Dreamy Media BD

 সিকিম এর দর্শনীয় স্থান 

 সিকিম এর দর্শনীয় স্থান 

উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি জনপ্রিয় স্থান হচ্ছে সিকিম,উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য।  পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের একটি অংশ সিকিম।  তিব্বতি সংস্কৃতির এক অসাধারণ দারুন জায়গা এই সিকিম। সিকিমের আয়তন প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার। এবং মোট জনসংখ্যার পরিমান প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। 

সিকিমের রাজধানীর শহর গ্যাংটক।  সিকিমকে ঘিরে ভারতের উত্তর পূর্বে অবস্থিত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, ভুটান, ও তিব্বত।  

সিকিম ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অবধি  ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল।  তারপরে ১৯৭৫ সালে গণভোটের মাধ্যমে সিকিম ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। 

১৯৭৫ সালের ১৬ই মে রাজা রাজাদের দ্বারা শাসিত একটি স্বাধীন দেশ। ১৭শ শতকে বৌদ্ধ রাজা সিকিম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সিকিম সর্বাপেক্ষা কম জনবহুল এবং আয়তনের দ্বিগুণ ক্ষুদ্রতম।  সিকিমে অবস্থিত কাঞ্চনজঙ্ঘা ভারতের সর্বোচ্চ পর্বত শিখর। 

আর পৃথিবীতে তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শিখর। প্রকৃতির আকর্ষণ কোন অংশে কম নয় বরং আপনাকে আরও দ্বিগুণ আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সিকিমে রয়েছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। আপ্লাইন এবং উপক্রান্তীয় জলবায়ু সহ এবং এর জীববৈচিত্রের জন্য রয়েছে উল্লেখযোগ্য।  

এখানকার আশ্চর্য রকম একটি রীতি হচ্ছে, চাষাবাদে কীটনাশক ব্যবহার করলে তার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।  সিকিমকে ভারতের প্রথম রাসায়নিক মুক্তরাজ্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের ঢাকা থেকে বিমানে করে দিল্লি পৌঁছাতে পারেন।  

অথবা আপনি বাস হানিফে করেও যেতে পারেন, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের বাংলোবান্দা, বাংলোবান্ধায় বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন শেষ হলে ভারতের বর্ডারের ইমিগ্রেশন শেষ করে ফুলবাড়ি বাস স্ট্যান্ড যাবেন। ফুলবাড়ি থেকে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়িতে অফিস গিয়ে সিকিম ভ্রমণের অনুমতি নিতে হবে।  শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যেতে প্রায় ৬ ঘন্টা সময় লাগবে, এর দূরত্ব প্রায় ১১৪ কিলোমিটার। 

সিকিমের চারিপাশের জায়গা, উত্তর, পূর্ব, দক্ষিণ পশ্চিম সবটাই দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পড়ে।  এ জায়গার  জঙ্গল, চাষীদের চাষাবাদ, গ্রাম, পাহাড় সবকিছুই মনোমুগ্ধকর উপভোগ করার মত দৃশ্য।  সেরকমই অবাক করা অপূর্ব কয়েকটি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে আসি, 

১.গ্যাংটক

পূর্ব হিমালয় পর্বত শ্রেণীর শিবালিক পর্বতে ১৪৩৭ মিটার উচ্চতায় গ্যাংটকের অবস্থান।  গ্যাংটকে মাত্র ৩০ হাজারের মতো লোক বাস করে।  সিকিম থেকে গ্যাংটকের দূরত্ব প্রায় ৭৪.৭ কি.মি ।  শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্তপ্রিয় পরিবেশ বলে শেষ করা যাবেনা এতোটা অসম্ভব সুন্দর।  

গ্রীষ্মকালে আসলে আপনি তুষারে ঢাকা শিকড় গুলোকে কাছাকাছি দেখতে পাবেন,হাইকিং। গ্যাংটকে ভ্রমণে আসার জন্য আপনার উপযুক্ত সময় হচ্ছে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়।  আপনার চোখে আকর্ষণীয়তা অনুভব করানোর জন্য এখানে অনেক জায়গা রয়েছে। 

যেমন বন্যপ্রাণী, স্নো লেক, কেবল কার, মঠ, হ্রদ, অপূর্ব সব জঙ্গল এবং আরো অনেক কিছু যা আপনি আসলে দেখতে পাবেন। গ্যাংটকের কয়েকটি মঠের মধ্যে একটিতে সন্ন্যাসীদের সাথে শান্ত সময় উপভোগ করতে একদম দ্বিধাবোধ করবেন না।  এখানে আপনি প্যারাগ্লাইডিং এবং রেফটিং  এর মতো ক্রিয়াকলাপে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারেন। 

গ্যাংটকে সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকার পাশাপাশি রয়েছে কাঞ্চনজঙ্গার কিছু শাসরুদ্ধকর দৃশ্য । সিকিমের ক্যাপিটাল এবং গ্রীষ্মের সময় দেখার জন্য সবচেয়ে বড় গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে গ্যাংটক।  এখানে কিছুটা অবাক করা একটা কথা হচ্ছে, ছবি তোলার জন্য ঐতিহ্যবাহী পোশাক ভাড়া পাওয়া যায়, ৫০ রুপি করে। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
সিকিম থেকে গ্যাংটক এর দূরত্ব প্রায় ৭৪.৭ কিলোমিটার। সিকিমের পশ্চিমবঙ্গের পাকিয়ং গ্রামের পাকিয়ং  বিমানবন্দরে বিমানে যেতে পারবেন। সেখান থেকে বাস বা ট্যাক্সির মাধ্যমে গ্যাংটক এ পৌঁছাতে পারবেন।
নাথুলা পাস
নাথুলা পাস

২.নাথুলা পাস

গ্রীষ্মকাল নাথুলা পাস তুষার আচ্ছাদিত পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্য প্রদান করে থাকে।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্তৃত অরণ্যে কিছুটা সময় নিজেকে বিলিয়ে দিতে অবশ্যই নাথুলা পাসে আসবেন।  এর উচ্চতা প্রায় ১৪,১৫০ ফুট। 

এটা প্রাচীর সিল্ক রুটের অংশ ছিল।  তার কাছেই হচ্ছে আমাদের পাশের দেশ, ভারত চীনের সীমানা। এটি ভারতীয় সামরিক বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সুরক্ষিত একটি অঞ্চল।  সিল্ক রুট যা তিব্বত ও ভারতকে সংযুক্ত করে, পূর্বে বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করা হতো। 

নাথুলা পাসের সারা বছরই দর্শনীয় কারণ আপনার চারপাশে সর্বোত্তই বরফের চাদরে ঢাকা থাকে।  শুধুমাত্র ভারতীয়দের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে নাথুলা পাসে, এটাই এর সেরা বৈশিষ্ট্য।  কারণ এখনো সেখানে ভারতীয় ও চীনা সেনা মোতায়েন রয়েছে। 

নাথুলা পাসে ভ্রমণের জন্য একটা ভালো সময় হচ্ছে মার্চ থেকে জুন মাসে আসতে পারেন। নাথুলা পাসে প্রবেশের জন্য অনুমতি নিতে হবে। ভারত-চীন সীমান্ত, মাউন্টেন চোমোলহারি, ওয়ার মেমোরিয়াল, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রদর্শনীয় কেন্দ্র, ইয়াক সাফারি এই জায়গাগুলো ভ্রমণ বা পর্যবেক্ষণ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে নাথুলা পাসে আসতে হবে। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
সিকিমের গ্যাংটক থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাথুলাপাস। ট্যাক্সি বা সিএনজি করে অথবা আপনি নিজে ড্রাইভ করে গ্যাংটক থেকে নাথুলাপাসে পৌঁছাতে পারবেন। 

৩. নামচি

নামচি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার উপলব্ধ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নামচি এবং তার আশেপাশে দর্শনীয় জায়গা গুলো দেখতে গোটা একটা দিন চলে যাবে। বিস্তীর্ণ  সবুজ উপত্যকার সুন্দরী এক দৃশ্য নামচি জায়গাটি। এখানে ১৩৫ ফুট উঁচু গুরু পদ্মসম্ভবের মূর্তিটি সত্যিই অসাধারণ। 

বিস্তৃত সবুজের বুকে পাহাড়ের মাথায় বিশাল চত্বর জুড়ে জগন্নাথ ধাম, বদ্রিনাথ ধাম দ্বারকা এবং রামেশ্বর ধাম রয়েছে। এগুলো শুধু তাক লাগানোর মত দৃশ্য। নামচিতে গিয়ে আপনি অবশ্যই এই দর্শনীয় স্থানগুলো না দেখে আসবেন না সাঁই মন্দির, চারধাম, সামদরুপস, টেমি চা বাগান, বোরং মনাস্ট্রি, রাবাংলা বৌদ্ধ পার্ক। 

তাছাড়া আরো আছে এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ৮৭ ফুট উঁচু মহাদেবের প্রতিমা। পার্কের যেকোনো জায়গা থেকেই মহাদেবকে দেখা যায়। এবং নামচি শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সোলোফোকে ১০৮ ফুট উচ্চ শিব মূর্তি সহ রেপ্লিকারুপি চারধাম।

নামচি সম্পর্কে সবচেয়ে সুন্দর জিনিস এটি এর কপি বিক্রি করে ৪টি প্রধান হিন্দু মন্দির।  গ্রীষ্মকালে যদি আপনি দক্ষিণ সিকিম ভ্রমনে যান তবে নামচির মনোরম পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধ্যাত্মিকতা উপভোগ করুন। আপনার ভ্রমণের জন্য সর্বোত্তম সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
দক্ষিণ সিকিমের সদর শহর হলো নামচি। সিকিম থেকে ৭৭.৯ কিলোমিটার দূরত্ব এবং জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে নামচির দূরত্ব  প্রায় ১০০ কিলোমিটার। জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে যেতে পারবেন নামচি, ভাড়া পড়বে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মতো। আবার শিলিগুড়ি এসএনটি স্ট্যান্ড থেকে জিপ শেয়ার করে যেতে পারেন নামচি, ভাড়া পড়বে জন প্রতি ১৫০ টাকার মতো। 
টেমি চা বাগান
টেমি চা বাগান

৪.টেমি চা বাগান

১৯৬২ সালে সিকিম সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত চা বাগান হচ্ছে টেমি চা বাগান।  এই চা বাগানটি দক্ষিণ সিকিমের টেমিতে অবস্থিত।  বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই চা বাগানটি ভারতের সিকিমের একমাত্র চা বাগান।  অনেক ভালো এবং মানসম্মত শীর্ষ সম্মানের চা উৎপাদিত হয় টেমি চা বাগানে। 

পাহাড়ের ঢালের উপর স্থাপিত এই বাগানটি, বাণিজ্যিকভাবে পরিচিত উৎপাদিত এই টেমি চা। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজে ঘেরা, ঢেউ খেলানো চা গাছের সারি, দেখেই আপনার মনে হবে যেন স্বর্গের কিছু ছোঁয়া এখানে এসে মিশ্রিত হয়েছে।  স্বচ্ছ নীল আকাশের নিচে, এরকম সবুজে ঘেরা প্রকৃতির ছোঁয়া আপনার মনকে প্রফুল্ল করে দিবে। 

দেশের সেরা ফ্লেভার্ড  জায়গাগুলোর মধ্যে টেমি চা হচ্ছে অন্যতম একটি।  একদিকে পাহাড়ির ঢালে সবুজে ঘেরা বিস্তৃত চা বাগান, আর অন্য দিকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সেই দৃশ্য সাথে কোকিল কন্ঠে পাখির গান, নিস্তব্ধ শান্ত পরিবেশ । আহা, কতইনা স্মৃতি বিজড়িত সেই সময়। 

২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয় জৈব চা উৎপাদন প্রকল্প। জৈব সার  চা চাষ করে এগ্রো কেমিক্যাল গুলো এড়ানো যায়।  এতে করে উৎপাদন খরচ অনেক কমে যায়।  জাপান ও ইউরোপীয় দেশগুলি জৈব সার পদ্ধতি ব্যবহার করে চা উৎপাদনের জন্য অগ্রাধিকার দেখাচ্ছে। 

টেমি  চা বাগানের আশেপাশে আরো কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে, রক গার্ডেন, নামচি রোপওয়ে, নামচি চারধাম, মনাস্ট্রি, রাবাংলা বৌদ্ধ পার্ক ইত্যাদি। টেমি চা বাগানে গেলে, আশেপাশের এই জায়গা গুলোও দিনে দিনে ঘুরে ফিরে ভ্রমণ করতে পারবেন। টেমি চা বাগানে ঢোকার মুখে সিকিম গভর্নমেন্টের একটি ছোট্ট স্টল রয়েছে।  

এখানে কিছুটা সময় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বাইরের,চোখ জুড়ানো দৃশ্য  বাইরের মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ দেখতে পাবেন। পরপর দুই বছর ধরে ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালের টেমি চা বাগানকে ভারতবর্ষের চা বোর্ড অল ইন্ডিয়া কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। 

কলকাতার নিলাম কেন্দ্রের নিলামে সর্বোচ্চ দর অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।  রপ্তানির সম্ভাবনা তো ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে, এবং টেমির তহবিলটি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করছে।  সিকিমের ইন্ডাস্ট্রিজ ডিপার্টমেন্ট তাদের চা উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিকিমে আরো চা বাগান প্রতিষ্ঠা করার জন্য। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
শিলিগুড়ি থেকে টেমি চা বাগানের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার এবং নামচি থেকে চা বাগানের দূরত্ব প্রায় ১৮ কি.মি।  চার ঘন্টার মত সময় লাগবে পৌঁছাতে। শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি রিজার্ভ  করে টেমি চা বাগানে এসে পৌঁছাতে পারবেন, ভাড়া পড়বে ৩৫০০ থেকে ৪৫০০ এর মতো,তবে সিজন অনুযায়ী ভাড়া একটু কম বেশি হতে পারে। আবার শিলিগুড়ির বাস স্ট্যান্ড থেকে শেয়ার গাড়ি করে নামচি এসে সেখান থেকে টেমি  চা বাগানে যেতে পারেন,এতে ভাড়া পড়বে জন প্রতি ২০০ টাকার মতো। 

৫.বোরং

হাঁটি হাঁটি পা পা করে গ্রামীন প্রকৃতিকে উপভোগ করা ছাড়াও এখানে সিলভার ফলসের শুভ্র উচ্ছল টলমলে জলের খেলা, ঝুলন্ত ব্রিজের নিস্তব্ধ সবুজ মায়াবী রূপ, নদীর ধারের শান্ত বাতাস আপনার গায়ে মেখে মনের প্রশান্তি খুঁজে পাবেন।  পাশেই এলাচ চাষ রয়েছে তা উপভোগ করবেন না, তা তো হয় না! 

ফ্যামটম গ্রামে বড় এলাচের চাষ দেখার সাথে সাথে অপূর্ব স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।  এটাই শেষ নয়, কাছেই রোলিং মোনাস্ট্রি।  এই বিখ্যাত মোনাস্ট্রির বৌদ্ধমূর্তিটি দুষ্প্রাপ্য বেশ কিছু অসাধারণ পেইন্টিং শিল্পকলার সাক্ষ্য বহন করে।  চতুর্থ চোগ্যালের সফল তীর্থ যাত্রার স্মৃতিতে এটি তৈরি করা হয়েছিল তিব্বতের উদ্দেশ্যে। 

অনেক সন্ন্যাসীকে এখানে বৌদ্ধ ধর্মের দীক্ষা দেওয়া হয়, প্রায় শখানেক সন্ন্যাসী হবে। অসাধারণ এই সবুজ প্রকৃতির বুকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা সহ রয়েছে হরিন,শৃগাল,সান বার্ড, হামিংবার্ড,  ফ্লাই ক্যাচার, পাহাড়ি বাবুই, কাঠ ঠোকরা, থ্রাশ বার্ড, কোকিল সহ নানান জাতের পাখির আনাগোনা। রংবেরঙের পাখিদের স্বর্গরাজ্য এই বোরং।

প্রকৃতির মায়াবী ছোয়া পাওয়া ছাড়াও যারা একটু অ্যাডভেঞ্চার স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য রয়েছে নানা ট্রেকিং রুট।  এখানে ২০০৩ সালে একটি হ্যান্ড মেড পেপার ফ্যাক্টরিও চালু হয়।  আপনি নিজেকে যদি নিজে খুজে পেতে যান তো অবশ্যই বোরং এ আসবেন। 

বোরং ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময় রয়েছে, অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস।  কারন তখন গেলে বর্ষার ঠিক পরেই  প্রকৃতির বুকে সবুজ বোরং এর দেখা মিলবে।  নভেম্বরের মাঝামাঝি গেলে টেমি চা বাগানের সৌন্দর্য এবং চেরী ফুলের শুভাস ছড়ায়। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
সিকিমের রাবাংলা থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে বোরং গ্রামটি অবস্থিত। সিকিমের রাবাংলা থেকে একদিনেই বোরং ঘুরে আসা যায়,খুব একটা দূর নয়। আবার শিলিগুড়ি থেকে আসলে ৫ থেকে ৬ ঘন্টার রাস্তা।  

৬.কেউজিং

শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে, সবুজে শ্যামলে ঘেরা ছোট্ট একটি গ্রাম কেউজিং। যারা রাবাংলা ঘুরতে আসেন তারা অবশ্যই একবার হলেও কেউজিং গ্রামে ঘুরতে আসবেন। গ্রামের প্রতিটা কোনায় কোনায় রয়েছে, সবুজ গাছের বাগান, গাছপতি হরেক রকমের পাখি, সাথে কিচিরমিচির  শব্দ। 

পুকুর ভরা মাছ, পানিতে মাছের থৈ থৈ শব্দ। জমিতে কৃষকের হাতে গরুর লাঙ্গল। হালকা বাতাসের ঢেউ খেলছে ধানের গোছা গুলো। ভাবতে পারছেন গ্রামটা কেমন! সত্যিই অসাধারণ, মনোমুগ্ধকর একটা পরিবেশ। এখানে না আসলে আপনি এত সুন্দর একটা জায়গা মিস করে ফেলবেন। 

অন্য আর চার পাঁচটা ছোট্ট নিরিবিলি পাহাড়ি জনপদের মতোই কেউজিং গ্রামটি। গ্রামটির সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায় যখন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে, ঘুম ঘুম চোখে বরফ মোড়া মাউন্ট নরসিংকে দেখতে পাবেন, আপনার ঘরের জানালা দিয়ে রাশি রাশি মেঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউজিং এর  আশেপাশে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। 

রালোং মনাাস্ট্রি, বন মনাস্ট্রি,  নামচি চারধাম, এইসব জায়গাগুলো দিনে দিনে গাড়ি করে ঘুরে আসতে পারবেন।  মৌনাম ট্রেক ও দারুন এক জায়গা। আপনি যদি ট্রাই করতে ভালোবাসেন, তবে অবশ্যই এ ট্রেকটি করতে পারেন। সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতির সৃষ্টি হবে। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
সিকিমের রাবাংলা থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রয়েছে কেউজিং গ্রাম। গ্রামটি সাউথ সিকিমের অন্তর্গত।  এনজিপি স্টেশন থেকে এখানে যেতে সময় লাগবে ৪ ঘন্টা।  দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার।  জিপ বা প্রাইভেট কার করেও যেতে পারবে, ভাড়া পড়বে প্রায় ৪ হাজার টাকার মতো  

৭. পেলিং

ওয়েস্ট সিকিমের খুব পরিচিত স্থান হিল স্টেশন। যার উচ্চতা ৬৭০০ ফুট। আপার,মিডল ও লোয়ার এই ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে পেলিংকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পেলিং এর এই ছোট্ট স্থানটি। এর আশেপাশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে  নানা সৌন্দর্যের সুন্দরতম স্থান গুলি। 

কমলালেবুর বাগান, নদী, ঝর্ণা, পাহাড়ের বুকে বয়ে চলা লেক, প্রাচীন বৌদ্ধ মনাস্ট্রি, অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর বিখ্যাত ব্রিজ, উপত্যকা এই সবই হচ্ছে পেলিং এর অন্যতম আকর্ষণ। পেলিং এর আরেকটি নামকরা ঝরনা ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস ‘। পেলিং থেকে এই প্রপাতের দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার। 

পেলিং এ খুবই অপরূপ  আরো একটি স্থান হচ্ছে, খেচিপেরি লেক। লেকের গেট থেকে দশ মিনিট হাঁটলেই  পৌঁছে যাবেন খেচিপেরি লেকে। এই খেচিপেরি লেককে স্থানীয়রা অনেকে ইচ্ছা পূরণের লেকও বলে থাকেন।  স্থানীয় লোকদের কাছে খুবই পবিত্র এই লেকটি। জঙ্গলের মধ্যে পাহাড় ঘেরা বিশাল লেক।

এবং আশ্চর্য রকম আরেকটি কথা হচ্ছে, লেকের চারপাশে প্রচুর গাছপালা থাকার পরও, লেকের জলে কোন পাতা পড়ে না। মূলত এজন্য স্থানীয়রা এই লেককে সাধারণ কোনো লেক হিসেবে মনে করেন না। এর পাশেই গড়ে উঠেছে বিশাল মনাস্ট্রি,বৌদ্ধ ধর্মের কনভেনশন সেন্টার। 

পেলিং দেখে ৩ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ে অবস্থিত সিকিমের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বৌদ্ধ গুম্ফা পেমিয়াংশি মনাস্ট্রি। ১৭০৫ সালে এটি নির্মিত হয়। কিছুটা খাড়াই রাস্তা হেঁটে উঠতে হবে। তিব্বতি কারুকাজময় তিনতলার এই বিশাল মনাস্ট্রিতে রয়েছে একটা মিউজিয়াম। 

এর ভিতরে রয়েছে রিনপোচের এর মূর্তি। মিউজিয়ামে আরো রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের নানা গ্রন্থ, চিত্র, প্রাচীনকালের মূর্তি, নানান তিব্বতি ভাস্কর্য ও নথি সমূহ।  মূল উপাসনা গৃহটি নিচে মনাস্ট্রির সামনের দিকে।  সারিবদ্ধ ভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করছেন লাল কাপড়ের জড়ানো বৌদ্ধ লামারা।

পেলিং এ পৌঁছানোর পর আপনি আরো অনেক দর্শনীয় স্থান দেখতে পাবেন, ছাঙ্গে জলপ্রপাত, রক গার্ডেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত, সিকিমের সবচেয়ে পুরনো মনাস্ট্রি সাজ্ঞাচুলিং,চেনরেজিগ ট্যুরিজম পার্ক, স্কাই ওয়ার্ক, রিম্বিক জলপ্রপাত সিকিমে এসে পেলিং এর এই স্থানগুলো উপভোগ না করে চলে যাবেন, তা তো হয় না। 

তবে বর্ষার সময় না সেই ভালো, তখন পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। গ্রীষ্মকালে এবং পূজার পরে পেলিং এ পর্যটকদের আনাগোনা একটু বেশি থাকে। ৩০০ বছরের পুরোনো পেমায়াংতসে মনাস্ট্রি এর স্থাপত্য শৈলী পর্যটকদের বেশ আকর্ষণ করে থাকে।

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
পশ্চিম সিকিমের মধ্যেই একটি ছোট শহর পেলিং, আবার হিল স্টেশন নামেও পরিচিত এই পেলিং। যা গ্যাংটক থেকে ১১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শিলিগুড়ি থেকে রিজার্ভ গাড়ি করে ৫ ঘন্টায় পৌঁছে যেতে পারবেন পেলিং এ।  রিজার্ভ  গাড়ির ভাড়া পড়বে ২০০০ রুপিয়ার মতো,তবে সিজন অনুযায়ী ভাড়া কিছু কম বেশি হতে পারে। 

আবার,গ্যাংটক থেকে সরাসরি পেলিং যাওয়া যায়। তবে সময় কিছুটা বেশি লাগবে,তাই ভালো হবে আপনি পেলিং ঘুরে যাওয়ার পথে গ্যাংটক যাবেন। 

Sikkim৮.বিচু

উত্তর সিকিমের ছোট একটি অপূর্ব গ্রাম বিচু। যার উচ্চতা প্রায় ৮৬০০ ফিট। বিচুতে মূলত লেপচা এবং ভুটিয়াদের বসবাস। লাচুং যাওয়ার পথে পর্যটকদের নজর কাড়বে এই অমায়িক সৌন্দর্যে ভরপুর বিচু গ্রামটি। গ্রামটা খুব একটা বড় নয়।

যার ফলে এখানে কোনো হোমস্টে বা হোটেল জাতীয় কিছু নেই বললেই চলে।  এই স্পটটি হিমালয়ান ট্রাভেলারদের কাছে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। বরফে আবৃত করা উঁচু পর্বত শ্রেণি দিয়ে মোরা শীতল পরিবেশে, সবুজ প্রকৃতির মাঝে অপরুপ শোভায় নিজেকে হারিয়ে ফেলতে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন বিচুতে।

তবে গ্যাংটক থেকে যাত্রা শুরু করে বিচু পৌঁছাতে আপনার সন্ধ্যা হয়ে যাবে। এই রাস্তার ধারে ছোট বড় অনেক পাহাড়ি ঝর্ণার ছল ছল আওয়াজে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। তবে বর্ষার সময় এখানে না যাওয়াই ভালো।  বর্ষাকালে বৃষ্টিতে এখানে ল্যান্ডস্লাইড হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

বিচুর প্রকৃতির রূপ অসাধারণ, শান্ত, নির্জন, নিরিবিলি পরিবেশ। মনে হয় যেন, ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে পালিয়ে এখানে এসে বসে থাকি,এতোটা শান্ত পরিবেশ বিচুর। গ্রামের যেদিকেই তাকাবেন শুধু বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ দেখা যাবে।

বিচু থেকে কিছু দূরেই লাচুং গ্রাম অবস্থিত। যা পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি জায়গা।  বিচু উত্তর সিকিমে অবস্থিত হওয়ার কারনে গ্যাংটক থেকে পারমিশন নিয়ে বিচু পৌঁছাতে পারেন। বিচু থেকে আপনি আরো কয়েকটি জায়গা ভ্রমণ করতে পারেন,মাউন্ট কাটাও, ইউমথাং ভ্যালি, জিরো পয়েন্ট, মানখিম মন্দির প্রভৃতি।

বিচুতে ভ্রমণের পারফেক্ট সময় হচ্ছে, অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস এবং মার্চ থেকে মে মাস। এই সময় গুলো বিচু ভ্রমনের জন্য খুবই ভালো সময়। আবার ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী এই সময়টা কিছুটা বিপদজনক, কারন অতিরিক্ত ঠান্ডা ও তুষারপাতের জন্য ল্যান্ডস্লাইডের আশঙ্কা থাকে বেশি। এই সময়টা ভ্রমণ না করাটাই ভালো হবে। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
গ্যাংটক থেকে বিচুর দূরত্ব প্রায় ১১০ কিলোমিটার। এবং জলপাইগুড়ি থেকে ১৮৫ কিলোমিটার দূরত্ব। সিকিমের গ্যাংটক থেকে গাড়িতে বা বাসে করে ৫ থেকে ৭ ঘন্টার মতো সময় লাগবে বিচুতে পৌঁছাতে।  গাড়ি ভাড়া ৪ হাজারের মতো লাগতে পারে।

৯.লাচুং 

নর্থ সিকিমের একটি গ্রাম লাচুং। যার উচ্চতা, ৯৬০০ ফিট।  গ্যাংটক থেকে লাচুং পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সবুজে ঘেরা প্রকৃতির অপরূপ শোভা।  লাচুং নামের এই পাহাড়ি গ্রামটি প্রকৃতির বুকে ছবির মত সেজে বসে আছে। 

এই পাহাড়ি গ্রামের জনবসতি খুবই কম।  পাহাড়ের গায়ে সবুজে ঘেরা নিঝুম বনভূমিতে লাচুং। এখানের আশেপাশে শুধু পাইন, ফার আর ধুপি গাছের সারি। রয়েছে নানা প্রজাতির রডোডেনড্রন। তার পাশেই বয়ে চলেছে বিশাল তিস্তা, নিরব মনে আনমনে চলাচলে ব্যস্ত তিস্তার জল।

এই তিস্তা নদীরই শাখা-প্রশাখায় রয়েছে নানা স্মৃতি বিজড়িত কল্পকাহিনী। লাচুং এরপরেই আপনি যাত্রা শুরু করতে পারবেন ইয়ুমথাং ভ্যালির দিকে। লাচুং থেকে ইয়ুমথাং এর দূরত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। শীতকালে পুরোপুরি ঢেকে যায় বরফের চাদরে ইউমথাং উপত্যকা। 

উপত্যকা শুরুতেই দেখতে পাবেন একটি উষ্ণ প্রসবন। ইউমথাং এর পরেই শিব মন্দির পেরিয়ে পৌঁছে যান জিরো পয়েন্টের দিকে।  ইউমথাং থেকে জিরো পয়েন্টের দূরত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার।  এটা চীন সীমান্তে কাছাকাছি থাকার কারণে এই পর্যন্ত আসার জন্য সাধারণ পর্যটকদের অনুমতি মেলে। 

লাচুং ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময় এপ্রিল থেকে মে মাস। ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারস ইউমথাং উপত্যকা ভরে থাকে বিভিন্ন রংঙ্গের ফুলে। ফুল গুলো শোভা ছড়াচ্ছে আর দেখতে অপরুপ সৌন্দর্যে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বছরের বাকী সময়টা সবুজে ভরপুর থাকে জায়গাটি।

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
সিকিমের অন্তর্গত তিব্বতিয়ান বর্ডারের  কাছে অবস্থিত লাচুং গ্রাম। সিকিমের গ্যাংটক থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১১০ কিলোমিটার। সিকিমের গ্যাংটক থেকে জিপ নিয়ে জিপের মাধ্যমে আপনি লাচুং জিপ স্ট্যান্ডে পৌঁছে যাবেন।  গ্যাংটক থেকে যেতে প্রায় ৫ ঘন্টার মত সময় লাগে।  ভাড়া লাগবে প্রায় ১০০ রুপির মতো।

১০. নাথাং ভ্যালি

পূর্ব সিকিমের ছোট্ট একটি গ্রাম নাথাং,৫০ থেকে ৬০ টি ঘর নিয়ে সুন্দরময় এই গ্রামটি। টিনের চালের ঘরগুলো সত্যি দেখতে অসাধারণ।  চালের মধ্যে বৃষ্টিতে টিপটিপ শব্দ, আবার ঝুরো ঝুরো বরফকুচি। পাশে আবার সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কিছু ছোটখাটো ঝর্ণা ও রয়েছে। 

কাছেই চায়নার বর্ডার।  নাথাং এর প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় চাইনিজ মিনি মার্কেট সাজানো থাকে।  সোয়েটার, জুতা, জ্যাকেট  সবি আছে ওদের এই ছোট্ট মার্কেটে। এখানে খুব বেশি ঠান্ডা থাকার কারণে অনেক সময় ঠান্ডায় জমে বরফ হয়ে যায়। 

তিব্বত থেকেই ইয়াক পালকেরা নাথাং উপত্যকায় আসে।  নাথাং এর সৌন্দর্য বলে শেষ করা যাবে না, এসব স্থানে আসলে দুই-তিন দিনের ও মনে হয় ভ্রমণ শেষ হবে না।  নাথাং এর স্থানগুলো এলিফেন্ট লেক, কুলুপ লেক, বাবা মন্দির ভ্রমন করলে দুইটা দিন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবেন। 

এই সিকিমেরই ইয়ুমথাং ও ছাঙ্গু এ তুষারপাত দর্শনের জন্য পর্যটকদের অনেক ভিড় থাকে।  আরো ৫ মাইলের মত উত্তরে বিখ্যাত ঈগল নেস্ট থেকে ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্যপটে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা, পশ্চিমবাংলার কিছু অংশ , পশ্চিম ভুটান, তিব্বত ও চীন এই দৃশ্যগুলো, একবার দেখলেই শুধু স্মৃতির পাতায় সারা জীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যাবে। 

নাথাং এর পাশেই অবস্থিত রয়েছে ছোট্ট আরেকটি গ্রাম লুংথাং। নাথাং থেকে লুংথাং যেতে প্রায় ২০ মিনিটের মত সময় লাগবে । কখনো বা কুয়াশা আবার কখনো বা মেঘের চাদর এসে ঢেকে দিচ্ছে গ্রামটি, এই ভয়ংকর সুন্দর দৃশ্য গুলো একবার এসে নিজের চোখে দেখে যান। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
গ্যাংটক থেকে নাথাং ভ্যালি এর  দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। হাওড়া থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি আবার সেখান থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে সিকিমের নাথাং এ যেতে পারবেন। 

১১. ইয়াকসাম

দূর থেকে দেখতে অনেকটা ছবির মতনই মনে হয় এই ইয়াকসামের জনপদটি। ইয়াকসামের চারিদিকে শুধু বৌদ্ধ ধর্মের নানা রং বেরঙের নিশান দেখা যায়।  পশ্চিম সিকিমের শেষ মোটরেবল গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ইয়াকসাম। 

কাঞ্চনজঙ্ঘার পাদদেশে পৌঁছাতে চাইলে ইয়াকসাম থেকে ট্রেকিং করে যেতে হবে। সারা পৃথিবীর মধ্যে ট্রেকারদের জন্য স্বর্গ রাজ্য হচ্ছে এই ইয়াকসাম। কাঞ্চনজঙ্ঘা ন্যাশনাল পার্কের ট্রেক শুরু হয় এই ইয়াকসাম থেকেই, এবং জোরিল গোচালা ট্রেকও শুরু হয় এখান থেকেই।

সিকিমের প্রথম রাজা ১৬৪২ সালে এই রাজধানী স্থাপন করেন।  তার অভিষেক স্থলটি রেলিং দিয়ে ঘেরানো হয়েছে।  এর কাছেই চোর্তেন পার্ক ও রয়েছে।  আরো আছে বিশ্বাস একটি লেক বেশ নামকরা কাথোগ লেক। লেকের ঠিক উল্টো পাশে রয়েছে কার্থোক গুম্ফা।

সিকিমের সবচেয়ে পুরনো মনাস্ট্রি দুবদি অবস্থিত রয়েছে ইয়াকসামে। আপনি পেলিং ভ্রমনে গেলে সেখান থেকে সাইটসিইং এর সময় ইয়াকসাম ভ্রমণ করতে পারবেন। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
গ্যাংটক থেকে ওয়েস্ট সিকিমে অবস্থিত ইয়াকসাম এর দূরত্ব  প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এবং পেলিং থেকে  কাছেই দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। পেলিং থেকে যেকোন রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে ইয়াকসাম ভ্রমন করে আসতে পারবেন। কাঞ্চনজঙ্ঘার ফলসের পর ইয়াকসামের রাস্তা শুরু। 

Khechiperi Lake

১২. খেচিপেরি লেক

সিকিমের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্থান হচ্ছে এই খেচিপেরি লেক। এই খেচিপেরি লেকটি হিন্দু সমাজের কাছে এবং বৌদ্ধের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র একটি লেক। এখানে অবাক করা একটি কথা হচ্ছে, লেকের জলে গাছের শুকনো পাতা পড়লে, পাখিরা তার ঠোঁটে করে নিয়ে চলে যায় জল পরিষ্কার করার জন্য।

লেকের চারিপাশে শুধু সবুজ গাছের সমারোহ। সাথে পাখির কিচিরমিচির শব্দ। অনেক পাখি আবার গুনগুনিয়ে গানও ধরেছে। এ যেন এক মহিমান্বিত শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ।  বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন মানুষ এখানে এসে লেকের জল ছুয়ে নিজেদের মনস্কামনা পূরণের জন্য প্রার্থনা করেন।

সেজন্য স্থানীয়রা এ লেকের নাম দিয়েছেন ইচ্ছা পূরণের লেক। এখানে আবার  ধুনোচি জ্বালাবার জন্য সুন্দর একটি ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে পাইন গাছের শুকনো পাতা জ্বেলে ধুনো জ্বালানো হয়। লেকের জলের মধ্যে অনেক বড় বড় ভাল জাতের মাছের সাথেও আপনার সাক্ষাৎ হবে। 

লেচের প্রবেশপথে সুন্দর একটি মনাস্ট্রি,সাথে প্রার্থনা ঘর। প্রচুর গাছপালার জঙ্গল, বেশিরভাগই পাইন গাছ।  এই নিরিবিলি প্রকৃতি যেন পর্যটকদের মন কাড়ার জন্য নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছে। সবুজ পতাকা, সবুজ গাছপালার সঙ্গে মিশে প্রকৃতির সৌন্দর্য আরো দ্বিগুণ করে তুলেছে। 

হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের লোক অনেকে এখানে আসেন, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের পুঁথিপাঠ শুনার জন্য। এবং লেকের পানি ছুয়ে প্রার্থনা করার জন্য যাতে যার যার মনোবাসনা গুলো পূরণ হয়।  

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
পেলিং থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খেচিপেরি গ্রামে এই খেচিপেরি লেকটি রয়েছে।জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে পেলিং গিয়ে সেখান থেকে আপনি খেচিপেরিতে পৌঁছাতে পারবেন। গাড়ি রিজার্ভ করে গেলে ভাড়া পড়বে ৩৫০০ থেকে প্রায় ৪০০০ হাজার টাকার মতো। শিলিগুড়ি বাস স্ট্যান্ড থেকে শেয়ার জিপেও যেতে পারেন, শেয়ার জিপের ভাড়া পড়বে ৩০০ টাকার মতো।

১৩. ওখরে

সিকিম রাজ্যের প্রতিটা কোনায় কোনায়, আনাচে-কানাচে বিস্তৃত রয়েছে সব মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থানগুলো।  কুড়িখানেক বা তার একটু বেশি ছড়ানো ছিটানো কাঠের বাড়ি নিয়ে তৈরি এই ছোট্ট গ্রামটি ওখরে। যা টুরিস্ট স্পট ও বলা যায়।

তবে ওখরেতে এখন বর্তমানে বেশ কয়েকটা ইট সিমেন্টের দালানকোটাও দেখা যায়। এই গ্রামে কোন কিছুর মধ্যেই বিলাসিতার কোন চিহ্নমাত্র পাবেন না।  রয়েছে শুধু সাধারণ জীবন যাপনের পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা। সত্যি, ব্যস্ততার শহর থেকে এরকম গ্রামই থাকার জন্য শান্তিপূর্ণ স্থান।

যারা খেতে বিষন ভালোবাসেন মানে ভোজন রসিক তারা অত্যন্ত খাঁটি সিকিমিজ খানার লোভে হলেও এখানে আসতে হবে।  ওখরের ঠিক উল্টো পাশে পাহাড় টাই হচ্ছে দার্জিলিং।  দূর পাহাড়ের শৈলশহর ওখরের নিস্তব্ধ নিঝুম রাতকে আরও মায়াবী করে তুলে। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
পশ্চিম সিকিমের ছোট্ট একটি গ্রাম ওখরে। যার দূরত্ব শিলিগুড়ি থেকে ১৩০ কিলোমিটার।শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে আপনি ওখরতে পৌঁছাতে পারবেন।  পুরো রির্জাব গাড়ির ভাড়া পড়বে ৪৩০০ টাকা। সিজন অনুযায়ী ভাড়াটা একটু কম বেশি হতে পারে। 

১৪. গেজিং

গেজিং এ  মেঘের আনাগোনা এই অপরূপ দৃশ্যটি  খুব কাছে থেকে দেখতে পাওয়া যায়।  গেজিং শহরের উচ্চতা প্রায় ৫৬০০ ফুট। ৩ কিলোমিটার উপরে পেলিং  এর জনপ্রিয়তার পাশে গেজিং নিতান্তই অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে সহজলভ্য ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। 

আপনি মেঘের মিহি পর্দার নিচে, লনে চেয়ারে বসে চা খেতে খেতে সূর্যাস্তের লালআভা উপভোগ করে সন্ধ্যাবেলা সামনের পাহাড়কে আলোর শোভিত রূপে প্রস্ফুটিত দেখতে পছন্দ করবেন। তবেই আপনার জন্য এই গেজিং স্থানটি ভ্রমণের সার্থকতা। 

শহরের ইট পাথরের দালানকোটার চেয়ে, গ্রামের এই নিরিবিলি শান্ত পরিবেশের মাটির বাড়িগুলোই যেন এক একটা শান্তির নীড়।  যেন কিছুটা স্বর্গের স্বাদ পাওয়া যায়, এরকম জায়গায় আসলে। জীবনে একবার হলেও সিকিম ভ্রমন করতে আসবেন, সাথে সিকিমের আনাচে-কানাচে সব দর্শনীয় জায়গা গুলো। 

সত্যিই এত অপরূপ দৃশ্য সিকিমে না আসলে আপনি অন্য কোথাও আর দেখতেই পাবেন না। প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় করবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে ঘেরা ছোট্ট এই  জনপদ। যারা কোলাহল মুক্ত প্রকৃতি ভালবাসেন, তাদের জন্যই এরকম জনপদ অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকে। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
পশ্চিম সিকিম এর ছোট জেলা শহর হচ্ছে গেজিং। জলপাইগুড়ি থেকে সরাসরি গাড়ি রিজার্ভ করে গেজিং এ পৌঁছানো যায়। সময় লাগবে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো।  রিজার্ভ গাড়ির ভাড়া পড়বে প্রায় ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা।

১৫. হি বারমিওক

কলকাতা থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে হি বারমিওক। এর পাহাড়ঘেরা পাশাপাশি আরও অনেক গ্রাম রয়েছে। যা সবুজে ঘেরা, শান্তশিষ্ট, নিরিবিলি পরিবেশ। মারতাঙ্গ, কালুক, রিনচেনপং, বারমিওক এযেন পাহাড়ের গায়ে আটকে রয়েছে সারিবদ্ধভাবে কতক গ্রাম।

তিস্তা নদী পেরিয়ে যখন সেবক রোড ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় আপনার মনে হবে যেন আপনি স্বর্গে রাজ্যে পৌঁছাতে যাচ্ছেন।  রাস্তার দুপাশের দৃশ্য এতই সুনান্দনিক, অমায়িক সৌন্দর্যে ঘেরা। এখান থেকে এপ্রিল মে মাসে সুস্পষ্ট কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। 

বারমিওক রাস্তার দুপাশে অসংখ্য পাহাড়ি নানা রংবেরঙের ফুল দেখা যায়। এত সুন্দর সুন্দর ফুলের গোছা যেন দেখলেই মন চায় একটু ছুঁয়ে দেখি।  মাত্র একদিন সময় নিয়েই আপনি বারমিওক জায়গাটা ঘুরে দেখতে পারবেন, এর আশেপাশেও রয়েছে নানা সৌন্দর্যের প্রতীক। 

গোটা দশেক বাড়ি দিয়েই পাশে আবার নির্জন একটি গ্রাম। বালুময় ধু ধু রাস্তা দিয়ে হেঁটে বেড়ান।  রাস্তার ধারে পথের মাঝে, ক্লান্ত পথিকের জন্য সিমেন্টে বাধানো শেড দেওয়া চাতালে বসানো আছে।  এখানে কিছুক্ষণ বসে ক্লান্ত শরীরকে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন।

তার কিছু পাশেই আবার শিরজুঙ্গা ফলস। ছায়াতাল, হি ওয়াটার গার্ডেন। কিছু উত্তরের দিকে পৌঁছালে দেখতে পাবেন ট্রাউট মাছের চাষ। ফ্যাক্টরিও,বারমিওকের অন্যতম একটি আকর্ষণ  অ্যালপাইন চিজ ফ্যাক্টরি। দেখার মতো বা ছবি তুলার মত খুবই সুন্দর জায়গা হচ্ছে বারমিওক।

আর হ্যাঁ,অবশ্যই মনে রাখবেন, প্লাস্টিক বর্জিত রাজ্য সিকিম। এখানে ভ্রমণে যাবার আপনার জন্য সেরা সময় হচ্ছে , এপ্রিল থেকে মে মাস। এই জায়গাটা পরিদর্শন করে যদি দেখেন আপনার হাতে কিছু সময় আছে, তাহলে আপনি বারমিওক থেকে বার্সে অথবা উত্তরে ট্রেক করে যেতে পারেন । 

বারমিওক এর আশেপাশে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান দেখতে পাবেন, ডেন্টাল ভ্যালি, শিংসোর ব্রিজ,  ছাঙ্গে ফলস এই স্থানগুলো খুব একটা দূরে নয়। এক থেকে দুই দিন সময় নিলে আপনি, বারমিওক সহ এ সবগুলো স্থান ভ্রমণ করে যেতে পারবেন। 

লোকেশন ভ্রমন গাইড / কিভাবে যাবেন 
শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম সিকিমে অবস্থিত এই হি বারমিওক।জলপাইগুড়ি থেকে আপনি বাসে করে পৌঁছাতে পারবেন বারমিওকে। সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টার মতো। অথবা রিজার্ভ গাড়ি করেও যেতে পারেন ।  গাড়ী ভাড়া পড়বে প্রায় ৩০০০ থেকে ৩৫০০ রুপি।
পরিশেষে :

ভারতের পর্যটনকেন্দ্র গুলোর মধ্যে সিকিমের দর্শনীয় স্থানগুলো অন্যতম সুন্দর একটি জায়গা। শহরের ব্যস্ত সময় ছেড়ে চলে আসুন সিকিমে,মিনিটেই আপনার মন ভালো করে দিবে সিকিমের অপরূপ সৌন্দর্য মন্ডিত স্থানগুলো। তার রূপ সৌন্দর্যতা আপনার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছে।

যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, দেশের সম্পদ। তাই ঐসব স্থানের সৌন্দর্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে আমরা বিরত থাকবো। 

সুস্থ থাকুন, নিরাপদে ভ্রমন করুন। ধন্যবাদ। 

আরো পড়ুন –

 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents