Dreamy Media BD

চ্যানেল আইল্যান্ডের-জার্সি দ্বীপ : ভ্রমন পিপাসুদের স্বর্গরাজ্য

জার্সি দ্বীপ

জার্সি দ্বীপে দেখতে এবং ভ্রমণ করতে কিছু আশ্চর্যজনক জিনিস আছে যা আপনাকে সত্যিই অভিভূত করবেই। ঠিকিই ধরেছেন আজ যুক্তরাজ্যের চ্যানেল আই এর জার্সি দ্বীপ নিয়ে আলোচনা করবো বলেই এসেছি। আপনি হয়তো আপনার প্রিয়জনের সাথে একটি রোমান্টিক মুহূর্ত কাটানোর জন্য কর্ম বিরতিতে থাকতে চাইছেন, অথবা সবাইকে নিয়ে পারিবারিক ছুটি কাটানোর জন্য বাচ্চাদের নিয়ে অবসর সময়টাকে উপভোগ করতে চাইছেন তাহলে জার্সি দ্বীপ আপনার ভ্রমণের জন্য পারফেক্ট চয়েজ হবে।

দুটি ক্রাউন নির্ভরতা বেইলি উইকস অফ জার্সি গার্নসি নিয়ে গঠিত চ্যানেল আই দ্বীপপুঞ্জ।কয়েকটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই দ্বীপপুঞ্জটি, যার মধ্যে আছে সার্ক, হার্ম, গার্নসির বেইলি উইকস গার্নসি,অ্যাল্ডারনি। নরম্যান্ডির ফরাসি উপকূলে অবস্থিত চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ হল ইংলিশ চ্যানেলের কিছু ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপ।

এই ছোট ছোট দ্বীপগুলোর  মধ্যে রয়েছে জার্সি, গার্নসি, অ্যাল্ডারনি, সার্ক, হার্ম, জেঠো, ব্রেকহো এবং লিহোউ নামের দ্বীপপুঞ্জের সমাহার। এগুলি কিন্তু যুক্তরাজ্যের মধ্যে কোনো একটি অংশ না তারপরও কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এটার মূল্যায়ন রক্ষা করা হয়।

চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ যতগুলো দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত তার মধ্যে বৃহত্তম দ্বীপ হলো জার্সি। জার্সি লম্বায় মাত্র ৮ কিমি  এবং চওড়ায় ১৪.৫ কিমি এবং ১২টি প্রশাসনিক জেলা বা প্যারিশ ল্যান্ডস্ক্যাপ নিয়ে গঠিত। টেকটোনিক শক্তি দ্বারা তৈরি করা এই দ্বীপের সমৃদ্ধ ল্যান্ডস্ক্যাপ, যা প্রায় পাঁচ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্র তলদেশ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছিল। জার্সি ইংলিশ চ্যানেলের দক্ষিণে অবস্থানের কারণে, এটি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। জার্সিতে কখনো কখনো ৪০ফুটের বেশি জোয়ার আসে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জলোচ্ছ্বাস হয় রেকর্ড রয়েছে।

আরো পড়ুন – দার্জিলিং ভ্রমণ

জার্সিতে আকর্ষণীয় কি আছে?

বড় বড় ঢেউ: জার্সিতে দেখার মতো অনেক কিছুই আছে। তার মধ্যে রয়েছে যেটা দেখার জন্য সমুদ্র পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় জমতে দেখা যায় তা হচ্ছে আকাশচুম্বী বিশাল ঢেউ। এক একটা ঢেউ ৪০ ফুটেরও বেশি বড় বড় হয়ে থাকে। জার্সি একটা ছোট দ্বীপ মনে হতে পারে কিন্তু উচ্চ এবং বড় জলোচ্ছ্বাসের জন্য এটি বিশ্বের কাছে সেরা হতে পারে।

এর বড় বড় জলোচ্ছাস যখন তীরের গতিতে পাড়ে আছড়ে পড়ে তখন এটা অনেক দূর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত ঢেউ সৃষ্টি করে। এর বড় বড় ঢেউ জার্সিকে এক পঞ্চমাংশ সংকুচিত করে ফেলে। দ্বীপটি দৈর্ঘ্যে ৯ মাইল আর প্রস্থে ৫ মাইল কিন্তু সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ যখন ওঠে তখন এখানে ঢেউয়ের পানিতে অনেক দর্শণার্থী পাড়ে বসে সমুদ্র স্নান করে।

অবিশ্বাস্য বড় বড় এই জলোচ্ছ্বাস আগন্তুক পর্যটক কিংবা স্থানীয়দের মনে খুব আনন্দের সৃষ্টি করে। অনেকে এই সমুদ্রের পাড়ে আসে সমুদ্রের বিশুদ্ধ বাতাস খেতে এবং সমুদ্রের পানিতে স্কুবা ডাইভিং করতে। যাদের বেশি পানিতে ভয় আছে তারা অল্প পানিতে জলকেলি করেই আনন্দ উপভোগ করেন। ইংলিশ চ্যানেল এর জার্সিতে ঘুরতে এলে সমুদ্র স্নান অবশ্যই করতে আসবেন।

সৈকত: জার্সির সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে এর অপূর্ব সৌন্দর্যে আপনি অবশ্যই মুগ্ধ হতে বাধ্য হবেন। জার্সি দ্বীপপুঞ্জে আপনি আপনার মনের মত জায়গাটির সন্ধান পেতে পারেন। গ্রীষ্ম মন্ডলীয় বায়ুতেই যে শুধু সমুদ্র সৈকতে যেতে হবে তেমনটা নয় জার্সির নিজস্ব বায়োলুমিনেসেন্স কলোনি রয়েছে যা দ্বারা চাঁদের আলোতে সমুদ্র সৈকত দর্শন করতে কোন সমস্যা না হয়।

দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীদের প্রতিবছর এই সমুদ্র সৈকতে বড় বড় ঢেউয়ের অপূর্ব দৃশ্য দেখার জন্য আগমন ঘটে। সমুদ্রের নির্মল বায়ু সেবন এবং স্ফটিক স্বচ্ছ ফিরোজা রঙের জলের উপরে স্কুবা অনেকেরই বারবার এখানে আসার প্রবল ইচ্ছা সৃষ্টি করে।

পর্যটন বিজ্ঞাপনের জন্য: পর্যটন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে জার্সিতে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রৌদ্রজ্জ্বল স্থান হিসেবে দাবি করা হয়। এটার যথেষ্ট কারণ আছে,‌ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানের চেয়ে জার্সিতেই সবচেয়ে বেশি সূর্যালোক থাকে, যদি সময় সীমা হতে পারে ৩৪২ ঘণ্টারও বেশি তাহলে বুঝতেই হবে এখানের পর্যটন শিল্প গুলো কতটা উন্নত মানের তৈরি হয়েছে ‌।

২০১১ সালের দিকে জার্সিকে নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রচার করার সময় বলা হয়েছিল জার্সি বৃটেনের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম স্থান এটা নিয়ে বিতর্কিত হয়েছিল।

চ্যানেল আইল্যান্ডের-জার্সি দ্বীপ

জার্সি দ্বীপপুঞ্জের চিড়িয়াখানা:

১৯৫৯ সালে প্রকৃতিবিদ ও লেখক জেরাল্ড ডুরেল প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জার্সি চিড়িয়াখানাটি। যেটির নাম ” ডুরেল ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক” । জার্সি চিড়িয়াখানাটি একটি প্রাণীবিদ্যা উদ্যান। চিড়িয়াখানা টি ডুরেল ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

প্রতিবছর এই চিড়িয়াখানাটিতে আনুমানিক ১,৬৯০০০হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। জার্সিতে প্রতিবছর পর্যটন বাণিজ্যের সাথে তাল মিলিয়ে দর্শক সংখ্যা পরিবর্তিত হয়ে থাকে। দৃষ্টিনন্দন এই পার্কটিতে অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। চিড়িয়াখানার প্রাণী গুলোকে দর্শকদের অনেক কাছ থেকে দেখার জন্য পার্কটির মধ্যে অনেক সুব্যবস্থা করা আছে।

অনেক ধরনের পশু পাখির ভাস্কর্য দিয়ে সাজানো রয়েছে পার্কটির মধ্যে দেখে মনে হবে যেন সত্যিকারের প্রাণীটি আপনার সামনে উপস্থিত হয়ে আছে। এখানে এই সকল প্রাণীগুলোকে কোন বাঁধাধরা খাঁচার মধ্যে রাখা হয়নি প্রকৃতির মধ্যে ছেড়ে দিয়ে প্রকৃতি উদ্যানের সাথে মিশে গেছে প্রাণীগুলো। খোলা প্রকৃতির মধ্যে বেড়ানো এই সকল প্রাণীগুলোকে দেখতে প্রতিবছর হাজার হাজার দর্শনের সমাগম ঘটে।

জার্সির ডুরেল চিড়িয়াখানাটি দেখার মতো সুন্দর একটা প্রাণী উদ্যান। ওরাং উটান, সুমাতেরা , গরিলা ইত্যাদি সহ অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণী আছে। এখানের প্রবেশ মূল্য  জনপ্রতি 18 পাউন্ড করে ।  বাচ্চাদের জন্যও বড় পার্ক আছে এই চিড়িয়াখানার মধ্যে যেখানে গিয়ে বাচ্চারা অনেক রাইডস উঠতে পারে।

আপনি যদি এই চিড়িয়াখানা মধ্যেকার দৃশ্য দেখতে যেতে চান এখানে গেলে আপনি পিকনিকও করতে পারেন। আপনি যদি বিখ্যাত দ্য ডুরেল সিনেমার ভক্ত হন তবে আপনাকে অবশ্যই এই চিড়িয়াখানাটি একবার হলেও দেখতে যেতে হবে। জার্সি পরিদর্শনে এলে আপনাকে অবশ্যই একবার হলেও চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করতে আসা উচিত।

এলিজাবেথ ক্যাসেল:

এলিজাবেথ ক্যাসেল হল একটি বৃহৎ দুর্গ এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। জার্সি দ্বীপ এর সেন্ট হেলিয়ারের প্যারিশের মধ্যে একটি অত্যন্ত বড় জোয়ারের দ্বীপে এই ক্যাসেলটির অবস্থান। ১৬ শতকে এই বিখ্যাত দুর্গটি নির্মাণ শুরু হয়েছিল। যখন কামানের শক্তির ভয়ে ছিল দ্বীপটি। যে মন্ট অরগুইলে রক্ষার জন্য বিদ্যমান দুর্গটিকে দ্বীপ এবং সেন্ট বন্দর রক্ষার জন্য অপর্যাপ্ত ছিল মনে করা হয়েছিল‌।

এই দূর্গটি নির্মাণ করা হয় পুনরায়।। হেলিয়ার মধ্যে কামান দিয়ে সুসজ্জিত ছিল অগনিত জাহাজ বিবৃতির রক্ষা করার জন্য । এই সকল জাহাজ দ্বারা আক্রমণের জন্য দুর্বল ছিল ধারণা করেছিলো। রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যে দুর্গটি নির্মাণ করা হয়েছিল তা যথেষ্ট মজবুত এবং শত্রুদের থেকে প্রতিহত করার জন্য স্বয়ংক্রিয় ছিল।

এটির নামকরণ করা হয়েছে প্রথম রানী এলিজাবেথের নামে। যিনি প্রাসাদটি তৈরি হওয়ার সময় ইংল্যান্ডের রানী ছিলেন। দুর্গটির নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রথম এবং সবচেয়ে সুস্পষ্ট ধারণা করা হয় এটি তখনকার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে খুব মজবুত করে নির্মাণ করা হয়েছিল

সেন্ট ব্রেলেড সৈকত

সেন্ট ব্রেলেড সৈকত:

স্থানীয়রা সবসময় সেন্ট ব্রেলেডকে পর্যটকের জন্য আনন্দময় সৈকত হিসাবে চেনে। যা এত ছোট এলাকায় অবস্থিত হলেও এখানে দর্শক সমাগমের কোন কমতি হয় না। দর্শক সমাগম দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ আপনি যদি ছুটিতে জার্সিতে ভ্রমণ করতে চান তবে এখানে আনন্দদায়ক এবং আরামপ্রদ থাকার জায়গার জন্য রুচিসম্মত হোটেলের ব্যবস্থা করা আছে।

অনেক দূর দূরান্তে থাকা দর্শনার্থী সপ্তাহান্তে এখানে এসে তাদের অবসর সময় কাটিয়ে যান। এখানে এলে যা সত্যিই দুর্লভ আনন্দ ভ্রমণের উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে আপনাকে। এটার কারণ সেন্ট ব্রেলেডস অনেক বেশি দর্শকদের আকর্ষণ করে তার কারণ হল, এর সুন্দর নরম ও সাদা বালুকাময় সৈকত। সারা সৈকতে যেন সাদার ছড়াছড়ি।

এটি সাজানো হয়েছে সুন্দর বাগান দ্বারা। বিভিন্ন রকমের ফুলের গাছ সারিবদ্ধভাবে লাগানো এবং প্রায়শই গ্রেট ব্রিটেনের শীর্ষ ৩টি সৈকতের মধ্যে অন্যতম নাম দেওয়া এই সৈকতটি দর্শকের আগমনে জমজমাট থাকে। একটি বিশাল জোয়ারের পরিসর তৈরি করে এই সৈকতটি। এমনকি একটি কর্ম ব্যস্ত দিনকেও ছাড়িয়ে, হলিডে তে ছুটি কাটাতে এখানে দর্শকদের মেলা বসে। খেলার জন্য প্রচুর জায়গা রয়েছে সৈকতটিতে, তবে যদি এটি খুব বেশি ভিড় হয় সৈকতে, ঠিক পাথরের মুখের চারপাশে সাধারণত কিছুটা শান্ত থাকে ।

আপনি যদি এখানে বিশ্রামের জন্য সময় কাটানোর পরিকল্পনা করে থাকেন। তাহলে আপনি ঠিক সৈকতে সান লাউঞ্জার, উইন্ডব্রেক এবং প্যারাসল ভাড়া নিতে পারেন যেটা আপনার সুবিধা হয়। অথবা আপনি যদি আরও দুঃসাহসিক বোধ করেন তবে আপনি প্যাডেল বোর্ড, কায়াক বা কলা বোটে জলে নেমে যেতে পারেন।

জার্সির কায়াক অ্যাডভেঞ্চারের সাথে আপনি আপনার পছন্দ মতন গাইডেড নিতে পারেন। কায়াক গাইডেড,যারা আপনাকে উপকূলের চারপাশের খাঁড়িগুলো ঘুরে দেখাতে সাহায্য করবে। এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণী সম্পর্কে শিক্ষা আপনাকে ধারণা দেবে।

ট্রিপ অ্যাডভাইজার রিভিউ অনুসারে, প্যারিশের সবচেয়ে জনপ্রিয় আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি হল সেন্ট ব্রেলেড চার্চ দর্শন। এবং এর ফিশার ম্যানস চ্যাপেল যা চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি বেঁচে থাকা মধ্যযুগীয় চ্যাপেল গুলির মধ্যে অন্যতম একটি। তারা একটি আসল কাঠ দ্বারা তৈরি গির্জার জায়গা দখল করে যা সেন্ট ব্রেলেড নিজেই ষষ্ঠতম শতাব্দীতে তৈরি করেছিলেন।

উপসাগরে আরো আপনার জন্য অপেক্ষা করবে জার্সির বিখ্যাত খাবার, আপনি কখনই দুর্দান্ত এই খাবারের পছন্দ থেকে বাইরে নন।, যদিও এটি অবশ্যই একটি আসল জার্সি ডেইরি আইসক্রিম।

চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জের জার্সির সুদৃশ্য দ্বীপে বহু বাঙ্কার রয়েছে। ১৯৪০ সালের ৩০ জুন থেকে ১৯৪৫ সালের ৮ মে মুক্ত হওয়া পর্যন্ত দ্বীপটি নাৎসি জার্মানির দখলে ছিল । অনেক টানেল সমগ্র ইউরোপের দেশগুলো জোরপূর্বক দাস শ্রম দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এবং জার্মানদের দ্বারা পরিবহন করা হয়েছিল আরো দূরে কোথাও। সুন্দর দ্বীপ দখলের সময় তাদের দূরদর্শিতা  অবশ্যই দ্বীপবাসীদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছিল। বিদ্রোহের সময় তারা কী করেছে তা কল্পনাতীত।

জার্সির ন্যাশনাল পার্ক:

আপনাকে জার্সির জাতীয় উদ্যান বা পার্ক সম্পর্কে আলোচনা করি এবং আপনি জানেন কি এটি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় জাতীয় উদ্যান কিনা? হ্যাঁ এটা সম্পর্কে জানানোর জন্যই আলোচনা করতে চলেছি।

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল থেকে জার্সি দ্বীপের অবস্থান একশত মাইলেরও কম হবে । ৪৫ বর্গ মাইল এই দ্বীপটির নিজস্ব ২,১৪৫ হেক্টর জাতীয় উদ্যান রয়েছে যা দ্বীপের ১৬ শতাংশ এলাকা জুড়ে রয়েছে। এবং উপকূলরেখার প্রায় তিন চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে সমতট।

জার্সির জাতীয় উদ্যান তুলনামূলকভাবে নতুন করে সাজানো হয়েছে। ২০০৯ সালে ৭০০০ এরও বেশি স্থানীয় মানুষ সেন্ট ouen’s Bay  প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেছিল,  যা জার্সির উপকূলরেখার কিছু অংশকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। জনগণ এর সুরক্ষার জন্য আহ্বান জানায় সরকারকে এবং এর ঠিক দুই বছর পরে, জার্সি ন্যাশনাল পার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে জার্সির সরকার দ্বারা অনুমোদিত হয়।

কর্মরত লোকেরা পার্কের সীমানার মধ্যে কাজ করে, এবং অবসরে খেলা করে এবং উদ্যানের কলোনিতে বাস করে এবং পর্যটকদের গাইড হিসেবে পথ দেখায়। এবং স্থানীয় উভয়কেই এটি দেখতে এবং যা যা দেয় তা উপভোগ করতে উৎসাহিত করা হয়। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল পার্কটি পরিদর্শন করার সময় বেশিরভাগ লোকেরা হাঁটতে বা হাইক করতে যান এবং জার্সি ন্যাশনাল পার্ক দেখে অবাক হন।

এখানের ল্যান্ডস্কেপে একটি বিশাল বৈচিত্র্য আছে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে হাঁটা।  অন্যান্য চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জের অত্যাশ্চর্য দৃশ্য সহ উত্তর উপকূলের রুক্ষ ক্লিফ পথগুলো, স্টেপিং স্টোন দ্বারা খাড়ি তৈরি এবং দড়ির দোল দিয়ে সম্পূর্ণ বনভূমির পথ অতিক্রম করে মাঠের মধ্যে ঘোরাঘুরির মাইলের পর মাইল। একটি আর্বোরেটাম আছে এবং জলাধারের চারপাশে একটি সুন্দর পথ তৈরি করা আছে ।

আর বালির টিলার উপর হাঁটার সময়,  প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং বন্য অর্কিড জায়গা সহ উপসাগরের একটি মনোরম দৃশ্য পাবেন, যেটির চারপাশে আপনি হাঁটার সময় আনন্দ উপভোগ করবেন।
পাশাপাশি, ১৯৯১  সাল থেকে শুরু করে প্রতি জুনে জাতীয় উদ্যানে “দ্বীপের চারপাশে হাঁটার” ৪৮.১  মাইলের একটি বড় অংশে ইঙ্গিত করে। স্থানীয় দাতব্য সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহ করার সময় ২৬০০০ জনেরও বেশি এই উদ্যানে হাঁটার চেষ্টা করেছে এমন একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছিলো ।

কিন্তু হাঁটা একমাত্র উপায় নয় যে আপনি এই জাতীয় উদ্যান উপভোগ করতে পারেন! আপনি ঘোড়ার রাইড করতে পারেন বা পার্কের চারপাশে সাইকেল চালাতে পারেন, বা এমনকি বালি জুড়ে ব্লো-কার্টও করতে পারেন। আপনি যদি দুঃসাহসিক বোধ করেন তবে আপনি খাড়ি বেয়ে উপরে উঠতে চাইতে পারে। বা পাহাড়ের মুখের নিচে যেতে চাইতে পারেন, বা সম্ভবত আপনি গল্ফ খেলার জন্য‌‌‌ সমতল ভূমি বেছে নিতে পারেন। বা সৈকতের বালুকারাশির উপর যোগব্যায়াম সেশন উপভোগ করার রাউন্ড পছন্দ করতে পারেন।

কারণ পার্কের বেশির ভাগ এলাকা জার্সির উপকূল রেখার আশেপাশে অবস্থান করছে, তাই আপনি পানির মধ্যে বা উপরে থেকেও এটি উপভোগ করতে পারেন খুব সানন্দেই। আপনি যদি ভিজতে চান তবে স্ট্যান্ড আপ প্যাডেলবোর্ডিং, কায়াকিং বা সার্ফিং আছে। স্কুবা ডাইভিং, কোস্টারিং, বা জেট-স্কিইং এবং আরও অনেক কিছু পরিষেবা আপনার জন্য গ্রহণ করা আছে। পাখির চোখের দৃশ্যের জন্য, আপনি প্যারাগ্লাইড করতে পারেন বা এমনকি চূড়ান্ত অ্যাড্রেনালিন রাশের জন্য স্কাইডাইভ করতে পারেন।

যদি উদ্যান সফর আপনার জন্য কিছুটা চরম উপভোগ্য ভ্রমণ হয় তবে আপনি নির্দিষ্ট রাইড দ্বারা দ্বীপের উপকূলে একটি নির্দেশিত জায়গায় সফর উপভোগ করতে পারেন, আপনি এমনকি আশেপাশের অন্যান্য দ্বীপগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন যা জার্সির জাতীয় উদ্যানের একটি অংশ হিসেবে ধরা হয়- প্যাটারনোস্টার্স, ইক্রহাউস এবং মিনকুয়ার্স ইত্যাদি। এবং যখন আপনি পানির উপর থাকবেন তখন আপনি বোতল নোজ ডলফিন, ধূসর সীল, ঝিনুক এবং টার্নস দেখতে পাবেন।

বছরের বিভিন্ন সময়ে, হাজার হাজার পাখি ন্যাশনাল পার্কে খাবারের সন্ধানে বা বংশবৃদ্ধির জন্য আসে। যার মধ্যে ব্রেন্ট গিজ যারা কানাডা থেকে ভ্রমণ করতে আসে।  এবং পাফিনসহ আরও অনেকে আছে এর মধ্যে। আপনি যদি আরো কিছু পরিদর্শনকারী এবং আবাসিক পাখির জীবন চর্চা দেখতে চান তবে আপনি সেন্ট উন’স বে-এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ন্যাশনাল ট্রাস্ট ওয়েটল্যান্ড সেন্টারে যেতে পারেন। কেন্দ্রটি সেন্ট ওউয়েন’স  উপেক্ষা করে পুরোপুরি অবস্থিত, যা বিশেষ আগ্রহের প্রকৃতি সংরক্ষণের স্থান।

বাংলাদেশ থেকে ইংলিশ চ্যানেলের দুরত্ব ৮,০৫৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ব্রিটেন থেকে ১৩৭ কিলোমিটার দূরে এবং ফ্রান্স থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে জার্সি দ্বীপ অবস্থিত।

জার্সির দর্শনীয় স্থান গুলো এতো আকর্ষণীয় যে প্রত্যেকের জন্য কিছু না কিছু আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতা দিতে পারে। আপনার ভ্রমণ তালিকাতে যদি এমন কোনো জায়গা যেতে চান যেখানে গেলে আপনি পেতে পারেন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ তাহলে অবশ্যই আপনার লিস্টে জার্সি নামটা যোগ করতে পারেন। ভ্রমণ লিস্টে যুক্ত করার সময় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এমন কিছু জায়গার আকর্ষণীয়তা যা আপনাকে আবার ভ্রমণের জন্য উৎসাহিত করবে।

কর্ম ব্যস্ততা তো থাকবেই জীবনে তাই বলে জীবনকে তো আর নিরামিষ করে রাখা যায় না। বেড়াতে যান কিংবা প্রিয়জনকে কোন ভালো জায়গার সন্ধান দিতে চান তাহলে অবশ্যই একবার জার্সিতে ঘুরে আসুন এবং আপনার আনন্দ ভ্রমণটা খুব ভালোভাবে উপভোগ করুন। এত সুন্দর দ্বীপ এবং এই দ্বীপের সৌন্দর্যের মুগ্ধতা আপনাকে বারবার এই দ্বীপে টেনে আনবেই। সেই সাথে আপনি পেতে পারেন নতুন ধরনের অভিজ্ঞতার। ধন্যবাদ।

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents