Dreamy Media BD

পাঞ্জাবের দর্শনীয় স্থান (Punjab)

পাঞ্জাবের দর্শনীয় স্থান

 দৈনন্দিন জীবনের কর্মব্যস্ততা যখন আপনার জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে তখন মনটা কি চায় না এমন কোথাও যেতে যেখানে গেলে শরীর-মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে? এবং নতুন উদ্যমে কর্ম ব্যস্ততাকে উপভোগ কে নিজেকে সতেজ মনে কর্মে নিয়োজিত করতে? অবশ্যই আপনার মনটা চাইবে এমন কোন একটা ভ্রমণে যেতে যেখানে গেলে আপনার মন প্রফুল্লতায় ভরে যাবে।

আমরা দেশ ছেড়ে পাড়ি জমাতে যাচ্ছি পাঞ্জাব (Punjab) রাজ্যে। পাঞ্জাবের অগণিত দর্শনীয় স্থান আপনার মনকে চাঙ্গা করে তুলতে একটুও কার্পণ্য বোধ করবে না কথা দিচ্ছি। অসাধারণ শিল্প সৌন্দর্যের  রাজ্য পাঞ্জাব।

ভারত রাষ্ট্রের উত্তরে পাঞ্জাব রাজ্য।পাঞ্জাব রাজ্যের উত্তরে অবস্থান করছে জম্মু ও কাশ্মীরের সামান্য কিছু অংশ ও হিমাচল প্রদেশের কিছুটা অংশ । পূর্বদিক ঘিরে রেখেছে হিমাচল প্রদেশ ও হরিয়ানার অংশ বিশেষ । দক্ষিণ দিকে রয়েছে হরিয়ানা । ও রাজস্থানের সঙ্গে সীমানা । আর সমগ্র পশ্চিম দিক জুড়ে রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত । 

পাঞ্জাব ফার্সি ভাষা। যার অর্থ পাঁচ জলাশয়ের সমারোহ।পাঞ্জাবকে পঞ্চ নদীর দেশ বলা হয়। সিন্ধু নদের অববাহিকায় বিকাশ লাভ করে আর্য সভ্যতার। আর্যরা হিন্দুকুশ পর্বত পেরিয়ে এসেছিল এই পাঞ্জাব রাজ্যে বসবাস করার উদ্দেশ্যে। শিখ,পাঠান,মোঘল,হুন এই পাঞ্জাব রাজ্য দিয়েই এসেছিল ভারত ও বাংলার মাটিতে। এই ভূখণ্ডের নামকরণ করা হতো সপ্ত সিন্ধুর দেশ বা সাত সাগরের দেশ। পাঞ্জাবের  পাঁচটি নদী হচ্ছে  ঝিলাম, চেনাব, ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু।

আজকে পাঞ্জাব সম্পর্কে আলোচনা করব এবং সাথে থাকবে পুরো গাইড লাইন।

অমৃতসর 
অমৃতসর

অমৃতসর (Amritsar)

ইতিহাসের পাতায় পাতায় কত শুনেছি কত পড়েছি ভারতের কথা। বিখ্যাত পর্যটক স্পট হিসেবে ভারত অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে সবার মাঝে। ভারতের মধ্যে পাঞ্জাব অবস্থিত আর এই পাঞ্জাবের নির্ভীক প্রকৃতিতে চিত্রিত করে অমৃতসর। পাঞ্জাবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর অমৃতসর। প্রায় প্রতিদিনই দেশ বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের মনোরঞ্জন করে পাঞ্জাবের অমৃতসর। আধুনিক যুগে ভ্রমণ প্রেমীদের মন জয় করতে নতুন রূপে নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে অমৃতসর। তাইতো এখন অনেকের স্বপ্নের শহর অমৃতসর। 

আজকাল মানুষ একটু মন ভালো করার তাগিদে ছুটে চলে যায় দেশ-বিদেশের নানা জানা অজানা স্থানে। অমৃতসর ভারতের সোনার শহর নামে পরিচিত।পাঞ্জাবের অমৃতসরে রয়েছে অনেকগুলো ভ্রমণের জায়গা। পাঞ্জাবে এলে আপনি অমৃতসরের সেরা দর্শনীয় স্থানগুলো দেখবেন না এটা কি হয়? তাইতো আজ আপনার জন্য অমৃতসরের সেরা দর্শনীয় স্থানগুলোর ডালি সাজিয়ে নিয়ে এসেছি। ছুটির দিনগুলোতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সেই স্থানগুলো থেকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক অমৃতসরের সেরা দর্শনীয় স্থানগুলো:

শ্রী দুর্গিয়ানা মন্দির:

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর শহরে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নির্মিত করা হয়েছে শ্রী দুর্গিয়ানা মন্দির। দেবী দুর্গার নামের থেকে এই মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে। মন্দিরে প্রতিদিন মা দুর্গার আরাধনা করা হয়। শুধুমাত্র মা দুর্গার নয় লক্ষ্মী, বিষ্ণুর মূর্তি ও মন্দিরে স্থাপন করা আছে। মা দুর্গার মূর্তির মতই লক্ষ্মী, বিষ্ণুর মূর্তিও পুজিত করা হয়। দুর্গিয়ানা মন্দির হিন্দুদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থান। শুধুমাত্র ভারত থেকেই নয় অন্যান্য দেশ থেকেও তীর্থযাত্রীরা মন্দিরে যায়‌। সময়ের কালক্রমে এটি হিন্দু নবজাগরণ ও পুনর্জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। 

অমৃতসরে দুর্গিয়ানা মন্দিরে স্বর্ণ মন্দির এবং প্রচলিত হিন্দু মন্দির উভয়ের স্থাপত্য প্রতিধ্বনি রয়েছে। এটি ট্যাঙ্কের মাঝখান থেকে উঠে এবং মন্দিরের গম্বুজ ও ছাউনি গুলো অমৃতসরের অবস্থিত শিব ধর্মীয় স্বর্ণ মন্দিরের আদলে নির্মিত করা হয়েছে। মন্দিরে খালি পায়ে প্রবেশ করতে হয় এবং প্রবেশ করার সময় পা ধুয়ে তারপর প্রবেশ করতে হয়। অনেক দূর থেকেই মন্দিরের ঘন্টার আওয়াজ ভালো করেই শোনা যায়। মন্দিরের মূল প্রবেশ দ্বার রুপোর পাত দ্বারা তৈরি। মন্দিরটি দুই তলা বিশিষ্ট।

নিচের তলা শ্বেতপাথর দ্বারা তৈরি আর ওপরের তলা সোনার পাত দ্বারা তৈরি‌। দূর থেকেই সোনার ঝলকানিতে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। মন্দিরের চার কোণে রয়েছে গরুড় ভগবান, হনুমানজি, শঙ্খ এবং চক্র। রয়েছে একটি বিশাল সরোবর আর সরোবরের মধ্যে রয়েছে ভোলামহেশ্বর  এর মূর্তি। শ্রী দুর্গিয়ানা মন্দির কে রুপোর মন্দিরও বলা হয়ে থাকে। মন্দিরে অনেকগুলো রুপার নকশা কৃত দরোজা রয়েছে। মন্দিরে শ্বেত পাথরের উপরে নানান সুন্দর সুন্দর কালো কাজ করা আছে।

দেখতে রং এর মতো মনে হলেও এগুলোও রঙিন পাথরের নকশা করা। সাদা পাথরের উপর রংবেরঙের পাথরের ফুলের কলকা দেখতে যে কারোর চোখ জুড়িয়ে যাবে। মন্দিরটি একটি পবিত্র সরবরের মাঝে নির্মিত। মন্দিরে একটি সেতুর উপর দিয়ে যেতে হয়। মন্দিরের একপাশের পুজোর সামগ্রী বিক্রি করা হয়। আপনি যদি পূজা দিতে চান সেখান থেকেই সমস্ত ধরনের পুজোর সামগ্রী পেয়ে যাবেন। স্বর্ণ মন্দিরের মতো এই রুপার মন্দিরও হিন্দুদের কাছে অতীব পবিত্র স্থান। পাঞ্জাবের অমৃতসরের কোথাও ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবলে শ্রী দুর্গিয়ানা মন্দির হতে পারে আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ স্থান। 

লোকেশন 

শ্রী দুর্গিয়ানা মন্দির অমৃতসর জংশন থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 

অকাল তখত মন্দির:

শিখদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও শাসক সংস্থাকে বলা হয় অকাল তখত। এই মন্দির শিখদের পাঁচটি তখতের মধ্যে একটি। পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। অকাল তখত তার মধ্যে অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের বিপরীতে বিশাল এক ভবনে অকাল তখত অবস্থিত। এখনো পর্যন্ত অজস্র মানুষ অকাল তখত পরিদর্শন করতে ছুটে আসে। কারন, এই অকাল তখতেই অতীব শ্রদ্ধেয় ও প্রাচীন যুগের শিখ ধর্মের ধর্ম গ্রন্থ আছে। 

অকাল তখতের স্থাপত্য শৈলী লম্বা হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এবং মন্দিরের সোভা চারদিকে ছড়িয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এবার আসি সাজ সজ্জায়- তখত স্বর্ণের পাত দ্বারা সজ্জিত করা। ভবনটিতে বর্তমানে পাঁচটি তলা বিশিষ্ট। একটি সোনার পাতার গম্বুজ, গিল্ডেড অভ্যন্তরীণ অংশ এবং চমৎকারভাবে দেয়ালে কারুকাজ করা প্যানেল। এটিও মার্বেল দিয়ে জড়ানো। দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি আকর্ষণীয়। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে এই সৌন্দর্য মন্ডিত তখত পরিদর্শন করতে। আপনিও আসতে পারেন এর সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত হতে।

 লোকেশন

অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের ঠিক বিপরীতে অকাল তখত মন্দির। লাহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অমৃতসর স্বর্ণমন্দির আর তার বিপরীতে অকাল তখত মন্দির।

পার্টিশন মিউজিয়াম:

ভারতের ভয়াবহ যুদ্ধের পর দেশের জনগণের ওপর নিশংস আন্যায় অত্যাচারের সহানুভূতি প্রকাশ করতে ও যারা তাদের প্রিয়জন ও বসবাসের স্থান হারিয়েছিল তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, অমৃতসর প্রতিটি শহীদের স্মৃতি ধরে রাখতে একটি বিশাল পার্টিশন মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত করে। এটির লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের কাছে শহীদের বীরত্ব ফুটিয়ে তোলা এর সাথে তাদের কথা সর্বদা স্মরণ করা। পার্টিশন মিউজিয়ামে এলে মানুষের মনে গভীর একটা প্রভাব ফেলে এবং শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

এই কারণে এটিকে প্রায়শই সবাই “পিপলস মিউজিয়াম” বলে চেনে। যাদুঘরে অনেক ধরনের কাগজপত্র এবং নথিপত্র রয়েছে যা গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দান করেছেন, সেই সাথে বস্তু এবং প্রত্নবস্তু যা অনেক পুরনো। এই স্থানে কিছু অধিক মূল্যবান এবং অস্বাভাবিক আইটেম বা জিনিসপত্র রয়েছে। গ্যালারি অফ হোপ তর্কাতীতভাবে সমগ্র জাদুঘরের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত এবং পছন্দের জায়গা হলো পার্টিশন মিউজিয়াম। ভারতীয়রাই নয় অনেক দূর থেকে ও ভিনদেশীরা যাদুঘর পরিদর্শন করে যায়।

এখানে একটি মজার ব্যাপার হলো একটি পাতার আকারে কাটা কাগজে, দর্শকদের ভালবাসা এবং শান্তির শব্দগুলি লিখতে আমন্ত্রণ জানানো হয় যা তারা তারপর একটি কাঁটাতারের গাছ থেকে ঝুলতে পারে। এটি উপভোগ করতে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা ইতিহাসের রেকর্ডিং শুনতে, প্রত্যেকটি গ্যালারিতে সাউন্ডস্কেপ শুনতে, উদ্বাস্তুদের চিঠি পড়তে, অফিসিয়াল কাগজপত্র দেখতে এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতার মধ্যে অন্যান্য শিল্পকর্ম দেখতে উপভোগ করতে ভিড় করে। 

আপনি যদি ভারতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পত্নের গৌরীমা উদঘাটন করতে চান কিংবা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চান তাহলে ঘুরে আসতে পারেন। আশা করি আপনার মনে একটি গভীর ছাপ ফেলবে পার্টিশন মিউজিয়াম। এন্ট্রি ফি: ভারতীয়দের জন্য ১০ টাকা করে। আর ভিনদেশীদের জন্য ২৫০ টাকা। আর ছোট বাচ্চা যারা ৫ বছরের কম বয়সী তাদের জন্য ফ্রি।

 লোকেশন

শ্রী গুরু রাম দাস জি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি যাদুঘরের সবচেয়ে কাছে বিমানবন্দর এবং মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। জাদুঘরটি অমৃতসর জংশন রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।

দুঃখ ভঞ্জনী বেরি:

ইতিহাসের গল্পকথা, ঐতিহ্যের পত্নের গৌরীমা কিংবা শিল্পের সুষমা মানুষের যেনো বরবরই পৌরাণিক কাহিনী শোনা বা জানার আগ্রহ বেশি। পৌরাণিক কাহিনীর এই সংকলনে অমৃতসরের বিখ্যাত দুঃখ ভঞ্জনী বেরির অনেক গল্প রয়েছে। স্বর্ণ মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি শ্রদ্ধেয় গাছ। সেখানে ভক্তরা পবিত্র জলে স্নান করে গাছের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্বর্ণ মন্দির দেখতে আসা দর্শনার্থীরা মনে করে যে এটি করার মাধ্যমে তারা পবিত্র গাছ দ্বারা আশীর্বাদ পাবে এবং তাদের সমস্ত রোগ নিরাময় হবে।

গোল্ডেন টেম্পেল কিংবা স্বর্ণ মন্দিরের যে অমৃত সরোবর আছে তার পূর্ব দিকে রয়েছে গাছটি। ৪০০ বছর পুরনো গাছটি শিখ ধর্মের মানুষেরা অনেক সন্মান করে থাকে। আশ্চর্য এই গাছটি দেখতে ছুটে আসে হাজারো দর্শণার্থীরা। দিনে দিনে এটিও সকলের মাঝে একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে। আপনিও যদি গাছটির কাছে যেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে আগে সরোবরের জলে স্নান করে পবিত্র হয়ে গাছটির কাছে যেতেই হবে। প্রতিনিয়ত অনেক দর্শক পবিত্র গাছটির আশির্বাদ নিতে আসে এবং রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করে।

আপনি গাছটি দেখার উদ্দেশ্যে গেলে মন্দিরের পবিত্র জলে একটি ডুব উপভোগ করতে পারবেন এবং আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে দুঃখ ভঞ্জনী বেরি গাছে সর্বশক্তিমানের আশীর্বাদ পেতে পারবেন।

লোকেশন 

দুঃখ ভঞ্জনী বেরি গোল্ডেন টেম্পেল বা স্বর্ণ মন্দির কমপ্লেক্সে সরোবরের পাশেই।

গুরুদুয়ারা বাবা অটল রায় সাহেব জি:

অমৃতসরের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা হলো গুরুদুয়ারা বাবা অটল রায় সাহেব জি। এটি একটি অত্যাশ্চর্য কাঠামো। এই আশ্চর্য কাঠামো দেখতে প্রতিনিয়ত লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকে। এটি একসময় একটি সমাধি বা স্মৃতিস্তম্ভ ছিল, যেখানে ষষ্ঠ শিখ গুরু হরগোবিন্দের পুত্র বাবা অটল রায়ের দেহাবশেষ ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি একটি গুরুদ্বারে পরিবর্তিত হয়। সারা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ দর্শকের সাথে, এটি পাঞ্জাবের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠে সকলের মধ্যে।

অটল রাই, যিনি নয় বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর একটি নয়তলা, অষ্টভুজাকৃতি টাওয়ার দ্বারা স্মরণ করা হয়। প্রতিটি গল্প তার জীবনের একটি বছরের প্রতিনিধিত্ব করে। কাঠামোটি ধীরে ধীরে বাবা অটল রায়ের সমাধি থেকে গুরুদ্বারে রূপান্তরিত হয়। এটি অমৃতসরের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার। বহুকাল ধরে ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস যে পবিত্র কৌলসার সরোবরের জলে স্নান করলে অমৃতসরে অনেক বৃষ্টি হয়। সেই ধারা এখনো বয়ে চলেছে। যদি বৃষ্টি বাদলার প্রয়োজন হয় তাহলে কৌলসার সরোবরের স্নান করে ভক্তরা এবং প্রার্থনা করে বৃষ্টির জন্য। 

গুরুদুয়ারা বাবা অটল রায় সাহেব জি এর একদম উপরের তলায় গেলে আপনি ব্যস্ত নগরী অমৃতসরের পুরোটা একবারে দেখতে পারবেন। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীরা সারা বিশ্ব থেকে এই আশ্চর্য স্থাপত্য দেখার জন্য ভ্রমণ করেন, যা এটিকে পাঞ্জাবের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করে তুলেছে। এটি মহিমা এবং শৈল্পিক জাঁকজমকের প্রতীক হওয়ার পাশাপাশি বাবা অটল রাইয়ের অতিপ্রাকৃত শক্তির অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। এর জাঁকজমকপূর্ণ সৌন্দর্য দেখতে কার না ভালো লাগে!

আপনি যদি পাঞ্জাবের অমৃতসরে শান্তিপূর্ণ কোথাও যেতে চান তাহলে আমি বলব আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ স্থান হতে পারে গুরুদুয়ারা বাবা অটল রায় সাহেব জি। 

 লোকেশন

এটি সারাই গুরু রাম দাস থেকে প্রায় ১৮৫ মিটার দূরে এবং স্বর্ণ মন্দিরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। 

খাইরুদ্দিন মসজিদ
খাইরুদ্দিন মসজিদ

খাইরুদ্দিন মসজিদ:

এতক্ষণ বলেছি অনেকগুলো মন্দিরের কথা এবার আসি মসজিদের কথায়। পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। মন্দির যেমন হিন্দুদের উপাসনালয় তেমনি মসজিদ মুসলমানদের ধর্মীয় উপাসনালয়। স্থানটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশিষ্ট। এটি ইসলামিক-শৈলীর স্থাপত্যের জন্য সুপরিচিত, যেটিতে অসংখ্য প্রাচীরের শিলালিপি এবং ক্যালিগ্রাফি-শৈলীর লেখা রয়েছে। এই মসজিদ ইসলামিক স্থাপত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যার মধ্যে রয়েছে চমৎকার বিম এবং খিলান। 

মসজিদের কারুকাজ খচিত নকশাগুলো সবুজ রঙের এবং কাঠামো গুলো সাদা মার্বেল পাথরের দেখতে বেশ চমৎকার। দেখেই বোঝা যায় এটা নিখুঁত কারিগর দ্বারা নির্মিত হয়েছে। স্থানীয় অনেকেই এই মসজিদে এসে নামাজ পড়ে থাকে। এছাড়াও অনেকেই আসে মসজিদ পরিদর্শন করতে। আপনি যদি অমৃতসরে এসে কোনো  মসজিদ পরিদর্শন করতে চান তাহলে আপনার জন্য খাইরুদ্দিন মসজিদ উত্তম গন্তব্য স্থান। 

লোকেশন 

খাইরুদ্দিন মসজিদ অমৃতসরের হল বাজারে নির্মিত, অমৃতসর জংশন থেকে ১.৫ কিলোমিটার দূরে এবং অমৃতসর স্বর্ণ মন্দির থেকে ১.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

পাঞ্জাব স্টেট ওয়ার হিরোস মেমোরিয়াল এবং মিউজিয়াম:

রাজ্যের সাহসিকতার একরাশ স্মৃতি স্মরণ করার একটি জায়গা হল পাঞ্জাব। পাঞ্জাবে রয়েছে অনেকগুলো মিউজিয়াম তার মধ্যে পাঞ্জাব স্টেট ওয়ার হিরোস মেমোরিয়াল এবং মিউজিয়াম অন্যতম। এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান হওয়ার পাশাপাশি, জাদুঘরটি বর্তমান তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি অব্যাহত প্রেরণা এবং স্বাধীনতার জন্য দেওয়া মূল্যের অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। আপনি জানলে অবাক হবেন এই মিউজিয়াম তৈরি করতে খরচ হয়েছে ১৩০ কোটি টাকা।  

এই মিউজিয়ামটিতে একটি অত্যাধুনিক গ্যালারি রয়েছে। যেখানে দর্শকরা পাঞ্জাবের সব সামরিক ইতিহাস এবং সামরিক অভিযানগুলি দেখতে পারে৷ এটি ঐতিহ্যগত এবং আধুনিক উভয় স্থাপত্য শৈলী ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছিল। এই বিখ্যাত বিল্ডিংটি জল দ্বারা বেষ্টিত একটি গোলাকার প্ল্যাটফর্ম দখল করেছে। এছাড়াও স্মৃতিসৌধে আপনি প্রায় ৩৫০০ জন শহীদের নাম পাবেন। স্মৃতিসৌধের প্রাচীর নির্মাণে নানকশাহী ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এই স্মৃতিসৌধ প্রত্যেকটি শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় সবার মাথা উঠিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আপনিও যদি শহীদদের ভালোবাসেন তাহলে অমৃতসর এলে ঘুরে আসতে পারেন পাঞ্জাব স্টেট ওয়ার হিরোস মেমোরিয়াল এবং মিউজিয়াম।

লোকেশন

অমৃতসর শহরের উপকণ্ঠে পাকিস্তানের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১৮  কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাঞ্জাব স্টেট ওয়ার হিরোস মেমোরিয়াল এবং মিউজিয়াম।

সান সিটি পার্ক:

আপনি কি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে একটি আনন্দদায়ক দিন জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষিত? তাহলে আপনারই জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে অমৃতসরের সান সিটি পার্ক সান সিটি পার্ক। গরম থেকে বাঁচতে অমৃতসরের একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। এটি শুধুমাত্র বাচ্চাদের জন্য নয় যেকোন বয়সীদের জন্য একটি শ্রেষ্ঠ ভ্রমণের স্থান। অমৃতসরে, সান সিটি পার্ক স্থানীয়দের এবং দর্শকদের কাছে একত্রিত হওয়ার এবং বন্ধু, পরিবার এবং প্রিয়জনদের সাথে বাইরের বিনোদনের একটি দিন উপভোগ করার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে।

অবসর সময় কিংবা ছুটির দিনগুলোতে মন চায় কোথাও না কোথাও ঘুরে একটু হাওয়া বদল করে আসি। অমৃতসর ঘুরতে এলে সান সিটি পার্ক ঘুরবেন না এটি কি হয়? শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী এবং বয়স্কদের জন্য রয়েছে বিনোদনে পরিপূর্ণ সান সিটি পার্ক। অমৃতসরের এই চমৎকার পার্কটি বেশ কয়েকটি জলের রাইড, প্রচলিত রাইড, অ্যাকোয়া নাচ, সঙ্গীত এবং একাধিক সুইমিং পুল অফার করে। আপনি যদি গ্রীষ্মকালে আসেন পার্কটিতে তাহলে আপনার মন শীতলতার পরশে ভরিয়ে দিবে পার্কটি।  পার্কটি প্রায় ১২ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত।

 সব বয়সের মানুষের জন্য ১৪ টি রাইড রয়েছে এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে এটি ৫ একর ওয়াটার পার্ক। রাউন্ড রোল রাইডস, রেঞ্জার, মাই ফেয়ার লেডি, ওয়েভ পুল, স্লাইডস পুল, জলপ্রপাত, লেক, জয় ট্রেন, সিন্দবাদ, সান বুল, সান স্পাইন, থুমাক থুমাক, তুফান মেইল, হাম্পটি ডাম্পটি এবং আরও অনেক আকর্ষণীয় রাইডস আছে। এত বড় ওয়াটার পার্কটি সবারই মজা করার জন্য চমৎকার স্পন্দন দেয়। এমনকি আপনি রেইন ডান্স ফ্লোরের দিকে যেতে পারেন এবং রেইন ডান্স উপভোগ করতে পারেন। 

শান্ত জলে সূর্যস্নানের পরে এবং রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার রাইডে চড়ে হালকা নাস্তা করতে পারেন, পার্কের ভিতর এক কোণে সব রকম খাবার পেয়ে যাবেন আপনি সেখান থেকেই নিজের ইচ্ছামত খাবার খেতে পারবেন। তাহলে আর দেরি কিসের? আজই বেরিয়ে পড়ুন আপনার পছন্দের গন্তব্য স্থানে। পরিবার বা বন্ধুদের সাথে কাটানো একটি শ্রেষ্ঠ সময় হয়ে উঠবে আপনার মনের স্মৃতির ডায়রিতে। এন্ট্রি ফি: ওয়াটার পার্কে জনপ্রতি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হবে।

লোকেশন

অমৃতসরের সান সিটি ওয়াটার পার্ক অমৃতসর শহরের কেন্দ্র থেকে ১.৪ কিলোমিটার দূরে।

 এছাড়াও আরো অনেকগুলো ভ্রমণের স্থান আছে অমৃতসরে। পাঞ্জাবের অমৃতসরে এলে আপনি ঘুরে দেখে শেষ করতে পারবেন না এত এতগুলো দর্শনীয় স্থান আছে। তবে উপরিক্ত স্থানগুলোতে গেলে আপনার চাহিদা থেকেও বেশি পাবেন বলে মনে করা যায়। তাই ভ্রমন প্রিয় বন্ধু আমার ছুটির দিনগুলোতে বেরিয়ে পড়ুন পাঞ্জাবের অমৃতসরের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার উদ্দেশ্যে। ধন্যবাদ।

 বিশ্ব বিখ্যাত অমৃতসর স্বর্ণ মন্দির 

ভারতের পাঞ্জাবে এক অতি পবিত্র স্থান অমৃতসর স্বর্ণমন্দির। ভারতের পাঞ্জাবের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হল অমৃতসর স্বর্ণমন্দির। এই মন্দিরটি মূলত শিব সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি দর্শন করতে যায়। শিব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অমৃতসর স্বর্ণমন্দির তীর্থ স্থান হিসেবে পরিচিত। মন্দির প্রাঙ্গণের আনাচে কানাচে স্বর্ণের মত চকচক করতে থাকে তাই তো হাজার হাজার দর্শনার্থী ছুটে আসে এই মন্দির অভিযানে। দিনে দিনে পাঞ্জাবের একটি শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে অমৃতসর স্বর্ণমন্দির। 

অমৃতসর স্বর্ণমন্দির যাওয়ার পথে প্রথমেই চোখে ধরা দেবে ফোয়ারা। চকের সামনেই একটি মূর্তি যেটি মহারাজা রঞ্জিত সিং এর মূর্তি। যিনি পাঞ্জাবের লায়োন অফ পাঞ্জাব নামে পরিচিত। সেই মূর্তির পাশ থেকেই চলে গেছে একটি সাজানো গোছানো সুদীর্ঘ বড় রাস্তা। সেই পথ বেয়ে অমৃতসর স্বর্ণ মন্দির দর্শনে যেতে হয়। পাঞ্জাবের সভ্যতা সংস্কৃতির দিক থেকে অনেক অত্যাধুনিক এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে টৈটম্বুর বিধায় শুধু ভারতের নয় দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে হাজারো ভ্রমণ পিপাসুরা। 

এই ভ্রমণ পিপাসুদের তৃষ্ণা মেটাতে পারে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের অপরুপ সৌন্দর্যে।যাওয়ার পথের রাস্তার পাশে যে মূর্তির ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে, এই মূর্তির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় চোখে ধরা দেবে ভারতের এক উল্লেখযোগ্য ইতিহাসের হাতছানি দেওয়া জালিয়ান ওয়ালা বাগ। সেখানে গেলেই আপনার মনে পড়বে ইতিহাসের পাতায় সেই কালো অধ্যায়ের কথা। আজ ভারত স্বাধীন তবুও ভারতীয় সকলের মধ্যে আজও সেই শহীদদের স্মৃতি মন্থন হিসেবে স্বগর্বে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জালিয়ান ওয়ালা বাগ। জালিয়ান ওয়ালা বাগের দেওয়াল ঘেরা একটি চত্বরে জমায়েত করা হয়েছিল হাজারের অধিক জনগণকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। 

তারপর ইংরেজদের আদেশে মেশিনগান চালিয়ে সবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল সেই চত্বরে। দেওয়াল ঘেরা চত্বরে প্রবেশ করার পথ ছিল মাত্র একটি তাই হাজারো এসব জনগণের আর্তনাদের ইতিহাস আজো জালিয়ান ওয়ালা বাগের দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। জনগণের বন্দীর পর ও নিরস্ত্র ভারতীয়রা একজনও বেঁচে ফিরতে পারেনি সেখান থেকে। এখন সেই চত্বরটাকে সুন্দর একটি মাঠে পরিণত করেছে সেই সাথে উদ্দানের মাঝে তৈরি করা হয়েছে একটি শহীদদের স্মরণে স্মৃতি বিজড়িত স্মৃতিসৌধ। জালিয়ানওয়ালাবাগের প্রাচীরের দেওয়ালে আজ ও অক্ষত অবস্থায় আছে সেইদিনগুলোর ঘটনার বর্ণনা। 

ইংরেজদের মেশিনগানের গুলি গুলো আজও সংরক্ষণ করে রাখা আছে যাতে করে ভারতীয়রা সেই কালো রাতের একটি সাক্ষী হয়ে থাকে। এবং গর্বিত হয় দেশের প্রতি এবং শহীদের প্রতি। অমৃতসর স্বর্ণমন্দির যাওয়ার আগে সেই ইতিহাসখ্যাত স্থানটি পরিদর্শন করেন অনেকেই। সেখান থেকে বামদিকে কিছুদূর হাঁটলেই চোখে পড়বে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার। মন্দিরটি পবিত্র হওয়ায় জুতা পরে সেখানে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ তবে চিন্তার কিছু নেই জুতা রাখার জন্য আপনাকে মন্দির কর্তৃপক্ষরা সুন্দর বন্দোবস্ত করে দেবে। এছাড়াও আপনি যদি কিছু না বোঝেন মন্দির কর্তৃপক্ষরা বিনামূল্যে আপনাকে সাহায্য করবে। 

মন্দিরে প্রবেশ করতে হলে মাথায় কাপড় দিয়ে প্রবেশ করা বাধ্যতামূলক। ছেলেরা পাগড়ি কিংবা রুমাল মাথায় বেঁধে মন্দিরে প্রবেশ করে এবং মেয়েরা ওড়না বা দোপাট্টা দ্বারা মাথায় কাপড় দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে। হিন্দুদের মন্দির হওয়ায় যে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মালম্বিরা এই মন্দিরের দর্শনে আসে তেমনটি কিন্তু নয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কোনকিছুই ভেদাভেদ না করে সকল ধর্মের মানুষ সেখানে প্রবেশের অনুমতি পায়। সত্যি এমন চিন্তা মানুষকে উদার হতে শেখায়। মূল মন্দিরে প্রবেশ করলেই দেখবেন বিশাল এক সরোবর। 

দেখে মনে হবে টলটলে স্বচ্ছ সবুজ জলে আচ্ছাদিত শরবরের মধ্যে যেন সোনার পদ্ম ফুল ফুটে আছে যার শোভা চারিদিকে ছড়িয়ে পরিবেশটাকে আরো মনমুগ্ধকর করে তুলছে। সরবরের চারদিকে মার্বেল পাথরে মোড়া রাস্তা রয়েছে। এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে ভিড় করে অসংখ্য ভক্ত তথা পর্যটকরা। এই সরোবরের জল পবিত্র মনে করা হয় তাই অনেকেই এই জল মাথায় ঠেকায় আবার অনেকেই স্নান করে সরোবরের জলে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা মনে করে এই সরবরে স্নান করলে তাদের সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় এবং পূণ্য লাভ হয়। 

দিনের বেলায় মন্দিরটি দেখতে যেমন লাগে তার ১০০ গুণ সুন্দর লাগে যখন রাতের বেলায় পুরো মন্দিরটি আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য ভোলার মত কোন দৃশ্য নয়।  না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না স্বর্গের সৌন্দর্য যেনো নেমে এসেছে মন্দিরে। অমৃতসর মন্দির কিংবা গোল্ডেন টেম্পল যেটাই বলেন না কেন এর গর্ভটি সোনার পাত দ্বারা আবৃত। সেই থেকেই এই মন্দিরের নাম হয় অমৃতসর স্বর্ণমন্দির কিংবা গোল্ডেন টেম্পল। সময়ের সাথে সাথে মন্দিরের বাইরে অংশ ও সোনালী পাতে মুড়ে ফেলা হয়েছে। 

এবং মন্দিরটি আরো আকর্ষণীয় গড়ে তোলার জন্য মন্দির চত্বর ও মন্দিরের আনাচেকানাচে পরিকল্পিত ভাবে সাজানো গোছানো হয়েছে। মন্দিরের মেঝেতে মোটা কার্পেট বিছানো আছে এবং মন্দিরের দেয়ালগুলো অপূর্ব কারুকাজ খচিত দেখতে বেশ মনোরম। মন্দির চত্বরে মাইকের মাধ্যমে সবাইকে গ্রন্থসাহিব পাঠ করে শোনায়। সেই শব্দের মুখ মুখরিত হয়ে থাকে চারিদিক। লক্ষাধিক ভক্তরা সেখানে বিনামূল্যে আর পান করে থাকে। মন্দিরটিতে চারটি দরজা রয়েছে সেখান থেকেই সবাই মন্দিরে প্রবেশ করে এবং বের হয়ে যায়।

আপনি যদি পাঞ্জাবে যান তাহলে অবশ্যই আপনি একবার হলেও ঘুরে আসতে পারেন। আশা করি আপনার ভ্রমণ ট্যুর বিফলে যাবে না। 

লোকেশনভ্রমণ গাইড/ কিভাবে যাবেন
থেকে কলকাতা থেকে দিল্লি পৌঁছাতে ১৬ ঘন্টা সময় লাগে এবং দিল্লি থেকে মাত্র ৮ ঘন্টার সময়ের ব্যবধানে পাঞ্জাবের সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিবেশে গড়ে উঠা অমৃতসর স্বর্ণমন্দির যাওয়া যায়।পাঞ্জাব থেকে রেলপথে কিংবা সড়ক পথে খুব সহজেই আপনি অমৃতসর যেতে পারবেন। 

পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরের মধ্যে দিয়েই এই ট্রেন যাতায়াত করেন আপনি যে কোন স্টেশন থেকেই অমৃতসরের উদ্দেশ্যে যেতে পারবেন। 

এছাড়া সড়কপথে আপনি ট্যাক্সি, বাস, ক্যাবের মাধ্যমে ও আপনি মন্দিরে যেতে পারেন ।

Wagah Border
ওয়াঘা বর্ডার

ওয়াঘা বর্ডার (Wagah Border)

ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তানের ওয়াঘা সীমান্ত। ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসর শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ওয়াঘা সীমান্ত অবস্থিত। অমৃতসর শহর থেকে একদিনেই এই অন্যতম গন্তব্যের উদ্দেশে বের হয়ে ভ্রমণ করে আসা যাবে। ভারত পাকিস্তান সীমান্তের ভারতের দিকে আটারি গ্রামে এই ভ্রমণ স্থানটির অবস্থান বলে অনেকে এটাকে আটারি বর্ডার বা আটারি সীমান্ত নামে ডাকে। এবং পাকিস্তানের দিকে ওয়াঘা গ্রামে অবস্থিত বলে এটাকে আটারি ওয়াঘা বর্ডার নামে সবাই ডাকে।

এটা সীমান্ত বর্ডার বলে এখানে প্রচুর পরিমানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা আছে। এখানকার সিকিউরিটি  চেকিং খুবই শক্তপোক্ত  বাংলাদেশী নাগরিক হলে আপনাকে অবশ্যই পাসপোর্ট সাথে রাখতে হবে। বর্ডার লাগোয়া একটি গ‌্যালারী আছে সারা বছর ধরে যেখানে ফ্লাগ লোয়ারিং শ্রীমনি অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। গরমকালে শুরু হয় ৫:১৫ এবং শীতকালে শুরু হয় ৪:১৫ থেকে অনুষ্ঠানটি আপনি বিনামূল্যে দেখতে পাবেন।

আটারি সীমান্তে লাগোয়া ভারতের দিকে একটা গ্যালারি তৈরি করা আছে এবং সীমান্তের ওই পারে পাকিস্তানের দিকেও একটি গ্যালারি তৈরি করা আছে এখানে প্রত্যেক দিন হাজার হাজার দর্শক রিট্রিট শ্রিমনি অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে শহর মোহালি। 

অমৃতসরে দেখার মতো অনেক জায়গার মধ্যে ওয়াঘা বর্ডার, অকাল তক্ত এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। ওয়াঘা সীমান্ত হল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ করা অঞ্চল, এবং সমাপনী অনুষ্ঠানটি দেখার মতো। ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং পাকিস্তানের রেঞ্জার্স অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে, যা ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয় এবং উভয় পক্ষের মহিমা ও বীরত্ব প্রদর্শনের সাক্ষী থাকে। ৪৫ মিনিটের এই অনুষ্ঠান টি উপভোগ করতে দুই সীমান্তের দুই দিকের গ্যালারিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

ভারতের অমৃতসর শহর যারা ভ্রমণ করতে আসবেন তারা অবশ্যই একবার হলেও ওয়াগা বর্ডার দর্শন করে যাবেন। ভারতের অমৃতসর শহর থেকে ওয়াগা বর্ডারে দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার এবং ওয়াগা বর্ডার থেকে পাকিস্তানের লাহোরের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। দুই দেশের পতাকা নিয়ে দারুন একটা রিট্রিট শ্রীমনি অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

এই রিট্রিট শ্রিমনি অনুষ্ঠানে দেখানো হয় ইতিহাসের কিছু ঐতিহ্যবাহী আলোক চিত্র। কুচ কাওয়াজের মধ্য দিয়ে দুই দেশের নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে এই অনুষ্ঠানটা সম্পূর্ণ পরিচালনা করা হয়। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে ভ্রমণ করতে এলে অবশ্যই ওয়াগা বর্ডার পরিদর্শন করে যাবেন একবার হলেও দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা এবং নিয়মাবর্তিতা ভাবে দুই দেশকে কিভাবে জড়িয়ে রেখেছে এখানে এলে জানতে পারবেন।

চন্ডিগড় (Chandigarh)

চন্ডিগড় ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের রাজধানী। এটি একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। ভারতের পাঞ্জাবে এই স্থানটি অনেকগুলো দর্শনীয় স্থানের সমন্বয়ে গঠিত। পাঞ্জাবের অগণিত দর্শনীয় স্থান থাকলেও রাজধানী চন্ডিগড়কে এক নম্বর দর্শনীয় স্থানের খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে। Le Corbusier দ্বারা পরিকল্পনা করে এবং ডিজাইন করা এই মহাজাতিক আধুনিক শহর বিচক্ষণ পর্যটকদের মন কাড়ার জন্য অন্যতম।

ভারত দর্শনে এলে পাঞ্জাবের চন্ডিগড় রাজ্য থেকে ঘুরে যেতে কোনো দর্শনার্থী ভুল করে না। একটি ঐতিহ্যবাহী ক্যাপিটাল সিটি চন্ডিগড় আধুনিক দিনের একটি পরিকল্পিত নগরী। যা ভারতের অন্য কোন রাজ্যে থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরি। অপরূপ সৌন্দর্যে সাজানো বাগানের বিস্তীর্ণ বিস্তৃতির শোভা।

ঝাড়ু দেওয়া বুলেভার্ড, নির্মল হ্রদের পানি, সুনিপুণ হাতে তৈরিকৃত বাগান, এবং সমৃদ্ধ নাগরিক ভবনগুলির মনোরম দৃশ্য আপনার মনে একটি স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে চণ্ডীগড়  তালিকার শীর্ষে রয়েছে যদি আপনি পাঞ্জাবে দেখার জন্য সেরা জায়গাগুলি খুঁজছেন তবে বলবো চন্ডিগড়ই শ্রেষ্ঠ। চন্ডিগড় ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। চণ্ডীগড়ের আরো কিছু দর্শনীয় স্থান. জাকির হোসেন রোজ গার্ডেন, রক গার্ডেন, গভর্নমেন্ট মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারি, জাপানিজ গার্ডেন, সুখনা লেক, গার্ডেন অফ ফ্র্যাগ্রেন্স, এলান্টে মল ইত্যাদি।

চণ্ডীগড়ে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন সুখনা লেকে বোটিং করে, ক্যাফেতে সুস্বাদু খাবার গ্রহণ করে, শহরের মধ্য দিয়ে সাইকেল চালানো নগর সভ্যতা উপভোগ করতে পারবেন, পরিপাটি করে সাজানো বাগান ঘুরে দেখা, সেক্টর ১৭ তে কেনাকাটা করা এবং সুন্দর রক গার্ডেন চেক করা। এখন চন্ডিগড়ের সেরা জায়গাগুলোর বর্ণনা দেয়া হলো।

Rock Garden Punjab
রক গার্ডেন

রক গার্ডেন:-

চন্ডিগড় থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রক গার্ডেন ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে একটা ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান। ২৫ একর জায়গার ওপর নির্মিত রক গার্ডেন ভারতের পাঞ্জাবে এক ঐতিহ্যবাহী স্থানের নাম দখল করে রেখেছে। পাঞ্জাবের দর্শনার্থীরাসহ দেশ-বিদেশ থেকে রক গার্ডেন দেখার জন্য সুদূর থেকে ছুটে আসে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ।

শিল্পী নেক চাঁদ ২০ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে শহরের এই স্থানটিতে শিল্প বর্জ্য এবং স্থানীয় পাথর ব্যবহার করে এই রক গার্ডেন সৃষ্টি করেছেন। যাতে করে বিভিন্ন ধরনের তীক্ষ্ণ ভাস্কর্য তৈরি হয়। রক গার্ডেনের দুই হাজারেরও বেশি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এটি তার শ্রেষ্ঠ সময়ের  জাঙ্ক শিল্প। বিভিন্ন পশু পাখির ভাস্কর্য, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ছবি ফুটিয়ে তুলেছে তার তৈরি ভাস্কর্যের মাধ্যমে। লক গার্ডেনের দেয়াল গুলো তৈরি করা হয়েছে পাথরের আদলে।

এখানে রয়েছে পানির ফোয়ারা। উপর থেকে গড়িয়ে পড়া বিশাল ঝরনা। এত সুন্দর মনমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটে পাঞ্জাবের এই রক গার্ডেনে।প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ১০ টাকা মূল্যে টিকিট নিয়ে গার্ডেনে প্রবেশ করতে হয়।

মোহালি:-

ভারতের ক্রিকেট বিশ্বজোড়া খ্যাতি। ক্রিকেটকে ভারতের প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। ক্রিকেট উৎসাহী দর্শকেরা ইতিমধ্যে মোহালি স্টেডিয়াম বা মোহালী বিন্দ্রা স্টেডিয়াম সম্পর্কে সকলেরই জানা আছে। অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন গন্তব্য যেখানে সবুজ সবুজ দৃশ্য, গভীর সবুজের সমারোহ এবং আশ্চর্যজনক আবহাওয়া রয়েছে পুরো শহরটি জুড়ে। 

মোহালির সেরা অংশ হল আধুনিক এবং সমসাময়িক ভবন এবং প্রাচীন, ভালোভাবে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের পাশাপাশি, শহরের আকর্ষণ যোগ করেছে বাড়তি সৌন্দর্য। ট্রেকিং এবং রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো মজাদার ক্রিয়াকলাপ গুলির একটি বাড়তি আনন্দসহ, পাঞ্জাবের অন্যতম বিখ্যাত স্থান মোহালিতে একটিও বিরক্তিকর দিন মনে হবে না আপনার কাছে। 

আরো কিছু দর্শনের স্থান ঘুরে দেখতে পারেন মোহালি অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম, বাবা বান্দা সিং বাহাদুর ওয়ার মেমোরিয়াল। মোহালিতে আরো করতে পারেন রক ক্লাইম্বিং, ট্রেকিং, মোহালি স্টেডিয়াম পরিদর্শন। 

কাপুরথালা :-

পাঞ্জাব  জলন্ধর শহরের কাছে, কাপুরথালা কাপুরথালা ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের একটি শহর। এটি কাপুরথালা জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর। এটি ছিল কাপুরথালা রাজ্যের রাজধানী (আহলুওয়ালিয়া রাজবংশ দ্বারা শাসিত), ব্রিটিশ ভারতের একটি রাজকীয় রাজ্য। ফরাসি এবং ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যের উপর ভিত্তি করে বিশিষ্ট ভবনগুলির সাথে শহরের ধর্ম নিরপেক্ষ এবং নান্দনিক মিশ্রণ এর রাজকীয় অতীতকে স্ব-বক্তৃতা করে। এটি প্রাসাদ ও উদ্যানের শহর হিসাবেও পরিচিত। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, কাপুরথালা হল ভারতের সবচেয়ে কম জনবহুল শহর।

 কথোপ কথনের দিক থেকে পাঞ্জাবের কাপুরথালাকে পাঞ্জাবের প্যারিস বলা হয়, কাপুরথালা শহরের উপর আধিপত্য বিস্তারকারী স্পেলবাইন্ডিং স্থাপত্যের নমুনার কারণে অনেক প্রশংসা অর্জন করেছে বিশ্বব্যাপী। শহরের প্রধান পর্যটন আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জগৎ জিৎ প্রাসাদ, জগৎ জিৎ ক্লাব এবং এলিসি প্রাসাদ – তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অনন্য স্থাপত্যের জাঁকজমক ও সৌন্দর্যতা রয়েছে। 

কাপুরথালার চারপাশে জমকালো বাগান এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন সমৃদ্ধ স্থানগুলি এটিকে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে একটি করে তোলে ভ্রমণ পিপাসুদের মনে। বিশেষ করে শরৎ এবং বসন্ত ঋতুতে এখানে এলে এর সৌন্দর্যতা ভুলতে পারা যায় না। সড়ক ও রেলওয়ে নেটওয়ার্ক কাপুরথালাকে উত্তর ভারতের বৃহত্তম মেট্রোপলিটন অবস্থানের সাথে সংযুক্ত করে । 

অমৃতসরের রাজা সানসি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাথে খুব ভালোভাবে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। পর্যটকরা এখানে সবচেয়ে বেশি যা উপভোগ করেন তা হল শালিমার গার্ডেন এবং ওয়েটল্যান্ড কাঞ্জির শান্ত পরিবেশ এবং প্রানবন্ত পরিবেশ, যা পিকনিকের জন্যও আদর্শ একটি স্থান ভারতীয় জনগণের এবং দর্শনার্থীদের জন্য। অক্টোবর থেকে মার্চ এর মধ্যে এখানে দর্শনের জন্য উপযুক্ত সময়।

পাঠানকোট জম্মু ও কাশ্মীরের প্রবেশদ্বার:

তিনটি রাজ্যের সমন্বয়ে পাঠানকোট পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ,জম্মু ও কাশ্মীরের একত্রে কিছু অংশ ঘিরে অবস্থিত। এটি পাকিস্তানের সাথে সীমান্ত ভাগ করে। পাঠানবংশীয় রাজারা এখানে বলে এ অঞ্চলটিকে পাঠানকোট নামে অভিহিত করা হয়। নুরপুর দুর্গ হল এইসব মহান পাঠানদের প্রতীক। যারা এখানে বসবাস করে তাদের জন্য একদিকে সুউচ্চ হিমালয় দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ রেঞ্জ হিসেবে এবং অন্যদিকে শিবালিকদের দ্বারা এটি সুরক্ষিত।

পাঠানকোট সুউচ্চ পর্বত হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং ডালহৌসি ও কাংরা উপত্যকার মতই এই অঞ্চলটি হিল স্টেশনের খুব কাছাকাছি। পাঠানকোট মূলত পাঞ্জাবের ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রদর্শন করে। এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে জায়গাটি পরিদর্শনের জন্য ভ্রমণার্থীদের উপযুক্ত সময়। পাঠানকোটে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান মাতা আশাপূর্ণা দেবী মন্দির, মুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দির, নুরপুর ফোর্ট, হাইড্রোলিক রিসার্চ স্টেশন।

জলন্ধর। ভারতের লেদার হাব:-

সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতার সময়ে প্রতিষ্ঠিত পাঞ্জাবের সবচেয়ে প্রাচীন শহর গুলির মধ্যে অন্যতম একটি শহর জলন্ধর। ২০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত জলন্ধর মূলত ঘটনা ক্রমে ছিল অনেক বিপ্লবী আন্দোলনের সূচনার কেন্দ্রবিন্দু। যা সমগ্র ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে  ত্বরান্বিত করেছিল। এখান থেকে সূচনা হয়েছিল বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ।

জলন্ধরে আরো অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। এই সকল ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে অন্যতম নিদর্শন জং ই আজাদী স্মৃতিসৌধ। আরও রয়েছে শহীদ-ই- আজম মিউজিয়াম যা স্বাধীনতার স্মৃতি হিসেবে জনগণের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে। এখানকার তৈরি ফুটবল দিয়ে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ খেলা হয়েছিল। তাছাড়া জলন্ধরে এসে আপনি খাঁটি পাঞ্জাবি খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

ভ্রমণ পিপাসু দর্শনার্থীদের মধ্যে  যারা খাদ্যপ্রেমী আছেন তাদের জন্য রঙ্গলা পাঞ্জাবি হেভিলিতে পরিবেশিত খাঁটি পাঞ্জাবি খাবার গুলি আপনাদের মন ছুয়ে দিবে। এখানে গেলে পাঞ্জাবি জীবনধারণের আভাস ছাড়াও আরো পাবেন “সরসন দ্যা সাগ’ ও “মাক্কি দি রোটির” মতো সুস্বাদু খাবারের আসল স্বাদ পেতে পারেন।

ভারতের পাঞ্জাব ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে আপনার তালিকাতে জলন্ধর নামটা রাখতে ভুলবেন না। জলন্ধর জায়গাটি ভ্রমণের জন্য জানুয়ারি থেকে মার্চ উৎকৃষ্ট সময়। জলন্ধর এলে আরো দেখতে পাবেন ঐতিহ্যবাহী আর্মি ক্যান্টনমেন্ট, জামে মসজিদ, ইমাম নাসিরের সমাধি। 

 জলন্ধরে এসে আপনি আরো কিছু দর্শনীয় স্থানগুলোতে যেতে পারবেন, জনপ্রিয় চামড়া উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলিতে পরিদর্শন করতে পারেন, ওয়ান্ডারল্যান্ড থিম পার্কের আনন্দঘন রাইট উপভোগ করুন এবং মজা করুন, জং-ই-আজাদি মেমোরিয়ালে ইতিহাস পুনর্বিবেচনা করতে এবং পুষ্প গুজরাল সায়েন্স সিটিতে বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনীর আশ্চর্যজনক সংগ্রহশালা উপভোগ করতে পারবেন।

লুধিয়ানা।লোধী শহর:-

প্রত্যেক ভ্রমণ পিপাসুরা দর্শনার্থী এমন একটি জায়গার সন্ধান চাইবে যেখানে আছে ইতিহাস সংস্কৃতি ভিন্ন স্বাদের খাবারের স্বাদ তাহলে লুধিয়ানা ছাড়া অন্য কোন জায়গার কথা চিন্তাতে আসবে না। এখানকার পশম , রেশম ও সুতিবস্ত্রের চাহিদা সারা ভারতের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে ।

এখানকার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মিউজিয়ামটি দেখতে কারো  ভুললে চলবে না। লােধী বংশের রাজপুত্রদের হাতে তৈরি ৫০০ বছরের পুরােনাে শহরে এখনও দন্ডায়মান আছে বর্তমান পুরােনাে দূর্গ। আর আছে পীরই দস্তগির মসজিদ , মন্দির ও গুরু গােবিন্দ সিং – এর স্মৃতিবিজরিত গুরদ্বারা। ভারতের মধ্যে যদিও এটি পাঞ্জাবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। কালের বিবর্তনে লুধিয়ানা ভারতের অনেক দর্শনার্থীর কাছে একটি অজানা রত্নভান্ডার হিসাবে রয়ে গেছে। অনেকের কাছে, এটি অমৃতসর বা চণ্ডীগড় যাওয়ার পথে একটি স্টপ ওভার ছাড়া আর কিছুই নয়। 

কিন্তু যারা থামে এবং এই শহরটি অন্বেষণ করার জন্য সময় নেয় তারা প্রায়শই এর আকর্ষণ দেখে আকৃষ্ট হয়ে আশ্চর্যভাবে অবাক হয়ে যায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে ভারতকে স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্যকারী শহর হিসেবে লুদিয়ানার আকর্ষণীয় ইতিহাস থেকে শুরু করে এর প্রাণবন্ত খাবারের দৃশ্য এবং মনোমুগ্ধকর পুরানো ভবন দর্শনার্থীদের হৃদয়ে সমাদৃত। লুধিয়ানায় দেখার জন্য প্রচুর জায়গা রয়েছে।

দর্শনার্থীদের ভ্রমণের জন্য লুধিয়ানাতে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভ্রমণ করার উপযুক্ত সময়। এখানে আরো কিছু দর্শনে স্থান আছে যার মধ্যে আছে পাঞ্জাব এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি, গুরুদুয়ারা নানকসার জাগরন, রাখ বাগ পার্ক, হার্ডিজ ওয়ার্ল্ড অ্যামাউমিজমেন্ট পার্ক,ফিল্লার ফোর্ট, লোধি ফোর্ট, তাই ভারতের পাঞ্জাবের চন্ডিগড়ে বেড়াতে এলে লুধিয়ানা দর্শন করতে মোটেও ভুল করবেন না।

সিরহিন্দ। সাতুদার দেশ:-

সিরহিন্দ পাঞ্জাবের অন্যতম বিখ্যাত ধর্মীয় গন্তব্য গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। লুধিয়ানা এবং আম্বালা শহরের মধ্যে অবস্থিত সিরহিন্দ। কৌশলগত অবস্থানের কারণে, সিরহিন্দকে মুঘল সেনাদল দ্বারা একটি সীমান্ত হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল একসময়,এবং হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। 

বিখ্যাত মুঘল স্থপতি ওস্তাদ সায়াদ খান এবং খাজা খানের সমাধিস্থল আছে এই সিরহিন্দে, ভারতীয় জনগণের মধ্যে পরিচিত হয়ে আছে এর নামকরণ। যা যথাক্রমে ওস্তাদকি মাজার এবং শাগিরদকি মাজার নামে পরিচিত, পাশাপাশি মাতা চক্রেশ্বরী দেবী জৈন মন্দিরের মতো হিন্দু মন্দিরগুলি এখানে রয়েছে।

একই জায়গায় দুই ধর্মের ধর্মীয় স্থাপনা মানুষকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মানুষের কোন বিভেদ নাই। এখানে সাধারণত শীতকালে মানুষ বেশি হয় যখন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে আসে এবং আশেপাশের স্থানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে কার না মন চায়। সিরহিন্দের আরো কিছু দর্শনীয় স্থান আম খাস বাগ, গুরুদুয়ারা সাহেব, জাহাজ হাভেলি দিওয়ান টোডারমালজি, গুরুদুয়ারা সাহেব থান্ডা বুর্জ সিরহিন্দ, প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, ফুওয়ারা চক, রওজা শরীফ।  

হোশিয়ারপুর সাধুদের দেশ:-

পাঞ্জাব শহরের হোশিয়ারপুরের ঐতিহ্য, প্রাচুর্য ও কারিশমা না দেখলে পাঞ্জাব ভ্রমণ বৃথা হবে আপনার জন্য। বিখ্যাত মহাকাব্য মহাভারত অনুসারে জানা গেছে এখানেই পান্ডবরা ১৩ বছর নির্বাসনে কাটিয়েছে। হুশিয়ারপুরের বেশ কয়েকটি দেখার মতো স্থান আছে যা সাইট সিন করে শুধু মুগ্ধ হবেন না বরং তার সাথে জানতে পারবেন।

 হোশিয়ারপুর শুধুমাত্র ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করেনা বরং দর্শকদের শ্রেয়তর নিজস্ব আকর্ষণ ও মহিমা দিয়ে মুগ্ধ করেছে। হোসিয়ারপুরের পত্ন তান্ত্রিক জাদুঘরে অনেক প্রাচীন আমলের প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে ৪০০ বছরেরও পুরনো মন্দির চার শতাব্দীর পরেও এমন দিন মন্দির ইতিহাসবিদ ও তীর্থযাত্রীদের বিস্মিত করে রেখেছে।

আনন্দপুর সাহেব:-

আনন্দপুর সাহেব চন্ডিগড় থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অসামান্য অপূর্ব দৃশ্য এবং লান্ডস্কেপের দিকে তাকিয়ে এর লং ড্রাইভ উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া এখানে পৌঁছানোর জন্য ট্রেনের ব্যবস্থা আছে। যদিও শহরে দেখার জন্য অনেক ধর্মীয় ও স্থান রয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যগুলির মধ্যে অবশ্যই আনন্দপুর সাহেব যাদুঘর এবং স্মৃতিসৌধগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যা আপনাকে শিখ সাম্প্রদায়ের সাহসিকতা এবং বীরত্বের একটি বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে। এবং আপনি যদি সত্যিকারের প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে রোপার জলাভূমি দেখে এবং ঝাঝার বাচৌলি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ভ্রমন করে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনায় একটি নতুন ধারণার স্থান পাওয়া উচিত। ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধ, ভাকরা নাঙ্গল বাঁধও এখানেই অবস্থিত।

 

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে সময় লেগে ৯-১৩ঘন্টা।

কলকাতা পৌঁছানোর পর সেখান থেকে বাসযোগে বা ট্রেনযোগে ভারতের দিল্লিতে পৌঁছাতে হবে সময় লাগবে ১৬ ঘন্টা।

তারপর দিল্লি থেকে ভারতের পাঞ্জাবে যাওয়া সহজ হবে।

যদি ট্রেন জার্নি করতে চান সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী এক্সপ্রেস এ করে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে কলকাতা যাওয়া সম্ভব।

আর যদি বাসে করে যেতে চান ঢাকা থেকে শ্যামলী বিআরটি সি, স্ক্যানিয়া, গ্রীন লাইন, সোহাগ,রয়েল কোচ, সৌহার্দ্য বাসে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে পারবেন।

শুধুমাত্র শ্যামলী পরিবহন এনআর বাস ঢাকা থেকে সরাসরি বেনাপোল বর্ডার হয়ে কোলকাতা যেতে পারে। অন্য বাস বর্ডারের কাছে নামিয়ে দেবে তারপর ঐপারে গিয়ে অন্য বাসে উঠতে হবে।

ইতিকথা, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্য এক ঐতিহ্যবাহী ভ্রমণ স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম স্থান। পাঞ্জাবের প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যি দেখার মতন। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজের সমারহ এবং বিজ্ঞ সমঝদার লোকেদের দেখা পেতে একবার হলেও পাঞ্জাবে ভ্রমন করা উচিত। এই রাজ্যের ভ্রমণ কেন্দ্রগুলি সকল দর্শকদের অবশ্যই আকর্ষিত করে। দেশের মধ্যে অনেক স্থানেই তো ঘুরে দেখেছেন এবার না হয় ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে ভ্রমণ করে পাঞ্জাবের শিল্প-সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার সাথে পরিচিত হয়ে নিজেকে প্রাণবন্ত করতে সচেষ্ট হন।

 গজল, কাওয়ালীতে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্য। পাঞ্জাব রাজ্যের বেশিরভাগ মানুষই শিখ সম্প্রদায়ের। এখানকার শিল্প সংস্কৃতি আচার-আচরণ, কথাবার্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ কিছুটা ভিন্ন। মহিলাদের পোশাকেও ভিন্নতা আছে। সম্পূর্ণ নতুন ভাবে নতুন কিছু জানতে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে ভ্রমণ করে দেখতে পারেন।

পাঞ্জাব রাজ্য ভ্রমণ করতে গেলে একবারও আপনার বোরিং ফিল হবে না। নিজেকে একটু সময় দিতে কিংবা প্রিয়জনের সাথে ভালো একটা সময় মুহূর্ত কাটানোর জন্য পাঞ্জাব রাজ্যে ভ্রমণ করে মুহূর্তটাকে সানন্দে ভরিয়ে তুলুন। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন –

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents