Dreamy Media BD

মারমা আদিবাসী

মারমা 

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী মারমা। পার্বত্য চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বাস করে মারমা নৃগোষ্ঠী। মার্মারা নিজেদেরকে রাখাইন হিসেবে দাবি করে এবং কিছু দল নিজেদের মগ হিসাবেও ডাকে। তারা সমতল এবং পার্বত্য উভয় অঞ্চলে বসবাস করে আসছে।

জনসংখ্যা

বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায়, ভারত ও মিয়ানমারে মারমাদের মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। এদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামেই রয়েছে প্রায় পৌনে দুই লাখ ।

মামাদের বসবাস

মারমা বাংলাদেশের একটি উপজাতি ও বৃহৎ জাতিসত্ত্বা। তিন পার্বত্য জেলায় তাদের বসবাস দেখা গেলেও মূল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস বান্দরবানে।

মারমাদের পেশা

কৃষি মারমাদের প্রধান পেশা হিসেবে স্বীকৃত। ঝুম চাষ হচ্ছে তাদের প্রাথমিক কৃষিকাজ।  মারমাদের জীবিকা নির্বাহ মূলত ঝুম চাষ এর মাধ্যমে করে থাকে। এই জুম চাষের জন্য তারা প্রথমে পাহাড়ের  বন পরিষ্কার করে। খড় সমূহকে শুকিয়ে পরে জমি চাষের আগে পুড়িয়ে দেয়। এটি তাদের খাদ্য এবং জীবিকা নির্বাহের মূল উৎস।

তারা পাহাড়ি বন থেকে গাছের পাতা এবং শিকড় সংগ্রহ করে। কাপড় বুনা মারমা মহিলাদের একটি সাধারণ কাজ। তারা আগে বাজারমুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের  জন্য প্রস্তুত ছিল না। ঝুম উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় তারা এখন ফল ও সবজি চাষ করছে এবং পোল্ট্রি পালন ও কুটির শিল্প করছে। তবে মারমাদের মূল পেশা হল কৃষিকাজ। এগুলি ছাড়াও তারা কাপড় বুনা, লবণ সংগ্রহ এবং গুড় তৈরি করে থাকে। কৃষিকাজে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই অংশগ্রহণ করে। মারমা মহিলারা বিশেষ করে গবাদিপশু ও হাঁস -মুরগি পালন করে।

আরো পড়ুন – দুবলার চরের রাস মেলা উৎসব

মারমা ভাষা

মারমাদের নিজস্ব উপভাষা রয়েছে, যা বার্মিজ এবং আরাকানদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে শহরাঞ্চলে এবং নিকটবর্তী এলাকাতে মারমারা চট্টোগ্রামের স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। তাদের সংখ্যা, দিন, মাস এবং বছরগুলির নাম বার্মিজ ও আরাকানীদের মতো।

মারমা ধর্ম

মারমারা থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী। পালি ভাষায় রচিত ত্রিপিটক হল মারমাদের পবিত্র গ্রন্থ। ধর্মীয় বিষয়ে তারা দুটি দলে বিভক্ত। একটি সন্ন্যাসী সম্প্রদায় এবং অপরটি লাইটি। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা ব্রহ্মচর্য বজায় রেখে হলুদ রঙের পোশাক পরে এবং মন্দিরে থাকে। অন্য অংশ স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনদের সাথে পারিবারিক জীবনযাপন করে।

মারমা সমপ্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করেন যে, তাদের জন্ম, মৃত্যু, পুনর্জন্ম এবং জীবনের সমস্ত কার্যকলাপ একটি অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রভাবে ঘটে থাকে।

মারমা দেবতার নাম কি

প্রধান দেবতা হলো ’সূর্য’ দেবতা। মারমাদের পাহাড়ের দেবতা হলো ‘মারাংমুরো’ এবং গৃহদেবতার নাম ‘বোঞ্চার’। তাদের মধ্যে অনেকে প্রকৃতি পূজা করে। তাছাড়াও তারা অন্ধবিশ্বাস, যাদু এবং অতিপ্রাকৃত শক্তির প্রতি বিশ্বাস রাখে।

ছবি : আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম

মারমা বিবাহ

মারমা সমাজে বিবাহের অনুষ্ঠানটি শুরু হয় “লাকপাই-পোই” বা বিবাহের প্রস্তুতিমূলক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এই অনুষ্ঠানটি মূলত আয়োজন করা হয় আত্নীয়স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীদের জানানোর জন্য। উভয়পক্ষের সম্মতিতে ও সামাজিক রীতি অনুসারে পাত্রের পিতা-মাতা বা বন্ধু-বান্ধব কয়েকজন বয়বৃদ্ধ প্রথাগতভাবে ব্যবহার্য উপকরণ নিয়ে কনের বাড়িতে যায়। এইসকল উপকরণের ভিতরে থাকে− বোতল মদ, ২৫ টি সুপারী, ১ বিড়া পান, বিন্নি ভাত, মিষ্টি, আখ ও ১ জোড়া নারিকেল। কনের বাড়িতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কনের মা-বাবার কাছে তাদের মেয়ের বিবাহের প্রস্তাব করা হয়। মা-বাবার সম্মতির পর মেয়ের মতামত নেয়া হয়। মেয়ের মতামত পাওয়ার পর পাত্রীপক্ষ অনুরূপ আর এক বোতল মদ পাত্র পক্ষকে প্রদান করে। এরপর জ্যোতিষ ডেকে রাশিফল ও বিয়ের দিন ক্ষণ ও তারিখ ঠিক করা হয়। সবকিছু শুভ লক্ষণযুক্ত হলে পাত্রপক্ষ একটি থামী (মেয়েদের কাপড়), রূপা বা স্বর্ণের একটি আংটি দিয়ে পাত্রীকে আশীর্বাদ করেন।

বিয়ের ২দিন আগে পাত্রের বাবা বা অভিভাবক নিজ বাড়িতে গৃহ দেবতা উদ্দ্যেশ্য (চুং মং লে) পুজার আয়োজন করে। পূজাতে দেবতার উদ্দেশ্যে ১টি শুকর. পাঁচটি মুরগী বলি দেয়া হয়। বিয়ের তারিখ ধার্য্য হলে পাত্রপক্ষ থেকে পাত্রীপক্ষের বাড়িতে ১টি মোরগসহ বিয়ের নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়। বিয়ের দিন সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুসারের পাত্রের বাড়ি প্রবেশ দ্বারে ২টি কচি কলা গাছ, সাদা সুতা দিয়ে পেচানো ২ টি পানি ভর্তি কলস (রিজাংও) ও সিফাইক্‌ও রাখে। বউ আনতে যাওয়ার সময় সিদ্ধ মোরগ, মদ তৈরি হওয়ার পূর্বে ভাত,পানি মুলির সংমিশ্রণ ১ বোতল মদ ,১ টি থামি (মেয়েদের নিম্নাংশের পরিধেয় কাপড়) ও ১ টি বেদাই আংগি (উর্ধাঙ্গের পোষাক) সহ নানা উপকরণ নিয়ে যাওয়া হয়। বিয়ের দিন সিদ্ধ মোরগটিকে প্রয়োজনীয় উপকরণ মিশিয়ে বর-কনের জন্য একটি পাত্রে পরিবেশন করে। বিবাহ অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষু দ্বারা পঞশীল গ্রহণ , মঙ্গল সূত্র পাঠ ও পিণ্ড দানসহ নানা রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়। অবশেষে, বিবাহের “লাক্‌ ছং চা-চ” অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। এরপর থেকে তারা সমাজে স্বামী -স্ত্রী রূপে স্বীকৃতি লাভ করে।

মারমা চাষাবাদ

মারমারা খুবই পরিশ্রমী। কৃষিই মারমা উপজাতিদের প্রধান পেশা। এরা জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে। জুম চাষ পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত এক ধরনের কৃষিপদ্ধতি। ‘জুম চাষ’ বিশেষ শব্দে ‘ঝুম চাষ’ নামেও পরিচিত। এটি এক ধরনের স্থানান্তরিত কৃষিপদ্ধতি যা পৌষ-মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালের জঙ্গল কেটে কয়েক মাস তা রোদে শুকানো হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে শুকনো জঙ্গলগুলো পুড়িয়ে জুম চাষের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে বিভিন্ন ফসলের বীজ বপন করা হয়।

খাদ্য আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ে আঠালো ভাতের সঙ্গে ‘নাপ্পি’ (শুটকি) খাওয়া হয়। কখনো কখনো তাদের আহারে ভাতের সঙ্গে ‘লাসৌ’ও (বিভিন্ন মিশ্রণের ভর্তা) থাকে। এছাড়া তারা বিন্নি চালের সঙ্গে নারিকেল ও চিনি যোগ করে স্যুপের মতো আঠালো করে এক প্রকার খাদ্য খেতেও পছন্দ করে। ‘সাংগ্রাই’ উত্সবে মারমারা বিভিন্নি সবজি ও শুটকি দিয়ে ‘হাংরো’ তৈরি করে, যা তাদের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার। মারমাদের অন্যতম পছন্দের আরেকটি খাবার হচ্ছে কচি বাঁশ সিদ্ধ, যা সবজি হিসেবে ব্যবহূত হয়। স্থানীয়ভাবে এটি বাঁশকড়ল নামে পরিচিত। মারমারা বিকেলের নাস্তায় ‘মুন্ডি’র আয়োজন করে। মুন্ডি দেখতে অনেকটা নুডলসের মতো, যার ওপরে গরম পানি ও শুটকির গুড়ো দিয়ে পরিবেশন করা হয়।

মারমা চাষাবাদ

মারমা সমাজ ব্যবস্থা

মারমা সমাজ ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। তবে পুরুষদের মতো মেয়েরাও পৈতৃক সম্পত্তির সমান উত্তরাধিকারিণী হয়। ঐহিত্যগত মারমা সমাজ ব্যবস্থাপনাকে গ্রাম, মোজা ও সার্কেল তিন পর্যায়ে ভাগ করে পরিচালনা করা হয়। গ্রাম পরিচালনায় প্রধান হচ্ছেন “কার্বারী”। মোজা পর্যায়ে “হেডমেন” এবং সার্কেল প্রধান হচ্ছে রাজা বা মাং। বতর্মানে মারমাদের দুটি সার্কেল বিদ্যমান। খাগড়াছড়িতে মং সার্কেল ও বান্দরবানে বোমাং সার্কেল। বোমাং সার্কেলের প্রথম রাজা ছিলেন মংচপ্রু । তার পিতার নাম রাজা নাইদা বায়িন। এদের বসবাস ছিল মায়ানমারের পেগু নামক স্থানে।

জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এ  ৩ টি অধ্যায়কে মারমারা নিজেদের সামাজিক রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজসিদ্ধ (আবদ্ধ) করেছে। মারমা সমাজের বিভিন্ন গোত্র ও উপ -গোত্রের মধ্যে রীতিনীতি, আচার- অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যতিক্রম ও সূক্ষ্ম তারতম্য রয়েছে। রীতিনীতি অনুসরণ ও আচার- অনুষ্ঠান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে মারমা সমাজে ।

মারমা সমাজ নিজেদের মগ বলে পরিচয় দিতে অস্বীকার করে। তাদের মতে মগ বলে কোন জাতি নেই। এটা অন্য জাতির খেতাব বলে যানা যায়। মারমাদের গায়ের রং ফর্সা এবং পায়ের গোড়ালি বড়। বার্মিজদের সাথে তাদের চেহারার মিল রয়েছে। মারমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বি। গৌতম বুদ্ধের অনুশাসনই তাদের ধর্মের মূল মন্ত্র। এছাড়া প্রকৃতি পূজারিতেও মারমারা বিশ্বাসী। মারমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান, বুদ্ধ পূর্ণিমা, সাংগ্রাই অন্যতম। মারমাদের মধ্যের গোত্র বিভাগ রয়েছে। গোত্রগুলো সাধারণত পূর্ব পুরুষদেরও বাস স্থানের নামে প্রচলিত। প্রাচীন কাল থেকেই মারমারা পাহাড়ের গায়ে জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

বর্তমানে মারমাদের শিক্ষিতের হার অনেক। তাদের অনেকেই উচ্চ শিক্ষা লাভ করে দেশ বিদেশে চাকরি করছেন। মারমারা ব্যবসা বাণিজ্যেও জড়িত। তবে পুরুষের চেয়ে মেয়েরা বেশি কর্মঠ। চাষ বাস ছাড়াও সংসারের প্রায় কাজ মেয়েদের উপর ন্যস্ত। মারমা সমাজে পুরুষরা অনেকটাই অ-প্রধান। তবে মারমা সম্প্রদায় পিতৃ প্রধান সমাজের মানুষ। মেয়েরা চাষ বাস ছাড়াও কাপড় বুনন ও চুরুট তৈরিতে বেশ পটু। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়েও মারমারা কাপড় এবং চুরুট বাইরে রফতানি করতে পারে। তবে মেয়ে পুরুষ উভয়ই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ভালোবাসে। তবে মেয়েরাই বেশি সাজগোজ পছন্দ করে। মেয়েরা চুলের খোপায় নানা রকমের ফুল ব্যবহার করে। এছাড়া মেয়েরা ও পুরুষ উভয়ে লুঙ্গি ব্যবহার করেন। মেয়েদের পরনের লুঙ্গিগুলো থামিই বলে। মেয়েরা ফুল হাতা ব্লাউজ গায়ে দেয়। এ গুলোকে তারা এনিজ্যি বলে ।পুরুষরা মাথায় পাগড়ি হিসেবে গৌং বৌং  ব্যবহার করেন। মেয়েরা বিচিত্র রকমের পুতির মালা বা কড়ির মালাও ব্যবহার করে।

মারমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

মারমাদের অর্থনীতির ভিত্তি হচ্ছে কষি। তাদের মধ্যে জুটান ও কৃষিকাজ উভয় ধরণের কর্ম প্রচলিত আছে। তারা পাহাড়ী অঞ্চলে জুমচাষ এবং সমতল ভূমিতে সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে। তারা পান, তরি-তরকারি, পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি উৎপাদন করে। এ ছাড়াও তারা কাপড়,নকশা করা শাল ও চুরুট তৈরি করে থাকে।

মারমা পরিবার ব্যবস্থা

মারমা সমাজে পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা প্রচলিত। সন্তানের পরিচিতি, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তির মালিকানা পিতার সূত্রে নির্ণীত হয়। তবে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায়। সেখানে বড় ছেলে সাধারণত সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকে। তবে পিতা ইচ্ছে করলে ছেলেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিতে পারেন। এতে বড় ছেলে পাবে সম্পত্তির অর্ধেক। মেজো ছেলে পাবে এক চতুর্থাংশ এবং বাকী এক চতুর্থাংশ সম্পত্তি অন্যান্য সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে। মেয়েরা কোনাে সম্পত্তি পায়না, তবে ছেলে না থাকলে মেয়েরা সম্পত্তি পাবে।

মারমা প্রধান উৎসব

মারমাদের উৎসব সাগ্রায় নামে পরিচিত। মারমারা পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে সাংগ্রাই উৎসব পালন করে। তারা পহেলা বৈশাখের দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে। নানা ধরনের মুখরোচক খাবারের আয়োজন করে মারমা সমপ্রদায়।

পহেলা বৈশাখে নতুন নতুন পোশাক পরে একে অন্যের বাড়িতে যায় এবং কুশল বিনিময় করে। সেদিন নারীপুরুষ সম্মিলিতভাবে নাচ আর গানে মেতে উঠে। মারমাদের এ দিনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে জলকেলি অনুষ্ঠান বা পানি খেলা। মারমাদের ভাষায় জল অনুষ্ঠানকে বলা হয় রিলংপোয়ে।

বাড়ির আঙিনায় আগে থেকে পানি খেলার জন্য প্যান্ডেল তৈরি করা থাকে। মারমা যুবকরা বাদ্য আর গানের তালে এসে উপস্থিত হয় অনুষ্ঠানস্থলে। সেখানে ফুলে সজ্জিত প্যান্ডেলের ভিতরে পানি নিয়ে অপেক্ষায় থাকে তরুণীরা। যুবক যুবতীরা একে অপরের প্রতি জল ছিটানো থাকে। তারা পানিকে পবিত্রতার প্রতীক ধরে। মারমা মেয়েরা পানি ছড়িয়ে নিজেদেরকে শুদ্ধ করে নেয়।

মারমাদের ইতিহাস

বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামে মারমা ষোলশ শতাব্দীর দিকে অভিবাসন শুরু হলেও মূল অভিবাসন শুরু হয় আরাকান সম্রাট মাংখামাং কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৬ তম ভাইসরয় মংচপ্রু (মংচপ্যাইং) এর আমলে। কথায় আছে, ১৫৯৯ খ্রীষ্টাব্দে আরাকান সম্রাট মাংরাজাগ্রী বোগোহ্ (পেগু) সম্রাট নাইদাব্রাং এর রাজ্য হাইসাওয়াদী পতন ঘটিয়ে সম্রাটের রাজকণ্যা খাইমাহ্নাং ও তার রাজপুত্র মংচপ্রু এবং পেগু রাজ্যের বাসিন্দাসহ তেত্রিশ  হাজার পরাজিত সৈন্যকে ম্রাকউ রাজ্যে নিয়ে এসে কালাদাং নামক স্থানে পুনর্বাসিত করা হয়।

পরবর্তীতে সম্রাট মাংরাজাগ্রী রাজকুমারী খাইমাহ্নাংকে বিয়ে করেন। রাজকুমার মংচপ্রু যৌবনে পদার্পন করলে নিজ মেয়ের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করান। আরাকান সম্রাট মাংরাজাগ্রী ১৬১২ সালে  মৃত্যুবরন করলে সেই স্থলে রাজকুমার মাংখামাং অভিষিক্ত হন। পরবর্তীতে ১৬১৪ সালে সম্রাট মাংখামাং(সম্বন্ধী) কর্তৃক মংচপ্যাইং পার্বত্য অঞ্চলের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং পার্বত্য অঞ্চলে আগমনের সময় সেই হাইসাওয়াদী রাজ্য থেকে আসা কালাদাং নামক স্থানে পুনর্বাসিত আত্মীয়সজনসহ আগ্রহী সৈন্যদেরকে পাবর্ত্য অঞ্চলে নিয়ে আসা হয়। এই অভিবাসন প্রক্রিয়াটি সেই ষোলশ শতাব্দী থেকে আঠারোশ শতাব্দী পর্যন্ত ধারাবাহিকতা ছিল। এপার থেকে ওপার অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে মায়ানমায় এই অভিবাসন প্রক্রিয়া এখনো বর্তমান।

 

 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents