Dreamy Media BD

লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

লবঙ্গ সকলের কাছে মসলা হিসেবে পরিচিত। এর ইংরেজি নাম Clove এবং এর বোটানিকাল নাম Syzygiumaromaticum। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এটিকে  লং বলেও ডাকা হয়।  এটিতে আছে  জীবাণুনাশক এবং ব্যাথা  নাশক বিভিন্ন গুণাগুণ। লবঙ্গে যে আছে ভিটামিন B-৬, B-১২, C,  K,  D,  A,  E, থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ইত্যাদি। এছাড়াও এতে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক ইত্যাদি। লবঙ্গে আছে বহু উপকারী গুণ। সেই আদিম যুগ থেকে বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসাবে লবঙ্গের ব্যবহার হয়ে আসছে। এবং কি এই আধুনিক যুগেও বিভিন্ন দেশে ঔষধ হিসেবে লবঙ্গের ব্যবহার দেখা যায়। লবঙ্গের আছে অনেক গুণাবলী যা বলে শেষ করার মতো না। আমরা অনেকেই এসব গুণাবলী সম্পর্কে জানিনা। তাই আজকের আর্টিকেলে লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাই চলুন দেরি না করে এখনই আর্টিকেলটি শুরু করা যাক:

লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা !

লবঙ্গের উপকারিতা

লবঙ্গ একটি মসলা হলেও এর বহু উপকারী গুণ রয়েছে। লবঙ্গ বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে। চলুন জেনে নেই লবঙ্গের উপকারিতা গুলো:

১)দাঁতের ব্যথা কমায়

লবঙ্গ দাঁতের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। লবঙ্গ মারের ক্ষয় নিরাময় করে। লবঙ্গ তে এমন কিছু আন্টি ইনফ্লমেটরী উপাদান আছে যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই বিক্রিয়া করে এবং নিমিষেই দাঁতের যন্ত্রণা কমিয়ে দেয়। প্রায় সকল ধরনের টুথপেস্ট এর কমন উপাদান হচ্ছে লবঙ্গ।

২) সাইনাস ইনফেকশনের  প্রকোপ কমায়: 

সাইনোসাইটিস রোগে লবঙ্গ বেশ উপকারী। সাইনোসাইটিসের রোগীদের চিকিৎসায় লবঙ্গ ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গে  ইগুইনাল নামে একটি উপাদান আছে যা সাইনাসের কষ্ট কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৩) বমি বমি ভাব দূর করে:

 ট্রেনে বা বাসে কোথাও যাত্রা করার সময় বমি বমি ভাব আসলে একটি লবঙ্গ মুখের মধ্যে রেখে লবঙ্গের রস চুষলে বমি বমি ভাব ও মাথাব্যথা দূর হয়ে যায়। গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমি বমি ভাব দূর করতে লবঙ্গ খেতে পারেন। লবঙ্গের সুগন্ধি বমি বমি ভাব দূর করে দেয়।

৪) সর্দি কাশি ও ঠান্ডা লাগা কমায়:

 বহু যুগ আগে থেকেই সর্দি-কাশির মহা ওষুধ হিসাবে লবঙ্গ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লবঙ্গ চিবিয়ে রস  খেলে বা লবঙ্গ মুখে রেখে চুষলে কফ, ঠান্ডা ,সর্দি, অ্যাজমা, গলা ফুলে ওঠা,রক্ত পিত্ত আর শ্বাসকষ্ট দূর হয়ে যায়।

৫) পেট ফাঁপা ও পেটের অসুখ দূর করে:

 পেট ফাঁপা রোগ নিরাময়ের লবঙ্গ বেশ কার্যকর। লবঙ্গ এনজাইম বৃদ্ধি করে বদহজম, খিদে না লাগা, পেটের গ্যাস ও বায়ু, পেট ব্যথা ,অযীর্ণ, ও কলেরা রোগের উপকার করে।

৬) মাথা ব্যাথা ও মাথা যন্ত্রণা কমায়:

 রোদ ধোয়া ও ঠান্ডার জন্য শ্লেম্মা বেড়ে নানা ধরনের মাথাব্যথা ও মাথার রোগ দেখা দেয়। এসব রোগ দূর করতে লবঙ্গ বেশ কার্যকর।

৭) যৌন রোগে উপকারী:

 লবঙ্গের সুবাস অবসাদ দূর করে শরীর ও মনের ক্লান্তি জড়িয়ে দেয় এবং যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।

৮) রক্ত পরিশোধন করে:

 লবঙ্গ শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান গুলো সরিয়ে রক্তকে পরিশোধন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৯) প্রচন্ড স্ট্রেস ও উৎকনটা কমায়:

 মেজাজ খারাপ থাকলে বা প্রচন্ড স্ট্রেসে থাকলে এক টুকরো লবঙ্গ মুখে ফেলে চুষে চুষে খেতে পারেন। অথবা লবঙ্গের চা ও খেতে পারেন এতে মেজাজ ফুরফুরা হয়ে উঠবে।

১০) পিপাসা রোগে উপকারী:

 যাদের বার বার পানি পান করতে হয় পিপাসা রোগী তারা সকালে ও বিকালে লবঙ্গ খেতে পারেন এতে বেশ উপকৃত হবেন।

১১) হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: 

লবঙ্গ হজমে সহায়তা করে এমন বিভিন্ন ধরনের এনজাইমিন নিঃসরণের মাধ্যমে এবং এসিড ক্ষরণের মাধ্যমে আমাদের হজম ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তোলে। লবঙ্গ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এরাফাটুলেন্স, ডিসপেপসিয়া এবং নোসিয়া কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও লবঙ্গ শরীরের রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটায়।

১২) খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে: 

বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে পেটের রোগ এবং জ্বরে ভোগার পর খাবারের অরুচি দেখা দেয়। কোন খাবারের প্রতি তখন রুচি হয় না সে ক্ষেত্রে লবঙ্গ চূর্ণ সকালে খালি পেটে দুপুরে খাবারের পরে খেলে খাবারের রুচি ফিরে আসে।

১৩)ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে: 

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, লং এর রস শরীরের ভিতরে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে ও কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, এবং রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শকর্রার মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে যায়। নিয়মিত লবঙ্গ খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।

১৪)আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমায়: 

লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, জয়েন্টপেইন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা, হাঁটুতে, পিঠে বা হাড়ের ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১৫)ত্বকের সংক্রমণ সারাতে সাহায্য করে:

 আসলে লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল অয়েল শরীরে উপস্থিত টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণুদেরও মেরে ফেলে। ফলে সংক্রমণ জনিত কষ্ট কমতে একেবারেই সময় লাগে না। ঘা পচড়া হতে পারবে না।

১৬)হাড় শক্ত করে:

 লবঙ্গে উপস্থিত ফেনোলিক কম্পাউন্ড-ইউজিনল এবং ইউজিনল ডেরিভাটিভস শরীরে প্রবেশ করার পর হাড়েরঘনত্ব উন্নতি ঘটে। এটি হাড়ের ভেতরের বিভিন্ন মিনারেলের ঘাটতিও পুরণ করে।যার ফলে হাড়ের সমস্যা জনিত যে কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। বয়স্ক মানুষদের নিয়মিত লবঙ্গ খেলে হাড়ের সমস্যা অনেকটা কমে যায়।

লবঙ্গের অপকারিতা

লবঙ্গের বহু উপকারিতা গুন থাকলেও এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। চলুন এগুলো সম্পর্কে জেনে নিই:

১) আপনার যদি এলার্জির প্রতিক্রিয়া থাকে যেমন কঠিন শ্বাসকষ্ট,আমবাত, আপনার মুখ, ঠোঁট, জিব্বা, ও গলা ফুলে যাওয়া তাহলে আপনার জন্য লবঙ্গ ব্যবহার না করাই ভালো। আর যদি তাও লবঙ্গ ব্যবহার করতে চান তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

২) লবঙ্গ ত্বকে ব্যবহারের পরে যদি আপনার ত্বক তীব্র জ্বালাপোড়া করে, ব্যথা ও ফোলা ভাব হয়, লালভাব হয় তবে আপনি লবঙ্গ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

৩) কিছু কিছু ক্ষেত্রে লবঙ্গ সিগারেটের ধোঁয়ার মত  অনিরাপদ। যারা শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত তারা লবঙ্গ ব্যবহার করবেন না এতে বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে।

৪) মুখের জ্বালা ,মাড়িতে ব্যথা, রক্তপাত বা মাড়ি ফুলে যাওয়া বা মুখের ভিতর যেকোনো পরিবর্তন হলে সাথে সাথে লবঙ্গ খাওয়া বন্ধ করুন।

৫) বেশি ব্যথা বা দুর্বলতা ,বাহু ও পায়ে অসারতা, শ্বাসকষ্ট ,পেটে ব্যথা, ঠান্ডা অনুভূতি, বমি বমি ভাব ও মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা থাকলে লবঙ্গ খাবেন না।

৬) অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

৭) অতিরিক্ত লবঙ্গ  খেলে একজন ব্যক্তির মাথা ঘোরা ও বমি বমি জনিত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে।

৮) যাদের এলার্জি সমস্যা আছে তারা যদি অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ খান তাহলে এলার্জি দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।

৯)অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ খাওয়া গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য  বিপদ ডেকে আনতে পারে।

সবশেষে

লবঙ্গ অনেক উপকারী গুণাগুণ সম্পন্ন। আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে লবঙ্গের ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই চেষ্টা করুন নিয়মিত দুই একটি লবঙ্গ খাওয়ার। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত পরিমাণে লবঙ্গ খাবেন না এতে উপকারের চাইতে ক্ষতি বেশি হবে। আশা করি আজকের এই আর্টিকেলটি থেকে লবঙ্গের উপকারী ও অপকারী দিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেয়েছেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Also Read : লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents