Dreamy Media BD

রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান

রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। ভারতের মধ্যে অসংখ্য ভ্রমণ স্পট আছে যেগুলোতে সব সময়ই দেশী বিদেশী পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। আমরা সকলেই জানি ভারত রাষ্ট্রের আনাচে-কানাচে পর্যটন শিল্পতে ভরপুর। যারা ভ্রমণ পিপাসু ভ্রমণের জন্য কোথায় গিয়ে আপনার মূল্যবান সময়টা উপভোগ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাদের জন্য নিয়ে এসেছি আজকে আমাদের আয়োজন। এই আর্টিকেলে রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে বিখ্যাত ১০টি তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের মধ্যে যদি কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মনস্থির করেন তার মধ্যে রাজস্থান হবে আপনার জন্য অন্যতম পর্যটন স্পট। আপনার ভারত ভ্রমণ তালিকাতে অবশ্যই এই নামটি যুক্ত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজস্থানে ঘুরতে যাওয়ার আগে রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা কি জরুরী নয়? আপনার সুবিধার্থে আজকে রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান সম্পর্কে আলোচনা করব।

আমরা সকলেই অবগত আছি ভারতবর্ষসহ সমগ্র বিশ্বের সকলেই জানে ভারতের রাজস্থান ভ্রমণ স্পট গুলোর মধ্যে সেরা একটি পর্যটন স্থান। ভারতের রাজস্থানে দেখার মত অনেক কিছুই আছে সমৃদ্ধি সংস্কৃতি, বহু পুরনো সুউচ্চ দুর্গ, ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ,ইমারত ইতিহাস ঐতিহ্যে গৌরবমন্ডিত  স্থান দখল করে আছে, যা দেখে দর্শনার্থীদের মন মুগ্ধ হয়ে যেতে বাধ্য।

১.জয়পুর

জয়পুর

রাজস্থান রাজ্য পর্যটন শিল্পের জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আর এই রাজস্থান এর রাজধানীর নাম জয়পুর। জয়পুর রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম। অধিক মতামতের ভিত্তিতে জয়পুরকে ভারত রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে অনেক প্রাচীন বিল্ডিং গোলাপী রঙের হওয়ার কারণে এ শহরকে গোলাপি শহর বলেও আখ্যায়িত করে।

১৭২৭ সালের দিকে রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরকে আম্বরের শাসক সাওয়াই জয় সিং  প্রতিষ্ঠিত করেছিল। অনেকেই বিশ্বাস করে যে এই শহরটি বৈদিক হিন্দু স্থাপত্য অনুসারে গড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে। শহরটি সাজানো রয়েছে সুপরিকল্পিত প্রাচীন ঐশ্বর্য এবং সুউচ্চ দুর্গ, বহু পুরানো রাজপ্রাসাদ, নিপুন হাতে তৈরি বাগান, মহান ব্যক্তিদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ এবং রাজস্থানের শিল্প সংস্কৃতি প্রাচীন স্থাপত্য নিয়ে সংগ্রহকৃত যাদুঘর যেখানে গেলে প্রচুর আকর্ষণ রয়েছে। 

জয়পুরও বিভিন্ন ধরণের শিল্প ও হস্তশিল্পের জন্য বিশ্বখ্যাত হয়ে আছে । রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর শহরে অনেক ভ্রমণ স্পট রয়েছে। শহরটিতে প্রবেশ করলে আপনার মনে হবে যেন আপনি রংয়ের মেলার মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। জয়পুরে অনেক দর্শনীয় স্থান আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হল।

রাজকীয় আমের দুর্গ:- আমের ফোর্ট দুর্গ আরাবল্লী পর্বতমালার ঠিক চূড়ায় মনোরম পরিবেশে অবস্থিত।পাথুরে পাহাড়ে ঘেরা আমের দুর্গটি একটি রাজকীয় অবস্থানে রাজস্থানের শোভা বর্ধন করছে। রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে এটি অবশ্যই দেখার মতো একটি পর্যটন শিল্প। মহারাজা মান সিং ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে এই সুবিশাল দুর্গটি নির্মাণ করেছিল, যা আজও রাজস্থানের ইতিহাস বয়ে বেড়াচ্ছে। । এটি ছিল তখনকার রাজস্থানের এক রাজপরিবারের বিলাশবহুল রাজমহল বা বাসস্থান। যা নির্মাণ করা হয়েছিল লাল বেলেপাথর এবং মার্বেল পাথর দিয়ে। 

দূর্গের ফটকের দিকে যাওয়া পাথরের পথ ধরে উপরে উঠলে চারিদিকের মনোরম দৃশ্য দেখে আপনি অভিভূত হয়ে যাবেন।  অস্তগামী সূর্যের দৃশ্য যখন দূর্গটির উচ্চ ফোর্ট থেকে দেখা হয় দর্শনার্থীর হৃদয়ে মনমুগ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।, এই ফোর্টে আলোকিত লাইট সজ্জা আর সুমধুর সাউন্ড শো উপভোগ করতে করতে সেই পুরনো যুগের রাজার রাজ্য পরিদর্শনের সুখ অনুভব হবে, মনে হবে যেন রাজার রাজমহলে আপনি আমন্ত্রিত সভাসদ। 

এখানকার অপূর্ব শিল্পশৈলী ও আভিজাত্য দেখে আপনার মনে হবে ছোটবেলায় শোনা গল্প কথার  রাজাদের রাজ্যে প্রবেশ করেছেন, যা তাদের কৃতিত্বের  গল্প শোনায়।  সুখ মহলে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিনোদনমূলক নৃত্যের অনুষ্ঠান, উপভোগ করতে। এখানের এতো মহল দেখতে দেখতে নিজেকে রাজা রাজা অনুভব হবে যা দেখতে অবশ্যই ভুল করবেন না।

আমের ফোর্ট বা অ্যাম্বার ফোর্ট হল ভারতের রাজস্থানের আমেরে অবস্থিত একটি দুর্গ।  আমের মহল রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে ১১ কিলোমিটার  দূরে অবস্থিত ৪ বর্গকিলোমিটার যা বৃহৎ আয়তনে পাথুরে একটি শহর।  আম্বার শহর এবং আম্বার দুর্গ মীনাসের চন্দ্র রাজবংশীয় শাসক অ্যালান সিং দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  পাথুরে একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত, এটি জয়পুরের সবচেয়ে প্রধান পর্যটন আকর্ষণের একটি।

আমের ফোর্ট তার শৈল্পিক শৈলী উপাদানের জন্য বিশ্বের কাছে পরিচিত একটি দুর্গ। এর বৃহৎ প্রাচীর এবং সিরিজের গেট এবং পাথুরে পথ সহ, দুর্গটি মাওতা হ্রদকে উপেক্ষা করে, যা আমের প্রাসাদের পানির প্রধান উৎস।

জয়গড় দুর্গের সাথে এই প্রাসাদটি একই আরাবল্লী পর্বতমালার চেল কা তিলা (ঈগলের পাহাড়) এর ঠিক উপরে অবস্থিত।  প্রাসাদ এবং জয়গড় দুর্গকে একটি জটিল হিসাবে বিবেচনা করা হয়, কারণ দুটি দূর্গ একটি ভূগর্ভস্থ পথ দ্বারা সংযুক্ত।  এই পথটি যুদ্ধের সময় রাজপরিবারের সদস্যদের এবং আমের ফোর্টের অন্যান্য সদস্যদের আরও সন্দেহজনক জয়গড় দুর্গে স্থানান্তরিত করতে সক্ষম করার জন্য একটি পালানোর পথ হিসাবে বোঝানো হয়েছিল।

 আমের প্রাসাদে পর্যটন পরিদর্শন প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগটি দেখতে ভারতবর্ষ সহ অন্যান্য রাষ্ট্র থেকে লোকসমাগম ঘটে।  ২০১৩ সালে কম্বোডিয়ার নমপেনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৩৭ তম অধিবেশনে, রাজস্থানের অন্যান্য পাঁচটি দুর্গের সাথে আমের ফোর্ট, রাজস্থানের পাহাড়ী দুর্গের অংশ হিসেবে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 আমের ফোর্টের কিছু ভবন ও কাজের শৈল্পিকতা মুঘল স্থাপত্যের প্রভাব রয়েছে। লাল বেলেপাথর এবং মারবেল দিয়ে নির্মিত, আকর্ষণীয়, ঐশ্বর্যময় প্রাসাদটি চারটি স্তরে বিন্যস্ত, প্রতিটিতে একটি উঠান রয়েছে।  

প্রাসাদটি ছিল রাজপুত মহারাজা এবং তাদের পরিবারের বিলাশবহুল বাসস্থান।  দুর্গের গণেশ গেটের কাছে প্রাসাদের প্রবেশপথে, চৈতন্য ধর্মের দেবী, শিলা দেবীর উদ্দেশ্যে একটি মন্দির রয়েছে, যা রাজা মান সিংকে দেওয়া হয়েছিল যখন তিনি ১৬০৪ সালে যশোরের রাজাকে পরাজিত করেছিলেন। (যশোর হল  এখন বাংলাদেশে)। 

রাজা মান সিংহের ১২ জন রানী ছিল তাই তিনি ১২টি ঘর তৈরি করেছিলেন, প্রতিটি রানীর জন্য একটি করে।  প্রতিটি ঘরে রাজার কক্ষের সাথে একটি সিঁড়ি সংযুক্ত ছিল তবে রাণীরা উপরের তলায় যেতে পারেনি।  রাজা জয় সিংহের মাত্র একজন রানী ছিল তাই তিনি তিনটি পুরানো রাণীর ঘরের সমান একটি ঘর তৈরি করেছিলেন।

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরের পাঁচটি দুর্গের মধ্যে আমের ফোর্ট, রাজস্থানের পাহাড়ী দুর্গের অংশ হিসেবে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এত সুন্দর মহল আর এর ঐতিহ্য দেখার জন্য ভারতের রাজস্থানে অন্তর্গত জয়পুরের আমের ফোর্টকে অবশ্যই আপনার একবার দেখা উচিত। তাহলে দেরি করছেন কেনো আজই বেরিয়ে পড়ুন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এবং আনন্দ উপভোগ করুন সবকিছু মিলিয়ে।

২.হাওয়া মহল:- পাহাড়-পর্বত, নদী, ঝরনা, খাল, বিলতো অনেক ঘুরেছেন এবার একটু আলাদা রকম অভিজ্ঞতা পেতে পারেন রাজস্থানের হাওয়া মহলে। হাওয়া মহল একটি অসাধারণ স্থাপত্যের নিদর্শন। রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে হাওয়া মহল অন্যতম, যেটি যে সবসময়ই ভ্রমণবিলাসীদের নয়নের মণি। বিশেষ করে হাওয়া মহল ভ্রমণ প্রেমীদের কাছে রাজস্থান কে শীর্ষে স্থান করে দিয়েছে। গোলাপি রঙের পাথর বাধানো বারান্দা, চিক দেওয়া জানালার এই হাওয়া মহল থেকে গোটা শহর নাকি ভালো করেই দেখা যায়। রাজস্থানের জয়পুর শহরে অবস্থিত এই অপূর্ব সুন্দর স্থাপত্য দেখতে দলে দলে ভিড় জমান দেশি বিদেশি পর্যটক। হিন্দু রাজপুত এবং ইসলামিক মুঘল স্থাপত্যের সংমিশ্রণকে প্রতিফলিত এই হাওয়া মহলটি শৈল্পিক ভাবে নির্মিত করা হয়েছে।

সৌন্দর্য মন্ডিত ভবনটি পাঁচ তলা হলেও অনেক আশ্চর্যের। আশ্চর্য কেন বললাম সেটাই ভাবছেন তাই না? সিড়ি নেই তাহলে রাজা রানীরা কিভাবে উঠা নামা করতেন সেখানে? আর সেখানে পর্যটকরাই বা কিভাবে যায়? শুনবেন নাকি সেইসব আশ্চর্যকর কথাবার্তা? মহারাজা সাওয়াই প্রতাপ সিং ১৭৯৯ সালে হাওয়া মহল নির্মাণ করেন। রাজা সাওয়াই প্রতাপ সিং ছিলেন শ্রী কৃষ্ণের ভক্ত অনেক ভক্তি করতেন তিনি শ্রী কৃষ্ণকে। তাই তিনি যখন হাওয়া মহল নির্মাণ করা তখন মহলের বাইরেটা কিছুটা শ্রীকৃষ্ণের চূড়ার মতো করে তৈরি করেন।

রাজমহিষীরা মূলত এই মহলটি রাজ পরিবারের নারীদের জন্য তৈরি করেছিলেন। এই মহলেই নানা উৎসব-অনুষ্ঠান পালন করে নারীদের বিনোদন দিতেন। ভবনে রয়েছে ছোটো ছোটো ৯৫৩ টি জানালা। সেগুলির আকৃতি একত্রে অনেকটা মৌচাকের মতো দেখতে লাগে। ছোট ছোট জানালা দিয়ে অনবরত বাতাস চলাচল করে মহলকে ঠান্ডা রাখত। এই হাওয়া হড়ই মনোরম এবং মৃদুমন্দ গতিশীল। এই মিষ্টি মিষ্টি হাওয়া উপভোগ করতে পছন্দ করতেন রাজা রানীরা। 

এইটাই সেই রহস্য সিড়ি না থাকা সত্ত্বেও রাজা-রানীদের মহলটিতে ওঠা নামা করার। পিরামিডের আকৃতির হওয়ার কারণে এই স্মৃতিস্তম্ভটি আজও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এ ভিত্তি ততটা শক্ত না যার কারণে এটি কারণে এটি ৮৭ ডিগ্রি কোণে হেলে আছে। তবে হাওয়া মহলের গোলাপি পাথরের জন্য জয়পুরকে অনেকে গোলাপি শহর বা দ্যা পিংক সিটি বলে চেনে। ভোরের সবচেয়ে নামকরা দর্শনীয় স্থান হাওয়া মহল। অষ্টভুজাকৃতি অসাধারণ এই প্রাসাদটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সামনেই রয়েছে উন্মুক্ত একটি স্থান। 

মহলের পিছনের দিকে রয়েছে অনেকগুলো ঘর সাথে রয়েছে অনেকগুলো গলি। জানলে অবাক হবেন বিশ্বের উঁচু বড় ভীতবিহীন ইমারত এটি। এর গোলাপি স্বতন্ত্র রং মহলের সৌন্দর্য্য যেন আরও অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যে আসে তারই মন কেড়ে নেয় এই মহলের সৌন্দর্য। ইমারতের নকশা খিলান, গম্বুজ, রত্নখচিত দামী ধাতুর সূক্ষ্ম তারের নিখুঁত কারুকাজ। ইসলামী শৈলী স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। এছাড়া মহলটির স্তম্ভ গোলাকার, গম্বুজ যুক্ত সামিয়ানা টাঙ্গানো, পদ্মের নকশা এবং নকশা করা মেঝে দেখলেই বোঝা যায় রাজকীয় প্রাসাদ এটা।  

হাওয়া মহল সম্পর্কে জেনে নিশ্চয় মন ব্যাকুলতায় ভরে উঠেছে হাওয়া মহল একবার নিজ চোখে দেখার জন্য? তাহলে আর দেরি কিসের আজই বেরিয়ে পড়ুন আপনার পছন্দের মানুষ কিংবা বন্ধুদের নিয়ে এবং উপভোগ করুন হাওয়া মহলের মায়াভরা সৌন্দর্য। আশা করি আপনার মনের ডাইরিতে সারা জীবন স্মৃতি হয়ে থাকবে এই ভ্রমণ।

 

 ৩.জয়গড় ফোর্ট:- জয়গড় দুর্গ আসলে জয়পুরের উপেক্ষা করার জন্য সবচেয়ে দর্শনীয় দুর্গের মধ্যে অন্যতম একটি নিদর্শন। দূর্গটি জৈভানা কামানের জন্য বিখ্যাত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে, যা বিশ্বের বৃহত্তম কামান হিসাবে বিবেচিত হয় বিশ্বজুড়ে। মূলতঃ জয়গড় দুর্গটি ১৭২৬ সালে সাওয়াই জয় সিং দ্বারা আমের দুর্গটি রক্ষণাবেক্ষণ ও শত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছিল। এই দুর্গতির নির্মাতার নাম জয় সিংহ তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। 

এটি নামেও পরিচিত বিজয়ের দুর্গ কারণ এটি কখনো জয় করা হয়নি। জয়গড় কাঁটা-ঝোপ-ঢাকা পাহাড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটা বিশাল দুর্গ। দুর্গের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে দুঙ্গার দরজা পর্যন্ত খাড়া রাস্তা। দুর্গটি আরাবল্লী পর্বতমালার চিল কা তিলা (দ্য ঈগলস হিল) এ অবস্থিত, এই দুর্গের উপর থেকে মাওথা হ্রদ এবং আমের দুর্গকে দেখা যায়। দিওয়া বুর্জ ও মধ্যযুগীয় সময়ের একটি কাঠামো  হিসেবে তৈরিকৃত দূর্গ এবং ‘চিল কা তিলা’ নামক একটি ওয়াচ টাওয়ার হল জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ যা আপনাকে পুরো শহরের একটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপহার দেবে। 

৪.সিটি প্যালেস:-  গোলাপি শহর বা দ্যা পিংক সিটি জয়পুরকে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের মাথার মুকুট করে রেখেছে। সিটি প্যালেস রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে দিনে দিনে ভ্রমণ পিপাসুদের চোখে মণি হয়ে উঠেছে জয়পুর। জয়পুরে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান আছে তার ভিতর সিটি প্যালেস অন্যতম।

এই ঐতিহ্যবাহী সৌধটি মুঘল, ইউরোপীয় এবং রাজপুতানা স্থাপত্যের মিশ্রণকে একত্রিত করে এবং ফলস্বরূপ, এই প্রাসাদটি ভারতীয় ইতিহাসের ঐশ্বর্য ও রাজকীয়তার ভার বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। সিটি প্যালেস হলো জয়পুরের একটি বড় কমপ্লেক্স। ভারতের রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে অবস্থিত সিটি প্যালেস হল স্থাপত্যের একটি অত্যাশ্চর্য নির্দশন ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় শহরের আকর্ষণীয় মহল। অষ্টাদশ শতাব্দীতে অম্বরের কচ্ছওয়াড়া রাজপুত রাজা মহারাজা দ্বিতীয় সাওয়াই জয় সিংহ দ্বারা এই প্রাসাদটি নির্মিত হয়েছিল।

এই প্রাসাদের অভ্যন্তরে সুন্দর মার্বেল পাথরের কারুকার্য খচিত মেঝে রয়েছে, চমৎকার কারুকার্য খচিত স্তম্ভ, জালি বা জাফরি কাজ করা এবং খচিত অলঙ্করণ লালিত রয়েছে আজো দূর্গটির দেওয়ালে দেওয়ালে।

এটি ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ছবি আঁকা একটি মহল। যুগের পর যুগ ধরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গৌরীমা বয়ে নিয়ে আসছে যা পর্যটকদের এখানে আকর্ষিত করে। জালেব চক্ এবং ত্রিপোলিয়া গেট হল সিটি প্যালেসের দুটি প্রধান প্রবেশপথ যা রাজস্থানের জয়পুরে অবস্থিত। কলোনেল্ জ্যাকব সফলভাবে মুঘল, রাজপুত এবং ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রন ঘটিয়ে এই ঐশ্বর্যশালী স্থাপত্যটির নির্মান করেছিলেন।

৫.অ্যালবার্ট হল্ যাদুঘর:-  রাজস্থান রাজ্যের প্রাচীনতম যাদুঘর হলো অ্যালবার্ট হল যাদুঘর বা কেন্দ্রীয় যাদুঘর ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে এটি নির্মিত হয়েছিল। এটি জয়পুরে রাম নিবাস বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত। লন্ডনের আলবার্ট যাদুঘরের আদলে অ্যালবার্ট হল যাদুঘরটি নির্মিত হয়েছে এবং এটি ইন্দো-সারসেনিক স্থাপত্য শৈলীর প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। রাজস্থানের জয়পুরে রাম নিবাস বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

জয়পুরে অবস্থিত, অ্যালবার্ট হল মিউজিয়াম রাজস্থানের প্রাচীনতম যাদুঘর। ১৮৭৬ ​​সালে আলবার্ট এডওয়ার্ডের ভারত সফরের সময় অ্যালবার্ট হল মিউজিয়ামের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল। বাইরে থেকে ভবনটির স্থাপত্য খুবই আকর্ষণীয়। এর ইন্দো-সারসেনিক অনুপ্রাণিত গম্বুজ এবং খিলানগুলি বেলেপাথর দিয়ে নির্মিত। 

মিউজিয়ামের ভেতরে গেলে দেখতে পাবেন রাজা রাজপূতদের ব্যবহারকৃত আসবাবপত্র, ব্যবহারকৃত জিনিসপত্র, যুদ্ধের সরঞ্জাম, পোশাক, মুদ্রা এবং এখানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসটি হল এখানে একটি মমি আছে। চোখের সামনে এমন বিশ্বয়  দেখতে কার না ভালো লাগে। যারা প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন তাদের জন্য এই মিউজিয়াম টি একটি আদর্শ হতে পারে। রাজস্থানে এলে মিউজিয়াম টি ঘুরে দেখতে ভুল করবেন না।

৬.যন্তর মন্তর:- নি:সর্গ এবং সুবিশাল মহাবিশ্ব মানবজাতির কাছে সবসময় একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে থাকে। মহাবিশ্ব প্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে মুগ্ধ করে আসছে। নি:সর্গের রহস্য আবিষ্কারের জন্য যেসমস্ত মানমন্দির তৈরি করা হয়েছিল তাদের মধ্যে একটি হল জয়পুরের যন্তর মন্তর। সমগ্র উত্তর ভারতের উপর মহারাজা সওয়াই জয় সিংহ দ্বারা নির্মিত পাঁচটি মানমন্দিরের মধ্যে জয়পুরের যন্তর মন্তরটি হল বৃহত্তম এবং সবচেয়ে ভালভাবে সংরক্ষিত একটি নির্মাণ। 

গোলাপী শহরে অবস্হিত যন্তর মন্তরে বিভিন্ন পাথর গাঁথনি দ্বারা নির্মিত একাধিক কাঠামো এবং একটি ক্ষেত্র তত্ব সংক্রান্ত রূপ রয়েছে যা সারা বিশ্বের শিল্পী, স্থপতি এবং দক্ষ ইতিহাস-রচয়িতাদের মনোযোগকে আকর্ষিত করে। ১৭২৭ থেকে ১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময় রাজা জয় সিংহ এই মহলটি নির্মাণ করেন। 

জয়পুর মানমন্দিরটি ছিল স্থানের মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তম মন্দির,এবং এখানে তিনি ২০টি স্থায়ী যন্ত্ৰ স্থাপন করেছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চা করার জন্য। মোগল সাম্রাজ্যর শেষ দিকের এক জ্ঞানী সামান্ত রাজার রাজদরবারের জ্যোতিৰ্বিজ্ঞান দক্ষতা এবং বিশ্বচেতনার অভিপ্ৰকাশ করে এর ফলে স্বরূপে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় সাংস্কৃতিক সম্পত্তি রূপে অন্তৰ্ভুক্ত হয় বিশ্বের দরবারে।

৭.মতি ডুংরী:_ পাহাড়ের নীচে এবং রাজস্থানের জয়পুরের মতি ডুংরি দুর্গ বা মন্দিরে স্থাপিত দেবতা গণেশের মূর্তিটি পাঁচশত বছরেরও বেশি পুরানো বলে জানা যায় এবং ১৭৬১ সালে মহারাজা মাধো সিং প্রথমে তার সাথে শেঠ জয় রাম পালিওয়াল দুজনের সহযোগিতায় মূর্তিটি এখানে নিয়ে এসেছিলেন উদয়পুর। এটি গুজরাট থেকে উদয়পুরে আনা হয়েছিল। মন্দিরটি পালিওয়ালের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিল।

সিঁদুর রঙের গণেশ আইকনের কাণ্ডটি ডানদিকে রয়েছে। ভক্তরা লাড্ডু মিষ্টি নিবেদন করে, অন্তত ১.২৫ লক্ষ ভক্ত প্রতি বছর গণেশকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মন্দিরের সমাগম ঘটে। মন্দির চত্বরে প্রতি বুধবার জনসাধারণের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়ে আসতেছে যুগ যুগ ধরে।

মতি ডুংরি ফোর্ট কমপ্লেক্সে একটি লিঙ্গ উন্মুক্ত আছে (দেবতা শিবের আইকন) রয়েছে, যা বছরে একবার করে শিবের উৎসব মহাশিব রাত্রিতে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। দেবতা লক্ষ্মী নারায়ণকে উৎসর্গ করা আরেকটা যে বড় বিড়লা মন্দিরটি রয়েছে তা গণেশ মন্দিরের দক্ষিণে অবস্থিত।

৮.নাহারগড় দুর্গ:- ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুর শহরকে উপেক্ষা করে আরাবল্লী পাহাড়ের উপত্যকার ধারে দাঁড়িয়ে আছে আমের ফোর্ট এবং জয়গড় ফোর্টের পাশাপাশি নাহারগড় দূর্গটিও। জয়পুর শহরের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করেছিল এই দুর্গ গুলো। রাজা সাওয়াই জয় সিংহ এই দুর্গগুলো নির্মাণ করেছিলেন। 

দুর্গটির নাম ছিল সুদর্শনগড়, কিন্তু এটি পরবর্তীতে নাহারগড় নামে পরিচিত হয়, যার অর্থ ‘বাঘের আবাস’। জনগনের বিশ্বাস হল নাহার বলতে এখানে নাহার সিং ভোমিয়াকে বোঝানো হয়েছে। লোককথা মতে যার আত্মা এই জায়গাটিকে এক সময় আতঙ্কিত করেছিল এবং দুর্গের নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করেছিল। দুর্গের মধ্যে তাঁর স্মৃতিতে একটি মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে নাহারের আত্মা প্রশান্ত হয়েছিল। যেটি তাঁর নাম অনুসারে এর পরিচিত হয়েছিল।

 ৯.জল মহল:- জলে ফুটে ওঠা শাপলা, পদ্মতো আমরা সবাই দেখেছি কিন্তু জলের মাঝে জল প্রাসাদ বিষয়টা খুব মজার তাই না? ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরে রয়েছে এই অত্যাশ্চর্যকর মহল যার নাম জল মহল। জল মহল রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম। জলের নীচের প্রাসাদ, জল মহল, ভাসমান প্রাসাদ বা জল প্রাসাদ যেই নামেই ডাকুন না কেন সবগুলো নামেই প্রাসাদটি পরিচিত। 

বর্তমানে এখন আর আগেকার যুগের সেই রাজা রানীদের রাজ্য শাসন, না দেখা গেলেও তাদের বানানো অসম্ভব সুন্দর শিল্পশৈলীর স্থাপত্য নিদর্শন গুলো দেখতে ছুটে আসে বহু দর্শনার্থীরা। এবং হয়ে যায় এই অপূর্ব সৌন্দর্য্যের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী। জলের মধ্যে থাকা মহলটি দেখতে যেমন অপূর্ব তার প্রত্তিছবি যখন চারপাশের পানির মধ্যে দেখা যায় তখন কত যে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মনে হবে এখানে না গেলে আপনি তা উপলব্ধি করতে পারবেন না। 

জল মহলে থাকা প্রত্যেকটি হল, চেয়ার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্বচ্ছ  সিড়িঁ গুলো, চূড়ায় মার্জিতভাবে পরিকল্পিত সোপান দিয়ে সুসংরক্ষিত নিখুঁত হ্যান্ড পেইন্টিং সহ যাবতীয় সবকিছু সুসজ্জিত ভাবে আজও ইতিহাস ঐতিহ্য স্বাক্ষর বহন করে আসছে।এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে সূক্ষ্ম ভারতীয় নির্মাণগুলির মধ্যে একটি। যা বর্তমান দিন পর্যন্ত এখনো নিখুঁতভাবে টিকে আছে। 

এই সূক্ষ্ম নির্মাণ শৈলীর নকশা দেখলে যে কারোরই মন ভরে যাবে সাথে আশ্চর্য হয়েও যাবে,কারণ বহু যুগ আগেকার চিত্রশিল্পীরা এত সুন্দর সুন্দর শিল্পকর্ম দ্বারা তাদের দক্ষতাকে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন। তারা বর্তমান বিশ্বের চিত্রশিল্পীদের থেকে কম জানতেন না সেটা আজও আমরা এসব স্থাপনা দেখে বুঝতে পারি। বিশেষ করে চারপাশে পানি আর তার মাঝে পদ্মের মতো ফুটে আছে জল মহল। আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে।

রাজস্থান জুড়ে বিস্তৃত একটি থিম আকারে নির্মিত এই মহলটি স্থাপত্যগতভাবে বলতে গেলে, জলমহল প্রাসাদটি মুঘল-রাজপুতদের তৈরিকৃত সবচেয়ে সুন্দর স্থাপত্য শৈলী। এটি একটি পাঁচ তলা বিশিষ্ট ইমারত। জল মহলের আশেপাশে প্রচুর পাখির আনাগোনা দেখা যায়। এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকেরা পাখি দেখে বেশ আনন্দিত হয়। তবে এখানে আসলে আপনার সূর্যাস্তের পরের মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতাটা একটু অন্যরকম হবে হবে।

 আপনি যদি সূর্যাস্তের পরে জল মহলের দৃশ্য দেখেন তাহলে বুঝবেন কতটা সুন্দর লাগে এই দৃশ্য। রাতের ডিসপ্লে এবং অত্যাশ্চর্য মহলের আলোকিত দৃশ্যের প্রশংসা না করে কেউ থাকতেই পারবে না। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো জল মহলের ভিতর ঢোকার দর্শনার্থীদের কোন অনুমতি নেই। মহলের বাইরের পানিতে বোটিং করার সুব্যবস্থা রয়েছে। বোটিং করতে করতে মনের মাঝে রাজকীয় ভাব আসতেই পারে। আর দেরি কিসের আজই  বেরিয়ে যান জল মহল দেখার উদ্দেশ্যে। 

১০.গালতা মন্দির.

মহিমাম্বিত যন্তর মন্তর এবং উজ্জ্বল হাওয়া মহল, বিভিন্ন মন্দির সমন্বিত, গোলাপী রং-এর শহর জয়পুরে সারা বছর ধরে প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়ে থাকে। জয়পুরের গালতা মন্দির হল রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম একটি আকর্ষনীয় স্থান। অনমনীয় প্ররিবেশের অন্তরে অবস্থিত গালতা মন্দিরটি ‘বানর মন্দির’ নামেও পরিচিত।

 পাহাড়ের চূড়ার উপর অধিষ্ঠিত এই মন্দিরটি সুন্দর সিসোদিয়া রানী-কা বাগের নিকটে অবস্থিত। এটি কথিত আছে যে, মন্দিরের পবিত্র দ্বারটি ঐশ্বরিক মনুষ্য গালাভার অনুশোচিত ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজনের ভূমিকা পালন করে। এই মঠে রামানন্দ-এর ধর্মীয় আদেশের অনুগামী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তদের বিপুল সমাগম পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
দিল্লি থেকে জয়পুরের দূরত্ব ২৭৮ কি:মি

মুম্বাই থেকে ১১৮১কি:মি।

ব্যাঙ্গালোর থেকে দূরত্ব ১৯০ কি:মি

কলকাতা হাওড়া স্টেশন থেকে দিল্লিতে যেতে পারেন এবং দিল্লি থেকে ট্রেনযোগে জয়পুরে যেতে পারবেন।

কলকাতা থেকে বিমানযোগে দিল্লি যেতে পারেন এবং দিল্লি থেকে রাজস্থানের জয়পুরে যাওয়া খুব একটা শক্ত নয়।

 

২.যোধপুর 

যোধপুর 

জয়পুরের অনুরূপ শৈলী অনুসরণ করে রঙিন ভবন এবং ঘরবাড়ি নির্মাণ করে রাজস্থানের মধ্যে যোধপুর উল্লেখিত স্থানের নাম দখল করে নিয়েছে। যোধপুর শহরের আশেপাশের এলাকায় অবস্থিত উজ্জ্বল নীল ভবনগুলির জন্য যোধপুর নীল শহর হিসাবে পরিচিত। এই শহরটি রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান মধ্যে অন্যতম এবং এই এলাকার বাড়ী ও স্থাপত্য নিদর্শন যা পর্যটক এবং ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ। 

যোধপুর শহর ১৩ শতকে মারওয়ার রাজ্যের একটি অংশ ছিল বলে জানা যায়। শহরটি রাজপুত সম্রাজ্যের দূর্গ হিসেবে পরিচালিত হতো এবং রাজা রাজপূতদের প্রাসাদগুলির সাথেও বিস্তৃত অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করতো যা বহু শতাব্দী আগে বিদ্যমান ছিল। এই সু-সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ভবনগুলি একটি বাস্তব স্থাপত্য সৌন্দর্য আজো বহন করে আসছে যুগ যুগ ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে।

যারা ইতিহাস উৎসাহী তাদের জন্য নিখুঁত ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন, যারা অতীতের আভাস পেতে চান তাদের অবশ্যই একবার হলেও রাজস্থানের যোধপুরে ঘুরে যাওয়া উচিত। যোধপুরে রাজস্থানের দর্শনীয় স্থান গুলি হল মেহরানগড় ফোর্ট, খেজারলা ফোর্ট, উমেদ ভবন প্রাসাদ, শীশ মহল, ফুল মহল, চামুন্ডা মাতাজি মন্দির, রানিসার এবং পদ্মসার হ্রদ এবং যশবন্ত থাডা উল্লেখযোগ্য।

১.মেহরানগড় ফোর্ট:- ভারতের রাজস্থান অন্যতম এক রাজসিক রাজ্য। এই বৃহত্তম শহরটি সবচেয়ে রঙিন শহর ও সুন্দর হস্তশিল্প এবং আশ্চর্যজনক স্থাপত্যশৈলী দ্বারা অভিজ্ঞতায় ভরপুর আবাসস্থল। এটি তার রাজকীয় ধ্বংসাবশেষ নিয়ে এবং বৃহৎ মহল যেমন গ্র্যান্ড প্রাসাদ এবং দুর্গের জন্যও বিখ্যাত। 

বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার শীর্ষে মহিমান্বিত ও অতুলনীয়ভাবে যোধপুর শহরের মধ্যে মেহরানগড় দুর্গ আজও দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।আজও রাজস্থানবাসির কাছে এবং দূর দূরান্ত থেকে ভ্রমণ করতে আসা পর্যটকদের কাছে এটি একটি অবিস্মরণীয়  দূর্গ। এটা এমন একটা দর্শনীয় দৃশ্য যা আপনাকে বাকরুদ্ধ করে দেবে। সমগ্র ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দুর্গগুলির মধ্যে এটি একটি। এই দুর্গটি ১৪৬০ সালে নির্মিত হয়েছিল। 

বর্তমানে অনেক উৎসাহী পর্যটকরা যারা পুরনো স্থাপত্য নিয়ে রিসার্চ করছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাধারণত এই মাস্টারপিস দুর্গটি নিয়ে পর্যালোচনা করে এর শৈল্পিক সৌন্দর্য আবিষ্কার করতে একটা পুরো দিন ব্যয় করেও এর কুল কিনারা করতে পারেনি। এটি বাইরে থেকে দেখতে দুর্গ মনে হলেও অভ্যন্তরীণভাবে একটি অসম্ভব সুন্দর চিত্তাকর্ষক জাদুঘর, সুন্দর সুসজ্জিত বাগান এবং সাংস্কৃতিকভাবে উল্লেখযোগ্য প্রাণবন্ত ইভেন্টগুলি নিয়ে গঠিত। 

মেহরানগড় ফোর্টে শুধু একটি সুসজ্জিত আলোকিত সফর ছাড়াও আরও অনেক কিছু দেখার মতো রয়েছে। সত্য যে দুর্গটি অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি করা হয়েছিল সেগুলো বেশ কয়েকটি প্রাসাদ নিয়ে গঠিত, যেমন দ্য পার্ল প্যালেস (মতি মহল), দ্য ফ্লাওয়ার প্যালেস (ফুল মহল), এবং মিরর প্যালেস (শীশ মহল) নামে এলাকা বাসীদের কাছে এবং পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। উৎসাহী পর্যটকদের এখানে দেখার জন্য প্রতিটি মহল এবং দূর্গ সরাসরি উপভোগ করার মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশের কারণ তৈরি করে। তদুপরি, ভারতের রাজস্থান দর্শনে এলে অবশ্যই যোধপুরের মেহেরানগড় দুর্গ ভ্রমণ করতে ভুল করবেন না।

মেহরানগড় দুর্গের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ও দেখার মতো আকর্ষণ হল এই দূর্গটি রক পর্বতমালার চূড়ায় অবস্থিত। ১৪৬০ সালে রাজা রাও যোধার শাসনামলে দুর্গটি তৈরি করা হয়েছিল। দুর্গের নাম থেকে  উদ্ভূত হয়েছিল যার অর্থ (অধিক এবং গড়), যা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় (সূর্য এবং দুর্গ) যথাক্রমে.রাঠোর নামে পরিচিত রাজবংশের রাজপূতদের সূর্যের ঈশ্বরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ছিল।

 তদুপরি, এই দূর্গটা পাখির পাহাড়ের উপর নির্মিত হয়েছিল এবং অতীতের বহু উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধের সময় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য পরিচিত। এত কিছুর পরেও, কাঠামোটি এখনও অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজস্থানের বুকে।এই গৌরবময় দুর্গের সৃষ্টি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা ও মতামত বিদ্যমান। ইতিহাস কথিত আছে যে, পাহাড়ের কাছাকাছি বসবাসকারী একজন পরহেজগার সুফিকে রাজা যোধা  বিরক্ত করেছিল এতে সুফি সাধক তার উপর ক্রুদ্ধ ছিল।

তাকে অভিশাপ দিয়ে, বলেছিলেন যে, দুর্গটি সবসময় খরা এবং বিপর্যয়ের মুখোমুখি থাকবে। এই অভিশাপে ভীত হয়ে পড়েন রাজা। অভিশাপ থেকে মুক্তির  আশায় রাজা যোধা এটি প্রতিরোধ করার জন্য ব্যবস্থা হাতে নেন। রাজা যোধা বেশ কয়েকটি মানুষের বলিদান করেছিলেন এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।কিছু কিছু লোক বিশ্বাস করেন যে মহিমান্বিত এই দুর্গের প্রতিটি কোণে চারজন করে মানুষ বলি দেওয়া হয়েছিল।

 আবার কেউ কেউ এই নামে বিশ্বাস করেন মেহরান হত্যা করা হয়েছিল বলেই এর এমন নামকরণ করা হয়েছে। স্থানীয় যেসব গাইড আছে সেইসাথে স্থানীয়রাও এই দুর্গ নিয়ে যে সকল গল্প উপস্থাপন করে তা সত্যিই রোমাঞ্চকর, এই দুর্গে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা সম্পর্কে দুর্দান্ত গল্পকথা উপস্থাপন করে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়ায়।

মেহরানগড় ফোর্টে শুধু একটি আলোকিত ভ্রমণ ছাড়াও আরও দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। সত্য যে দুর্গটি অভ্যন্তরীণভাবে বেশ কয়েকটি প্রাসাদ নিয়ে গঠিত, যেমন দ্য পার্ল প্যালেস (মতি মহল), দ্য ফ্লাওয়ার প্যালেস (ফুল মহল), এবং মিরর প্যালেস (শীশ মহল) উৎসাহী পর্যটকদের এখানে দেখার প্রতিটি কারণ দেয়।

রাজস্থানের মেহরানগড় ফোর্ট এবং এর আশেপাশে প্রধান আকর্ষণীয় স্থান:- 

আকাশ-উচ্চ অ্যাডভেঞ্চার

মেহরানগড় দুর্গে দর্শণার্থীদের প্রতিটি উৎসাহী পর্যটক আকাশে ওড়ার জন্য সুযোগ পান। এখানে ৬টি জিপ লাইন রয়েছে পর্যটকদের সুবিধার্থে এবং প্রত্যেক পর্যটকের অংশগ্রহণের একটি সৌভাগ্যের সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাডভেঞ্চারের মাথাপিছু মূল্য প্রত্যেক পর্যটকের কতগুলি জিপ বেছে নেবে তার উপর নির্ভর করে থাকে। তবে আপনি যদি দুঃসাহসিক হন তাহলে এই জায়গায় অবশ্যই থামতে ভুলবেন না কিন্তু। মেহরানগড় এর আশেপাশের সকল দৃশ্যগুলি অবশ্যই আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করবে।

মিরর প্যালেস:- মিরর প্যালেস বা শীশ মহল নামেও পরিচিত সকলের কাছে, এটি একটি অনির্দিষ্ট কাঁচের কারুকাজ দিয়ে ঘেরা এবং আলোক সজ্জা দিয়ে সাজানো অপূর্ব সুন্দর একটি প্রাসাদ। এখানে একটি ছোট খোলা জানালা আছে যেখান থেকে সুন্দরভাবে খোদাই করা কাঠামোগুলি খুব ভালো করে লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু এই দুর্গের এই চেম্বারটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকে তাই সকলে এর অভ্যন্তরীণ অনেক কিছু দেখতে পারে না। আরও, এই প্রাসাদের দেয়ালে দেয়ালে ভারত মহাদেশের পৌরাণিক গল্প কাহিনীর চমৎকার চিত্রকর্ম অঙ্কিত রয়েছে।

ফুলের প্রাসাদ:- এই দূর্গটি ফুল মহল নামেও পরিচিত, এই প্রাসাদটি মূলত রাজকীয়  পুরুষদের আনন্দ উপভোগ করার আর তাদের উৎসব উদযাপনের জন্য একটি ব্যক্তিগত জায়গা ছিল। প্রতিটা দেয়াল অত্যাশ্চর্য পেইন্টিং দিয়ে সম্পূর্ণ ভর্তি যা পূর্ববর্তি রাজপরিবারকে তাদের সমস্ত জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন ও তাদের কার্যকলাপ বিশদভাবে প্রদর্শন করে। প্রাসাদটি খুব রঙিন ভাবে তৈরি করা এবং পর্যটকদের অনেক মন ভরিয়ে দেয়। প্রাসাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিটি অংশ জাঁকজমক পূর্ণ। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত অনেক চাকচিক্য পরিলক্ষিত হয়।

বিখ্যাত ঝাঁকি মহল:- বিশেষতঃ এই মহলে সন্মানিত রানী এবং ছোট বড় রাজকন্যারা প্রায়ই জানালা থেকে রাজকীয় আদালতের মধ্যে অনুষ্ঠিত কার্যক্রম দেখতে উৎসাহিত হয়ে এখানে আসতেন। অভ্যন্তরটি একটি সুন্দর নীল রঙের কারুকাজ খচিত নকশা করা রয়েছে। 

 প্রাচীন মেহরানগড় ফোর্ট মিউজিয়াম

এই যাদুঘরটি সম্পূর্ণ রাজস্থানে তৈরিকৃত হস্তশিল্প দিয়ে ভরপুর একটি মিউজিয়াম। এমন কিছু সেরা হস্তশিল্পের আবাসস্থল এখানে যা আপনি আপনাকে বিস্মিত করতে বাধ্য করবে। সত্যিই যদি বিশেষ কাউকে এখানে তৈরিকৃত হস্তশিল্প উপহার দিতে পারেন তাহলে এর প্রশংসা এবং ভালবাসার চিহ্ন হিসাবে আপনিও প্রশংসা পাবার দাবিদার হতে পারেন। রাজস্থানের পোস্টকার্ড, মিউজিক সিডি, গয়না, কাপড়ের সামগ্রী, পারফিউম এবং আরও অনেক কিছু এখানে পাওয়া যাবে। দূর দূরান্ত থেকে কিংবা ভারতের আশেপাশে থেকে আসা বহু দর্শনার্থীরা এখান থেকে রাজস্থানের তৈরি হস্তশিল্প নিজেদের সাথে করে নিয়ে যান।

 চামুণ্ডা মাতাজীর মন্দির:

এই মন্দিরটি রাজস্থানের মধ্যে বিশাল এবং শান্তিপূর্ণ কারণ এটি সনাতন ধর্মাবলিদের জন্য যেনো ইতিবাচক শক্তি দেয়। মন্দিরটির মধ্যে আনা  মূর্তিটি রাজা রাও যোধা মন্ডোর থেকে এসেছে। এই মন্দির টা এখানে ভ্রমণকারী সমস্ত পর্যটকদের দ্বারা প্রচুর সম্মানিত এবং শ্রদ্ধায় লালিত হয়। মন্দিরটি একটি দর্শনীয় স্থান রাজস্থানের যোধপুরে।

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
বাংলাদেশ থেকে কলকাতার দূরত্ব ৩৬৮.৮ কি:মা।কলকাতা থেকে দিল্লির দূরত্ব ১৫২৫ কি:ম।

দিল্লি থেকে রাজস্থানের দূরত্ব ৪২৬ কি:মি দূরে অবস্থিত।

কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে দিল্লি যেতে পারেন এবং বিমান যোগেও খুব সহজে যাওয়া যায়।

দিল্লি থেকে রাজস্থানের যোধপুরের ট্রেনে যাওয়া যাবে আবার সুবিধা অনুযায়ী বিমানেও যেতে পারেন।

 

৩.জয়সলমির

জয়সলমির

জয়সলমির “সোনার শহর” এর নামটিও ভাগ করে এবং এটি অবশ্যই রাজস্থানে দেখার জন্য সেরা জায়গাগুলির মধ্যে অন্যতম একটি পর্যটন স্পট। সকালের সূর্য উদিত থেকে শুরু করে এবং বিকেলের সূর্যাস্ত্র পর্যন্ত শহরটিতে একটি সুন্দর সোনালি আভা দিয়ে ঘিরে থাকে যা সোনালী বালির মধ্যেও অবস্থিত একটি চমৎকার প্রাসাদ।

এর চারপাশে থর মরুভূমি। মহারাওয়াল জয়সাল সিং নামে একজন ভাটি রাজপুত শাসকের অধীনে শহরটি রাজস্থানের মাটিতে অস্তিত্ব লাভ করে। ১২ শতকের পুরোনো ইতিহাসের বিকশিত এই শহরটি রাজস্থানের পর্যটন হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। স্থানটিতে আকর্ষিত স্থাপত্য নিদর্শন এর মধ্যে অনেক সোনালি রঙের বেলেপাথরের দালান রয়েছে, যা জয়সালমেরের অপার স্থাপত্য সৌন্দর্যকে নির্দেশ করে।

 জয়সালমের দেখার জন্য সেরা জায়গা আরো অনেকগুলো রয়েছে যা দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। জয়সালমেরের মধ্যে রয়েছে :-

জয়সলমীর ফোর্ট, বড় বাগ, পাটওয়ান-কি-হাভেলি, স্যাম স্যান্ড টিউনস, থর হেরিটেজ মিউজিয়াম, গাদিসার লেক, নাথমল কি হাভেলি এবং জৈন মন্দির।

এছাড়াও আপনি বিভিন্ন নাচ এবং গানের পরিবেশনার মাধ্যমে রাজস্থানের সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারেন। পর্যটকদের এখানে গাইডের ব্যবস্থা আছে।

 

৪.উদয়পুর 

উদয়পুর

উদায়পুর রাজস্থান এর দক্ষিণ দিকে একটি বিখ্যাত শহর বিখ্যাত স্থান। ১৫৫৮ সালে মহারাশিং এর প্রতিষ্ঠান করেন। রাজস্থানে যত গুলো সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ পর্যটন স্থান আছে তার ভিতরে উদায়পুর একটি স্থান। শহরের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া  হ্রদগুলো পর্যটন এর প্রধান কারন।

উদায়পুর সুন্দর মনোরম পরিবেশ আপনাকে আকর্ষন করতে বাধ্য হবে, পাখির নিরালা সুর প্রাকৃতিক  সৌন্দার্যের ভিতরে আপনি হারিয়ে যেতে বাধ্য হবেন। প্রাকৃতিক সাদৃশ্য নীল হ্রদ আপনার মন স্পর্শ করতে বাধ্য হবে। উদায়পুর কে অনেকে ভালোবেসে প্রাচ্যের  ভেনিস বলা হয়

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের উদায়পুরে অনেকগুলো দর্শনের স্থান আছে চলুন জেনে নেয়া যাক ভ্রমণ এর স্থান গুলো:

১. দুধ তালাই : লেকের শহর উদায়পুর এর অন্যতম জলাশয়। এটা কি আপনি ছোটখাটো ঝিলও বলতে পারেন। এটির জল স্বচ্ছ কাঁচের মত যখন নীল আকাশ উড়ে যায় তখন জলের ভিতর এর ছায়া প্রতিফলিত হয়ে এক অন্যরকম সৌন্দর্যতা সৃষ্টি করে। এই সরোবরের একটি বড় পাহাড়। প্রাকৃতিক পরিবেশে মন ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার তাগিদে ছুটে আসে দুধ তালাই লেকের পাড়ে। লেকের চারপাশে সাদা রঙের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এর পাশে আছে একটি পার্ক যেখানে আছে মিউজিকাল ফাউন্ডেশন আপনার চাইলে এর মজা নিতে পারেন। এছাড়াও লেকের খুব কাছেই রয়েছে একটি মন্দির চাইলে সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন।

আপনি যদি রাজস্থানের উদয়পুর আসেন তাহলে ঘুরে আসতে পারেন দুধ তালাই এবং লেকের মৃদুমন্দ হাওয়াও উপভোগ করতে পারেন। 

২. লেক পিচোলা : লেক পিচোলা এটি উদায়পুর এর একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান ১৩৬২ সালে এটি তৈরি করা হয় এটি একটি কৃত্তিম লেক। এখানে বোট ভাড়া পাওয়া যায় বড়দের জন্য জন প্রতি ৪০০ টাকা এবং ছোটদের জন্য জনপ্রতি ২১৫ টাকা। লেক এর ভিত্তরে রয়েছে দুইটি দ্বীপ। একটি  হল জগনিবাস অন্যটি জগমন্দির। জগনিবাস বর্তমানে হোটেল লেক প্রালিস। পড়ন্ত বেলাতে এই লেক এর সৌন্দার্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। বিশেষ করে শরৎকালের যখন আকাশে সাদা সাদা মেঘ রাশির দল ছুটাছুটি করে লেকের উপর দিয়ে যায় তখন এর সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। 

বোটিং এর জন্যই বলুন কিংবা প্রাকৃতিক শোভা পেতে লেক পিচোলায় মানুষের অভাব নেই কখনও। বিকেলে আড্ডা দেওয়ার জন্য ও অনেকে লেকের পাড়ে ভিড় জমায়। এ ছাড়াও গরমের দিনে মনটাকে শীতল করতে লেকের পাড়ে এসে লেগে ঠান্ডা মৃদু বাতাস উপভোগ করে। আপনি যদি প্রকৃতির সাথে মিতালী করতে চান তাহলে আপনার জন্য হতে পারে এই লেক আদর্শ স্থান। 

সরোজমিনে এর সৌন্দর্য একবার পরিদর্শন করতে আসতে ভুলবেন না লেক পিচোলা। পরিবার কিংবা বন্ধুকে সাথে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই মনোরম স্থানে।

৩. জগদীশ মন্দির : উদায়পুর শহরে মধ্য আছে এই বিখ্যাত মন্দির। ১৬৫১ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। 

মন্দিরের ভিতরে আছে গরুড় দেবতার মূর্তি। কিন্তু ধর্মালম্বীরা সেখানে খুব ভক্তির সাথে গরুড় দেবতার পূজো করে। মন্দির গায়ের কারুকাজ গুলো দেখবার মত সত্যি আপনাকে মুগ্ধ করবে। সুখ কারুকাজ যে কারোরই মন ভরিয়ে তুলবে। রয়েছে বিভিন্ন দেব দেবী মূর্তি। মন্দির দর্শন এর সময় সকাল ৯ টা হতে দুপুর ২ টা প্রযন্ত এবং বিকাল ৪ টা থেকে রাত ১১ টা প্রযন্ত। আপনি সনাতন ধর্মাবলম্বী হলে চাইলে পূজা ও দিতে পারেন সেখানে। উদায়পুর ভ্রমণ এর সময় অবশ্যই এই মন্দিরে  আসবেন। পূজা দিতে কিংবা ভ্রমণ করতে। আশা করি আপনার খুব ভালো লাগবে। 

৪. ফতেহ সাগার লেক : ১৭৭৮  সালে মহারাজ জয়সিং এই লেক প্রতিষ্ঠিত করে। এটি ও একটি কৃত্তিম লেক। কৃত্তিম হলেও এর সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে সর্বক্ষণ। এবং এর আশেপাশের পরিবেশ ছবির মত সুন্দর। এর তিন দিক আছে পাহার একদিক আছে প্রতাব মেমরিয়াল হল। পাহাড়ের গা বেয়ে সবুজ প্রকৃতিতে ঘেরা। দেখে মনে হবে পাহাড় যেন সবুজ চাদর গায়ে জড়িয়ে রেখেছে। পরবর্তী কালে মহারাজ জয়সিং এর নামে এই সাগরের নাম রাখা হয় এই লেক এর ভিতরে রয়েছে তিনটি ছোট ছোট দ্বীপ। সিনেমায়ে দেখা দ্বীপের মত মনে হয় তাই অনেকেরই সেখানে যেতে ইচ্ছা করে। বোটিং করতে করতে সেই দ্বীপে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পেতে অনেকেই ভিড় করে সেখানে। লেকটা অনেক বড় হওয়ায় অনেকে মোটর সাইকেল নিয়ে লেকের পাড়ে ঘুরে বেড়ায়। আপনিও রাজস্থান রাজ্যের উদায়পুর গেলে এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারবেন।

৫. ভারতীয় লোক কালা মন্ডল: এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাপেট গহনা  পোশাক মুখস পুতুল বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। এছাড়া রয়েছে পুতুল নাচের ব্যবস্থা। আজকাল তো পুতুল নাচ দেখায় যায় না ভারতীয় লোক কালা মন্ডল সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আপনি সেখানেই যেয়ে আপনার মন চাইলে দেখতে পারেন পুতুল নাচ। সেখানে সকাল ৯ টা হতে ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মিউজিয়াম এর প্রবেশ মুল্য মাত্র ২০ টাকা। 

এছাড়াও সকাল ১২ টা হয়ে ১ টা প্রযন্ত এবং সন্ধ্যা ৬ টা হতে ৭ টা প্রযন্ত বিশেষ শো এর ব্যবস্থা আছে। আপনি চাইলে শো এ অংশগ্রহণ করে এর মজা উপভোগ করতে পারবেন। পাপেট এবং ফোক নাচ এর জন্য বড়দের জন্য জনপ্রতি ৪০ টাকা এবং ছোট দের জন্য ২০ টাকা জনপ্রতি লাগবে। 

জানি ছেলেবেলার মতো পুতুল নাচ দেখার সুপ্ত বাসনা এর মধ্যেই জেগে গেছে আপনার মনে। তাহলে আর দেরি কিসের আজ বেরিয়ে পড়ুন এবং উপভোগ করুন রাজস্থানের উদয়পুরের ভারতীয় লোক কালা মন্ডল।

৬.মুনমুন প্যালেস:- উনবিংশ শতাব্দীতে মহারাজা  সজ্জনশীল এই প্যালেস প্রতিষ্ঠিত করে। বলা হয় গ্রীষ্ম কালে থাকার জন্য এবং শিকারের জন্য পাহাড় এর উপর এই প্যালেস তিনি নির্মাণ করেন। এখানে রয়েছে মহারাজা সজ্জনশীল এর কিছু ব্যবহারিত কিছু জিনিস পএ আর ছোট একটা রেস্টুরেন্ট। পাহাড়ের উপর থেকে দূরের প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। তবে বলা ভালো এখানে শোনা যাই রাতের বেলায় ভাল্লুকের আনাগোনা দেখা যায়। 

অবশ্য রাতে এখানে কেউ আসে না। সেখানে নিজস্ব গাড়ি ব্যতীত অন্য গাড়ি প্রবেশ নিষেধ তবে এখানে অন্য গাড়ি পাহারের নিচে রেখে এখানের গাড়ি ভাড়া করে আসতে হয়। পাহাড়ের ওপর প্যালেসটি হওয়ায় অনেক দূর অব্দি দেখা যায় সেখান থেকে। প্রতিদিন প্রায় বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে মনসুর প্যালেস দেখার জন্য। যারা পাহাড় পছন্দ করে তাদের জন্য এটি আদর্শ একটি স্থান। 

৭. শিল্পগ্রাম: “শিল্পগ্রাম” শব্দটির অর্থ ‘কারিগরদের গ্রাম’। শিল্পগ্রাম হল ঐতিহ্যবাহী রাজস্থানী শিল্প ও কারুশিল্পের প্রাণবন্ত এবং একচেটিয়া যাদুঘর যাতে মুঘল ও ইউরোপীয় ইতিহাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ১৯৮৯ সালে ততকালীন প্রধান মন্ত্রী রাজিব গান্ধী এর উদ্ভাবন করেন। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রদেশ এর ঘর রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, গোয়া, গুজরাটের রয়েছে বিভিন্ন কাঠের সামগ্রী, টেরাকোটা রয়েছে বিভিন্ন অলংকার। এখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসে রাজস্থান এর নৃত্যের আসর। 

শিল্পগ্রামে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে ১০ দিন এই বিখ্যাত আসর বসে। বেশ কয়েকটি কুঁড়েঘর দ্বারা বেষ্টিত, গ্রামীণ বাজারের অনুভূতি প্রদানের জন্য শিল্পগ্রামটি পুরানো স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। কাদা দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে এই কুঁড়ে ঘর গুলো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি কুঁড়েঘর বা ঐতিহ্যবাহী গ্রামের বাড়ির একটি স্বতন্ত্র শৈলী এবং বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা এটি প্রতিনিধিত্ব করছে প্রতিটি রাজ্যের ইতিহাস। বিভিন্ন প্রদেশ এর মানুষ এর জনসমাগমন এখানে ঘটে এখান থেকে চাইলে আপনারা কিছু জিনিস পএ কিনতে পারেন। 

৮. সেহেলিয় কি বাড়ি: মহারাজা সংগ্রাম সিং ১৭৭০ হতে ১৭৩৪ খ্রিস্টাব্দ এর মধ্য এটি নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণ করে তার রানীর জন্য ও তার দাসীদের জন্য। সেখানে একটি পরিকল্পিত বাগান রয়েছে। আরো  সেখানে রয়েছে ফোয়ারা, সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো বিভিন্ন গাছপালা। চার সাইডে রয়েছে দেয়াল এর প্রাচীর এবং রয়েছে পদ্ম ফুলের জলাশয় যা অত্যন্ত সুন্দর। উদায়পুর এর অন্যতম আকর্ষণ হল এই স্থানটি। 

একটি মজার বিষয় হল আপনি যদি তালি দেন তাহলে সেখানে থাকা ফোয়ারা থেকে পানি উপরের দিকে উঠবে। যেহেতু এটি রাজার বাড়ি ছিল তাই এখানের প্রত্যেকটি স্থানে রয়েছে রাজকীয়তার ছোঁয়া। 

উদয়পুর এলে অবশ্যই ঘুরে দেখতে পারেন এই স্থানটি আশা করি আপনার খুবই ভালো লাগবে। 

৯. সিটি প্যালেস :এটি উদায়পুর এর একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান ১৫৫৩ সালে মহারাজা দ্বিতীয় উদায় সিং এটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এই সিটি প্যালেস কিছুটা অংশ হোটেল এবং কিছু টা মিউজিয়াম পরিণত হয়েছে। ৩-৪ ঘন্টা সময় লাগে সম্পুর্ন প্যালেস ঘুরতে।

রাতে রয়েছে লাইট এবং সাউন্ড শো এর ব্যবস্থা। এখানে মহারাজা এর বিভিন্ন জিনিস পএ এবং তার প্রিয় ঘোড়া চিতক এর প্রতিমূর্তি। সিটি প্যালেস থেকে পুরো উদায়পুর দেখা যাবে যা আপনার মন আনন্দ করতে বাধ্য করবে। 

প্রাসাদ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ অংশ এর বাইরের মতোই প্রশংসনীয়। জটিল মিরর-ওয়ার্ক, মার্বেল-ওয়ার্ক, ম্যুরাল, দেয়াল চিত্র, রূপালী কাজ, ইনলে-ওয়ার্ক এবং রঙিন কাচ যা কমপ্লেক্সের বারান্দা, টাওয়ার শোভিত করে তা প্রশংসার যোগ্য। এই মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিনিয়ত লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকে চারিদিক। সিটি প্যালেসের বেশ কয়েকটি গেট রয়েছে যা “পোল” নামে পরিচিত। বড় পোল’ পেরিয়ে গেলে আপনি একটি ত্রিপল খিলানযুক্ত গেট দেখতে পাবেন, যা ‘ত্রিপোলিয়া’ নামে পরিচিত। 

এছাড়া প্রাসাদটির অন্যান্য পেইন্টিং, প্রাচীন সব আসবাবপত্র এবং সূক্ষ কাঁচের টুকরো আলংকারিক টাইলসের কাজের নিছক ঝলক দেখে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। এছাড়াও চীনা মাটির বাসন, ভীম বিলাস রাধা-কৃষ্ণের বাস্তব জীবনের গল্প চিত্রিত ক্ষুদ্র চিত্রগুলির চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা আছে। নিখুঁত কারিগর দাঁড়ায় এগুলো সম্ভব শুধু। সিটি প্যালেসের সূক্ষ্ম কাজ কথায় আবদ্ধ করা যায় না, তাই আপনাকে এর বাস্তব চিত্র ধারণ করতে এই প্রাসাদটি অবশ্যই দেখতে হবে।অবসর সময়ে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন এই সুন্দর মনোরম সিটি প্যালেস থেকে। 

১০. শিষ মহল: মহারাজা প্রতাব তার মহারানী আজব্দিব এর জন্য নির্মাণ করেন। এটি এতটাই সুন্দর ও কারুকাজে সজ্জিত আপনাকে বার বার দেখতে বাধ্য  করবে। এটি এত সুন্দর চারদিকে আপনি ঘুরে ঘুরে দেখতে চাইবেন। আরো আছে রাজাদের কিছু ব্যবহারিত জিনিস পত্র। শিষ মহলের সৌন্দর্যতা থেকে বঞ্চিত না হতে চাইলে আপনি অবশ্যই এই স্থানে  আসবেন। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন মূতি, আরো আছে রাজ পরিবার এর ব্যবহারিত বাধ্য যন্ত্র।

প্রত্যেকটি জিনিস খুব সুন্দর করে সংরক্ষন করা রয়েছে এই রাজ প্রাসাদে। এছাড়া প্রাসাদের ভিতরে আছে রূপোর তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী যেগুলো রাজ পরিবার এর লোকজন ব্যবহার করতেন। আপনার যদি রাজবাড়ী সম্পর্কে কৌতুহল থেকে থাকে তাহলে শিষ মহল আপনার সব অজানা কৌতূহলের উত্তর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে উদয়পুরের মাটিতে। আপনি যদি উদয়পুরে যান তাহলে এই শিষ মহলে একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন।

১১. আহার মিউজিয়াম : আহার মিউজিয়াম এটি উদায়পুর হতে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শুক্রবার এবং কোনো সরকারি ছুটি বাদে প্রতিদিন এই মিউজিয়াম খোলা থাকে। এই মিউজিয়াম এর ভিত্তরে রয়েছে পুরাতন ও আধুনিক বিভিন্ন জিনিসপত্র। এই প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরটি প্রাচীন জিনিসপত্র, ভাস্কর্য এবং নিদর্শনগুলির একটি ভান্ডার। মুদ্রা, মাটির পাত্র, পোড়ামাটির খেলনা, পাথরের ওজন, প্রাণীর মূর্তি, বল এবং লোহার জিনিসও জাদুঘরের ভিতরে পাওয়া যায়।

এখানে গেলে আপনি প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হতে পারবেন। জানলে অবাক হবেন এই মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে ৫০০০ বছর পুরনো কিছু জিনিস এছাড়াও রয়েছে পুরনো এবং রাজস্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ দ্বারা খনন করা। আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে এই মিউজিয়াম ঘুরতে। সকাল ১০ টা হলে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত মিউজিয়ামটি উন্মুক্ত থাকে।উদায়পুর ভ্রমণ কালে অবশ্যই আপনারা আসবেন এই মিউজিয়াম পরিদর্শনে। 

১২. আহার সিনোট্যাপ: আহার মিউজিয়াম এর পাশে রয়েছে আহার সিনোট্যাপ। এটি ৩৫০ বছর আগের তৈরি এই বাড়ি। বিভিন্ন রাজাদের সমাধি ক্ষেত্র এই জায়গায়টি। তাদের স্মৃতিচারণে প্রায় ২৫০ টি রাজার সৃতিসৌধ্য রয়েছে এখানে। এখানে প্রায় ১৯ জন মহারাজাদের দাহ করা হয়েছিল। বর্তমান জায়গায় টা কিছু টা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তারপর ও সেখানের পরিবেশ আপনাদের মন ভালো করতে বাধ্য করবে। 

এই ছিল উদয়পুরের দর্শনীয় স্থান গুলো। উপরের সবগুলো স্থান আপনার মনের মত হবে। এক একটা স্থানে আপনি এক এক রকম অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি যেটাই বলুন না কেন সবগুলো স্থান দর্শনার্থীদের চোখের মণি হয়ে আছে। আপনার অভিযোগ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেবে না এই স্থানগুলো। 

চাইলে উদয়পুর ভ্রমণে এই স্থানে ঘুরে আসতে পারেন একবার। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।

৫.আজমির শরিফ

আজমির শরিফ

কথায় আছে কোন ঘটনায় বিনা কারণে ঘটে না। এই পৃথিবীতে যত ঘটনায় ঘটুক না কেন সবকিছুর পিছনে পিছনে কিছু কারণ অবশ্যই আছে। সাধারণত আমাদের জীবনের যে সব ঘটনা ঘটে থাকে তার পিছনে আল্লাহ অথবা ভগবানের হাত অবশ্যই থাকে। কিন্তু আমাদের চারপাশে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে থাকে যার কারণ জানার জন্য আমরা উৎসুক হয়ে থাকি। পৃথিবীতে অগণিত রহস্য আছে তেমনি একটি রহস্য কর স্থানের নামই হচ্ছে আজমীর শরীফ। 

ভারতে এমন অনেক স্থান আছে যেটা যেকোনো ধর্মের কাছে আস্থার মূল কেন্দ্র। তাদেরই মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ তীর্থ স্থান হল আজমীর শরীফ। আজমির শরিফের নাম শোনেনি এমন লোক পাওয়া যাবেনা বলে মনে করা যায়। আজমির শরিফ মূলত ভারতের রাজস্থানের আজমীর জেলায় অবস্থিত। প্রসিদ্ধ সুফি সাধক হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (রা:) এর দরগাহ যা বেশিরভাগ সবার কাছে খাজা বাবার মাজার নামে পরিচিত। এটি ভারতের একমাত্র সর্বধর্ম মিলনক্ষেত্র। 

যেখানে হিন্দু মুসলমান সহ সকল ধর্মের মানুষের তীর্থস্থান। এমন সর্ব ধর্মের মিলনক্ষেত্র পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আছে কিনা সন্দেহ। বলা হয় যে আজমীর শরীফ থেকে আজব কেউ খালি হাতে ফেরেনি। এখানে যে ব্যক্তি মানত করতে যায় তার মানতই পূর্ণ হয়। আজমীর শরীফ খুবই সুন্দর একটি দেখার মত স্থান। এখানে সকল ধর্মের মানুষই খুবই শ্রদ্ধা এবং ভক্তির সঙ্গে মানত করতে আসে। এবং মানত করার পর খাজা সাহেব কে শ্রদ্ধা জানিয়ে তারপর বাড়ির দিকে রওনা হয়। 

জানলে অবাক হবেন এই মাজারে প্রতিবছর লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের পদধূলিতে মুখরিত থাকে। রুপোর দরজা দিয়ে তৈরি এই মাজারের নির্মাণ ধাপে ধাপে করা হয়েছিল। যেখানে সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিনের সমাধি রয়েছে সেটি মার্বেল পাথর দ্বারা নির্মিত। এবং এই সমাধির চারপাশে রেলিং রূপার পাত দ্বারা মোড়ানো। এছাড়াও মাজারের সোনায় মোড়ানো সিলিং, রূপার পাতে মেড়ানো এর বুলুন্দ দরজা রয়েছে।

 আপনি এখানে গেলে আপনার মন ভরে যাবে। সকল ধর্মের অনুসারীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আনন্দের সাথে আজমির শরিফ প্রদর্শন করে। রাজস্থান গেলে আজমীর শরীফে গিয়ে মানত বা মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার উদ্দেশ্যে অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে।  এছাড়া এর সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতি আপনার মন ভয় করে নেবে। 

৬.রানী সতী মন্দির

রানী সতী মন্দির

রাজস্থান রাজ্যের একটি ঐতিহাসিক শহর হল ঝুনঝুনা যা জয়পুর শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। চৌহান রাজবংশের সময়কাল থেকে ঝুনঝুনা একটি বাণিজ্যিক এবং লেনদেনের স্থান হিসাবে পরিচিত। ঝুনঝুনা শহরটি তার ধর্মীয় ভাবাবেগের জন্য বিখ্যাত, এখানে শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় রানী সতী মন্দির অবস্থিত রয়েছে। এই শহরকে জটিল ভাস্কর্য এবং ফ্রেস্কো সহ সজ্জিত প্রতীকী রাজস্থানী হাভেলীগুলির বাসস্থান হিসাবে গন্য করা হয়ে থাকে।

৭.বিকানের

রাজস্থানের

বিকানের শহরটি রাজস্থানের মাটিতে ১৫ শতকে এর সাময়িক অস্তিত্ব লাভ করে। রাঠোর রাজ্যের রাজপুত শাসক রাও বিকা এটি তৈরির জন্য সম্পূর্ণ দায়ী ছিলেন। বিকানের শহর সাম্রাজ্যের জন্য জমি দাবি করার পর এখানে একটা সহিংসতার সৃষ্টি হয়। জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজপুত ও জাট শাসকদের মধ্যে মহাবিবাদ চলে আসছে বহুদিন ধরে যার ফলে এক পর্যায়ে শহরটি গঠিত হয়।

বহু বছর ধরে বিবাদের ফলে সৃষ্ট এই বিতর্কিত শহরটি এখন রাজস্থানের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে একটি। বিকানেরে জয়পুরের মতো প্রাসাদ নাও থাকতে পারে কিন্তু এতে স্থাপত্যের রত্ন নেই। শহরটিতে পুরানো ভবনগুলির একটি বিশাল সংগ্রহ রয়েছে যা সত্যিই দুর্লভ।১৩-১৫ শতকের তৈরিকৃত বহু পুরোনো ভবনের শৈল্পিকতার নিদর্শনকে প্রতিফলিত করে এই শহরটি। 

এখানে বিখ্যাত গঙ্গা সিং মিউজিয়াম এবং সাদুল সিং মিউজিয়ামের মতো জাদুঘরের ন্যায্য অংশও রয়েছে। বিকানেরের অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থানগুলি হল জুনাগড় দুর্গ, লালগড় প্রাসাদ, উটের জাতীয় গবেষণা কেন্দ্র, শ্রী লক্ষ্মীনাথ মন্দির এবং জৈন মন্দির।

৮.পুষ্কর 

পুষ্কর

পুষ্কর হলো রাজস্থানের আজমির জেলার একটি পবিত্র শহর বা পর্যটন স্পট। এটি রাজস্থান রাজ্যের এবং বৃহত্তর ভারত মহাদেশের অনেক তীর্থস্থানের একটা উল্লেখযোগ্য আসন। পুষ্কর হ্রদ সৃষ্ট কোথা থেকে তা পৌরাণিক কাহিনীতে প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পায়। যেখানে বলা হয়েছে যে, এই হ্রদটি ভগবান শিবের অশ্রু দ্বারা নাকি তৈরি হয়েছিল।

পুষ্কর শহরটি নিঃসন্দেহে তার মন্দির এবং ঘাটগুলির জন্য বিখ্যাত, যা সমানভাবে পবিত্র জানা হয় পূর্ণার্থীদের মধ্যে।পুষ্করের হ্রদটি দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলা কারণ তারা বিশ্বাস করে এটি হিন্দু পুরাণের সাথে সাথে অনেকটাই পৌরাণিকও সম্পর্ক রয়েছে।

রাজস্থানে দর্শণীয় স্থান ভ্রমণের জন্য যে সকল পর্যটন স্পট রয়েছে তার মধ্যে সেরা পর্যটন স্থান হিসেবে পর্যটকরা অবশ্যই এমন একটি তীর্থস্থানের সন্ধান করবে যেখানে শান্ত ও নিরিবিলি অভিজ্ঞতার দেখা পাবেন পুষ্করে। পুষ্কর শহরের মধ্যে এবং আশেপাশে দেখার জন্য আরো আকর্ষণীয় জায়গাগুলি হল পুষ্কর হ্রদ, ব্রহ্মা মন্দির, সাবিত্রী মন্দির, আপ্তেশ্বর মন্দির, বরাহ মন্দির, রংজি মন্দির এবং মান মহল।

৯.মাউন্ট আবু

মাউন্ট আবু

মাউন্ট আবু হচ্ছে রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে একমাত্র সুন্দর হিল স্টেশন এবং সহজেই রাজ্যের সেরা পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে স্থান দখল করে নেওয়া ভ্রমন স্পট। এই ভ্রমণ স্পটটি আরাবল্লী পর্বতমালার ঢালে অবস্থিত। এই অপূর্ব সুন্দর পর্যটন স্পটটি রাজস্থানের মধ্যে হওয়ায় প্রতি বছর দূর দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করে। 

এই শহরটি অতীতের ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের জন্য অপরিচিত নয় কারো কাছে। মাউন্ট আবুতে অনেক তীর্থযাত্রীও আসেন ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে। মাউন্ট আবু আসলে বন্যপ্রাণীদের সুবিশাল অভয়ারণ্য।

এখানে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে, ট্রেভার্স ক্রোকোডাইল পার্ক, নাক্কি লেক, দিলওয়ারা জৈন মন্দির এবং অচলগড় দুর্গের ধ্বংসাবশেষ প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। মাউন্ট আবু এলাকার আশেপাশের সুন্দর রিসোর্টগুলি রাজস্থানের মরুভূমির প্রচন্ড উত্তাপ থেকে  দূরে বিশ্রাম এবং পিকনিকের জন্য উপযুক্ত স্থান দর্শনার্থীদের জন্য।

১০.রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যান

রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যান

ভারতের একটি প্রখ্যাত অভয়ারণ্য হল রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যান যা আরাবল্লী পর্বতমালা এবং বিন্ধ্য পর্বতের মালভূমির মধ্যে অবস্থিত। এই অভয়ারণ্যটি ১,৩৩৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত আছে যা এতোটাই গভীর যে এখানে দিনের বেলাতেও এই জলাভূমি ও হ্রদের কাছাকাছি অঞ্চলে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার্ দেখা যায়। পর্যবেক্ষণ মতে এই অভয়ারণ্যটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারে্র আশ্রয়স্থল হিসাবেও প্রসিদ্ধ।

অতীতে এই এলাকাটি জয়পুরের মহারাজাদের শিকারের স্থান হিসাবে চিহ্নিত ছিল। এটি ১৯৫৫ সালে একটি ক্রীড়া অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষিত হয় এবং পরর্বতীকালে অর্থাৎ ১৯৮০ সালে এই অভয়ারণ্যটি একটি জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয় এবং অবশেষে ১৯৮০ সালে ভারতের ব্যাঘ্র সংরক্ষন কেন্দ্র হিসেবে কাজ শুরু হয়। এই জাতীয় উদ্যানটিতে দূর্গের সচিত্র ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যে কারনে এটি রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত।

ঢাকা টু কোলকাতা যাবার উপায়

লোকেশন ভ্রমণ গাইড/কিভাবে যাবেন 
ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার দূরত্ব ৩৬৮.৮ কিলোমিটার।

ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে প্রায় ৯ থেকে ১৩ ঘন্টা সময় লাগে।

যদি ঢাকা থেকে কলকাতা ট্রেনে করে যেতে চান তাহলে বাংলাদেশ ভারত যৌথ উদ্যোগে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে অনায়াসে কলকাতা যেতে পারবেন।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে শুক্র, শনি, রবি ও বুধবার মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা শুরু করে সকাল ৮:১৫ মিনিটে।

এছাড়া খুলনা স্টেশন থেকে বন্ধন এক্সপ্রেস দুপুর ১:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং কলকাতা ৭/৮ মধ্যে পৌঁছে যায়। কলকাতা-দমদম- বনগাঁও- পেট্রোপোল – বেনাপোল- ঝিকরগাছা- যশোর- খুলনা রোডে এই বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা করে নিয়মিত।

বাসের ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে শ্যামলী, গ্রীন লাইন, বিআরটিসি, স্ক্যানিয়া, দেশ ট্রাভেলস, সোহাগ, সৌহার্দ্য ও রয়েল কোচ বাসে চেপে ঢাকা থেকে কলকাতা যেতে পারবেন।

এ সকল বাসের মধ্যে সোহাগ, বিআরটিসি, শ্যামলী, গ্রীন লাইন এদের সার্ভিস ভালো। তবে এগুলোর মধ্যে শুধু শ্যামলী পরিবহন এনআর বাস ছাড়া অন্য সকল বাস বেনাপোল বর্ডারের কাছে আপনাকে নামিয়ে দেবে এবং বর্ডার ক্রস করে ওপারের বাসে উঠতে হবে

ট্রাভেল ট্যাক্স সহ ঢাকা টু কলকাতা এসি সিটের ভাড়া জনপ্রতি ৩৪০০ টাকা করে আর এসির চেয়ারের ভাড়া জনপ্রতি ২৫০০ টাকা করে।

কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে করে অনায়াসে আপনি দিল্লি যেতে পারবেন এবং দিল্লি থেকে খুব সহজে ট্রেনে করে রাজস্থান যেতে পারবেন এবং রাজস্থান যাওয়ার পরে দর্শনীয় স্থানগুলো সহজে উপভোগ করতে পারবেন।

 

সবশেষে,

ভারতের একটি বৃহত্তম রাজ্যে মধ্যে রাজস্থান একটি। ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত এই রাজস্থান নগরী ‘বর্ণময় ভূমি’ হিসাবে জনপ্রিয়। এই রাজ্য বিভিন্ন দর্শনীয় এবং ইতিহাস সমৃদ্ধ ঘটনাবলী দ্বারা সমৃদ্ধ। এই রাজ্য ভ্রমণকালের মাধ্যমে আপনি রাজপুত আড়ম্বরের হৃদয় বলে বর্ণিত সুন্দর মরুভূমি শহর যেমন জয়সালমের ও বারমের এবং উদয়পুর ও চিত্তোরগড় এর প্রতিভাকে চাক্ষুস করতে পারবেন। 

রাজস্থানের দর্শণীয় স্থান এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ইমারত, প্রাসাদ এবং অভূতপূর্ব বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এবং উষ্ণ ও ধার্মিক অধিবাসীদের মন্দিরসহ এই অঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে একটি স্বর্গোদ্যান হিসাবে পরিচিত। অনেক কিংবদন্তীর ভূমি, বীরত্ব ও উৎসর্গের গল্পে সমন্বিত রাজস্থান সম্ভবত ভারতে সবচেয়ে বেশী পর্যটকদের আকর্ষিত করে থাকে। তাই ভারতের রাজস্থানে একবার হলেও ঘুরতে আসা উচিত। ধন্যবাদ।

 

Related Post

খুশির স্ট্যাটাস

200+ স্টাইলিশ খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন

খুশির স্ট্যাটাস | হাসি নিয়ে ক্যাপশন জীবনের সুন্দর খুশির মুহূর্ত আমরা সবাই বাঁধাই করে রাখতে চাই। আর এই খুশির মুহূর্তকে ধরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়

Read More »
❤love status bangla | ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | প্রেম ছন্দ স্ট্যাটাস❤

স্টাইলিশ ভালোবাসার ছন্দ | রোমান্টিক ছন্দ | Love Status Bangla

❤❤ভালোবাসার ছন্দ | ভালোবাসার ছন্দ রোমান্টিক | ভালোবাসার ছন্দ স্ট্যাটাস❤❤ ভালোবাসা হলো এক অন্যরকম অনুভূতির নাম, যা শুধুমাত্র কাউকে ভালবাসলেই অনুভব করা যায়। আমরা বিভিন্নভাবে

Read More »
মন খারাপের স্ট্যাটাস

মন খারাপের স্ট্যাটাস, উক্তি, ছন্দ, ক্যাপশন, কিছু কথা ও লেখা

মন খারাপের স্ট্যাটাস মন খারাপ – এই কষ্টের অনুভূতি কার না হয়? সবারই কখনো না কখনো সবারই মন খারাপ হয়। জীবনের ছোটোখাটো অঘটন থেকে শুরু

Read More »
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমের উক্তি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় বিশ্বকবি। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও গুনী লেখক। প্রেম চিরন্তন এবং সত্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালীর মনে প্রেমের

Read More »
ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা | Breakup Status Bangla

ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা আপনি কি আপনার প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন? আর সেটা আপনি কোন ব্রেকআপ স্ট্যাটাস বাংলা মাধ্যমে বোঝাতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনি

Read More »

Leave a Comment

Table of Contents