Dreamy Media BD

আর্টেমিস

আর্টেমিস

প্রিয় পাঠক আজকে আমরা জানবো গ্রিক চরিত্র আর্টেমিস সম্পর্কে।আর্টেমিস গ্রিক পুরাণের অরণ্যদেবী এবং বারো অলিম্পিয়ানদের অন্যতম। রোমান পুরাণে আর্টেমিসের প্রতিষঙ্গী চরিত্র ডায়ানা। অ্যাপোলো এবং আর্টেমিস যমজ ভাইবোন।গ্রিক পুরাণে আর্টেমিসকে চিরকাল অরণ্যচারী এবং চিরকুমারীরূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তার সহচরী বনপরীরাও তারই মতো চিরকুমারী। দেবতা এমনকি মানুষও কখনো আর্টেমিস এবং তার সহচরীদের ভালোবাসা পায়নি। কেবল কিছুকালের জন্য বিখ্যাত শিকারী ওরাইয়নের সঙ্গে আর্টেমিসের শখ্য গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওরাইন, অ্যাপোলোর চক্রান্তে আর্টেমিসের হাতেই নিহত হন।আর্টেমিস অতি অল্পতেই উত্তেজিত ও রাগান্বিত হন এবং তার বিরাগভাজনদেরকে কঠিনতম শাস্তি দেন। নাইওবীর সাত কন্যাকে তিনি হত্যা করেন এবং তার অভিশাপের কারণে তিনি অ্যাকটিয়ন মৃগের রূপ ধারণ করলে নিজের শিকারী কুকুরদের দ্বারা নিহত হন।আর্টেমিস, গ্রিক ও ট্রয়ের যুদ্ধে অ্যাপোলোর সাথে ট্রোজানপক্ষ অবলম্বন করলে হেরা কর্তৃক প্রহৃত হন এবং পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। নিচে আমরা আর্টেমিস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব –

বনদেবী আর্টেমিস

গ্রিক পুরাণের দেবীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান দেবী আর্টেমিস। প্রাক গ্রিক যুগ থেকেই সম্ভবত তার উপাসনা প্রচলিত ছিল। তিনি শিকারী দেবী ও বনদেবী হিসেবে পূজিত হতেন। তিনি ছিলেন কুমারীদের রক্ষাকর্ত্রী। পরবর্তীতে সন্তান প্রসবে সহায়ক দেবী হিসেবেও তার পূজা প্রচলিত হয়।

আর্টেমিস সংগীত ও আলোর দেবতা ফিবাস অ্যাপোলোর যমজ বোন। তিনি দেবরাজ জিউস ও টাইটান লেটোর কন্যা। হেরার শাপে প্রসব বেদনা নিয়ে ভূ-খণ্ডের সর্বত্র ঘুরে বেড়ানো লেটো ডেলোস দ্বীপে শেষ পর্যন্ত সন্তান প্রসব করেন। প্রথমে আর্টেমিস ভূমিষ্ঠ হন। তিনি মাকে সাহায্য করেন ভাই অ্যাপোলোর জন্মে। এ জন্য তিনি ধাত্রী দেবী হিসেবে পরিচিত কোনো কোনো সম্প্রদায়ের কাছে।

আরো পড়ুন – কক্সবাজার ভ্রমণ এবং এর দর্শনীয় স্থান

আর্টেমিস বনদেবী। তার প্রতীক হলো সোনালি তীর ধনুক, চাঁদ, হরিণ ও শিকারী কুকুর। এরা তার সঙ্গে থাকে সর্বদা। তার তূণীতে থাকে সোনালি ও রূপালি তীর। তার সঙ্গে আরও থাকে  বনপরীরা। শৈশবে তিনি জিউসের কাছ থেকে একাধিক বর পান।  তিনি প্রার্থনা করেন চিরকুমারীত্ব।  জিউস তাকে দেন তীরধনুক, হাঁটু পর্যন্ত লম্বা টিউনিক যা শিকারীদের পরিধেয়, শিকারের জুতা। ষাট জন বনপরী ছিলেন তার সহচরী। আর্টেমিসের তীর ধনুক বানানো হয় লিপারা দ্বীপে যেখানে দেবকারিগর হেফাস্টাস আর সাইক্লোপসরা কাজ করেন। তিনি বনদেবতা প্যানের কাছ থেকে সাতটি কুকুরী ও ছয়টি কুকুর পান। এরা দুর্দান্ত শিকারী। তিনি ছয়টি হরিণ ধরেন যাদের শিংগুলো রূপালি। এই হরিণরা তার রথ টেনে নিয়ে যায় অথবা তার সঙ্গে থাকে।

আর্টেমিস ছিলেন চিরকুমারী। তিনি এবং তার সহচরীরা কঠোরভাবে কুমারীত্ব রক্ষা করতেন। তবে শিকারী ওরিয়নের সঙ্গে তার প্রেম নিয়ে কয়েকটি পুরাণ আছে। একটি পুরাণে আছে ওরিয়ন ছিলেন আর্টেমিসের সহচর। দেবী তাকে ভালোবাসতেন। কিন্তু ঈর্ষানিত ভাই অ্যাপোলো বোনের কুমারীত্ব রক্ষার জন্য কৌশলে তাকে হত্যা করান। আরেক পুরাণে রয়েছে অ্যাপোলোর কৌশলে দেবী শিকার ভেবে ভুলক্রমে ওরিয়নকে হত্যা করেন। আরেক পুরাণে রয়েছে আর্টেমিস ও ওরিয়ন এক সঙ্গে শিকার করে বেড়াতেন। তারা বিপুল জীবজন্তু হত্যা করায় ধরিত্রী দেবী গেইয়া এক বিষাক্ত স্করপিয়ন বা কাঁকড়াবিছা পাঠান। বিছার দংশনে মৃত্যু হয় ওরিয়নের। জিউস তখন ওরিয়ন এবং বিছা দুজনকেই নক্ষত্রলোকে স্থান দেন।

রাজা ক্যাডমাসের নাতি এবং মৌমাছি দেবতা অ্যারিস্টিউসের ছেলে শিকারী অ্যাকটিয়নকে হত্যা করেন আর্টেমিস। এক পুরাণে রয়েছে অ্যাকটিয়ন নিজেকে দেবীর চেয়ে বড় শিকারী বলে অহংকার করায় তাকে হত্যা করেন আর্টেমিস। আরেক পুরাণে রয়েছে অ্যাকটিয়ন ছিলেন দেবীর সহচর। একবার স্নানরতা নগ্ন দেবীকে ইচ্ছাকৃতভাবে দেখায় বা তাকে কামনা করায় দেবী তাকে হত্যা করেন। আরেক কাহিনীতে রয়েছে অ্যাকটিয়ন ভুলবশত দেবীর স্নানের জায়গায় গিয়ে তাকে  স্নানরতা অবস্থায় দেখে ফেলেন। কারণ যাই হোক দেবী তাকে হরিণে পরিণত করেন। আর নিজের শিকারী কুকুরদের হাতেই নিহত হন অ্যাকটিয়ন।

আর্টেমিস

আর্টিমিস ও আলোইদা দানবদের পুরাণও বিখ্যাত। দানব আলেউসের দুই ছেলেকে বলা হয় আলোইদা দানব। ভবিষ্যতবাণী ছিল যে তারা শুধুমাত্র পরষ্পরের হাতেই নিহত হবে। তারা হেরা ও আর্টিমিসকে পাওয়ার জন্য  স্বর্গ দখল করতে যায়। দেবতারা যুদ্ধে কোণঠাসা হয়ে পড়লে আর্টেমিসকে দিয়ে দানবদের কাছে সন্ধির প্রস্তাব পাঠান। আর্টেমিস তাদের নাক্সোস দ্বীপে আসতে বলেন। আর্টেমিস যখন তাদের সামনে আবির্ভুত হন তখন তার রূপে বিমোহিত হয়ে তাকে পাওয়ার জন্য  যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং পরষ্পরের হাতে নিহত হয় আলোইদা ভ্রাতৃদ্বয়। গ্রিক পুরাণের এই কাহিনির সঙ্গে ভারতীয় পুরাণের সুন্দ-উপসুন্দের কাহিনির মিল রয়েছে।

থিবিসের রাজা অ্যাম্ফিয়নের স্ত্রী নাইওবির ছিল সাত পুত্র ও সাত কন্যা। নাইওবি অহংকার করে বলেন যে তিনি লেটোর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কারণ তার মাত্র এক পুত্র-কন্যা।  এই অপমানে ক্রুদ্ধ অ্যাপোলো সাত পুত্রকে এবং আর্টেমিস সাত কন্যাকে মতান্তরে ছয়পুত্রকন্যাকে হত্যা করেন। শোকে মৃত্যুবরণ করেন অ্যাম্ফিয়ন। আর শোকগ্রস্ত নাইওবি ও তার অবশিষ্ট পুত্র কন্যাকে আর্টেমিস পাথরে পরিণত করেন।

আর্কেডিয়ার রাজকন্যা ক্যালিস্টো ছিলেন আর্টেমিসের সহচরী। অন্য সহচরীদের মতো তাকেও চিরকুমারীত্বের শপথ নিতে হয়। পরে জিউস আর্টেমিস বা অ্যাপোলোর ছদ্মবেশে তার সঙ্গে প্রণয় সম্পর্ক স্থাপন করলে তিনি আর্কাস নামে এক পুত্রের জন্ম দেন। ক্রুদ্ধ আর্টেমিস বা হেরা অথবা দুজনেই ক্যালিস্টোকে মেয়ে ভালুকে পরিণত করেন। আর্কাস বড় হয়ে শিকারী হয়। একদিন একটি মন্দিরের প্রাঙ্গনে ক্যালিস্টো ভালুকের বেশে ঘোরাফেরা করে। তখন তাকে দেখতে পেয়ে শিকারের উদ্যোগ নিলে জিউস তাকেও ভালুকে পরিণত করে মা সন্তান দুজনকেই নক্ষত্র লোকে স্থান দেন।

ট্রয় অভিযানে গ্রিক বাহিনী আর্টেমিসের প্রিয় বন্যপ্রাণী এক খরগোসকে শাবকসহ হত্যা করে। ফলে ক্রুদ্ধ আর্টেমিস অনুকূল বায়ুপ্রবাহ বন্ধ করে দেন এবং আগামেমননের কন্যা ইফিজিনিয়াকে বলি হিসেবে চান। ইফিজিনিয়াকে বলি দেওয়ার সময় আর্টেমিস তাকে উঠিয়ে নিয়ে যান এবং পরবর্তিতে নিজের পুরোহিতানি নিযুক্ত করেন। অন্য কাহিনিতে আছে আগামেমনন আর্টেমিসের একটি পবিত্র হরিণকে এক তীরে হত্যা করেন এবং গর্ব করে বলেন যে দেবীর চাইতেও বড় শিকারী তিনি। এই ঘটনায় ক্রদ্ধ আর্টেমিস গ্রিক বাহিনির গতি রুদ্ধ করে দেন।

ট্রয় যুদ্ধে তিনি ভাই অ্যাপোলোর মতোই ট্রোজান পক্ষে ছিলেন। হেরা তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে ভীষণ আঘাত করেছিলেন।

আর্টেমিসকে নিয়ে অনেক কাহিনি প্রচলিত আছে। আর্টেমিস সহজেই ক্রুদ্ধ হন। খামখেয়ালী তবে হিংস্র নন। কিন্তু কখনও কখনও ভীষণ নিষ্ঠুর। তিনি খুবই সুন্দরী। অরণ্যচারী। নারীদের প্রতি বিশেষ করে কুমারীদের প্রতি সদয়। শিকারীদের প্রতিও তিনি সদয়। থিসিউসপুত্র হিপ্পোলাইটাস ছিল তার প্রিয়পাত্র।

আর্টেমিস নারীদের রোগের উপশম করতেন। স্পার্টা, ডেলোসসহ গ্রিসের বিভিন্ন স্থানে তিনি পূজিত হতেন কল্যাণময়ী সদয় দেবী হিসেবে। আর্টেমিসকে অনেক সময় চন্দ্রদেবীও বলা হয়ে থাকে। কোন কোন স্থানে আর্টেমিসকে চন্দ্রদেবী এবং তার ভাই অ্যাপোলোকে সূর্যদেব হিসেবে পূজা করা হতো। তবে অধিকাংশ পুরাণকারের আর্টেমিস চন্দ্রদেবী নন, বরং স্বতন্ত্র বনদেবী।

দেবী আর্টেমিস ও আটলান্টা

অনেক অনেক দিন আগের কথা। আর্কেডিয়া রাজ্যটি আইয়াসুস নামে একজন রাজা শাসন করতেন। রাজা আইয়াসুস-এর স্ত্রীর নাম ছিল ক্লাইমেনে। যা হোক। রাজার বড় পুত্রসন্তানের শখ ছিল। তথাপি একটি কন্যাশিশু জন্মাল। রাজাকে প্রগাঢ় হতাশা গ্রাস করে। ক্রোধান্বিত রাজা অনুচরদের নির্দেশ দিলেন: যাঃ, ওটাকে আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে ফেলে আয়। ওটাকে নেকড়েরা খেয়ে ফেলুক! (রাজা আইয়াসুস এবং এবং উপকথার রচয়িতাগন পুরুষ। কাজেই তারা এমন নির্মম সিদ্ধান্ত নিতেই পারে । তবে রানী ক্লাইমেনের এতে সম্মতি ছিল কি?) … যা হোক। দেবী আর্টেমিস দূর থেকে সবই দেখছিলেন। তিনি একটি মা-ভালুক পাঠালেন আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে । তারই দুধ খেয়ে বাঁচল শিশুটি। প্রচন্ড শীতে পেল রোমশ উষ্ণতা। আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে ঘুরে বেড়ায় দক্ষ ব্যাধের দল। তাদের মাঝেই বেড়ে উঠতে লাগল শিশুকন্যাটি। তারা শিশুকন্যার নাম রাখল আটালান্টা। কিংবা নাম দেবী আর্টেমিসও রাখতে পারেন।কুমারী আটালান্টা দেবী আর্টেমিস এর মতোই দক্ষ শিকারী হয়ে উঠল।

আর্টেমিস

আটালান্টার সৌন্দর্য ও সাহস দেখে ব্যাধেরা অবাক। দ্রুত দৌড়াতে পারে আটালান্টা। যে কাউকে হারাতে পারে লড়াইয়ে । বিখ্যাত সব বীরদেরও হারিয়েছে। এমন কী ট্রয়যুদ্ধের গ্রিকবীর আকিলিস- এর বাবা পেলাসকেও। centaurs হল গ্রিক উপকথার অশ্বমানব। দুটি অশ্বমানব আটালান্টা কে ধর্ষন করতে উদ্যত হলে তাদের হত্যা করেছিল। মেষচর্মের জন্যে গ্রিক বীর জেসন-এর অভিযানের কথা আমরা জানি । এদের সঙ্গে আটালান্টা ছিল। আবার অনেকের মতে নারী বলে যেসন তাকে অভিযানের জন্য সঙ্গে নিয়ে যায়নি।

আজীবন কুমারী থাকবার ব্রত ছিল আটালান্টার।এর কি কারণ?মা ভালুকের দুগ্ধ পান করা অরণ্যচারী ব্যাতিক্রমী শৈশব?

আটালান্টা কালিদোনিয় শূকর শিকারে অংশ নিয়ে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। কালিদোনিয় রাজা অনিউস একবার দেবী আর্টেমিস-এর উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। আর্টেমিস প্রতিশোধ নিতে কালিদোনিয়ায় বিশাল এক শূকর পাঠালেন । শূকরটি কালিদোনিয় ফসলের ক্ষেত আঙুরের ক্ষেত তছনছ করল। মানুষ প্রাণভয়ে নগরে আশ্রয় নিল। ফসলের অভাবে তারা ক্ষুধার্ত রইল। রাজা অনিউস উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন। রাজা অনিউস ছেলে মেলিয়াজার। রাজা মেলিয়াজার কে শূকর হত্যা করতে নির্দেশ দিলেন । মেলিয়াজার বলল, আমার সঙ্গে কয়েকজন বীর শিকারী দিন। তৎকালীন সেরা শিকারীরা মেলিয়াজার এর সঙ্গে যোগ দিল। তাদের সঙ্গে আটালান্টাও ছিল। মেলিয়াজার দেখামাত্রই আটালান্টার প্রেমে পড়ে গেল। শিকার শুরু হলে আটালান্টা প্রথমেই শূকরটিকে তীর ছুড়ে আহত রক্তাক্ত করে। এতে দলের পুরুষ শিকারী যেমন বিস্মিত হল তেমনি লজ্জ্বাও পেল। যা হোক। শেষ পর্যন্ত মেলিয়াজার শূকরটিকে হত্যা করতে সমর্থ হয়। এতে অন্যান্য পুরুষ শিকারীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। আটালান্টাই প্রথম শূকরের রক্ত ঝরিয়েছে বলে নিজের পুরস্কারটি মেলিয়াজার ভালোবেসে আটালান্টাকে দিল। এতে মেলিয়াজার- এর দুই মাতুলসহ পুরুষ শিকারীরা প্রচন্ড ক্রোধান্বিত হয়ে উঠল। মেলিয়াজার- এর দুই মাতুল আটালান্টাকে রূঢ়ভাবে আঘাত করে। মেলিয়াজার তাদের হত্যা করে। ভাইয়ের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেলিয়াজার- এর মা মেলিয়াজার কে হত্যা করে!দেবী আর্টেমিস এভাবে প্রতিশোধ নিলেন!

আর্কেডিয়া রাজ্যের রাজা আইয়াসুস তার বিখ্যাত কন্যাকে অগ্রাহ্য করতে পারলেন না। অথচ একদিন তিনিই বলেছিলেন, যাঃ, ওটাকে আর্কেডিয়ার অরণ্যপ্রান্তরে ফেলে আয়। ওটাকে নেকড়েরা খেয়ে ফেলুক! যা হোক। আটালান্টা আর্কেডিয়ার রাজবাড়িতে ফিরে এল। মাবাবার সান্নিধ্যে দিন কাটতে লাগল তার। এবার ঘটল এক বিচিত্র ঘটনা। রাজা আইয়াসুস মেয়ের বিবাহ দেবেন। ওদিকে আজীবন কুমারী থাকবার ব্রত ছিল আটালান্টার। কিন্তু রাজা আইয়াসুস তার সিদ্ধান্তে অনঢ়। পরে অবশ্য আটালান্টা বিয়ে করতে রাজি হল। তবে দুটো শর্ত আছে।

কি শর্ত?যে আমাকে দৌড় প্রতিযোগিতায় পরাজিত করতে পারবে তাকেই আমি বিয়ে করব.বেশ। আর?দৌড় প্রতিযোগিতায় যে হেরে যাবে তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হবে ।ঠিক আছে।গ্রিসের অনেক বীর দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এল।সবাই তারা হেরে গেল।সেই সঙ্গে জীবন দিল।

তখনকার দিনে হিপপোমেনেস নামে গ্রিসে এক সাহসী বীর ছিল। সে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এ বিষয়ে দেবী আর্টেমিসের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। দেবী আর্টেমিস হিপপোমেনেস কে সাহায্য করবেন বলে আশ্বাস দিলেন। দেবী আর্টেমিস হিপপোমেনেস কে তিনটি সোনালী আপেল দিলেন। তারপর বললেন, দৌড়ানোর সময় তুমি পথের ওপর একটা একটা করে আপেল ছুড়ে ফেলবে। পথে সোনালী আপেল দেখে আটালান্টা না থেমে পারবে না। সেই ফাঁকে তুমি দৌড়ে শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাবে।

আপনি যা বলবেন, আমি তাইই করব। বলল হিপপোমেনেস।

প্রতিযোগিতার শুরুতে আটালান্টা হিপপোমেনেস কে তেমন পাত্তা দেয়নি। যা হোক। দৌড় শুরু হল। হিপপোমেনেস একটা একটা করে আপেল ছুড়ে মারল ; পথে সোনালী আপেল দেখে আটালান্টা না থেমে পারল না।

সমাপ্ত রেখায় পৌঁছানোর পূর্বে শেষ আপেল ছুড়ে মারল হিপপোমেনেস।সেটিও কুড়িয়ে নিতে আটালান্টার দেরি হয়ে গেল।দৌড় প্রতিযোগিতায় হিপপোমেনেস বিজয়ী হল।হিপপোমেনেস এবং আটালান্টার বিয়ে হল।

বিয়ের পর তাদের জীবন সুখেই কাটতে লাগলো। কিন্তু সত্যিকারের সুখ বলতে আটলান্টার ক্ষেত্রে যা বুঝার, কে তেমনটি কিন্ত হল না। কেন? বলছি। হিপপোমেনেস যত বড় বীর হোক- তার স্মরণশক্তি দূর্বল ছিল। সে দেবী আর্টেমিস-এর অবদান বেমালুম ভুলে গেল। দেবী ক্রোধান্বিত হয়ে উঠলেন। তিনি প্রতিশোধ নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। হিপপোমেনেস এবং আটালান্টা যখন দেবতা জিউস এর উপাসনালয়ে প্রার্থনা করছিল। তৎকালীন বিশ্বাস অনুযায়ী সিংহ কেবলি চিতাবাঘের সঙ্গে মিলিত হতে পারত। কাজেই বাকি জীবন হিপপোমেনেস এবং আটালান্টা পৃথকই রইল!

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents