Dreamy Media BD

হারকিউলিস: মানুষ হয়েও যিনি দেবতা

হারকিউলিস

আজকে আমরা এমন এক গ্রীক বীর সম্পর্কে জানব যার পিতা ছিলেন একজন দেবতা এবং মাতা ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ। এই বীর শিশুকালে তিনি এমন অসম্ভব কাজ করেন যা দেখে আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশী সবাই অবাক হয়ে যান। এবং জ্ঞানীগুণীরা ভবিষ্যবাণী করে বলেন এই শিশু একদিন ইতিহাসের নাম করা বীর হবে। এ আর্টিকেল পাঠের মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো হারকিউলিস কিভাবে ছোট থেকে আস্তে আস্তে দুঃসাহসী হয়ে উঠেছেন। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা আরো জানতে পারবো হারকিউলিস কিভাবে অসম্ভব কৃত বারটি অভিযানকে খুব সহজেই সম্পূর্ণ করেন। চলুন আমরা জেনে নিই হারকিউলিসের জীবনের ইতিহাস।

হারকিউলিস এর জন্ম পরিচয়

পৌরাণিক রোমান বীর ও দেবতাদের মধ্যে একজন হলেন হারকিউলিস। গ্রিক অর্ধ দেবতা ও বীর হেরাকিলিস এর রোমান সংস্করণই হচ্ছে হারকিউলিস। হারকিউলিস বিখ্যাত ছিল তার ধ্রুপদী পুরাণ বিদ্যায় এবং শারীরিক শক্তি ও দুর্গম অভিযাত্রার জন্য। হারকিউলিস ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ একজন চরিত্র, যার ফলে কবি এবং সাহিত্যিকরা তাকে নিয়ে ইচ্ছামতো চিত্রায়িত করতে পারেন।

হারকিউলিস হচ্ছে দেবরাজ জিউসের পুত্র। তার মায়ের নাম হচ্ছে আক্লমিনা। তার মা ছিল একজন মানুষ। জীউশের সন্তান হওয়ার কারণে হারকিউলিসের জীবনের শেষ পর্যন্ত হীরা তাকে কোনদিনই ক্ষমা করেননি। হেরা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য দুটি সাপ পাঠান হারকিউলিসকে হত্যা করার জন্য, তখন হারকিউলিস ছিল শিশু। অবাক করা বিষয় হলো হারকিউলিস শিশু হওয়া সত্ত্বেও তিনি ওই বিষাক্ত সাপ দুইটির গলা চেপে মেরে ফেলল। তখন থিবিসের একজন অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা, আক্লমিনাকে বলেছিলেন যে এই শিশু একদিন হবে মানবজাতির গর্ব। হারকিউলিস মাত্র ১৮ বছর বয়সে একাই একটি বিশাল সিংহকে মেরে ফেলেন।

জন্মেই ট্র্যাজেডি

গ্রিক দেবতাদের রাজা জিউসের কামুক চরিত্রের কথা কমবেশি সবাই জানে। সেই জিউসই একবার থিবিসের মানবী আল্কমেনির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নেমে আসেন পৃথিবীতে। কৌশলে আল্কমেনির স্বামী অ্যাম্ফিট্রিয়নের রূপ ধরে রাত কাটান। কথিত আছে, এসময় জিউস একটি রাতকে তিন রাতের সমান দীর্ঘ করে নেন। আল্কমেনি সরল বিশ্বাসে সময় কাটালেও অ্যাম্ফিট্রিয়ন যুদ্ধ থেকে ফেরত এসে যখন মিলিত হতে চান, তখনই সন্দেহ জাগে আল্কমেনির। এর ফলস্বরুপ জন্ম হয় যমজের– জিউসের ঔরসে হারকিউলিস বা হেরাক্লিস এবং অ্যাম্ফিট্রিয়নের ঔরসে ইফিক্লেসের। এই আল্কমেনি আবার বীর পারসিয়াসের নাতনি, যার পিতাও ছিলেন জিউস।

তবে জিউসের স্ত্রী হেরা জানতে পেরেছিলেন সবটাই। তাঁর রোষ দৃষ্টি থেকে বাঁচাতে আল্কমেনি এক বনে ফেলে আসেন শিশু হারকিউলিসকে। তাঁর বিশ্বাস ছিল, জিউস তাঁর পুত্রকে রক্ষা করবেন। সে সময় সেই বনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন হেরা এবং তাঁর সহচরী অ্যাথিনি। সদ্যোজাত শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে করুণায় আর্দ্র হয়ে ওঠে হেরার মন। স্তন্যদানের জন্য তাকে কোলে নিলেও শিশুটির সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেই আল্কমেনির কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি। জিউসের চালে এর মাঝে হেরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেন নি এই শিশুই তাঁর স্বামীর কামনার ফল।

কিছুদিন বাদেই হেরা জানতে পারেন সব। তখন সেই শিশুকে হত্যার জন্য পাঠান দুই বিষধর সাপকে। অথচ শিশু হারকিউলিসের হাতে নিমিষেই বধ হয় সাপ যুগল। এর পরপরই অ্যাম্ফিট্রিয়ন পরামর্শ করেন অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা টিরেসিয়াসের সাথে। তাঁর মাধ্যমে অ্যাম্ফিট্রিয়ন জানতে পারেন, জিউসের ঔরসে এই শিশুর জন্ম হয়েছে দিগ্বিজয়ী হবার জন্যই। অ্যাম্ফিট্রিয়নের নির্দেশনায় জ্ঞানে–গুণে বড় হতে থাকে হারকিউলিস। রথচালনা, মল্লবিদ্যা, ধনুর্বিদ্যা, সঙ্গীত সবক্ষেত্রে হয়ে উঠল অপ্রতিরোধ্য।

আরো পড়ুন – আর্টেমিস

হারকিউলিস এর উপর হেরার চক্রান্ত

মানবতা ও গুণের কারণে হারকিউলিসের নাম ডাক ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত গ্রিস ও দেবতাদের রাজ্যে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না। থিবিসের এক যুদ্ধে অ্যাম্ফিট্রিয়ন প্রাণ হারান। এরপর হারকিউলিস একাই সেই যুদ্ধে জয়ী হন। তারপর থিবিস এর রাজা খুশি হয়ে তার দুই কন্যার বিয়ে দেন হারকিউলিস ও ইফেক্লিস ভ্রাতৃদ্বয়ের।

এরপর হেরা তার কুটকৌশল সুযোগ বুঝে একদিন প্রয়োগ করলেন। প্রথমে তিনি হারকিউলিসের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালালেন। তারপরে তিনি তাকে সাময়িক সময়ের জন্য মানসিকভাবে অপ্রকৃতস্থ করে দিলেন। এরপর হারকিউলিস উন্মাদ হয়ে নিজের স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করেন। এই হত্যাযজ্ঞ আরও দীর্ঘ হতে পারতো। কিন্তু অ্যাথেনার পাথরের আঘাতে হারকিউলিসের জ্ঞান ফিরে। তারপর তিনি যখন অবচেতন হলেন এবং জানতে পারলেন তিনি নিজেই উন্মাদনা হয়ে তার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করেছেন। তখন তিনি রাগে দুঃখে অনুশোচনায় আত্মহত্যা করার পথ বেছে নেই।

এ সময় তার এক জ্ঞাতা ভাই তাকে পরামর্শ দেন দেবতা অ্যাপোলোর শরণাপন্ন হওয়ার। তারপর হারকিউলিস ছুটে যান ডেলফির মন্দিরে। সেখানে এক দৈববানীর মাধ্যমে নির্দেশ আসে বার রকমের বিপদজনক কাজ করতে পারলেই তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে। হারকিউলিসের এই .১২ টি কাজকেই হারকিউলিসের চরম বলা হয়।

হারকিউলিসের নেমিয়ান সিংহের সাথে লড়াই
হারকিউলিসের নেমিয়ান সিংহের সাথে লড়াই

হারকিউলিসের নেমিয়ান সিংহের সাথে লড়াই

হারকিউলিসের প্রথম কাজ ছিল নেমিয়ার অতিকায় সিংহের চামড়া রাজা ইউরিস্থেসের কাছে হস্তান্তর করা। কিন্তু সেই চামড়া সংগ্রহের পূর্বে অবশ্যই সিংহের সাথে লড়াই করে তাকে হত্যা করতে হবে।নেমিয়া নামক অঞ্চলে ভয়ালদর্শন এই সিংহ প্রায়ই শহর থেকে নারীদের তুলে নিয়ে যেতো। আর যখনই কোন বীর তাকে উদ্ধারে বনে সেই সিংহের গুহায় যেতো তখনই ঘটতো আরেক অঘটন। হাজার হাজার বীর যোদ্ধারা এই সিংহর সাথে লড়াই করে প্রাণ হারালেও কেউ এই সিংহকে একটি আচরণ দিতে পারেনি।

কিন্তু হারকিউলিস প্রথমবারেই বধ করে ফেলেন এই দৈত্যকে। গুহার মুখ বন্ধ করে প্রথমে একে আটক করে নেন। এরপর ক্রমাগত মুগুরের আঘাতে ধরাশায়ী করেন বিরাট এই জন্তুকে। তবে এর চামড়া ছাড়ানোর কাজটা সহজ ছিলনা মোটেও। পরে দেবী অ্যাথেনার বুদ্ধিতে সিংহের নখর দিয়ে ছিঁড়ে নিয়ে আসেন সেই চামড়া আর তা প্রদান করেন রাজ দরবারে।

হারকিউলিসের ভয়ংকরী হাইড্রা

এরপরের অভিযানটি ছিল পাতালপুরীর নয় মাথা বিশিষ্ট হাইড্রা বধের। এই হাইড্রার নিবে, তার সাথে সাথেই সেখানে আরও দুই মাথা গজিয়ে উঠবে। এই অভিযানে হারকিউলিস তার ভ্রাতুষ্পুত্র লোলাউসকে সাথে নিয়েছিলেন। হারকিউলিস এই বিষাক্ত হাইড্রার একেকটা মাথা তরবারির আঘাতে কেটে নেবার সাথে সাথেই লোলাউস তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতো, ফলে নতুন মাথা গজাবার সুযোগ আর মেলেনি। শেষমেশ মাঝের মূল মাথা কেটেই বধ হয় অন্ধকার রাজ্যের এই প্রহরীর।

হারকিউলিসের কৌশলে হরিণ জয়

‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই।‘ এই কথাটাই যেন হারকিউলিসের তৃতীয় অভিযানে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। শিকারের দেবী ডায়নার প্রিয় পোষ্য হরিণকে তুলে নিয়ে আসাই ছিল তিন নাম্বার কাজ। এই হরিণের শিং ও খুর ছিল সোনার। ইউরিস্থেস অবশ্য এই নির্দেশ দেবার আগে বেশ হিসাব কষে নিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, যে বা যারা ডায়নার প্রিয় হরিণকে তুলে আনার চেষ্টা করবে তাকেই হত্যা করবেন তিনি।

এক বছরের প্রচেষ্টার পর হারকিউলিস অবশেষে আর্টেমিসিয়াসের এক ঝর্ণার পাশ থেকে হরিণটিকে তুলে আনতে সমর্থ হন। তবে পথিমধ্যে ডায়নার সাথে দেখা হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দেবী। তখন গ্রিক এই বীরের সমস্ত কাহিনী শুনে অনুমতি দেন হরিণটিকে নিয়ে যাবার।

হারকিউলিস এর দানবী ও শুকুর বধ

ইরিম্যান্থিয়া নামক এলাকার মানুষজন তখন সব সময় আতঙ্ক থাকতো এক মানুষ খেকো শুকুরের জ্বালায়। সেই মানুষ খেকো শূকরকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হল হারকিউলিসকে। তারপর হারকিউলিস সেই শূকরকে হত্যার জন্য অনেক গবেষণা করলেন এবং তার বন্ধু সেন্টারের পরামর্শ অনুযায়ী শীতকালে রওনা হলেন ইরিম্যান্থিয়া নামক এলাকায়। তার গবেষণা এবং বন্ধুর পরামর্শ অনুযায়ী সে পর্বতের কাছে গিয়ে খুব সহজে পেয়ে গেলেন সেই কুখ্যাত মানুষ খেকো শূকরের সন্ধান। সেই শূকরকে তারা করতে করতে কৌশলে তাকে তুষারাবৃত অঞ্চলে নিয়ে যান। সেখানে তার সাথে কিছুক্ষণ যুদ্ধের পর তাকে পাকড়াও করতে সমর্থ হন।

হারকিউলিসের আস্থাবলে চমক

হারকিউলিসের পঞ্চম যে কাজটি ছিল সেটি অত্যন্ত কৌশল এর কাজ ছিল। তার পঞ্চম কাজটি হলো অলিম্পিয়াড রাজ্য এলিসের রাজার আস্তাবল ও গোয়াল ঘর পরিষ্কার করার কাজ। বিচ্ছিরি গন্ধযুক্ত এই আস্থাবলটি যেখানে .৩০ বছর ধরে কোন পরিষ্কার করা হয়নি এবং প্রায় তিন হাজার পশুর নোংরা এখানে ছিল।.৩০ বছর ধরে অপরিষ্কার এই গোয়াল ঘরটির হারকিউলিস এর উপর নির্দেশ আছে একদিনের মধ্যে পরিষ্কার করার।

এই কাজের জন্য হারকিউলিস অনেক চিন্তা ভাবনা করে। তারপর তিনি মাথা খাটিয়ে রাজ্যের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ও আলফিউস নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে এই আসতা বলের ভিতর দিয়ে জল বইয়ে দেন। ব্যাস! মুহূর্তের মধ্যেই সব নোংরা ময়লা পরিষ্কার এবং হারকিউলিসও তার কাজে সফল। এই অসামান্য কাজের জন্য রাজা অজিয়াস তাকে তার সমস্ত পশুর এক দশমাংশ উপহার দেন।

হারকিউলিসের স্টিম্ফ্যালিয়ার ঘাতক পাখিকে হত্যা

গ্রিসের স্টিম্ফ্যালিয়াই সেই সময় বাস করত একদল মানুষ হত্যাকারক বিশাল আকৃতির পাখি। এই পাখিগুলো আবার ছিল দেবতা জিউস আর হেরার পুত্র এরিসের খুবই পছন্দের। কিন্তু হারকিউলিসের উপর দায়িত্ব পড়ে মানুষ হত্যাকারী এই দুষ্ট পাখিদের বিনাশ করার। এই কাজের জন্য দেবী অ্যাথেনা হারকিউলিসকে ক্রোটালা দেন। এই ক্রোটালা বাজিয়েই হারকিউলিস পাখিগুলোকে ছত্রভঙ্গ করে দেন এবং ধনুকের মাধ্যমে পায়ের গুলোকে হত্যা করে রাজ দরবারে নিয়ে আসেন।

হারকিউলিস এর দানবী ও শুকুর বধ

হারকিউলিসের প্রতিপক্ষ যখন ক্রেটান ষাঁড়

সে অনেককাল আগের কথা। সমুদ্রদেব পোসাইডন রাজা মাইনসকে উপহার দেন এক ক্রেটান ষাঁড়। বলি দেবার কথা থাকলেও মাইনস বরখেলাপ করেন শপথের। ফলে রানি প্যাসিফি আর ষাঁড়ের মিলনের ফলে জন্ম নেয় বিখ্যাত দানব মিনোটর।

তারপর রাজা ইউরিস্থিউস এই ষাঁড়কে লড়াইয়ে হারানোর কাজ দেন। হারকিউলিস তারপর এই ষাঁড়কে লড়াই করে হারিয়ে রাজার কাছে নিয়ে আসেন।

হারকিউলিসের ডায়োমেডিসের ঘোড়ারা

হারকিউলিসের অষ্টম কাজ ছিল ডায়োমেডিসের চার নরখাদক ঘোড়াকে তুলে নিয়া আসা। একাজে তাঁর বন্ধু অ্যাবডরাসকে সাথে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রণকৌশল প্রয়োগের আগেই ডায়োমেডিস লেলিয়ে দেয় তাঁর ঘোড়াদের। ফলে মারা পড়েন অ্যাবডরাস।

ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে তৎক্ষণাতই ডায়োমেডিসকে হত্যা করেন হারকিউলিস এবং মালিকের মাংস খেতে ঘোড়াগুলোকে বাধ্য করেন। এ ঘটনার পর ঘোড়াগুলো বশ্যতা স্বীকার করে নেয় এই মহান বীরের।

হারকিউলিসের হিপোল্যাটারের কোমরবন্ধনী

অ্যামাজনের দুর্ধর্ষ যোদ্ধাদলের রানি হিপোলিটা। যুদ্ধে তাঁর অসম সাহসিকতার ফলস্বরুপ এরিসের কাছ থেকে একটি কোমরবন্ধনী উপহার পান। নবম অভিযানে সেই অলংকারই নিয়ে আসার দায়িত্ব বর্তায় হারকিউলিসের ওপর।

হিপোলিটার কাছে গিয়ে সমস্ত কাহিনী খুলে বললে নিঃসংকোচে অলংকার খুলে দেন হিপো। কিন্তু এর মাঝেই হেরা এক যোদ্ধার সাজ নিয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দেন গুজব। ‘হারকিউলিস হিপোলিটাকে খুন করতে এসেছে।‘- এই গুজবে কান দিয়ে তাই হইহই রবে যোদ্ধাদল এগিয়ে আসতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হারকিউলিস। অবশেষে হিপোলিটাকে আদতেই খুন করে পালিয়ে আসতে হয় তাঁকে। আর সাথে তো সেই কোমরবন্ধনী আছেই।

হারকিউলিসের গেরিয়নের দুর্ধর্ষ পাল

পৃথিবীর আরেক প্রান্তের এরিথিয়া। সেখানেই বাস গেরিয়ানের দুর্ধর্ষ ষাঁড়ের পাল। তবে পাল নিয়ে যতটা না ভয় তার চেয়ে এর রক্ষক গেরিয়ন (তিন জোড়া মাথা ও তিন জোড়া পা ওয়ালা দানব) ও দুই মাথাওয়ালা শিকারি কুকুর এরিথাসকে নিয়ে।
দশম অভিযানে প্রবল যুদ্ধ ও রক্তপাতের পর হারকিউলিস বধ করেন এই দুই দৈত্যকে। ফলে লালচে ষাঁড়ের দলের মালিকানা হয় তাঁর। ইউরিস্থিউসের দরবারের দিকে রওনা হলে পোসাইডনের দুই পুত্র এবং এরিক্সের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তাঁদেরও পরাভূত করে ষাঁড়ের পাল অর্পণ করেন ইউরিস্থিউসের সামনে।

এরপরই ইউরিস্থিউস বাড়তি দুই কাজের নির্দেশ দেন হারকিউলিসকে। কারণ হিসেবে দেখান, যেহেতু হাইড্রা হত্যায় লোলাউস সাহায্যকারি ছিলেন অতএব এতে হারকিউলিসের বীরত্ব সামান্যই। এছাড়াও অজিয়াসের আস্তাবল পরিষ্কার করার ফলে পশু উপহার নেয়াও তাঁর অনুচিত ছিল।

হারকিউলিসের আপেল চুরি

জন্মের শুরু থেকেই হেরার প্রতিপক্ষ হারকিউলিস। তবে এবারের কাজটা সেই যুদ্ধ যুদ্ধ রবে বাড়তি ঘি ঢেলে দেয়। জিউস আর হেরার বিয়েতে উপহার পাওয়া তিনটি স্বর্ণ আপেল নিয়ে আসার আদেশ বর্তায় তাঁর উপর। হেস্পেরাইডিসের মায়াকাননে রাখা আপেল নিয়ে আসতে বেশ কাঠখড়ও পোড়াতে হয়েছিল।

হারকিউলিস প্রথমেই নেরেউসের কাছে উপদেশ চান। নেরেউস তাকে বলেন, ককেশাসে বন্দি থাকা প্রমিতিউসকে মুক্ত করতে। তারপর প্রমিথিউস মুক্ত হলে তাকে এটলাসের শরণাপন্ন হওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর এই এটলাসই হারকিউলিসকে স্বর্ণের আপেল চুরি করতে সহায়তা করে।

হারকিউলিসের আটক সারবেরাস

ঈর্ষাকাতর ইউরিস্থিউস ততদিনে টের পেয়ে গেছেন যে, হারকিউলিসকে কোনভাবেই আটকানো সম্ভব নয়। তাই তাকে তার সর্বশেষ অর্থাৎ দ্বাদশ কাজ দিলেন পাতালপুরের রক্ষক অর্থাৎ তিন মাথাওয়ালা কুকুর সারবেরাসকে জীবিত তুলে আনার দায়িত্ব দেন।

হারমিস ও অ্যাথেনার সাহায্যে সহজেই পাতালরাজ হেডিসের সামনে এসে দাঁড়ান যোদ্ধা হারকিউলিস। সবকিছু শুনে হেডিস তাঁকে অনুমতিও দেন কুকুরটিকে নিয়ে যাবার। তবে শর্ত একটাই, কোনভাবেই আঘাত করা যাবেনা জন্তুটিকে। কৌশলে স্রেফ গলা চেপে ধরেই কুকুরটিকে পরাজিত করে ফেললেন হারকিউলিস। আর কাঁধে করে নিয়ে গেলেন ভাই ইউরিস্থিউসের দরবারে।

হারকিউলিসের অপ্রতিরোধ্য চরিত্র দেখে ভীত হয়ে পড়েন ইউরিস্থিউস। তখনই তিনি অনুরোধ করেন দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে। এভাবেই সমাপ্ত হয় মহীয়ান এই গ্রিক লড়াকুর ১২ অভিযান। এরপরেও নানান সময়ে অসংখ্য অভিযানে জড়ান তিনি। গ্রিক পুরাণের মহানায়ক কি  এক অভিযানেই আটকে থাকতে পারেন, বলুন?

হারকিউলিসের মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার কাহিনী

এভাবেই শেষ হয়েছিল হারকিউলিসের জীবনের বারটি অভিযান। শুধু এই অভিযান গুলোই নয় তিনি তার জীবনে আরও অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সেগুলো তো সফল হয়েছেন। তিনি তার জীবনভ ট্রয়ের যুদ্ধসহ বিভিন্ন যুদ্ধে ব্যস্ত থেকেছেন। তারপর তিনি এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ভয়ংকর এক যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়লেন তিনি। তারপর তিনি চিতা তৈরি করেন তার ওপর বসলেন। তারপর চিতায় আগুন জ্বলা আরম্ভ করল এবং তিনি মৃত্যুর মাধ্যমে স্বর্গে গেলেন। তারপর দেবতারা তার বীরত্ব শ্রেষ্ঠ ও নিষ্ঠাই মুগ্ধ হন। তখন তারা তাকে অমরত্ব দিলেন এবং তিনি মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার ক্ষমতা অর্জন করলেন।

হারকিউলিসের জীবনী থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায়

হারকিউলিস এর জীবনী থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কখনো শ্রম এবং নিষ্ঠ বান চরিত্র বৃথা যায় না। এর ফল আমরা একদিন না একদিন পাবই। তাই কখনোই শ্রমকে অবহেলা করতে হয় না। আর হারকিউলিস তার জীবনের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি তার পরবর্তী জীবনের স্বর্গের ঠিকানা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার পূর্ণতা অর্জন করেন।

 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents