Dreamy Media BD

বিটকয়েন কি? বিটকয়েনে আয় করার সহজ উপায়

বিটকয়েন-কি-বিটকয়েনে-আয়-করার-সহজ-উপায়

“সাত হাজার কোটি টাকার বিনিময় দুইটি পিৎজা”

শিরোনামটি অতিরঞ্জিত হলেও কিন্তু মিথ্যা নয়। বিশ্বের সবচেয়ে হতভাগা ব্যক্তি বলা হয় লাজলো হাঁয়েকজ’কে যিনি কিনা, ২০১০ সালে ১০ হাজার বিটকয়েনের বিনিময়ে মাত্র দুইটা পিৎজা কিনেছিলেন।  সেই বিটকয়েনের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা।

এই গল্পই বলে দেয় বিটকয়েন কিভাবে অসীম থেকে অসীমে চলে গেছে।

এটা তো শুধু কেবলমাত্র একটি উদাহরণ। এটা শুধুমাত্র একটা মুদ্রা নয়, এটা ডিজিটাল দুনিয়ার মুদ্রা ব্যবস্থার এক অভ্যুত্থান।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো বিটকয়েনের ইতিহাস, এটা কিভাবে কাজ করে, কে কিভাবে বানাল ও এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে। সেই সাথে, আর্টিকেলের শেষে আপনাদের জানাবো কিভাবে বিটকয়েন দিয়ে আপনি আয় করতে পারেন।

তাই,আপনি যদি জানার জন্য আগ্রহী হন, তাহলে আর্টিকেলটা শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আশা করি, বিটকয়েনের উপর বাংলায় সবচেয়ে  সমৃদ্ধ লেখাটি পড়ার জন্য আপনি যথেষ্ট বুদ্ধিমান।

বিটকয়েন কি?

বিটকয়েনকে অনেকভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, সাধারণ মানুষের জন্য:

বিটকয়েন একটি ডিজিটাল মুদ্রা যা কোন সরকার বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা অনুমোদিত বা নিয়ন্ত্রিত হয় না।

টেকনিক্যাল সংজ্ঞা:

বিটকয়েন হল একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক মুদ্রা ব্যবস্থা যা জটিল গাণিতিক অ্যালগরিদম দ্বারা তৈরী হয় এবং পিয়ার টু পিয়ার (কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে) বিনিময় হয়। 

বিটকয়েন উৎপাদন ও লেনদেন নিরাপদ করার জন্য ক্রিপ্টোগ্রাফি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় বলে, এটিও একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি। এর উৎপাদন ও লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্লকচেইন প্রকৌশল।

বিটকয়েন তৈরির উদ্দেশ্য কি?

প্রথমত, বিটকয়েন তৈরির ও প্রধান উদ্দেশ্য হল, মুদ্রা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা। অর্থাৎ এ নিয়ন্ত্রণ কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক) বা সরকারের হাতে থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, অর্থ লেনদেনের নিরাপদ, সহজ ও দ্রুত ও আধুনিক মাধ্যমের আবিষ্কার।

তৃতীয়ত, স্বর্ণের মত এমন একটি ডিজিটাল সম্পদ আবিষ্কার করা। পৃথিবীতে যেমন স্বর্ণ বিরল ও এর প্রাপ্যতা নির্দিষ্ট, তেমনি বিটকয়েনের অ্যালগরিদম এমনভাবে ডিজাইন করা, ২১ মিলিয়নের বেশি বিটকয়েন কখনোই মাইন হবে না ( ইতিমধ্যে ৯২% বিটকয়েন মাইন হয়ে গেছে)।

বিটকয়েনের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি গুলি হল: ইথেরিয়াম, Tether, বাইনান্স কয়েন, সোলানা ও ক্যারদানো।

বিটকয়েনের ইতিহাস ও জনক

পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম বিটকয়েন মাইন করা হয় ২০০৯ সালে। সেই বছরেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিটকয়েন নেটওয়ার্ক উন্মুক্ত করা হয়। তবে বিটকয়েন ধারণাটি বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত হয় তারও এক বছর আগে, ২০০৮ সালে। Satoshi Nakamoto নামে কোন এক ব্যক্তি (বা গ্রুপও হতে পারে) বিটকয়েন তৈরি করেন ও বিটকয়েনের উপরে বিজ্ঞান জার্নালে একটি পেপার পাবলিশ করেন।

নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার কারণে, এই Satoshi Nakamoto কোন ব্যক্তি নাকি কোন গ্রুপ তা কখনোই জানা যায়নি, আর হয়তো কখনোই জানাও যাবে না।

বিটকয়েন দিয়ে প্রথম লেনদেনটি হয় ২০১০ সালে। হতভাগ্য Laszlo Hanyecz এর দশ হাজার বিটকয়েন দিয়ে, মাত্র দুইটি পিৎজা কেনার মাধ্যমে।

২০১১ সালে বিটকয়েন লেনদেনের জন্য Mt. Gox প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম এক বিটকয়েনের মূল্য ১০০০ ডলার স্পর্শ করে।

কিন্তু ২০১৪ সালে Mt. Gox হ্যাক হওয়ার কারণে, সারা পৃথিবী ব্যাপী বিটকয়েন মাইনার ও ট্রেডাররা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

পরবর্তীতে, ২০১৭ সালে আবার বিটকয়েন শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং যারা ততদিন পর্যন্ত লেগেছিলেন তারা আবার ব্যাপক লাভ করেন।

২০২০ সালে করোনা কালীন সময়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিটকয়েন ব্যবহার শুরু করে। ফলশ্রুতিতে ২০২১ সালে, বিটকয়েন তার সর্বকালের সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছায়। ১ বিটকয়েন সমান ৬৮ হাজার ইউএস ডলার রেকর্ড দাম উঠে।

বিটকয়েন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি

আমরা ইতিমধ্যে জেনে গেছি যে বিটকয়েন একপ্রকার ক্রিপ্টোকারেন্সি। বিটকয়েন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি।  সম্পর্কটা হলো এমন যে, সকল বিটকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সি কিন্তু সকল ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন নয়।

উচ্চতর গণিতের একটি শাখা হল ক্রিপ্টোগ্রাফি যা ডেটার নিরাপদ ও নিশ্চিত যোগাযোগ  ব্যবহৃত হয়। এই ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রকৌশল থেকে ব্লক চেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিটকয়েন এর উৎপত্তি।

বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট প্রায় ৪৫% বিটকয়েনের দখলে, ১৫% ইথেরিয়াম আর বাকি অংশ অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রার দখলে।

আরও পড়ুনঃ ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেটের রহস্যময় অপরাধের জগৎ

বিটকয়েন কিভাবে তৈরি হয়?

কিভাবে বিটকয়েন তৈরি হয়, তা জানতে হলে, আগে জানতে হবে বিটকয়েন মাইনিং কি?

স্বর্ণ যেমন খনি থেকে আহরণ করতে হয়, তেমনিভাবে বিটকয়েন মাইনিং করতে হয়। বিটকয়েন মাইনিং একটি জটিল ক্রিপ্টোগ্রাফি নিয়ন্ত্রিত গাণিতিক প্রক্রিয়া যা ব্লকচেইন পদ্ধতির প্রয়োগে সম্পন্ন হয়।

যারা বিটকয়েন মাইন করেন, তাদেরকে বলা হয় মাইনার।

বিটকয়েন মাইনিং এর জন্য মাইনরদের’কে অনেক শক্তিশালী কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। এই কম্পিউটার একেকটা ব্লকের মত কাজ করে। ব্লকগুলো একে অপরের সাথে চেইনের মত সংযুক্ত থাকে (ব্লকচেইন প্রযুক্তি)। প্রথম মাইনর কম্পিউটার ক্রিপ্টোগ্রাফিক গাণিতিক পাজল বা সমস্যা সমাধান করে তা পরবর্তী ব্লক কে সরবরাহ করে। এভাবে বিটকয়েনের উৎপত্তি হয়, বিনিময়ে মাইনার বিটকয়েনের একটা ক্ষুদ্র দশমিক অংশ পুরস্কার হিসাবে লাভ করে। সংক্ষেপে বর্ণনার সুবিধার্থে হতে সহজ করে বলা হলেও, এই জটিল প্রক্রিয়া প্রতি ১০ মিনিটে একবার করে সম্পন্ন হয়।

বিটকয়েনের এর উৎপাদনের জন্য নেটওয়ার্কে যুক্ত সমস্ত ডিভাইস বা ব্লক এর লেজার খাতা আপডেট হয়। যা ব্লকচেইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ভাবে সম্পন্ন হয়। তাই বিটকয়েন ব্যবস্থায় নকল বিটকয়েন তৈরির কোন সুযোগ নেই।

বিটকয়েন মাইনিং এ প্রচুর পরিমাণে বৈদ্যুতিক শক্তির দরকার হয়। যার কারণে বিটকয়েন মাইনিং অনেক দেশেই অবৈধ। বিটকয়েন মাইনিং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে?

ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি, বিটকয়েনের প্রতিটি ধাপের সাথেই ব্লকচেইন প্রযুক্তি আত্মপান্ত ভাবে জড়িত। বিপণন ও উৎপাদন দুই প্রক্রিয়ায় এই বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। বিটকয়েন ব্যবস্থায় যে ধাপগুলো  জড়িত:

লেজার খাতা পদ্ধতি: বিটকয়েনের মতো জটিল একটি পদ্ধতি, দোকানের লেজার খাতার মত সাধারণ প্রক্রিয়া মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এখানে এখানে প্রতিটি ব্লক, লেজার খাতা হিসেবে কাজ করে। আর ব্লকগুলি গুলো একে অপরের সাথে চেইনের মতো যুক্ত থাকে। কোন একটা ব্লকে বা ডিভাইসে নতুন ট্রানজেকশন বা লেনদেন হলে, প্রতিটা ভার্চুয়াল লেজার খাতায় এই আপডেট হয়। ফলশ্রুতিতে নিশ্চিত হয় নিরাপদ লেনদেন।

নিশ্চিত নিরাপদ ব্যবস্থা: একবার কোনো লেনদেন হলে সেটা চাইলেই বাতিল করা যায় না। ফলশ্রুতিতে প্রতারণার কোন সুযোগ নেই। তাইতো ডার্ক ওয়েবের মত অপরাধীদের রাজ্যে, বিটকয়েনের মাধ্যমে বেশিরভাগ লেনদেন হয়।

ভার্চুয়াল ওয়ালেট: বিটকয়েন অন্তর্ভুক্ত প্রতিটা নোড/ ডিভাইস বা কম্পিউটারে ভার্চুয়াল ওয়ালেট হিসেবে কাজ করে। এবং প্রতি নোডকে আলাদা কোডের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায়। প্রতিটি নোড তার পূর্ববর্তী নোডের সাথে ক্রিপ্টোগ্রাফিক হ্যাশ দ্বারা যুক্ত।

স্ক্যালাবল: বিটকয়েনের সার্ভারটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও জটিল ডাটা স্ট্রাকচার ব্যবহার করে তৈরি। তাই ইউজারের লোড যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, সার্ভার ক্রাশ করার কোন সম্ভাবনা নেই।

বিটকয়েনের মূল্য

বিটকয়েনের মূল্য নির্দিষ্ট নয়, এমনকি পৃথিবীর কোন মুদ্রার মানই নির্দিষ্ট নয়। যদিও বিটকয়েনের ক্ষেত্রে মূল্য উঠানামা একটু বেশি হয়।

আমাদের সাধারন মুদ্রা গুলো ব্যাংকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় আর সরকার চাইলেই অধিক মুদ্রা ছাপাতে পারে।

যেমন আমরা দেখেছিলাম, ভেনিজুয়েলা কিভাবে বেশি মুদ্রা ছাপিয়ে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু বিটকয়েনের একটা সীমা আছে। ২১ মিলিয়ন বিটকয়েনের বেশি কখনোই উৎপাদন হবে না। তাই এটি একটি শক্তিশালী ক্রিপ্টো মুদ্রা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

যদিও, ২০২১ সালে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পর, বর্তমানে বিটকয়েনের দাম অনেকটাই কমে গেছে।

CoinMarketCap এর সর্বশেষ (৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) তথ্য অনুসারে, বিটকয়েনের বর্তমান বাজার দর ২৫,৮৭০.০৫ মার্কিন ডলার।

বিটকয়েনের বর্তমান বাজার দর
বিটকয়েনের বর্তমান বাজার দর

১ বিটকয়েন সমান কত টাকা 

গুগলের মার্কেট সামারি টুলসের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩) এক বিটকয়েন সমান বাংলাদেশী মুদ্রায় ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫২ টাকা ৪৪ পয়সা।

কিভাবে বিটকয়েনের দাম নির্ধারিত হয়?

আমাদের মুদ্রার দাম বা মান নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাংক, কিন্তু বিটকয়েন ডিসেন্ত্রালাইজ বলে কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ হয় না। এর দাম উঠানো করে কয়েকটি বিষয়ের উপর:

মিডিয়া আকর্ষণ: কোন কারণে মিডিয়াতে বিটকয়েনের চর্চা বেড়ে গেলে, বাজারে বিটকয়েনের দাম বৃদ্ধি পায়। আবার একই কারণে মিডিয়াতে বিটকয়েন নিয়ে, কোন খারাপ খবর প্রকাশ পেলে, তখন বিটকয়েনের দাম কমে যায়।

অর্থাৎ, এটিও অন্য পণ্যের মতো, বাজারের যোগদান-চাহিদা-দামের সূত্র মেনে চলে।

বিশ্বের অর্থনীতি: বিশ্ব অর্থনীতি ভালো থাকলে মানুষের হাতে টাকা আসে, তখন তারা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ করে,ফলে বিটকয়েনের দাম বৃদ্ধি পায়। বিপরীত অবস্থায় দাম কমে যায়।

ঘটনাবলী: বিশ্বের রাজনীতি, যুদ্ধ, মঙ্গা, খরা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় এগুলোর উপরেও বিটকয়েনের দাম নির্ভর করে।

আধুনিক প্রযুক্তি: আমাদের বর্তমান কম্পিউটার গুলি শূন্য এক ভিত্তিক বাইনারি পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠিত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ব্যাপক জনপ্রিয় হলে বিটকয়েন মুদ্রা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।

বিটকয়েন কি বাংলাদেশে বৈধ?

বিটকয়েন সহ কোন প্রকার ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশে বৈধ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিজ্ঞপ্তি মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, বিটকয়েন ও অন্য সকল ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন ও ট্রেড অবৈধ।

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও স্পষ্ট করেন যে, কোন ভার্চুয়াল মুদ্রা যা কোন সরকার বা ব্যাংক দ্বারা অনুমোদিত নয়, সেগুলিও অবৈধ। ইন্ডিয়াসহ বেশ কিছু দেশ ভার্চুয়াল মুদ্রার যুগে প্রবেশ করেছে, সেগুলো বৈধ হবে।

বিটকয়েনের বৈধতা না দেবার, কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যেসব দেশে বিটকয়েন বৈধ

বাংলাদেশে বিটকয়েন অবৈধ হলেও পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ আছে যেখানে বিটকয়েন বৈধ। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই দেশগুলো:

সুইজারল্যান্ড: সারা পৃথিবীর ব্যাংকিং হাব সুইজারল্যান্ডে বিটকয়েন বৈধ। শুধু বিটকয়েন নয়, যে কোন প্রকার ক্রিপ্টোকারেন্সি এখানে বৈধ। তাই সুইজারল্যান্ডকে ক্রিপ্টো ফ্রেন্ডলী দেশ বলা হয়।

এস্তোনিয়া: আরেক ইউরোপিয়ান এই দেশেও ক্রিপ্টোকারেন্সি (বিটকয়েন) বৈধ। কিন্তু এর জন্য সরকারকে বিশ পার্সেন্ট ফ্ল্যাট আয়কর দিতে হয়।

জার্মানি: ইউরোপের আরেক বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিও একটি ক্রিপ্টো-ফ্রেন্ডলি দেশ। এখানে ব্যক্তিগত মুদ্রা হিসেবে বিটকয়েনের ব্যবহার বৈধ। তাই এখানে, বিটকয়েন আয়ের উপরে কোন প্রকার ট্যাক্স দিতে হয় না।

নেদারল্যান্ডস: এখানেও জার্মানির মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ব্যক্তিগত মুদ্রা হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই কোন প্রকার ট্যাক্স দিতে হয় না।

এছাড়াও অনেক ইউরোপীয় দেশ বিটকয়েন সম্বন্ধে কোন নীতিমালা থাকলেও লেনদেনে কোনরূপ বাধা দেয় না।

বিটকয়েনের এটিএম বুথ আছে যে দেশে?

উত্তর আমেরিকার দেশ এল সালভাদর, ২০২১ সালে প্রথম দেশ হিসেবে বিটকয়েন বৈধ ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, একমাত্র এই দেশে বিটকয়েনের এটিএম বুথ আছে, যেখান থেকে স্থানীয় মুদ্রায় টাকা তোলা যায়।

বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে, এতে হয়তো এল সালভাদরের অর্থনীতি নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। আবার নিন্দুকেরা বলছে, আপাতত দৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও ভবিষ্যতে এটি পুরো দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দিবে।

হয়তো এল সালভাদরের দিকেই তাকিয়ে আছে অনেক দেশ, তার উন্নতি বা অবনতি দেখেই, নিজেরা সিদ্ধান্ত নিবেন।

বিটকয়েনের বিজনেস ও ইনকাম

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই বিটকয়েন ট্রেড অবৈধ। কিন্তু এর কোন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক নেই, তাই সব দেশ থেকেই ব্যাপকভাবে এর ট্রেড বা বিজনেস করা যায়। বিশ্বে ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটের প্রায় অর্ধেক লেনদেন বিটকয়েন দ্বারা হয়ে থাকে। বিটকয়েন দ্বারা অনেকভাবেই আয় করা যায়, কিছু পদ্ধতি দেওয়া হল:

মাইনিং: বিটকয়েন উৎপাদনের একমাত্র প্রক্রিয়া বিটকয়েন মাইনিং। ক্রিপ্টোগ্রাফি গাণিতিক প্রক্রিয়ায় মাইনররা ব্লক গুলিতে ট্রানজেকশন যুক্ত করে এবং  রিওয়ার্ড পায়।

ট্রেডিং: শেয়ার মার্কেটের মত, বিটকয়েনের মার্কেটপ্লেস গুলোতে কয়েন কিনে উচ্চমূল্য সময় বিক্রি করে, আয় করা যায়।

বাউন্টি: এটা একপ্রকার উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মতো, যেখানে কিছু কাজ দেওয়া থাকে। যেমন, আর্টিকেল লেখা অথবা ডকুমেন্টেশনের অনুবাদ, বিনিময়ে কয়েন দেওয়া হয়।

স্টাকিং: আপনার ই-ওয়ালেট যদি ক্রিপ্টোকারেন্সি সাপোর্ট করে। তাহলে আপনি কোন ব্লকের পক্ষ হতে বিটকয়েনের স্টক করে, তার বিনিময়ে একটা অংশ লাভ করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: বিভিন্ন বিটকয়েন কেনা বেচার মার্কেটপ্লেস থেকে, আপনি এ্যাফিলেট একাউন্ট খুলতে পারেন। তারপর, আপনার নিজস্ব ব্লগ, ইউটিউব, ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিটকয়েনের প্রচার, পোস্ট বা ভিডিও প্রকাশ করতে পারেন। যেখানে আপনার এফিলেট লিংকটি দেওয়া থাকবে। সেখান থেকে কেউ বিটকয়েন কিনলে আপনি তার একটা শতাংশ হারে ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পাবেন।

বিটকয়েনে বিনিয়োগের আগে যা জানা দরকার?

অনেকেই বিটকয়েন সম্বন্ধে না জেনে অন্যের দেখাদেখি বিটকয়েনে বিনিয়োগ করে ও অনেক অর্থ হারিয়ে ফেলেন। তাই আপনি যদি বিটকয়েনে বিনিয়োগ করতে চান তাহলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি একবার খেয়াল করবেন:

নিজেই রিসার্চ করুন: বিনিয়োগের আগে বিট কয়েন সম্বন্ধে ভালোভাবে জেনে নিন। কেন এর দাম বাড়ে? অথবা কেন দাম কমে? এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে ধারণা নিন।

সর্বস্ব বিনিয়োগ করবেন না: বিটকয়েনের মুদ্রার দাম অনেক উঠানামা করে। এটার কোন নির্দিষ্ট সীমা পরিসীমা ও গতি নেই। তাই অন্যের প্রচারণায়, প্রচারিত হয়ে, নিজের যা কিছু আছে তা দিয়ে, বিনিয়োগ করবেন না। যতটা ক্ষতি আপনি সামনে নিতে পারবেন, ঠিক ততটাই বিনিয়োগ করুন।

একই বাক্সে সব ডিম রাখবেন না: আপনার বিনিয়োগ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে করতে পারেন। কারণ একই সাথে সবগুলোতে লাভ বা লস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

প্রতারক থেকে সতর্ক থাকুন: যদিও বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি গুলো লেনদেন অনেক নিরাপদে হয়, তাই নকল মুদ্রার সুযোগ নেই। কিন্তু অনেক প্রতারক নকল মার্কেটপ্লেস বানিয়ে আপনাকে ঠকাতে পারে। তাই কোথাও বিনিয়োগ করার আগে সেই বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে জেনে নিন।

সর্বোপরি স্রোতে গা ভাসিয়ে দিবেন না। করোনাকালীন সময়ে এত এত মানুষ ক্রিপ্টোকারেন্সি তে বিনিয়োগ শুরু করে যে, এর দাম ৬৮ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছে, যা একটা অস্বাভাবিক গ্রোথ। দ্রুতই মার্কেট হাইপ চলে যায়। তাই বর্তমানে এর দাম অর্ধেকেরও কম। তাই নিজে গবেষণা না করে , অন্যের উপর ভিত্তি করে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ করবেন।

কিভাবে বিটকয়েন কেনা যায়?

বিট কয়েন কেনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া:

ক্রিপ্টো কারেন্সি এক্সচেঞ্জ: ক্রিপ্টোকারেন্সি এর কেনা-বেচা ও ট্রেডের জন্য অনেকগুলো জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট আছে। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো: কয়েনবেস, বাইনান্স এবং ক্রকেন।

পিয়ার টু পিয়ার: এই বিটকয়েন ব্যবস্থায় সরাসরি দুইজন ইউজার বিটকয়েনের বিনিময় করতে পারেন। কোন পরিচিত বিশ্বস্ত ট্রেডার থাকলে তার কাছে সরাসরি বিটকয়েন কিনতে পারেন।

ওটিসি – ওভার দা কাউন্টার ট্রেডিং ডেস্ক: এই ব্যবস্থায় আপনি সরাসরি কোন ট্রেডার হতে বিটকয়েন কিনতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি হতে হবে।

কোন মাধ্যমে বিটকয়েন কেনাবেচা করবেন তার আগে সেই মাধ্যম সমন্ধে যথেষ্ট রিসার্স করুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন। কখনোই নতুন মার্কেটপ্লেসে নতুন ট্রেডার হিসেবে বিনিয়োগ করবেন না।

বিটকয়েন ট্রেডের ওয়েব সাইট

বিটকয়েন ট্রেডিং সেরা পাঁচটি ওয়েবসাইট:

১. বাইনান্স: বিশ্বে ও বাংলাদেশে বর্তমানে তুমুল জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটটি। বিটকয়েন ছাড়াও অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সী গুলিও এখানে এক্সচেঞ্জ করা যায়। অভিজ্ঞ ট্রেডারদের জন্য এটি অনেক এডভান্স ফিচার দিয়ে থাকে।

২. জেমিনি: নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে এটি একটি সেরা ওয়েবসাইট। ট্রেডিং সহজ বলে নতুনরাও অনেক সহজে ট্রেড করতে পারে।

৩. ক্রিপ্টো ডট কম: এই ওয়েবসাইটটি অনেকগুলি জনপ্রিয় ফিচার দিয়ে থাকে, যেমন: স্টেকিং, ইন্টারেস্ট একাউন্ট ও ক্রিপ্টো ক্রেডিট কার্ড। যারা ভালো প্রফেশনাল ট্রেডিং প্লাটফর্ম খুঁজছেন তাদের জন্য এটা সেরা ওয়েবসাইট।

৪. কয়েনবেস: বাইনান্সের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্বের অনেক দেশেই জনপ্রিয়তায় এক নম্বরে আছে। এটা নতুনদের জন্য খুবই সহজ ট্রেডিং প্যাকেজ দিয়ে থাকে।

৫. ক্রাকেন: নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তার জন্য অদ্বিতীয় বিটকয়েন ট্রেডিং ওয়েবসাইট। যারা নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত তারা নিশ্চিন্তে এখানে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এছাড়াও বিট ফিনেক্স, হুবি গ্লোবাল, কু কয়েন, ও পলেনিক্স অনেক জনপ্রিয় বিটকয়েন ট্রেডিং ওয়েবসাইট।

বিখ্যাত সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ ও ক্রিপ্টোগ্রাফার Nick Szcs বলেন ” ক্রিপ্টোকারেন্সি, মানব ইতিহাসে প্রথম সরকারবিহীন মুদ্রা ব্যবস্থা” । ভালো হোক খারাপ হোক ভবিষ্যতের ডিজিটাল পৃথিবী ক্রিপ্টো কারেন্সির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। আর এই বিকেন্দ্রীয় নিরাপদ মুদ্রা ব্যাবস্থার বরপুত্র রূপে আবির্ভাব হয়েছে বিটকয়েন।

আজকের আর্টিকেল টা যদি আপনাদের ভালো লেগে থেকে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন বন্ধুদের মাঝে। আর টেক দুনিয়ার সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন ড্রিমি মিডিয়া বিডি’তে। আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য, ধন্যবাদ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে, আরও লেখা পড়ুনঃ

Source: 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents