদিকে মন্দিরের দ্বিতীয় পর্যায়ে চারটি ঘর ও মন্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। আর এই নির্মাণ কাজের জন্যই মন্দিরটি দেখতে কুরুশ আকৃতির মত হয়েছে। মন্দির পরিকল্পনার সমান্তরাল ভাগে দেয়াল পরিবেষ্টিত করে প্রদক্ষিণ পথ রয়েছে। একইভাবে প্রথম ধাপে দ্বিতীয় ধাপের প্রদক্ষিণ পথের দেয়ালের চারদিকে চারটি ঘর যুক্ত করে কুরুশ আকৃতির বৈশিষ্ট্য কে অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। আরেকটি সুন্দর কাজ হচ্ছে প্রথম ধাপের সমান্তরালে মন্দিরের ভিত্তি ভূমির পূর্ব,পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেনেছি উত্তর দিকের মধ্যবর্তী স্থলে একটা সিঁড়ি ছিল পুকুর খননের কারণে পরবর্তীতে এই সিড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এবং এখানে নতুন নতুন কিছু কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শূন্যগর্ভ ঘরে ইট দিয়ে বাধানো একটি মেঝে আবিষ্কৃত হয়েছে। এই মেঝেটি ঘরের বাইরে চতুর্দিকের ঘর ও মন্ডপের প্রায় একই সমতলে অবস্থিত। কিন্তু চতুর্দিকের ঘরগুলো থেকে কেন্দ্রীয় এই ঘরে যাওয়ার কোন দরজা বা পথ নেই। আগে ছিল কিনা পরে কোন করনে বন্ধ করা হয়েছে কিনা এ সম্পর্কে কোন তথ্য বা ধারণা পাওয়া যায়নি। এই ঘরটিতে মূর্তি রাখার কুলুঙ্গি বা বেদী কিছুই নেই। তাই অনুমান করা হয় বদ্ধ এই দন্ডটি মন্দিরের সূর্য দেয়াল গুলোকে সুদৃঢ় করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্ভবত মূর্তিগুলো এর চারদিকের ঘরগুলোতে স্থাপন করা হয়েছিল। মন্দিরের শীর্ষদেশের কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি যার কারণে এর সাজ সম্বন্ধে সুইস্পষ্ট কোন ধারণাও পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্রীয় শূন্য গর্ভ ঘরটির দেয়াল নিরাবরণ হলেও প্রতিটি ধাপে ধাপে দেয়াল গুলোকে সারিবদ্ধ ফলক চিত্র দ্বারা সুসজ্জিতভাবে সাজানো হয়েছে।ক্রূশাকার পরিকল্পনার বর্ধিত অংশগুলোর সংযোগস্থলে কার্নিশের প্রান্ত পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য নালার ব্যবস্থা করা রয়েছে। পাথর দ্বারা নির্মিত এই নালাগুলোর মুখ গর্জনরত সিংহের মুখের অবয়বের মত দেখতে। ভিত্তি ভূমির দেয়ালের বহির্ভাগে ৬৩টি কুলুঙ্গী পাওয়া যায়। কুলুঙ্গি গুলোতে একটা করে পাথরের ভাসকার্য ছিল।

উন্মুক্ত অঙ্গনের স্থাপত্য

বিহারটির মধ্যবর্তী উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে আরো কিছু ইমারতের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। এই ইমারত গুলোর মাঝে কিছু কিছু ইমারতের বৈশিষ্ট্য সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রাঙ্গণটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চে রন্ধনচালা ও ভোজনশালা অবস্থিত রয়েছে। এই স্থাপনা দুটির মাঝে ৪৬ মিটার দীর্ঘ ইট দিয়ে বাঁধানো একটা নর্দমা এবং এর কাছে এক সারিতে তিনটি কূপ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রতিকৃতি, প্রশাসনিক ভবন ও কিছু নিবেদিত স্তূপ। স্তুপ গুলোর মধ্যে যে স্তূপটি দক্ষিণ পূর্ব অংশে অবস্থিত সেই স্তূপটি ১৬ কোন বিশিষ্ট নক্ষত্র আকৃতির মত দেখতে। অনুচ্চ একটি মঞ্চের মাঝে সংস্থাপিত এই স্তূপটির সংলগ্ন স্থানে আছে একটি পাকা কুপ। আরো অন্যান্য যে নিবেদিত স্তূপ গুলো রয়েছে সেগুলো বিক্ষিপ্তভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। চত্বরটির উত্তর পূর্বাঞ্চের দিকে যে ইমারতগুলো রয়েছে সম্ভবত সেগুলো প্রশাসনিক এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হতো।

স্নানাগার ও শৌচাগারের স্থাপত্য

এই স্থাপনাটি মূলত বিহারের বাইরের স্থাপনা। বিহারের দক্ষিণ দেওয়াল থেকে সারপ্রাইজ মিটার দক্ষিনে একটি মঞ্চে অনেকগুলো স্নানাগার ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মঞ্চটির পূর্ব পশ্চিমের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৩২ মিটার ও উত্তর দক্ষিণের প্রস্থ হচ্ছে  ৮.২৩ মিটার। এই মঞ্চটি বিহারের ১০২ নম্বর ঘর থেকে একটি উঁচু বাঁধানো পথ দ্বারা সংযুক্ত করা রয়েছে। এই পথটির নিচে বিহার দেয়ালের সমান্তরালে প্রায় ১.৯২ মিটার চওড়া এবং ৫.৫ মিটার উঁচু একটা ফল যুক্ত খেলান আছে। ধারণা করা হয়েছে সম্ভবত বিহারের বহির্ভাগে খুব সহজে চলাচল এবং চারদিকে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করার জন্য এরকম করা হয়েছিল।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সংলগ্ন স্থাপনা সমূহ

স্নান ঘাট এর বর্ণনা:

বিহারের দক্ষিণ-পূর্ব কোন থেকে ৪৯ মিটার দক্ষিণ দিকে একটি স্নানঘাট রয়েছে। এই স্নানঘাট টি প্রায় ৩.৫ মিটার প্রশস্ত। ইটগুলোকে খারাপ হবে সাজিয়ে এই ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এটির সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন অংশে বিরাট আকারের পাথর দেওয়া ছিল। ঘাটটির ভূপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে ঢালু হতে হতে প্রায় ১২ মিটার নিচে নেমে গেছে। ঘাটের উপরে বালির স্তর ছিল। এ অবস্থা দেখে ধারণা করা হয়, এই ঘাট জলাশয় বিশেষত নদীর সাথে সম্পৃক্ত ছিল।

গন্ধেশ্বরী মন্দিরের বর্ণনা:

স্নান ঘাট থেকে পূর্বমুখী হয়ে একটি ইমারত পাওয়া গেছে যেটাকে স্থানীয় গন্ধচারী মন্দির বলে থাকে। এই মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ৬.৭ মিটার এবং প্রস্থ হচ্ছে ৩.৫ মিটার। এর সামনের দেয়ালের ইটে পূর্ণ প্রস্ফুটিত পদ্মসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলের নকশা এবং গাঁথুনিতে ব্যবহৃত উপাদান দেখে মনে হয় এ দেশে মুসলমান যুগের প্রথম এই ইমারতটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মন্দিরের ভিতরে চারকোন আকৃতির একটি হল ঘর রয়েছে। হলঘরের মধ্যবর্তী স্থান বরাবর অষ্টকোণ আকৃতির একটি স্তম্ভের নিম্নাংশ পাওয়া গেছে। পশ্চিম দিকের উপরের দিকে উঠে যাওয়া একটি দেয়ালের বাইরের দিকে ১.৪ মিটার বাহু বিশিষ্ট বর্গাকার একটি পূজার ঘর রয়েছে। এছাড়াও হলঘরের চারটি কুলম্বিত মূর্তি রাখার যথাযথ ব্যবস্থা রয়েছে। গন্ধেশ্বরী মন্দিরটির সামনে একটা চত্বরও রয়েছে। এই চত্বর টি ইট দিয়ে এমনভাবে গাথা রয়েছে যা পাহাড়পুরের অন্যান্য স্থাপত্য নিদর্শন থেকে একেবারেই আলাদা।

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সংলগ্ন জাদুঘরের সংরক্ষিত মূর্তিগুলো হল :

  • বেলে পাথরের তৈরি চামুন্ডা মূর্তি
  • লাল পাথর দ্বারা দণ্ডায়মান শীতলা মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথর দিয়ে বিষ্ণুর খগ্নাংশ
  • কৃষ্ণ পাথর দ্বারা দণ্ডায়মান গণেশ
  • বেলে পাথর দ্বারা কীর্তি মূর্তি
  • দুবলহাটির মহারানীর তৈলচিত্র
  • হরগৌরির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মূর্তি কৃষ্ণ পাথর দ্বারা লক্ষীনারায়ণ এর ভগ্ন মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথর দ্বারা উমা মূর্তি
  • বেলে পাথর দ্বারা গৌরী মূর্তি
  • বেলে পাথর দ্বারা বিষ্ণু মূর্তি
  • নন্দী মূর্তি কৃষ্ণ পাথর দ্বারা বিষ্ণু মূর্তি
  • সূর্য মূর্তি
  • কৃষ্ণ পাথর দ্বারা শিবলিঙ্গ
  • বেলে পাথর দ্বারা মনসা মূর্তি

শেষ কথা

সুপ্রিয় পাঠক আপনার যদি এই বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনাকে জানাই সাধুবাদ। এই বিখ্যাত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করার জন্য খুবই মনোরম একটি জায়গা। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আমি এই জায়গাটি পরিদর্শন করার পর যতটা মুগ্ধ হয়েছি তা অন্য কোন জায়গায় মুগ্ধ হতে পারেনি।

 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents