Dreamy Media BD

অটোমান সাম্রাজ্য – গৌরবময় মুসলিম শাসনামল

অটোমান সাম্রাজ্য

অটোমান শব্দটি আরবী উসমান শব্দের ইংরেজি  বিকৃত বা পরিবর্তিত রুপ।উসমান হলো অটোম্যান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার নাম। উসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্য বিশ্ব-ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্তৃত, প্রতাপশালী ও দীর্ঘমেয়াদী শাসনব্যবস্থা। যে সাম্রাজ্যের ভিত্তি ছিলো কোরআন ও সুন্নাহ।

৬০০ বছরের অটোমান সাম্রাজ্যে রয়েছে মুসলমানদের গৌরবময় ইতিহাস।

ছোট একটি জায়গির থেকে শুরু হয়ে এক মহা সাম্রাজ্য হিসাবে বেড়ে উঠা,যা শাসন করে গেছে তিন-তিনটি মহাদেশ। তাদের শাসন ব্যবস্থা ছিলো ন্যায়, ইনসাফ, মানবাধিকারের সহবস্থান।

উসমানী খিলাফাতে ছিলো যশখ্যাতি তবে অপচয় আর বিলাসিতা, জুলুম-অত্যাচার কিংবা হিংস্রতা। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সোনালি সাম্রাজ্যেরও পতন ঘটেছে৷ 

আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে  আমরা উসমানীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাস জানার চেস্টা করবো।

অটোমান কারা

ottoman নামটা এসেছে osman থেকে। অটোমান মানে: যারা ওসমানকে অনুসরণ করে। ওসমান ছিলেন একজন তুর্কি বীরযোদ্ধা। জন্ম ১২৫৮ সাল্ব আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরুস্ক) ইনিই তুরুস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। প্রায় ৬০০ বছর ধরে অটোমানরা তুরুস্কসহ বিশাল এক সাম্রাজ্যে শাসন করেছিল।

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা

৬৫৬ হিজরি; ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে এরতুগরুলের ঔরসে জন্ম নেন এক সৌভাগ্যবান পুত্রসন্তান। তার নাম রাখা হয় উসমান।

ইতিহাসবিদগণ তাকেই আখ্যা দিয়ে থাকেন উসমানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে।

এটা ঠিক সে বছরের কাহিনী, যে বছর হালাকু খানের নেতৃত্বে মোজ্ঞলরা আব্বাসি খিলাফতের রাজধানী বাগদাদে চাচ্ছিলো ধ্বংসলীলা। উম্মাহ যখনই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়,ঠিক তখই শুরু হয় তার নবজাগরণ। এটি আল্লাহর একটি হিকমাহ। 

তেমনি নবজাগরন হলো অটোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা।

অটোমান সাম্রাজ্যের আয়তন

  • এই সাম্রাজ্যের আয়তন – প্রায় ১৮,০০,০০০ বর্গকিমি বা ৬৯০,০০ বর্গমাইল।
  • রাজধানী নাম সুগুত। কন্সটান্টিপল (বর্তমানে ইস্তাম্বুল)
  • তাদের ভাষা উসমানীয় তুর্কি। 
  • ধর্ম সুন্নি ইসলাম।
  • মাযহাব হানাফি আইনশাস্ত্র।
  • ১৯১২ সাল অনুযায়ী তাদের জনসংখ্যা ২৪০০০০০০০
  • মুদ্রার নাম অকচে,পারা,সুলতানি রুশ লিরা।
অটোম্যান সাম্রাজ্যের আয়তন
অটোম্যান সাম্রাজ্যের আয়তন

অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস 

১৬শ ও ১৭শ শতাব্দীতে বিশেষত সুলতান প্রথম সুলাইমানের সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য দক্ষিণপূর্ব ইউরোপ, উত্তরে রাশিয়া কালো সাগর,পশ্চিমে এশিয়া, ককেসাস উত্তর আফ্রিকা ও আফ্রিকার শৃজ্ঞ জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে ও আরব অঞ্চল সহ বিস্তৃত বহুজাতিক বহুভাষিক সাম্রাজ্যই হলো অটোমান সাম্রাজ্য।  

অটোমান সাম্রাজ্যের উৎথান

 প্রথম উসমানের বাবা আরতুগরুল গাজি বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে সেলজুকদের সাহায্য করার জন্য ৪০০ ঘোড়াসাওয়ার সহ মার্ভ থেকে আনাতোলিয়াতে আসেন। 

তুর্কি বংশোউদ্ভত সেলজুক রোম সাম্রাজ্যের পতনের পরে আনাতোলিয়া বেশ কিছু স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পরে। ইহাকে বলা হয় গাজী আমিরাত। 

এর মধ্যে একটি আমিরাত ছিলো সুলতান উসমানের অধীনে৷ তার নাম থেকেই উসমানীয় নামটি এসেছে। তিনি বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের প্রান্ত সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

প্রথম উসমানের মৃত্যুর পরে উসমানীয় শাসন ভূমধ্যসাগরীয় পূর্ব প্রান্ত এবং বলকান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ১৩২৪ সালে উসমানের ছেলে ওরহান বুরসা জয় করেন এবং একে উসমানীয়দের নতুন রাজধানী করা হয়।

১৩৮৭ সালে ভেনিসিয়ানদের থেকে সেলোনিকা জয় করে নেওয়া হয়। আবাফ ১৩৮৯ সালে কসোভা জয় করার পরে ওই এলাকাতে সার্বিয়ান শক্তির সমাপ্তি ঘটে ফলে ইউরোপের দিকে উসমানীয়দের অগ্রযাত্রা সহজ হয়। ১৩৯৬ সালে ক্রসেড যুদ্ধে উসমানীয় রা জয়ী হয়। 

ইতিহাসে মুসলিম শাসক দের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশী ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন, তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম চলে আসে অটোম্যানদের নাম। হিজরী সপ্তম শতাব্দী মোংগোলীয়দের আক্রমণে লণ্ডভণ্ড  আব্বাসীয় খিলাফত। ইসলামী ইতিহাসের এক চরম দুর্যোগপূর্ণ সময়, ঠিক তখন কালো মেঘের আড়াল থেকে নবজাগরণ উকি দেয় উসমানীয় সালতানাত।

ইসলামী ইতিহাসের এক সোনালী অধ্যায় জুড়ে এই  উসমানীয় (অটোমান) সালতানাতের ব্যাপ্তি।

১২৯৯ সাল থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত যারা একান্ত নিষ্ঠার সাথে শাসন করে গেছেন গোটা মুসমিল বিশ্ব। একের পর বিজয়ের মধ্যে দিয়ে ইসলামকে করেছেন সমুন্নত ও সম্প্রসারিত।

উসমানীয় সালতানাত কিভাবে ইসলামী খিলাফতে পরিণত হলো সেটা আমরা জানার চেস্টা করবো।

প্রায় এক হাজার বছর আগে বর্তমান তুরুস্ক আনাতোলিয়া নামে পরিচিত ছিলো। যা ছিলো বাইজেনটাইনদের অন্তর্ভুক্ত। পূর্ব ইউরোপ ও আনাতোলিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে ছিলো বাইজেন্টাইন এম্পায়ার। যার রাজধানী ছিলো কন্সটান্টিনোপল। বর্ত্মানে তা ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত। ১৩ শতকের শেষ ভাগে তুর্কি নেতা উসমান গাজীর হাত ধরেই আনাতোলিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রা শুরু করে অটোমান সাম্রাজ্য। 

এই সাম্রাজ্যের স্বপ্নদোষ্টা ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা উসমান গাজীর পিতা আরতুগুল গাজী। ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদের কন্সটান্টিনোপোল জয়ের মধ্যে দিয়ে উসমানীয়রা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য উচ্ছেদ করেন। ১৫২৬ সালে হাজ্ঞেরী জয়ের মধ্যে দিয়ে বিশাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে ইউরোপের বলকান রাজ্য গুলো নিয়ে।

অটোমান সাম্রাজন্যের স্বর্ণ যুগ ছিলো ‘১৬ ও ১৭ শতাব্দী’ এই সময় ক্ষমতায় ছিলেন সুলতান প্রথম সুলাইমান। তার শাসন আমলে এই সাম্রাজ্য দক্ষিণ পুর্ব ইউরোপ,উত্তরের রাশিয়া,পশ্চিম এশিয়া,ককেসাস মধ্যপ্রাচ্যে ও আরব আঞ্চল সহ উত্তর আফ্রিকা হর্ন অফ আফ্রিকাজুড়ে বিস্তৃত বহুজাতিক ও বহুভাষিক সাম্রাজ্য হিসাবে আত্নপ্রকাশ করে।

বিশ্বব্যাপী গৌরবময় মুসলিম শাসন আমল অটোমান সাম্রাজ্য  

আমরা আগেই জানতে পেরেছি সারা পৃথিবীতে যে কয়টি সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো , তার মধ্যে অটোমান সবচেয়ে ক্ষমতাধর।  তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহর থেকে সারা পৃথিবীর ৩ টি মহাদেশ শাসন করতো। মুসলিম এর রাজবংশের শাসনতলে ছিলো ফ্রান্স,হাজ্ঞেরী, বুলগেরিয়ে সহ প্রায় সকল দেশ ই।  বর্তমান বিশ্বের প্রায় শতাধিক দেশ। মুসলিম শাসন হিসাবে মুসলিম জাহানের খলিফার দায়িত্ব পালন করতেন অটোমান সুলতানগণ। অটোম্যান শাসনকাল মুসলিম শাসনের স্বর্ন যুগ৷ যে সকল দেশ গুলোকে  মুসলিম সমীহ করে চলে, সেই সকল দেশের প্রতিনিধিরা এক সময় অটোমান বাদশাহদের পদতলে এসে বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে এসে পড়তো।

অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতানদের নামের তালিকা।

অটোমান সাম্রাজ্যে ৩৫ জন সুলতান দীর্ঘ ৬০০ বছর ধরে আগলে রেখেছিলেন। নিন্মে তাদের নাম ও শাসন আমল উল্লেখ করা হল। 

  1. উসমান -১ (১২৯৯-১৩২৬)
  2. ওরহান (১৩২৬-১৩৬২)
  3. মুরাদ-১ (১৩৬২-১৩৮৯)
  4. বায়োজিদ-১ (১৩৮৯-১৪০২)
  5. ইলডিরিম বায়োজিদ (১৪০২-১৪১৩)
  6. মেহমেদ-১ (১৪১৩-১৪২১)
  7. মুরাদ-২ (১৪২১-১৪৪৪, ১৪৪৬-১৪৫১)
  8. মেহমেদ -২ (১৪৪৪-১৪৫১,১৪৫১-১৪৮১)
  9. বায়োজিদ -২ (১৪৫১-১৫১২)
  10.  সুলেমান-১  (১৫১২-১৫৬৬)
  11. সেলিম১ (১৫৬৬-১৫৭৪)
  12. মুরাদ ৩ (১৫৭৪-১৫৯৫)
  13. মেহমেদ ৩ (১৫৯৫-১৬০৩)
  14. আহমাদ ১ (১৬০৩-১৬১৭)
  15. মুস্তফা২ (১৬১৭-১৬১৮)
  16. ওসমান ২ (১৬১৮-১৬২২)
  17. মুরাদ ৪ (১৬২৩-১৬৪০)
  18. ইব্রাহিম দ্বিতীয়(১৬৪০-১৬৪৮)
  19. মেহমেদ চতুর্থ (১৬৪৮-১৬৮৭)
  20. সেলেমান ২ ( ১৬৮৭-১৬৯১)
  21. আহমেদ ২ (১৬৯১-১৬৯৫)
  22. মুস্তফা ২ (১৬৯৫-১৭০৩)
  23. আহমেদ ৩ (১৭০৩-১৭৩০)
  24. মাহমুদ ১ (১৭৩০-১৭৫৪)
  25. ওসমান ৩ (১৭৫৪-১৭৫৭)
  26. মুস্তফা ৩ (১৭৫৭-১৭৭৪)
  27. আব্দুল হামিদ১(১৭৭৪-১৭৮৯)
  28. সুলতান সেলিম ৩ (১৭৮৯-১৮০৭)
  29. মুহাম্মাদ আলী (১৮০৭-১৮০৮)
  30. মুহাম্মাদ আলী (১৮০৮-১৮৩৯)
  31. আব্দুল মেজিদ ১(১৮৩৯-১৮৬১)
  32. আব্দুল আজিজ (১৮৬১-১৮৭৬)
  33. মুরাদ ৫ (১৮৭৬)
  34. আব্দুল হামিদ ২(১৮৭৬-১৯০৯)
  35. মেহমেদ ভি (১৯০৯-১৯১৮)

অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের কারণ 

ইতিহাসবিদগণ লিখেছেন, ১৬ শতক থেকেই অটোমান সাম্রাজ্যের জৌলুশ কমতে শুরু করে। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ রাশিয়ান সাম্রাজ্য ও অস্টিয়া কেন্দ্রীক হ্যাভস বার্গ সাম্রাজ্য ফরাসী ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তুলনায় তাদের সামরিক শক্তি কমতে শুরু করেছিলো৷ ততদিনে উসমানীয় সাম্রাজ্য বয়সের ভারে যেন নুযু হয়ে পড়েছিলো ফলে, ১৮ শতকের শেষ ও ১৯ শতকের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়।

অবশেষে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির সাথে হাত মেলায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় অটোমান সাম্রাজ্যের সুর্য অস্তমিত হওয়ার পথে চুড়ান্ত ভুমিকা রাখে।

হাতছাড়া হতে থাকে তাদের অধীনে থাকা বিভিন্ন অঞ্চল। 

ইউরোপের বুলগেরিয়া,রোমানিয়া,মলদোভা, সার্বিয়া, মন্টেনেগ্রো অটোমান শাসন থেকে বেরিয়ে স্বাধীন হয়ে যায়। বেশ কিছু এলাকা রাশিয়ার কাছে হারায় অটোমানরা।  অদক্ষ সুলতানদের ক্ষমতায় আসা জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা, কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় সুলতানদের ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রায় ৬২০ বছরের বৃদ্ধ অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য কবর খুড়ছিলো তুর্কিদের স্বাধীনতা।

তুর্কিদের নেতৃত্বে ছিলো পশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত কামাল আতাতুর্ক। যে যুদ্ধে তুর্কিদের বিজয় ছিলো অটোমান দের বিলুপ্তির প্রধান কারণ। পতন ঘটায় মুসলিম খিলাফাতের। সেই সাথে উসমানীয় পরিবারের প্রায় ১২০ জন সদস্যদের সবাইকে তুরুস্ক থেকে বহি:স্কার করা হয়।

এছাড়াও অটোমানদের পতনের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ ছিলো।

  • পশ্চিমা দেশ থেকে পড়াশোনা করে আসা তুরস্কের তরুণরা চাইছিলো একটি গণতান্রিক পদ তৈরি করতে, তুরস্কে পদ হবে সাংবিধানিক। 
  • অতিরিক্ত কৃষি নির্ভরতা, বহু জাতি-গোত্রের শাসন এলাকা, অশিক্ষা, অন্যান্য দেশের শাসন পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিলো।
  • মুল পতন শুরু হয়েছিল সুলতান সুলেমানের পর থেকেই। তিনি যোগ্য শাসক হলেও রেখে যেতে পারেন নি মুসলিম উম্মার জন্য যোগ্য শাসক। 
  • অটোমান দের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সহায়তা করে রাশিয়া ও অস্টিয়া।
  • প্রবল পরাক্রমশালী সাম্রাজ্যের পতনের পেছনে ছিলো ইয়াং টর্কদের ভুমিকা।
  • বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদের উত্থান অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয়ের কারণ।
  • তাদের আয়ের উৎস ছিলো ভারত ও পূর্ব এশিয়া থেকে আসা মসলা ও সিল্ক বানিজ্যের ওপর আরোপ করা কর। কিন্ত ১৬ শতকে নতুন নতুন দেশ আবিষ্কার ও ভারত চীনের নতুন নৌপথ চালু হয় তখম অটোমান দের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যায়।
  • তারা ১৬৮৩ সালে দ্বিতীয় দফা ভিয়েনা দখল করতে গিয়ে পরাজিত হলে সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়।
  •  ইসলামি জীবন যাপনে অভ্যস্ত সুলতানরা পরবর্তী কালে বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। অটোমান দের পূর্বাঅঞ্চলে বাস করতো আমের্নিয়ান রা।  ফরাসি বিপ্লব আমের্নিয়ানদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। 

শেষ কথা

অটোমান ঐতিহ্য মুলত ইসলামিক জীবনধারা নির্ভর। 

সুলতান রা তাদের নাম কে দীর্ঘদিন মনুষের মনে গেথে রাখার জন্য তৈরি করে গেছেন অপরুপ সব স্থাপত্যে।  তার মধ্য আয়া সোফিয়া মসজিদ,নীল মসজিদ।

যা পৃথিবীর বুকে আজো সৌন্দর্য মন্ডিত করে আছে। অটোমানদের ইতিহাস মুসলমানদের গৌরব গাথা ইতিহাস।  

বিখ্যাত অটোমান সাম্রাজ্য পৃথিবীর বুকে টিকেছিলো প্রায় ছয় শতাব্দি এই দীর্ঘ সময় ৩৬ জন সুলতান ক্ষমতায় এসেছেন। অবশেষে ১৯২৩ খ্রীস্টাব্দে মুস্তফা কালাম আতাতুর্ক পাশার নেতৃত্বে আধুনিক প্রজাতান্ত্রিক তুরস্ক প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ৬ শতাব্দীর  অটোমান সাম্রাজ্যের শাসন আমল। ৫২লাখ সাবেক উসমানীয় সাম্রাজ্যের অঞ্চল গুলো বিভক্ত হয় ৪৯ টি স্বাধীন রাষ্ট্রে।

তথ্যসুত্র: উসমানীয় শাসনআমল 

লেখক: ড আলি মোহাম্মদ সাল্লাবি

আরও পড়তে পারুন – ভিয়েতনাম যুদ্ধ

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents