Dreamy Media BD

সিভি লেখার নিয়ম – 2024

সিভি লেখার নিয়ম

সিভি লেখার নিয়ম – 2024

প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে, ভালো চাকরি পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো ভালো সিভি(CV) বা জীবনবৃত্তান্ত থাকা। এক সার্ভেতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে চাকরির বাজারে প্রতিবছর প্রায় 20 লাখ নতুন মানুষের চাকরির খোঁজে আগমন হয়। কোন চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এত পরিমাণ আবেদন পড়ে যে, আপনার ভালো স্কিল থাকা সত্ত্বেও আপনাকে ইন্টারভিউ এর জন্য ডাকা হয় না। কারণ আপনার সিভিটি হয়তো খুলেই দেখা হয়নি। 

প্রিয় পাঠক, আজকের এই লেখায় সিভি লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যেহেতু সিভি লেখার নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই; অনেকভাবেই উপস্থাপন করা যায়; তবে এই লেখায় আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি পদ্ধতি আলোচনা করেছি। সেই সাথে CV সম্বন্ধে আরো বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়লে, চাকরীর বাজারে এক ধাপ এগিয়ে যাবেন আপনিও। 

 

সিভি বনাম রেজুমে (CV Vs Resume)

সিভি কথাটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ Curriculum Vitae থেকে যা সংক্ষেপে CV নামে পরিচিত। সিভি হল কোন ব্যক্তির পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যাবতীয় কার্যকলাপের সমষ্টিগত সংক্ষিপ্ত বিবরণ। অন্যদিকে Resume শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি Resumer থেকে যার অর্থ ‘to summarize’। অর্থাৎ রেজুমি হল সিভিরও সংক্ষিপ্ত রূপ। সাধারণত একটি সিভি দুই থেকে পাঁচ পাতা পর্যন্ত হতে পারে। অপরদিকে একটি রেজুমির আদর্শ রূপ হল, এক পাতায় সব তথ্য রাখতে হবে। এখানে মূলত ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে দক্ষতা অভিজ্ঞতা ইত্যাদি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে চাকরি দাতাদের চাকরিপ্রার্থী সম্পর্কে অল্প সমানে খুব ভালো ধারণা হয়। 

 

কোথায় কোনটি ব্যবহার করবেন?

আপনি যদি কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান বা এই জাতীয় কোন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়, এনজিও বা দেশী বিদেশী সংস্থায় চাকরি আবেদন করেন। সেক্ষেত্রে বিস্তারিত বিবরণ সহকারে দুই থেকে পাঁচ পাতার সিভি দেওয়া উচিত। কিন্তু আপনি যদি কোন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, আইটি কোম্পানি, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ইত্যাদি আধুনিক প্রতিষ্ঠান এ চাকরির আবেদন করেন; সেক্ষেত্রে রেজুমি দেওয়া উচিত।

 

সিভি লেখার নিয়ম – 2024

চাকরির প্রয়োজনের ভিত্তিতে সিভি বিভিন্ন প্রকার হতে পারে বা এর লেখার নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন হবে। সবদিক বিবেচনা করে এখানে একটি ১ পাতার আদর্শ সিভি/রেজুমি লেখার নিয়ম দেওয়া হল। সিভি সাধারণত ইংরেজিতে লেখা হয়, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলা সিভির প্রয়োজন হয়, বাংলা সিভি লেখার নিয়ম এই লেখার শেষ অংশে আলোচনা করা হয়েছে। অথবা নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করে আপনি যে কোন ভাষায় শিখে লিখতে পারেন। কারন আমরা মূলত কাঠামোগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

সিভি লেখার নিয়ম
সিভি লেখার নিয়ম

দেশে-বিদেশে বর্তমানে এই ফরম্যাটটি অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, বিশেষত প্রাইভেট ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে। কারণ এই কোম্পানি গুলোতে প্রচুর চাকরির আবেদন আসে। তাই সবার সিভি বিস্তারিতভাবে পড়ার সময় হয় না। কিন্তু এক পাতায় সব তথ্য থাকে বলে, বাছাইকারী খুব সহজেই প্রার্থী সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পায়। তাই, ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎতে ডাক পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। চলুন দেখে নিই কীভাবে একটু রেজুমি বা সিভি লিখতে হবে।

 

সঠিক ফরম্যাট অনুসরন করুন 

সিভি লেখার নিয়ম
সিভি লেখার নিয়ম

আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, একটা সিভি অনেক ভাবে লেখা যায়। তবে চাকরি প্রত্যাশীদের এখানে সতর্ক থাকতে হবে যে, কোন প্রয়োজনীয় তথ্য যেন বাদ না যায় এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য উঠে না আসে। সেজন্য সিভি লিখতে সঠিক ফরমেট অনুসরণ করা জরুরী। উপরের চিত্রে দেখানো এই ফরমেটটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এখানে মূলত তিনটি অংশ থাকে: 

  • হেডার 
  • বডি ও 
  • সাইডবার। 

এটা অনেকটা কোন ওয়েবসাইটের হোম পেজ এর মত। 

হেডার এরিয়া: এখানে আপনার নাম, পদবী, ব্যক্তিগত যোগাযোগ তথ্য ও ছবি ব্যবহার করতে পারেন।

সাইডবার এরিয়া: এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে আপনার দক্ষতা সমূহ, অর্জন, ট্রেনিং, সার্টিফিকেশন, ভাষাগত দক্ষতা ও অন্যান্য তথ্য দিতে পারেন।

বডি: মূল অংশ, এখানে আপনার প্রফেশনাল সামারি, শিক্ষা, চাকরির অভিজ্ঞতা এগুলো তথ্য বিস্তারিত ভাবে দিতে পারেন। 

এছাড়াও নিচে ফুটার ব্যবহার করতে পারেন। যেখানে আপনার লিংকদিন বা পার্সোনাল ওয়েবসাইটের ঠিকানা অথবা রেফারেন্স যুক্ত করতে পারেন।

 

পরিচয়, যোগাযোগ ও পদবী প্রদান

রিজিউম বা সিভির শুরুতে এই তথ্যগুলো দিতে হবে। 

  • নাম: আপনার সম্পূর্ণ নাম, সবচেয়ে বড় ফন্ট লেখুন। 
  • পদবি: যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সেই চাকরি সম্পর্কিত আপনার যদি কোন অভিজ্ঞতা থাকে সেটি লিখুন। যেমন হতে পারে মার্কেটিং ম্যানেজার, আইটি অফিসার ইত্যাদি। নামের নিচে ছোট ফন্টে লিখতে হবে।
  • ঠিকানা: এখানে মূলত আপনার সাথে যোগাযোগের ঠিকানা গুলি, আপনার বর্তমান শহরের নাম, মোবাইল নাম্বার ও সচল ইমেইল এড্রেস দিতে পারেন। 

অনেকে এখানে তাদের প্রফেশনাল ওয়েবসাইট যেমন লিংকডইন অথবা ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এর ঠিকানা দেন। তবে শুরুতে এত বেশি তথ্য না দিয়ে এগুলি নিজের ফুটার এরিয়াতে দেওয়া যেতে পারে।

 

অবজেক্টিভ,শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা

এই তথ্যগুলো বডি এরিয়াতে প্রদর্শন হবে, এটি হেডার এর নিচে এবং সাইডবার এর বামে অথবা ডানে থাকবে (চিত্রে চিহ্নিত)।  

অবজেক্টিভঃ এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ এর মাধ্যমে চাকরিদাতাকে আপনার সমন্ধে ও আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। যেমন, একজন নতুন/ফ্রেসার HR Admin হিসাবে আবেদনের জন্য সিভিতে, এভাবে লিখতে পারেনঃ  

Driven and enthusiastic recent graduate with a Bachelor’s degree in [Degree name] from [University name], seeking to launch a career in Human Resources. Equipped with a strong foundation in HR principles and practices, including recruitment, onboarding, employee relations, and performance management. Possess excellent communication, collaboration, and problem-solving skills, and a genuine interest in building meaningful relationships with employees. Eager to learn and grow within a supportive HR team and contribute to a positive and productive work culture.

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ আপনার সর্বশেস ২/৩ প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিন। এটিও অনেকভাবে লেখা যায়, তবে উপরের চিত্রের মত করে লিখতে পারেন। 

পেশাগত অভিজ্ঞতাঃ এটিও শিক্ষাগত যোগ্যতার মত দুই থেকে তিনটিই দিতে পারেন। আপনার পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের নাম লিখুন, চাকরির সময়কাল লিখুন এবং নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে কি জাতীয় কাজ করেছেন? আপনার ভূমিকা কি ছিল? সেটা উল্লেখ করুন।

অতিরিক্ত তথ্য: যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন সেই সম্বন্ধে আপনার যদি বিশেষ কোনো অর্জন বা কৃতিত্ব থাকে অথবা কোন কোন প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। তার সংক্ষিপ্ত আকার উল্লেখ করতে পারেন। যেমন, একজন ম্যানেজার হিসেবে একটা টিম লিড করতে হয়। সুতরাং ম্যানেজারের চাকরির জন্য আবেদনের সময়, আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয় কোন গ্রুপ বা টিমের নেতৃত্ব দেন, সেটা উল্লেখ করুন।

 

দক্ষতা, যোগ্যতা ও অন্যান্য তথ্য

এই তথ্যগুলো আপনার সিভির ডান অথবা বাম দিকে লিখতে পারেন (উপরে চিত্রে চিহ্নিত)। এই অংশটি মূল বডির এক তৃতীয়াংশ হবে। এখানে যে তথ্যগুলি প্রদর্শন করতে পারেন।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা টেকনিক্যাল স্কিল: মনে করি আপনি একজন এইচ আর ম্যানেজার হিসেবে আবেদন করছেন, তাহলে এখানে আপনার, কম্পিউটার বিষয়ক দক্ষতা গুলোর লিস্ট আকারে দিতে পারেন। যেমন,

  • মাইক্রোসফট অফিস প্রোগ্রাম
  • ডেটা এনালাইসিস (spss)
  • গুগল ডক, শিট 
  • অ্যাডবি ইলাস্ট্রেটর
  • অ্যাডভান্স এমএস এক্সেল

সফট স্কিল: এখানে আপনার প্রফেশনাল যোগ্যতা সমূহ দিতে পারেন:

  • Business communication
  • Team Player
  • Leadership
  • Entrepreneurship
  • Management Reporting

চাকরি ধরনের ভিত্তিতে তথ্য গুলি ভিন্ন ভিন্ন হবে। আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হলে সেই সম্বন্ধীয় বিষয় গুলো উল্লেখ করতে হবে। আবার ওয়েব ডেভলপার হলে, ওয়েবসাইট রিলেটেড বিষয় গুলো উল্লেখ করতে হবে।

প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেশন: আপনার চাকরির রেটের যদি বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়ে থাকে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করতে পারেন। একজন ওয়েব ডেভলপার হিসেবে আবেদনের ক্ষেত্রে আপনি যে তথ্যগুলি প্রদর্শন করতে পারেন:

  • Udemy – Web Development Certification.
  • AWS Certication Course. 

অন্যান্য তথ্য: এগুলোর বাইরে অন্যান্য তথ্য সংঘের তরকারি দেওয়া যেতে পারে। যেমন আপনার শখ বা আপনার সম্বন্ধে বিশেষ কোন তথ্য থাকলে সেগুলি লিস্ট আকারে দিতে পারেন।

 

বাংলা সিভি লেখার নিয়ম 

অনেকগুলো এনজিও ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনও আগের পদ্ধতিতে সিভি প্রত্যাশা করে। তাই এখানে আগের পদ্ধতিতে বাংলা সিভি লেখার নিয়ম দেওয়া হল।

 

ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করুন

জীবন বৃত্তান্ত শুরুতেই নাম পরিচয় ও ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে সেক্ষেত্রে এই তথ্যগুলো দিতে পারেন: 

  • সম্পূর্ণ নাম 
  • মোবাইল নম্বর 
  • মেইল এড্রেস 
  • বর্ধমান ঠিকানা

 

প্রফেশনাল ছবি সংযুক্ত করুন

জীবন বৃত্তান্ত ছবি থাকা বাধ্যতামূলক। ছবি দেবার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে:

  • সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিন
  • ছবি পিছনে এক কালারের ব্যাকগ্রাউন্ড রাখবেন নীল অথবা সাদা।
  • ফরমাল পোশাক পড়ুন, না থাকলে সাদা শার্ট ও টাই পরে ছবি তুলুন।

 

বিবৃতি লিখুন

এটা হল সিভির সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অংশের তিন থেকে চার লাইনের মধ্যে নিজের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে জানাতে হবে। এমন ভাবে জানাতে হবে যেন তা কোম্পানির লক্ষ্যের সাথে মিলে যায়। এর উদ্দেশ্য হলো, পরোক্ষভাবে কোম্পানিকে জানানো আপনাকে চাকরিতে নিলে তারা কিভাবে ভবিষ্যতে উপকারিত হবে।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখুন 

এই অংশে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সমূহ সব গুলো উল্লেখ করতে হবে। এটি লেখার অনেকগুলো নিয়ম আছে। তবে সর্বশেষ ডিগ্রি আগে লিখুন, তারপর ক্রমান্নয় নিচের দিকে বাকিগুলো লিখবেন। আপনি যদি উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে থাকেন , সেক্ষেত্রে পিএইচডি বা এমফিল, মাস্টার্স, অনার্স এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেওয়াই যথেষ্ট। আর আপনার সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান যদি মাস্টার্স হয়, তাহলে মাস্টার্স, অনার্স ও এইচএসসি পর্যন্ত লিখবেন।

এটি অনেক ভাবে লেখা যায় তবে নিচে একটি আদর্শ নমুনা দেওয়া হল: 

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম
  • ঠিকানা
  • পাঠের বিভাগ/বিষয়/অনুষদ
  • একাডেমিক রেজাল্ট 

 

পেশাগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করুন 

আপনার যদি আগের কোথাও কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার পূর্বেকার কাজের অভিজ্ঞতা দিন। এক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকলে, যে কাজের জন্য সিভি পাঠানো হচ্ছে তার সাথে মিল আছে এমন কাজগুলো আগে লিখুন। দুই থেকে তিনটির বেশি অভিজ্ঞতা লেখার প্রয়োজন নেই। এভাবে লিখতে পারেন,

আজিজ গ্রুপ – জুন, ২০২২ থেকে জানুয়ারি, ২০২৪

এইচ আর এডমিন

সম্ভব হলে এই প্রতিষ্ঠানে কি ধরনের কাজ করেছেন সংক্ষিপ্তভাবে সেটা উল্লেখ করুন।

আর নতুনদের ক্ষেত্রে যাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা নেই, তারা এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মশালা বা প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে পারেন। তা নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

 

প্রকল্প/স্বেচ্ছাশ্রমের সম্পর্কে লিখুন

এটা অনেকেরই প্রশ্ন, নতুনদের তো কোন কাজের অভিজ্ঞতা থাকে না, তারা অভিজ্ঞতার ঘরে কি লিখবে? তাই অনেকে এই অংশটি এড়িয়ে যায়। একত্রে তারা একটু কৌশলী হন তারা চাকরির বাজারে এগিয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি আপনার একাডেমিক জীবনে হয়তো কোন ক্লাবের মেম্বার ছিলেন অথবা বিতর্ক প্রতিযোগিতা সদস্য কিংবা স্বেচ্ছাসেবী কোন প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা আছে। কিংবা, বিএনসিসি ও স্কাউট এ জাতীয় অভিজ্ঞতা উল্লেখ করতে পারেন। ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী হিসেবে কোন প্রজেক্ট করা থাকলে উল্লেখ করতে পারেন।

 

স্কিল ও দক্ষতা উল্লেখ করুন

এই বিষয়টি নির্ভর করে আপনি কি ধরনের চাকরি খুঁজছেন? কি ধরনের চাকরির জন্য সিভি তৈরি করেছেন, তার উপর। এই অংশে যে তথ্যগুলো রাখতে পারেন:

  • কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা উল্লেখ করুন
  • ফটোশপ, এডিটিং, দক্ষতা থাকলে উল্লেখ করুন
  • লিডারশিপ দক্ষতা, লেখালেখি ইত্যাদি সম্পর্কে লিখুন

চাকরি সম্পর্কিত কোন দক্ষতা থাকলে বিশেষভাবে লিখুন। যেমন, ডেটা এনালিস্ট এ spss, বা অ্যাডভান্স এক্সেল ইত্যাদি লিখুন।

 

ভাষাগত দক্ষতা লিখুন

বিশিষ্ট ইংরেজি ভাষায় আপনার দক্ষতা কোন লেভেলের সেটা উল্লেখ করুন। IELTS বা TOFEL এ জাতীয় কোন পরীক্ষা দেওয়া থাকলে তার স্কোর উল্লেখ করুন।

 

রেফারেন্স যুক্ত করুন

একটি ভালো যুক্তি রেফারেন্স আপনার সিভিকে পরিপূর্ণতা দান করে। তাই অবশ্যই এ অংশটি পূরণ করতে ভুলবেন না। আপনার পূর্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচিত কোন কর্মকর্তা, যে আপনাকে ভালো জানে এমন মানুষকে, রেফারেন্স হিসেবে যোগ করুন। নতুনদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষককে রেফারেন্স হিসেবে যোগ করতে পারেন। কাউকে রেফারেন্স হিসেবে যোগ করার আগে, অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে। নিয়মঃ 

ব্যক্তির নাম 

পদবী ও মোবাইল নাম্বার

অঙ্গীকারনামা লিখুন

সিভির শেষ অংশে অঙ্গীকার নামা লিখুন। উল্লেখ্য করতে পারেন যে, আপনার প্রদত্ত সকল তথ্য সঠিক, কোন ভুল তথ্য প্রদান করেন নি।

 

শেষ কথা | সিভি লেখার নিয়ম 

প্রিয় পাঠক, সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, সিভি বা রেজুমি সম্বন্ধে সকল তথ্য আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকে? নিচে ধারাবাহিক প্রশ্ন গুলো দেখতে পারেন। সেখানে খুঁজে না পেলে, কমেন্ট বক্সে মন্তব্য লিখুন, আমরা যথাউপযুক্ত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

 

সিভি লেখার নিয়ম সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্ন উত্তর

সিভির সাইজ কত পাতা হবে?

এই বিষয়ে সরাসরি কোন সংজ্ঞা বা নিয়ম নেই। তবে যত সংক্ষিপ্ত করা সম্ভব ততই ভালো। সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ পাতার সিভিকে আদর্শ বলে গণ্য করা হয়। রেজুমি হলে। এক পাতায় সব তথ্য শেষ করতে হবে।

 

সিভি কোন ভাষায় লিখব? 

বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠা নেই ইংরেজিতে সিভি প্রত্যাশা করে তবে কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলায় সিভি চাওয়া হয়। ভাষার উল্লেখ না থাকলে সিভি ইংরেজিতে লেখা ভালো। 

 

সিভির রেফারেন্স দিব কাকে?

আপনি যদি চাকরি বাজারে একেবারেই নতুন হন, আগে কোন কাজের অভিজ্ঞতা না থাকে! সেক্ষেত্রে আপনাকে জানে এমন কোন শিক্ষক বা বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করে এমন কোন পরিচিত ব্যক্তিকে রেফারেন্স হিসেবে দিতে পারেন। তবে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে। আর আপনি যদি আগে থেকে কাজ করার অভিজ্ঞ হন, সেক্ষেত্রে ভালো হয় আপনার আগের কর্ম ক্ষেত্রে কোন সিনিয়র অফিসার বা বসকে রেফারেন্স হিসেবে রাখা।

 

সিভি কিভাবে পাঠাবো?

যেকোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে, স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকে কিভাবে কোথায় পাঠাতে হবে। সাধারণত সরকারি বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডাকযোগে অথবা সরাসরি কোন বুথে সিভি জমা দিতে হয়। আর প্রাইভেট বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিভিল মেইলে পাঠাতে হয়।

 

Read More:

২০২৪ সালের সরকারি ছুটির তালিকা | রোজা – ঈদ কত তারিখে?

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম ২০২৪

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents