Dreamy Media BD

মাস্টার কার্ড কি? মাস্টার কার্ড কিভাবে করব?

মাস্টার কার্ড কি মাস্টার কার্ড কিভাবে করব

মাস্টার কার্ড কি? মাস্টার কার্ড কিভাবে করব?

মাস্টারকার্ড হলো একটি পেমেন্ট কোম্পানি। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এই প্রসেসর নেটওয়ার্কের মেম্বারশীপ অর্জন করার পর তারা তাদের কার্ডগুলো ইস্যু করার ক্ষমতা অর্জন করে। যেসব ব্যাংকগুলো এই নেটওয়ার্কের মেম্বারশিপ হয়ে কার্ড ইস্যু করে তাদের কার্ডে Mastercard Inc. এর লোগো দেওয়া থাকে। 

সুতরাং এই লোগো দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন এই কার্ডটি মাস্টার কার্ড এর আওতাধীন। বাংলাদেশে মোট তিনটি কোম্পানী রয়েছে যারা ব্যাংকের সাথে পার্টনারশিপ করে মাস্টার কার্ড এর সেবা প্রদান করে থাকে। তাদের নামগুলো হল: ভিসা, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং ডিসকভার।

 এই কার্ডের প্রধান সুবিধা হল এই কার্ড ব্যবহার করে আপনি পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে অনলাইনের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে পারবেন। বর্তমানে বাংলাদেশের তিন ধরনের মাস্টার কার্ড পাওয়া যায়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মাস্টার কার্ড কিভাবে করব এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাহলে শুরু করা যাক।

মাস্টার কার্ড কত প্রকার?

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় তিন ধরনের মাস্টার কার্ড পাওয়া যায়। এক এক ধরনের মাস্টার কার্ড এক ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে। একটি মাস্টার কার্ডের সেবার সাথে অন্য মাস্টার কার্ড এর সেবা মেলে না। দেখে নেই বাংলাদেশের মাস্টার কার্ড গুলো কি কি:

  • প্রিপেইড মাস্টার কার্ড,
  • ক্রেডিট মাস্টার কার্ড,
  • ডেবিট মাস্টার কার্ড।
প্রিপেইড মাস্টার কার্ড

প্রিপেইড মাস্টার কার্ড হলো এই কার্ডে আপনাকে প্রথমে টাকা ভরে নিতে হবে। তারপর আপনার ব্যালেন্স অনুযায়ী আপনি টাকা খরচ করতে পারবেন। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও আপনি এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। এটি প্রিপেইড মাস্টার কার্ড এর একটা সুবিধা বলা যেতে পারে।

ক্রেডিট মাস্টার কার্ড

এই কার্ডের বিশেষত্ব হল আপনি ক্রেডিট মাস্টার কার্ড এর মাধ্যমে ব্যবহারের পূর্বে লোন নিতে পারবেন। তবে মাত্রা কত হবে নির্ভর করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উপর। এবং আপনার ব্যাংক একাউন্টে যদি কোন টাকা না থাকে এই কার্ডের মাধ্যমে আপনি লেনদেন করতে পারবেন। তবে আপনি কতটুকু টাকা ব্যবহার করতে পারবেন তা নির্ধারিত নয়।

ডেবিট মাস্টার কার্ড

ডেবিট মাস্টার কার্ড হল এই কার্ডে আপনি ব্যবহারের পূর্বে পেমেন্ট করতে পারবেন না। তবে ব্যাংক এর সাথে কথা বলে আপনি সামান্য টাকা অগ্রিম পেমেন্ট করতে পারবেন। তবে ডেবিট মাস্টার কার্ড ব্যবহার করতে হলে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

 

তবে মাস্টার কার্ডের তিন ধরনের স্তর রয়েছে। সেগুলো হল: 

  • স্ট্যান্ডার্ড,
  • ওয়াল্ড,
  • এলিট।

মাস্টার কার্ড করার নিয়ম

মাস্টার কার্ড পাওয়া যেহেতু কোন সহজে বিষয় নয় তাই মাস্টার কার্ড পেতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই মাস্টার কার্ড পাওয়ার জন্য সঠিক পদ্ধতি জানা একান্ত প্রয়োজন। এ পর্যায়ে আমরা

মাস্টার কার্ড করার নিয়ম  সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন তাহলে শুরু করা যাক:

 

মাস্টার কার্ড করার জন্য আপনাকে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে। ডকুমেন্টগুলোর নাম হল:

  • জাতীয় পরিচয় পত্র,
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স,
  • পাসপোর্ট ( এক্ষেত্রে পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। বাইরের দেশের সঙ্গে অনলাইনে কেনাকাটা করতে হলে ডুয়েল কারেন্সি এর জন্য পাসপোর্ট দরকার হবে)।
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা রঙিন ছবি,
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টস এর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট,
  • বিদ্যুৎ বিলের কপি চাইলে প্রদান করতে হবে,
  • পেশার প্রমাণ পত্র,
  • মোবাইল নাম্বার এবং ইমেইল এড্রেস।

এই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো আপনার কাছে থাকলে তখন পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে। এই পর্যায়ে আপনাকে যা যা করতে হবে তা হল:

  1. আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ছয় মাসের বেশি হতে হবে।
  2. প্রতি মাসে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেন হতে হবে।
  3. আপনি অ্যাকাউন্ট থেকে যে পরিমাণ টাকা লোন করেন তার থেকে ব্যাংকের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বেশি হতে হবে।
  4. এই ধরনের শর্তগুলো পূরণ হলে আপনি ব্যাংকের কাছে মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারেন।
  5. ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন যাচাই বাছাই করার পর যোগ্যতা সম্পন্ন মনে হলে আপনি মাস্টার কার্ড হাতে পাবেন।

অনলাইনের মাধ্যমে মাস্টার কার্ড করার নিয়ম

অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি মাস্টার কার্ড বিতরণ করে থাকে। অনলাইনের মাধ্যমে এসব মাস্টার কার্ড নেওয়া যেতে পারে। তবে বর্তমানে অনলাইনে মাস্টার কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতারক দেখা যায়। যারা টাকা হাতিয়ে নিয়ে মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে যাচ্ছে।

 তাই অনলাইনের মাধ্যমে মাস্টার কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। কিছু কিছু কোম্পানির মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন থেকে মাস্টার কার্ড নিয়ে যেতে পারে। কোম্পানি গুলোর নাম হল:

  • PayPal
  • Payoneer
  • pyyal.

PayPal গ্রাহকরা সহজে খুব কম সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে ব্যাংকের কাছ থেকে মাস্টার কার্ড নিতে পারেন। বাকি কোম্পানিগুলোর কিছুটা শর্ত রয়েছে। সেগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা মাস্টার কার্ড বিতরণ করে না।

মাস্টার কার্ড চার্জ

বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৫৬টি ব্যাংক মাস্টার কার্ড সেবা এর আওতাধীন রয়েছে। এর মধ্যে মোট ১২ টি ব্যাংক প্রতিনিয়ত মাস্টার কার্ড এর সেবা নিচ্ছে। বাংলাদেশে ১৯৯৭ সাল থেকে মাস্টার কার্ড সেবা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে মাস্টার কার্ডের চার্জ অন্যান্য সংস্থা থেকে অনেক গুনে বেড়ে গেছে। 

অন্য কোম্পানিগুলোর কার্ড সরবরাহের জন্য প্রতিবছরে এক ডলার চার্জ করে থাকে। সে দিক দিয়ে মাস্টার কার্ড দুই ডলার প্রতিবছর চার্জ করে তাদের প্লাস্টিক কার্ডের জন্য। এক্ষেত্রে মাস্টার কার্ড প্রায় দ্বিগুণ টাকা প্রতি বছর চার্জ করছে। 

এক্ষেত্রে যদি কোন ব্যাংকের ১ লাখ ডলার  থাকলে তাহলে তাকে বছরে প্রায় ২ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয় মাস্টারকার্ডের জন্য। কিন্তু সেবার মানের দিকে দেখলে অন্যান্য কোম্পানির মত মাস্টারকার্ডের সেবার মান একই। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশে মাস্টার কার্ড তার সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চারটি ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের গড় খরচ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • আমেরিকান এক্সপ্রেস এর চার্জ হল ১.৫৮% থেকে ৩.৩%
  • ডিসকভার এর চার্জ হল ১.৫৩%থেকে ২.৫৩%

মাস্টার কার্ড এর সুবিধা

আমরা পূর্বেই বলেছি মাস্টার কার্ড সাধারণত তিন রকমের হয়ে থাকে। স্ট্যান্ডার্ড,ওয়ার্ল্ড, ওয়ার্ল্ড এলিট।

স্ট্যান্ডার্ড মাস্টার কার্ড এর সুবিধা গুলো হলো:

  • কোন কারনে কার্ড জালিয়াতি হয়ে থাকে তাহলে ব্যবহারকারীর কোন দায়বদ্ধতা থাকবে না।
  • স্ট্যান্ডার্ড মাস্টার কার্ড এর নিজস্ব গ্লোবাল হটলাইন নাম্বার রয়েছে। এই নাম্বারে ফোন দিয়ে বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকে সাহায্য চাইতে পারবেন।
  • আপনার আইডি যাতে চুরি না হয় সে ক্ষেত্রে তারা শতভাগ মনোযোগ দিবে।

ওয়ার্ল্ড মাস্টার কার্ড এর সুবিধা সমূহ:-

  • মাসিক ফোনের বিল ৬০০ ডলার পর্যন্ত কার্ডের মাধ্যমে পে করা যাবে।
  • এই কার্ডে রয়েছে নিজস্ব লাইফস্টাইল এবং ট্রাভেল সার্ভিস এক্সেস। 
  • ওয়ার্ল্ড মাস্টার কার্ডের রয়েছে নিজস্ব ট্রিপ প্ল্যানিং এসিস্ট্যান্স।
  • এই কার্ডের মাধ্যমে আপনি কম দামে হোটেল বুকিং করতে পারবেন।
  • এই কার্ড ব্যবহার করে আপনি বিলাস বাবুল হোটেল গুলো সুবিধা পাবেন এবং এয়ারপোর্টের বাড়তি সুবিধা গুলো উপভোগ করতে পারবেন।
  • বিভিন্ন পার্টনার সার্ভিস গুলোতে ডিসকাউন্ট পাবেন।

এলিট মাস্টার কার্ডের সুবিধা সমূহ:

  • উচ্চ সেলফোন ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম সুবিধা পাবেন।
  • বিভিন্ন টিকেট বুকিং এর কাজ ফোনের মাধ্যমে সম্পাদন করতে পারবেন।
  • এলিট মাস্টার কার্ড ব্যবহার করলে মুভির টিকেট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিসকাউন্ট পাবেন।

কোন ব্যাংকের মাস্টার কার্ড ভালো

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ইবিএল ব্যাংকের মাস্টার কার্ড বেশ ভালো। তবে আইএফআইসি ব্যাংকের মাস্টার কার্ড বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। তবে আপনি চাইলে ডাচ বাংলা ব্যাংক অথবা সিটি ব্যাংকের মাস্টার কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। তারাও যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তবে কিছু কিছু মানুষের অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাস্টার কার্ড অন্যান্য ব্যাংকের মতো এতটা সুবিধা জনক নয়। কারণ তাদের মাস্টার কার্ড ব্যবহার করলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিজস্ব পেমেন্ট গেটওয়ে ছাড়া অন্য কোথাও টাকা খরচ করা যায় না। তাই অনেকে ডান্স বাংলা ব্যাংকের মাস্টার কার্ডকে টাকার অপচয় বলে থাকে।

শেষ কথা

মাস্টার কার্ড নিঃসন্দেহে পেমেন্টের একটি ভালো মাধ্যম। কিন্তু কোন ব্যাংকের মাস্টার কার্ড ভালো এ কথা নির্দিষ্ট করে বলা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। কারণ এক এক ধরনের ব্যাংক এক এক  ধরনের সুবিধা প্রদান করে থাকে।

আবার কোন ব্যাংকের মাস্টার কার্ডের চার্জ বেশি আবার কোন ব্যাংকের কম। কিছু কিছু ব্যাংক মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে মাস্টার কার্ডের সুবিধা বেশি প্রদান করে থাকে। আবার কোন কোন ব্যাংক করে না। তাই মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নেওয়া উচিত।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা মাস্টার কার্ড কি? মাস্টার কার্ড কিভাবে করব? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। যারা মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন আশা করি আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে ।

 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents