Dreamy Media BD

জিউস

জিউস

জিউস হল অলিম্পিয়াসের প্রধান দেবতা। জানা যায় যে খ্রিস্টপুর্ব ২১০০ এর দিকে বলকান এলাকার মানুষেরা আবহাওয়ার দেবতা হিসেবে জিউসের পূজা করত। জিউস মুলত আকাশের দেবতা ও সে সুত্রে বৃষ্টিপাতের দেবতা। হোমারের ঈলিয়াডে জিউসকে তার বিরুদ্ধাচয়ারীদের দিকে বাজ মারতে দেখা যায়। সুতরাং ধারণা করা হয় জিউস বজ্রপাত ও আলো ও নিয়ন্ত্রন করত। জিউস নাম টা মূলত গ্রীক শব্দ Dios থেকে যার মুল অর্থ হল bright.অলিম্পাসের দেবতা জিউস এর আদেশে তৈরী করা হয় ”প্যান্ডোরা” নামের এক নারীকে। গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী তাকে পৃথিবীর প্রথম নারী বলা হয়ে থাকে। জিউস জানত যে জ্ঞান অর্জন করলে মানুষ স্বর্গের দেবতাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, তাদের দোষত্রুটি নিয়ে ভাবতে শিখবে। তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে, সভ্যতা আর বিজ্ঞানের সুচনা করে শক্তিমান হয়ে উঠবে।হেলেন হচ্ছে জিউসের কন্যা। মিথের বর্ণনামতে তার মাতার নাম লেডা।

জিউস ক্রোনাস ও রেয়ার কনিষ্ঠ সন্তান। সর্বাধিক প্রচলিত মত অনুযায়ী, তিনি হেরাকে বিবাহ করেছিলেন। তবে ডোডোনার ওর‌্যাকল মতে, তার স্ত্রী ছিলেন ডায়োনে: ইলিয়ড মহাকাব্যের বর্ণনা অনুযায়ী, তার ঔরসে ডায়োনের গর্ভে আফ্রোদিতির জন্ম হয়।জিউস তার কামলালসার জন্য প্রসিদ্ধ। এর ফলস্রুতিতে তার অনেক দেবতা ও যোদ্ধা সন্তানের জন্ম হয়। এঁরা হলেন অ্যাথেনা, অ্যাপোলো ও আর্টেমিস, হার্মিস, পার্সেফোনি (ডিমিটারের গর্ভে), ডায়োনিসাস, পার্সেউস, হেরাক্লেস, হেলেন, মিনোস ও মিউজগণ (নিমোসিনের গর্ভে); জিউসের ঔরসে হেরার গর্ভে জন্ম হয় আরেস, হেবে ও হেফাস্টাসের।

আরো পড়ুন- আগামেমনন 

জন্ম ও শৈশব

ক্রোনাসের ঔরসে রিয়ার গর্ভে একাধিক সন্তানের জন্ম হয়: হেস্টিয়া, ডিমিটার, হেরা, হেডিস ও পোসেইদন। কিন্তু জন্মমাত্রেই ক্রোনাস তার সন্তানদের গিলে ফেলতেন। কারণ গাইয়া ও ইউরেনাসের থেকে তিনি জেনেছিলেন যে তিনি যেমন নিজের পিতাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, তেমনই তার নিজের সন্তানও তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করবে। জিউসের জন্মের পূর্বে রিয়া তাঁকে রক্ষা করার জন্য গাইয়ার সঙ্গে পরামর্শ চান, যাতে ইউরেনাস ও তার সন্তানদের প্রতি কৃত অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি পান ক্রোনাস। রিয়া ক্রিটে জিউসের জন্ম দেন এবং শিশুর কাপড়ে জড়িয়ে একটি পাথর ক্রোনাসের হাতে তুলে দেন। এই পাথরটিই গিলে ফেলেন ক্রোনাস।রিয়া জিউসকে ক্রিটের মাউন্ট ইডার একটি গুহায় লুকিয়ে রাখেন। তার শৈশব সম্পর্কে একাধিক পরস্পরবিরোধী কাহিনি প্রচলিত আছে

গাইয়া তাঁকে লালনপালন করেন।অ্যামালথিয়া নামে একটি ছাগল তাঁকে প্রতিপালন করেন। অন্যদিকে একদল সেনা বা ছোটো দেবতা নাচগান, চেঁচামেচি ও বর্শানিক্ষেপে শব্দ সৃষ্টি করেন, যাতে শিশুর কান্না ক্রোনাস না শুনতে পায়। অ্যাডাম্যান্থিয়া নামে এক নিম্ফ তাঁকে প্রতিপালন করেন। ক্রোনাস যেহেতু পৃথিবী, স্বর্গ ও সমুদ্রের দেবতা ছিলেন, তাই তার কাছ থেকে লুকোতে গিয়ে সেই নিম্ফ একটি দড়ির দোলনায় জিউসকে গাছে ঝুলিয়ে রাখেন, যাতে সে পৃথিবী, সমুদ্র ও আকাশের বাইরে থেকে তার পিতার দৃষ্টির অগোচরে থাকেন।সিনোসুরা নামে এক নিম্ফ তাঁকে প্রতিপালন করেন। কৃতজ্ঞতাবশত জিউস নক্ষত্রমণ্ডলীতে তাঁকে স্থান দেন।মেলিসা তাঁকে প্রতিপালন করেন। তিনি জিউসকে ছাগলের দুধ ও মধু খাওয়াতেন। একটি পশুপালক পরিবার এই মর্মে তাঁকে প্রতিপালন করতে রাজি হয় যে, তাদের ভেড়ার পালে নেকড়েরা কখনও হানা দেবে না।

জিউসের ক্ষমতা

 

জিউস

জিউস আবহাওয়ার উপর নিয়ন্ত্রণের সাথে একটি আকাশের ঈশ্বর, বিশেষত বৃষ্টির এবং বাজ। তিনি দেবতাদের রাজা এবং উপাসনা একটি ঈশ্বর – বিশেষ করে দোদোনে পবিত্র ওক মধ্যে। ট্রয় যুদ্ধের গল্পে, জিউস, একজন বিচারক হিসাবে, তাদের পক্ষের সমর্থনে অন্যান্য দেবতাদের দাবি শোনে। তারপর তিনি গ্রহণযোগ্য আচরণের সিদ্ধান্তগুলি প্রদান করেন।

তিনি বেশিরভাগ সময়ে নিরপেক্ষ থাকেন, তার পুত্র সারডডন মারা যান এবং তাঁর প্রিয়, হেক্টরকে গৌরবান্বিত করেন।

জেমসের দৈব রাজ লাভ

বয়ঃপ্রাপ্তির পর জিউস ক্রোনাসকে সেই পাথরটি ওগরাতে বাধ্য করেন যেটি ওম্ফালোস নামক নশ্বর মানুষদের প্রতীক হিসেবে পাইথো পারনাসাসের উপত্যকায় রেখেছিল। তারপর গেলার বিপরীত ক্রমে ক্রোনাসকে তিনি তার ভাইবোনদের ওগরাতে বাধ্য করেন। কোনো কোনো পাঠান্তর থেকে জানা যায়, শিশুগুলিকে ওগরানোর জন্য মেটিস ক্রোনাসকে বমি করার ঔষধ প্রদান করেছিলেন। আবার কোনো কোনো মতে, জিউস ক্রোনাসের পেট চিরে তার ভাইবোনদের উদ্ধার করেছিলেন।

কৃতজ্ঞতাবশত, সাইক্লোপসরা তাঁকে বজ্র ও বিদ্যুৎ প্রদান করেন, যা পূর্বে গাইয়া কর্তৃক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। জিউস তার ভাইবোন, জাইগ্যানেটস, হেক্টনকারস ও সাইক্লোপসের সহায়তায় ক্রোনাস সহ অন্যান্য টাইটানদের ক্ষমতাচ্যুত করেন। এই ঘটনা টাইটানোমেশি বা টাইটানদের যুদ্ধ নামে পরিচিত। টাইটানদের পরাজিত করে তারা তাঁদের টারটারাস নামে অন্ধকার এক পাতাললোকে নিক্ষেপ করেন। অ্যাটলাস নামে এক টাইটানকে জিউসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শাস্তিস্বরূপ আকাশ ধরে রাখার কাজ দেওয়া হয়।

টাইটানদের সঙ্গে যুদ্ধের পর জিউস তার দুই দাদা পসেইডন ও হেডিসের সঙ্গে বিশ্বচরাচর ভাগ করে নেন। জিউস হন আকাশের দেবতা, পসেইডন সমুদ্রের এবং হেডিস মৃতলোক বা পাতালের দেবতা হন। প্রাচীন পৃথিবী গাইয়াকে কেউ দাবি করতে পারেন না। তাই তিনি এই তিন জনেরই নিয়ন্ত্রণাধীন থাকেন। এই কারণেই পসেইডনকে “ভূকম্প-সৃষ্টিকারী” (ভূমিকম্পের দেবতা) বলা হয় এবং হেডিস মৃত মানুষদের উপর নিজ আধিপত্য কায়েম করেন। (পেনথাস দেখুন)

টাইটানদের প্রতি জিউসের আচরণ গাইয়াকে ক্ষুব্ধ করে। কারণ টাইটানরা ছিল তার সন্তান। দৈবরাজ্য লাভের পরই জিউসকে তাই গাইয়ার অন্যান্য সন্তান অর্থাৎ টাইফোন ও একিদনা নামে দৈত্যদ্বয়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। তিনি টাইফোনকে একটি পর্বতের তলায় বন্দী করেন। কিন্তু একিদনা ও তার সন্তানদের মুক্তি দেন।

ক্রনাসের শাসন ও জিউসের জন্ম 

জুলুমবাজ পিতা ইউরেনাসের মৃত্যুর পর ক্রনাসের আর কোনো শত্রু রইল না। তিনি একাই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের শাসক হয়ে গেলেন। বিয়ে করলেন নিজের বোন, ধরিত্রীর দেবী রিয়াকে। মানুষের সাথে গ্রিক দেবতাদের আরেকটি বড় মিল হলো তারা উভয়ই নিয়তিতে বিশ্বাস করতেন। যেহেতু ক্রনাস তার পিতা ইউরেনাসের হন্তারক ছিলেন, সেহেতু নিয়তি তাকেও ছেড়ে দেয়নি। ইউরেনাস ক্রনাসকে অভিশাপ দিলেন যে, ক্রনাসেরই আপন ঔরসজাত সন্তান তাকে হত্যা করে তার স্থান দখল করবে। তিনি পিতার চেয়ে ভিন্ন কিছু করলেন না। ক্রনাস তার জন্মানো প্রতিটি সন্তানকে একে একে গিলে ফেলতে লাগলেন।

এভাবে পাঁচটি সন্তান গিলে ফেললেন ক্রনাস। রিয়া মা হয়ে এত বড় নিষ্ঠুরতা মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি ফন্দি আঁটলেন। তিনি সাহায্য চাইলেন তার পিতা-মাতার। রিয়া ও ক্রনাসের ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন জিউস। পিতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য রিয়া তার পুত্র জিউসকে ক্রিট নামক একটি দ্বীপে পাঠিয়ে দেন।এদিকে ক্রনাসকে বোকা বানানোর জন্য রিয়া কাপড়ে মোড়ানো একটি পাথর খণ্ডকে জিউস বলে চালিয়ে দেন এবং টাইটানশ্রেষ্ঠ, বুদ্ধিমান ক্রনাস হঠাৎ বোকা বনে গেলেন; পাথরকে বাচ্চা ভেবে গিলে ফেললেন।

ক্রিট দ্বীপে প্রকৃতির দেবী নিম্ফ জিউসের দেখাশোনা করলেন। আমালথিয়া নামক এক ছাগল জিউসকে দুগ্ধ দিল। কিউরেটাস নামক কিছু গৌণ দেবতাদের উপর জিউসকে রক্ষা করার ভার ছিল। যখনই জিউস কান্না করতেন তখন কিউরেটাসরা তাদের তলোয়ার সজোরে আঘাত করতেন, যাতে ক্রনাস জিউসের কান্নার শব্দ শুনতে না পান.

জিউসের যৌনসঙ্গী ও তাঁর সন্তানের তালিকা

 

জিউস

 

১. হেরা। সহোদরা ও স্ত্রী (দেবী)। গর্ভজাত সন্তান : এ্যারিজ, হেফ্যাস্টাস

২. মেটিস। ইনি জিউসের দ্বারা গর্ভবতী হওয়ার পর, জিউস মেটিসকে গিলে ফেলেন। পরে মেটিসের গর্ভে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এই সন্তানটি ছিলেন প্যালাস এথেনা। পরে এথেন জিউসের মস্তক থেকে নির্গত হয়েছিলেন। হোমারের মতে―  জিউস নারী ব্যতীত এই কন্যার জন্ম দিয়েছিলেন।

৩. মাইয়া (জলপরী)। গর্ভজাত পুত্র : হের্মেজ।

৪. এ্যাল্ক্‌মেনে (মানবী)। গর্ভজাত পুত্র : হেরাক্লেজ।

৫. লেটো’র গর্ভজাত পুত্র-কন্যা : এ্যাপোলো, আর্তেমিস।

৬. সেমেলে গর্ভজাত পুত্র : ডায়োনিসাস।

৭. ড্যানে-এর গর্ভজাত পুত্র : পার্সেয়ুস।

৮. ক্যালিসটো-এর গর্ভজাত পুত্র: আরকাস।

৯. নিমোসিনি-এর গর্ভজাতা : মিউজ কন্যারা (ক্যালায়োপি, ক্লিয়ো, এরাটো, ইউটার্পে, মেল্পোমেনে, পলিহিম্নিয়া,  ট্রেপ্সিকোরে, থ্যালিয়া ও ইউরেনিয়া)।

১০. আইও-এর গর্ভজাত পুত্র এপাফাস।

১১. ডিমিটর : গর্ভজাত কন্যা পার্সিফোনি ও জাগ্রেয়ুস (মতান্তরে পার্সিফোনি-এর ঔরসে জাগ্রে্য়ুস জন্মেছিল)।

১২. ঈগা : পুত্র ঈগিপ্যান।

অনেকের মতে প্রেমের দেবী এ্যাফ্রদাইতি, তাঁর ঔরসে  ডাওনের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

 

অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি

গ্রিক পৌরাণিক কাহিনি মতে দেবরাজ নামে খ্যাত ছিলেন জিউস। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩২ অব্দে এই দেবতার একটি মূর্তি তৈরি করেছিলেন গ্রিক ভাস্করশিল্পী ফিডিয়াস (Phidias)। এই মূর্তিটিই প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তমাশ্চার্যের একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

গ্রিসের পশ্চিম উপকূলের পেলোপোনোসাস অঞ্চলে, প্রাচীন গ্রিসে জিউসের সম্মানার্থে খ্রিষ্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে অলিম্পিক ক্রীড়া শুরু হয়। প্রথমে এই খেলায় গ্রিসের খেলোয়াররা অংশগ্রহণ করতো। কালক্রমে বাৎসরিক এই ক্রীড়া-আসরে এশিয়া মাইনর, সিরিয়া, মিশর এবং সিসিলি থেকে বহু খেলোয়ার অংশগ্রহণ করতো। এই ক্রীড়া-উৎসবের সূত্রে জিউসের একটি নতুন মন্দির তৈরি করা হয়। এলিসের স্থপতি লিবনের নকশা অনুসারে এই মন্দিরটি তৈরি সম্পন্ন হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫৬ অব্দে। এই মন্দিরের উচ্চতা ছিল প্রায় ৪০ ফুট (১২ মিটার) খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে এই মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যায়। এই মন্দিরের পশ্চিমাংশে ফিডিয়াস জিউসের মূর্তিটি তৈরি করেন। মূর্তিটি তৈরি করতে তাঁর সময় লেগেছিল বার বৎসর।

মূর্তিটি পাদদেশের বিস্তার ছিল ২২ ফুট এবং উচ্চতা ছিল ৪০ ফুট। এই ভাস্কর্যকর্মে দেখা যায়- জিউস তাঁর রাজসিংহাসনে বসে আছেন। তাঁর মাথা প্রায় ছাদ ছুঁয়ে আছে। এই মূর্তির মূল কাঠামো ছিল কাঠের। এর উপর হাতির দাঁত দিয়ে চামড়া তৈরি করা হয়েছিল। আর চুল ও দাড়ি হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল সোনা দ্বারা আবৃত তামার তার। মন্দিরের মেঝে জলপাই তেল দিয়ে মসৃণ করে রাখা হতো। এছাড়া মন্দিরের ভিতরে আলোর প্রতিফলনের ব্যবস্থা ছিল।

এই মূর্তিটি খ্রিষ্টপূর্ব ১৭০ অব্দের একটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। পরে মূর্তিটির মেরামত করা হয়েছিল। ৩৯২ খ্রিষ্টাব্দে অলিম্পিক মন্দির ধ্বংস করে দেন রোমের রাজা প্রথম থিয়োডোসিয়াস । এই সময় লাউসাস নামক একজন ধনাঢ্য গ্রিক এই মূর্তিটি কনস্ট্যান্টিনোপলে নিয়ে আসেন। ৪৭৫ খ্রিষ্টাব্দে এক অগ্নিকাণ্ডে মূর্তিটি ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যমতে মূর্তিটি অলিম্পিক মন্দিরেই ছিল। ৪২৫ খ্রিষ্টাব্দে এই মন্দিরটি পুড়িয়ে দেওয়ার সময় এই মূর্তিটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

 

জিউস ও ক্রনাসের যুদ্ধ: 

বহু সময় পূর্বে মানুষের চিন্তা, উপলব্ধি কেমন ছিল, তা জানা যায় মিথলজির মাধ্যমে। মিথলজির বাংলা অর্থ ‘পুরাণশাস্ত্র’। বিশেষ কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কিত পৌরাণিক কাহিনীর সমষ্টিকেই পুরাণশাস্ত্র বা মিথলজি বলা হয়। মিথলজি নিয়ে কথা বলতে গেলেই আমাদের মাথায় রোমান এবং গ্রিক মিথলজির ভাবনার জন্ম হয়। তবে এর মাঝে গ্রিক মিথলজি পুরো পৃথিবীব্যাপী সর্বাধিক পরিচিত, আলোচিত এবং পঠিত।

গ্রিকদেরও পথচলার শুরু হয়েছিল আদিকালেই। তাদের জীবনও ছিল আদিম যুগের মানুষের মতো ‘বন্য ও বর্বর’। তবে গ্রিক মিথলজিতে এর প্রমাণ খুব সামান্যই পাওয়া যায়। এই কাহিনীগুলো যতদিনে বর্তমান রূপ লাভ করেছে, ততদিনে আদিকালকে আমরা বহু পেছনে ফেলে এসেছি। আমরা বর্তমানে যে গ্রিক মিথলজিকে চিনি, তা কবিদের সৃষ্টি। হোমারের হাত ধরেই মূলত এর যাত্রা শুরু হয়। এর রচনাকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১ হাজার বছর। গ্রিক পুরাণের প্রথম লিখিত প্রমাণটি হলো ‘ইলিয়াড’।

গ্রিসের মানুষেরাই প্রথম নিজেদের প্রকৃত অবস্থান অনুধাবন করতে পেরেছিল। তাদের মতে, মানুষই হলো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। গ্রিকরা তাদের দেবতাদের কাহিনী তৈরি করলো নিজেদের এই ভাবমূর্তির মতো করেই। দেবতারা যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন তা বিশ্বাস করতো না গ্রিকেরা। তাদের বিশ্বাস ছিল, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডই সৃষ্টি করেছে দেবতাদের। দেবতাদের সৃষ্টির পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছিল স্বর্গ ও নরকের। মূলত, টাইটানগণ ছিলেন আদি দেবতা, দেবতারা ছিলেন তাদের সন্তান।

টাইটানগণ ছিলেন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবকিছুর সর্বাধিকারী। তাদের শক্তি ছিল অবিশ্বাস্য। তারা সংখ্যায় ছিলেন অনেক। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন ‘ক্রনাস’। তিনি টাইটানদের শাসনকর্তা ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তাকে পরাজিত করে সকল ক্ষমতার অধিকারী হন তার পুত্র ‘জিউস’।

যে সকল দেবতারা টাইটানদের উত্তরসূরি হিসেবে এলেন, তাদের মধ্যে বারোজন ছিলেন অন্যতম। তারা সকলে বাস করতো পৃথিবীর সকল পর্বতশৃঙ্গ থেকে উচ্চতম স্থানে। এর নাম ছিল অলিম্পাস। অলিম্পাসে বসবাসের কারণে তাদের বলা হতো অলিম্পীয়।

গ্রিক মিথলজিতে বিভিন্ন দেব-দেবী কিংবা বিশেষ চরিত্রের যুদ্ধ, বীরত্ব, প্রেম, বিরহ ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় নিয়ে চমকপ্রদ কাহিনী রয়েছে। সেরকম প্রথম নারী সৃষ্টি নিয়েও রয়েছে এক চমকপ্রদ কাহিনী, যার শুরুটি হয় পিতা ক্রনাসের বিরুদ্ধে জিউসের বিদ্রোহের দ্বারা।

আদিযুগের তথ্যানুযায়ী, ক্রনাস তার পিতা ইউরেনাসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। মূলত মায়ের নির্দেশেই ক্রনাস এমনটি করেন। কেননা, ইউরেনাস ছিলেন একজন বাজে শাসক। তিনি তার সন্তানদেরও মায়ের থেকে দূরে রাখতেন। মূলত এই ক্ষোভ থেকে ক্রনাসের মা তার পিতাকে সিংহাসনচ্যুত করার নির্দেশ দেন। তবে ক্রনাসও পিতার থেকে ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি যখন জানতে পারলেন, তার সন্তানই তাকে সিংহাসনচ্যুত করবে, তখন থেকেই তিনি তার সন্তানদের হত্যা করতে শুরু করেন। তবে জিউসের মা রিয়া জিউসকে বাঁচাতে সক্ষম হন। রিয়াই মূলত জিউসকে নির্দেশকে দেন ক্রনাসকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় পিতা ক্রনাসের বিরুদ্ধে জিউস বিদ্রোহ ঘোষণা করলে সংঘটিত হয় ভয়াবহ এক যুদ্ধ।

এই যুদ্ধে ক্রনাসের পক্ষে ছিলেন তার ভাই টাইটানেরা এবং জিউসের পক্ষে ছিলেন তার পাঁচ ভাই-বোন। এছাড়াও টাইটান আয়াপেটাসের পুত্র প্রমিথিউসও জিউসের পক্ষ নিয়ে লড়াই করলেন। জিউস শত হস্তবিশিষ্ট দানবদের মুক্ত করে দেন। তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র, বজ্রপাত, ভূমিকম্প দিয়ে জিউসের পক্ষে যুদ্ধ করলো। এছাড়াও জিউসের পক্ষে ছিল প্রমিথিউসের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি। এই ভয়াবহ যুদ্ধে ধ্বংস হয় সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। তবে অসীম শক্তি ও বুদ্ধির জোরে জয় হয় জিউসের। তবে এখানেই শেষ নয়। ধরিত্রীদেবী জন্ম দিলেন তার সবচেয়ে বিপজ্জনক সন্তান- টাইফন। তবে জিউসের কাছে ছিল বজ্র ও আলোক-সম্পাতের নিয়ন্ত্রণ। এর দ্বারাই পরাস্ত করা হয় টাইফনকে। এরপর জায়ান্টরাও বিদ্রোহ করলো। তবে ততদিনে দেবতারা অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। ফলে জায়ান্টদেরও পরাস্ত হতে হয়।

এরপর জিউস ও তার ভাই-বোনেরা হলেন সকল কিছুর একচ্ছত্র অধিপতি। পৃথিবী তখন ছিল মানুষের বসবাসের উপযুক্ত। ছিল না কোনো টাইটান কিংবা দানবদের ভয়। পৃথিবী ছিল একটি গোলাকৃতির চাকতির ন্যায়, যা সমুদ্র দিয়ে দু’টি সমান অংশে বিভক্ত ছিল। তাই দেবতারা সৃষ্টি করলেন মনুষ্যজাতিকে। সোজাভাবে বললে, কেবল পুরুষজাতিকে। প্রথমে তারা সৃষ্টি করলেন স্বর্ণ প্রজাতি। এরা ছিল সকল শ্রম ও যন্ত্রণা থেকে দূরে, তবে এরা মরণশীল ছিল। এদের ছিল প্রচুর শস্য ও ফসল, তাছাড়া প্রচুর পশুপালনও করতো। তাই এরা ছিল দেবতাদের প্রিয়।

এর পরবর্তী মনুষ্যপ্রজন্ম তৈরি হলো রূপা দিয়ে। এদের বুদ্ধিমত্তা এতই কম ছিল যে, তারা নিজেরাই নিজেদের আঘাত করার মাধ্যমে ধরিত্রী থেকে বিদায় নিল। এর পরবর্তীতে এলো তাম্র প্রজাতি। এরা ছিল খুব ভয়ংকর ও শক্তিশালী। এরা নিজেরাই নিজেদের হাতে ধ্বংস হয়েছিল। এরপর পৃথিবীতে এলো দেবতাদের মতো বীর। তারা বিভিন্ন গৌরবময় যুদ্ধ ও দুঃসাহসিক অভিযানে লিপ্ত ছিল। অবশেষে তাদের স্থান হলো স্বর্গের মতো এক দ্বীপে, যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সর্বশেষ হলো লৌহ প্রজাতি, যারা এখন বসবাস করছে পৃথিবীতে।

প্রমিথিউস মনুষ্যজাতির প্রতি অর্থাৎ পুরুষদের প্রতি ছিলেন উদার। তিনি তাদের জন্য সূর্য থেকে আগুন চুরি করলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি এমন এক ব্যবস্থা করলেন, যাতে দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গকৃত পশুর উৎকৃষ্ট অংশটি পায় পুরুষেরা এবং নিকৃষ্ট অংশটি পায় দেবতারা। তিনি একটি ষাঁড় জবাই করলেন, উৎকৃষ্ট অংশটুকু তিনি আচ্ছাদনে লুকিয়ে রাখলেন। আর হাড়গুলো তিনি স্তূপাকারে সাজালেন। এগুলোকে তিনি আচ্ছাদিত করলেন উজ্জ্বল চর্বি দ্বারা। এরপর তিনি জিউসকে যেকোনো একটি অংশ পছন্দ করতে বললেন। জিউস পছন্দ করলেন চর্বিযুক্ত অংশটি। তবে পরবর্তীতে তিনি দেখলেন, এটি কেবল চর্বি দিয়ে সাজানো হাড়ের স্তূপ। কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না। কেননা তিনি ইতোমধ্যেই নিজ পছন্দ সেরে ফেলেছিলেন।

জিউসের কাছে এ ছিল এক বিরাট অপমান। তিনি প্রমিথিউস এবং তার অতীব প্রিয় মানবজাতির উপর প্রতিশোধ নেবেন বলে ঠিক করলেন। তাই পুরুষ জাতির উপর অমঙ্গল বয়ে আনতে জিউস সৃষ্টি করে প্রথম নারী, যার নাম প্যান্ডোরা। এর অর্থ- সকলের উপহারের সমন্বয়। কেননা তাকে সকল দেবতার দেওয়া উপহারের সমন্বয়ে সৃষ্টি ও সাজানো হয়েছিল। তার রূপ দেখে ভরে গেলো দেবতা ও পুরুষদের মন। এই থেকেই শুরু হলো প্রথম নারীর যাত্রা, যার সৃষ্টি হয়েছিল কেবল পুরুষজাতির মাঝে অমঙ্গল বয়ে আনতে।

তাকে যে অমঙ্গল আনতেই সৃষ্টি করা হয়েছিল, এর একটি বড় প্রমাণ হলো তাকে উপহার দেওয়া দেবতাদের একটি বাক্স। এই বাক্সের ভেতরে ছিল সকল অশুভ সামগ্রী, এমনকি প্যান্ডোরাকে বাক্সটি খুলতে দেবতারা বারণও করেছিলেন। তবে তাকে সৃষ্টিই করা হয়েছিল এভাবে যে, নিষিদ্ধ সবকিছুর প্রতি তার অগাধ কৌতূহল ছিল। যা-ই হোক, এই উপহারের বাক্সটিসহ প্যান্ডোরাকে পাঠিয়ে দেয়া হলো এপিমিথিউসের কাছে, যিনি ছিলেন প্রমিথিউসের ভাই। প্রমিথিউস যদিও এপিমিথিউসকে মানা করেছিলেন, দেবতাদের কাছ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে, তবুও তিনি তাকে গ্রহণ করলেন। তবে পরে তিনি টের পান যে, তার ভাইয়ের দেওয়া উপদেশটি পালন করলে কতটা মঙ্গলজনক হতো। এপিমিথিউসের সাথে থাকা অবস্থাতেই প্যান্ডোরা বাক্সটি খুলে ফেলেন। বাক্সটি থেকে বের হয় সকল মহামারী, মানবজাতির জন্য সীমাহীন দুঃখ ও ক্ষতি। প্যান্ডোরা দ্রুত ঢাকনাটিকে বসিয়ে দিলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। অবশ্য সেখানে একটি ভালো জিনিসও ছিল, তা হলো ‘আশা’; অসংখ্য অশুভের মাঝে কেবল একটি শুভ। মানবজাতির সকল দুর্দশার মাঝে এটি আজও রয়ে গেছে সান্ত্বনা হিসেবে।

মূলত প্রমিথিউসের জিউসের সাথে করা অমন কাজের কারণেই পৃথিবীতে অশান্তির আবির্ভাব ঘটে। তাই শেষটা করা যাক প্রমিথিউসের নিয়তি বলার মাধ্যমেই। টাইটানদের সাথে যুদ্ধে প্রমিথিউসের অবদানের জন্য জিউস তার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। তবে প্রমিথিউসের এহেন কর্মের ফলে জিউস তার অবদানের কথা ভুলে যান। জিউস কেবল প্রমিথিউসের প্রিয় মনুষ্যজাতির জীবনে অমঙ্গল এনেই ক্ষান্ত হননি, তিনি প্রমিথিউসকে ককেশাসে নিয়ে বন্দী করে রেখেছিলেন।

 

জিউস অভিশপ্ত মৃত্যু

জিউসের অনেক কাহিনী আছে কিছু অন্যদের গ্রহণযোগ্য আচরণের দাবি অন্তর্ভুক্ত, কিনা মানুষ বা ঐশ্বরিক জিউস প্রমেথিয়াসের আচরণের সাথে ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। টাইটান মূল জগতের অ মাংস অংশ গ্রহণ করার জন্য জিউসকে তিক্ত করে তুলেছিল যাতে মানবজাতির খাবারটি উপভোগ করতে পারে। প্রতিক্রিয়াতে, দেবতাদের রাজা মানবজাতিকে আগুনের ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করেছিল, তাই তারা তাদের বরাদ্দ ভোগ করতে সক্ষম হবে না, তবে প্রমিথিউস এই চারপাশে একটি পথ খুঁজে পেয়েছে এবং কিছু দেবতাদের লুকিয়ে লুকিয়ে রেখেছে। এটি ফেনেলের একটি ডাল এবং তারপর মানবজাতির এটি প্রদান জিউস তার লিভার প্রতিদিন ছিটকে দিয়ে প্রমেথিয়াসকে শাস্তি দেন।

জিউস

কিন্তু জিউস নিজেকে অপব্যবহার করেন – অন্তত মানুষের মান অনুযায়ী। এটা বলার প্রলুব্ধকর যে, তার প্রাথমিক পেশা হচ্ছে পাগলের মতো। পলায়ন করার জন্য, তিনি কখনও কখনও একটি পশুর বা পাখির মধ্যে তার আকৃতি পরিবর্তন করেছেন

যখন তিনি লিডার জন্মগ্রহণ করেন, তখন তিনি হ্যান্সের মতো হাজির হন [ লেদা ও সোয়ান দেখুন ]।

যখন তিনি গ্যানিমেডকে অপহরণ করেন, তখন তিনি ঈগল হিসেবে হাজির হন [ জিউস এবং গ্যানিমেডকে দেখুন ] গ্যানিমেডকে দেবতার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যেখানে তিনি হিবিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসাবে বদলে দেবেন; এবং

যখন জিউস ইউরোপের দিকে অগ্রসর হন, তখন তিনি একটি প্রলোভন সাদা বেল্ট হিসেবে আবির্ভূত হন

[ইউরোপা ও জিউস দেখুন] – যদিও ভূমধ্যসাগরীয় মহিলারা এতদুভয়ের গৌরবজনক এই নগরবাসীর কল্পনাপ্রবণ ক্ষমতা অতিক্রম করে না – ক্যাডমাসের খোঁজে এবং থিব্সের বসতি স্থাপনে । ইউরুপের খোঁজে গ্রিসের চিঠি প্রবর্তনের একটি পৌরাণিক সংস্করণ রয়েছে।

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents